মানে ও মনে

  আন্দালিব রাশদী ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এদুয়ার্দ মানে ও ক্লদ মনে
এদুয়ার্দ মানে ও ক্লদ মনে

আধুনিক চিত্রকলার মানচিত্রটি মানে ও মনে ছাড়া অসম্পূর্ণ। দু’জনই ফরাসি চিত্রকার। এদুয়ার্দ মানেকে বলা হচ্ছে ইমপ্রেশনিজমের জনক, চিত্রকলায় আধুনিকতার একটি বিপ্লব এসেছে তার হাত ধরে। কিন্তু ইমপ্রেশনিজম কথাটি উঠে এসেছে ক্লদ মনে-র হাতে।

১৮৭৪-এ তার আঁকা ইম্প্রেশন সানরাইজ ছবির প্রদর্শনীর পরপরই চিত্র সমালোচকরা অনেকটা ঠাট্টা করেই বললেন, এটাই মনের ইম্প্রেশনিজম। বেশ লাগসই এই শব্দটিই, এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে প্রতিচ্ছায়ায়াবাদ।

১৮৭৪ সালের প্রথম ইমপ্রেশনিস্ট প্রদর্শনীতে এদুয়ার্দ মানে ছিলেন না। ছিলেন : ক্লদ মনে, পিয়েরে-অগাস্ত রেঁনোয়া, ক্যামিই পিসারো, পল সেজান, আলফ্রেড সিসলে, ইউজিন বুঁদো, গিওম এবং বার্থা মরিসট। ইমপ্রেশনিস্টরা স্টুডিও থেকে বেরিয়ে প্রকৃতিতে চলে আসেন। ইম্প্রেশনিজমের সারকথা : কেমন দেখাচ্ছে তা নয়, কেমন অনুভূত হচ্ছে, শিল্পী কিভাবে দেখতে চাইছেন সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

স্যালোনের মূল প্রদর্শনীর বাইরে ১৫ এপ্রিল ১৮৮৩ থেকে ক্ষুব্ধ, মেধাবী ও আধুনিক শিল্পীদের এক মাসব্যাপী ইম্প্রেশনিস্ট প্রদর্শনীটিকে তখন ব্যর্থই মনে হয়েছে। এক মাসে সবশুদ্ধ দর্শক এসেছে সাড়ে তিন হাজার, সামান্য কিছু ছবি বিক্রি হয়েছে, দেগা ও মরিসটের কোনো ছবি বিক্রি হয়নি, রেনোয়া দাম কমিয়ে বিক্রি করেছেন।

১৮৮৩তে অষ্টম ইমপ্রেশনিস্ট প্রদর্শনীর সময় তারা নিজেদের জিজ্ঞেস করতে শুরু করেন আমরা কোথায় যাচ্ছি? ইমপ্রেশনিজম আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? দেগা, রেনোয়া, সেরাত, ভ্যান গগ, সেজান বিশুদ্ধ ইম্প্রেশনিজম থেকে বেরিয়ে আসেন। কিছু সময়ের জন্য ইমপ্রেশনিস্ট ছবির কদর কমে এলেও পরবর্তী শতবর্ষ কোনো না কোনো আঙ্গিকে এই ধারাই রাজত্ব করে গেছে।

মানে ও মনে- কেবল যে দু’জনের নামের মিল তাই নয়, দু’জন একই শহরের, একই সংস্কৃতির এবং এবং দু’জনেই উনবিংশ শতকের শেষার্ধে ছবির জগতে খ্যাতিমান। দু’জনেই এঁকেছেন দ্য গ্র্যান্ড ক্যানেল অব ভেনিস। মানের হাতে ইমপ্রেশনিজমের বিকাশ হলেও তার প্রবণতা অনেকটাই রিয়েলিস্ট চিত্রকলার দিকে, কিন্তু মনে পুরোপুরিই ইমপ্রেশনিস্ট।

প্রকৃতিতে কোনো রেখা নেই, কেবল রঙভরা অঞ্চল, একটার পিঠে আরেকটা রঙ- রঙ নিয়ে এদুয়ার্দ মানে আরও অনেক কথা বলেছেন। কালো কোনো রঙ নয়; রঙ হচ্ছে রুচি ও সংবেদনীলতার বিষয়; রঙ করাটাকে যদি সবার উপরে বিবেচনা না করে তাহলে কারও পক্ষে পেইন্টার হওয়া সম্ভব হবে না; একটা ব্যাপারই সত্য যা দেখবে সঙ্গে সঙ্গে রঙ দিয়ে এঁকে ফেল। যখন তুমি পেয়ে গেলে তো পেয়ে গেলে নতুবা আবার শুরু কর।

ফ্রেঞ্চ পেইন্টার ও গ্রাফিক আর্টিস্ট এদুয়ার্দ মানেকে এক সময় ইম্প্রেশনিস্ট মনে করা হলেও তিনি কখনও এই ধরনের কোনো প্রদর্শনীতে যোগ দেননি, বরং অনেকটা রিয়েলিস্টদের দলেই থেকেছেন। আসলে তিনি রিয়েলিজম থেকে ইমপ্রেশনিজমে যাত্রার যে সন্ধিক্ষণ সেই সময়টার নেতৃত্বে ছিলেন এদুয়ার্দ মানে।

মামা এডমন্ড ফর্নিয়ে মানেকে ছবি দেখাতে ল্যুভ জাদুঘরে নিয়ে এলেন। মুগ্ধ এদুয়ার্দ মানে সম্ভবত এখানেই নিজের ভবিষ্যৎ দেখে ফেললেন। রাজপ্রাসাদ ধরনের বাড়িতে জন্ম নেয়া পরিবারের সন্তান পড়াশোনা করে বড় কিছু হবেন এটাই প্রত্যাশিত। কার বাবা অগাস্ত মানে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একজন বিচারক আর মা ছিলেন সুইডেনে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতের কন্যা।

