কবিতা

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

আমাকে রেখেই আমি যাবো

জাহাঙ্গীর ফিরোজ

নিজেকে একটু একটু করে ফেলে এসে দাঁড়িয়েছি নদী তীরে

ক্ষয়িষ্ণু কায়ার হাহাকার বাজে অন্তরে।

ওপারেই যাব, যেতে হবে

প্রিয় কায়াটিকে রেখে নদী পাড়ে।

মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে

নদীটির ওই পারে যারা চলে গেছে

তারাও থমকে দাঁড়িয়েছে নদী তটে।

আমারও ভ্রমণ শুরু হবে

আমাকে রেখেই আমি যাবো

অচেনা দেশের বন্দরে।

পায়েস রান্নার দুধ

হেনরী স্বপন

ছড়ালে ভাতের আঁচে আগুনের দানা

সাদা পড়ে রয়-

অগোচরে ভুলে যাও, মৃত্যুমুখী উত্তাপের বুকে

পায়েস রান্নার দুধ উপচে পড়ছে;

যতোটা কফির ঘ্রাণ

কাপের চুমুকে কেঁপে ওঠা অবেলায়-

কমলার খোসা ভেঙে চুষে খাবে

কতোটা মাতাল হলে মৌমাছি- হুল ফোটাবে বিষ গুঁজে

ফরমালিনে সতেজ হবে আরো- গাঢ় ঘাসের সবুজে...।

রহিত যোগ

শ্বেতা শতাব্দী এষ

যোগাযোগ থাকা আর না-থাকা

একই সাথে ঝাপ দিচ্ছে

ঝুলন্ত সাঁকো থেকে-

নিচে অনন্ত স্রোতধারায়

ভেসে যাওয়া সময়ে

সমস্ত পুণ্যতিথি

একে একে মুছে গেলে

কাতর সন্ধ্যার মেলোড্রামায়

বাজতে থাকে একটা অন্ধ রেডিও

আকাশ ভুলে যাওয়া পাখির

সমাধিতে-

পুরোনো জীবন

আলী এরশাদ

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে শুরু পুরোনো জীবন

রোবটের মতো রোজ একই কাজ,

মাঝে-মধ্যে ইচ্ছে হয় সংসার পেছনে ফেলে

স্বাধীন জীবনে সাজি মহারাজ।

অমাবস্যা নাকি পূর্ণিমা এখন, জানি না কিছুই

বিদ্ধ হয়েছি কঠিন মায়ার শূলে।

মন চায় পাখিদের উড়াল- বহুদূর অজানায়।

অদৃশ্য বৃত্তের মাঝে চক্রাকারে

সারাক্ষণ সয়ে সয়ে পুনরাবৃত্তির নিরব দহন।