তিন ছেলের জ্যেষ্ঠ এদুয়ার্দ মানেকে বাবা নৌবাহিনীতে দিতে চেয়েছিলেন, সামরিক জাহাজে প্রশিক্ষণের আয়োজনও করেছেন, কিন্তু দু’বারই তিনি অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। তার ইচ্ছেতেই ১৮৫০ থেকে ১৮৫৬ পর্যন্ত চিত্রকলায় শিক্ষানবিশি করলেন।

ল্যুভ জাদুঘরে ঢুকে ওল্ড মাস্টারদের ছবি অনুকরণ করতে শুরু করলেন। তারপর চার বছর জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস-এ ছবি দেখে বেড়ালেন। সে সময় তার ওপর চিত্রশিল্পী দিয়েগো ভ্যালথকোয়েথ, ফ্রান্সিকো গইয়া এবং ফ্রাঞ্জ হালস-এর বেশ প্রভাব।

মূলত পেইন্টার, ড্রইংয়ে অনাগ্রহ

মানে গুস্তাভ কুরবে-র রিয়েলিস্ট ধারায় আঁকতে শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে গৎবাঁধা শিল্পচর্চার বাইরে এসে নিজেকে তার প্রজন্মের প্রধান শিল্পীদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। মানে ছিলেন মূলত পেইন্টার, সে জন্য ড্রইং নিয়ে তেমন মাথা ঘামাননি। তার কাছে মুখ্য ছিল রং এবং ব্রাশের আঁচড়। মানের ৪৩০টি তেলরং, ৪০০টি জলরং এবং ৮৯টি প্যাস্টেলে আঁকা ছবি শনাক্ত করা হয়েছে।

অনুপ্রেরণা প্যারিসের রাস্তায়

তার অধিকাংশ ছবির মানুষে নিত্যকার কাজ করছে। তার ছবির প্রায় সবাই সাধারণ মানুষ। ছোট ব্যবসায়ী, ভিক্ষুক, গায়ক, রাস্তার সাধারণ মানুষই তার প্রেরণা। এমিল জোলা মানের ছবি নিয়ে লিখলেন, মানে জোলার একটি পোর্ট্রেট করলেন। ১৮৬৭-র প্যারিস বিশ্বমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত না হওয়ায় মূল মেলার কাছে বিশেষভাবে নির্মিত প্যাভিলিয়নে নিজের ৫০টি ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করলেন। অবশ্য তার আয়োজনটি তেমন জমেনি।

অলিম্পিয়া কলঙ্ক

মানে ১৮৬৩ সালে জল রঙে একটি এবং তেল রঙে একটি অলিম্পিয়া আঁকেন। এই নগ্নদেবী হইচই ফেলে দিলেন। কেউ বললেন এই শিল্পী ছবি আঁকার ব্যাকরণই জানেন না। অগাস্ত কুরবে বললেন, অলিম্পিয়াকে তাসের স্পেডের কুইনের মতো দেখাচ্ছে, যথেষ্ট মডেলিং হয়নি। ছবিটিতে মানে কিছু আলোর কাজ করেছেন, নিজের পেছন থেকে আলোক সম্পাত করাতে আকৃতিতে ভিন্নতা এসেছে, শিল্পীরা এটা মানতে রাজি নন।

তারা বলেন, র‌্যাফায়েল ও তিশ্যান থেকে পোজ নকল করে মানে এর সঙ্গে মিশিয়েছেন মডার্ন ভালগারিটি-একালের অশ্লীলতা, তাতে নদীর দেরি অলিম্পিয়ার মাহত্ম্য ক্ষুণ্ণ হয়েছে। মানে তার বন্ধু বোদলেয়ারকে তখন লিখেছেন, তুমি যদি এখানে থাকতে! ওরা আমার মাথার ওপর অপমান বর্ষণ করেছে। তোমার সুষ্ঠু বিচারে আমার ছবিটি কেমন জানতে পারলে ভালো হতো।

বোদলেয়ারের পর সেই স্থানটি দখল করেন কবি স্টিফেন মালার্মে।

এর আগে একাধিকবার প্যারিসের স্যালোন প্রদর্শনীর জন্য ছবি পাঠিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। তখনকার অন্যতম প্রধান শিল্পী দ্যালাক্রোয়ার সুপারিশের পরও ১৮৫৯ সালে তার অ্যাবসিন্থে ড্রিঙ্কার প্রদর্শনীর জন্য গ্রহণ করা হয়নি। তবে ১৮৬০ সালের প্রদর্শনীতে তার আঁকা পোর্ট্রেট মশিয়ে অ্যান্ড মাদাম মানে প্রদর্শিত হয়, কিন্তু ১৮৬৩-র স্যালোন প্রদর্শনী তার পাঠানো তিনটি ছবিই ফিরিয়ে দেয়।

মানের শব বহনকারী

পায়ের ব্যথা থেকে মানের শরীরের দ্রুত অবনতি ঘটল। আসন্ন মৃত্যুর আশঙ্কায় দ্রুত উইল করলেন। ২০ এপ্রিল ১৮৮৩ গ্যাঙ্গরিনের কারণে তার বাম পা কেটে ফেলতে হল। ৩০ এপ্রিল তিনি মারা গেলেন। ৩ মে তাকে যখন সমাহিত করার জন্য নেয়া হয় কফিন বহনকারীদের মধ্যে ছিলেন সেকালের শ্রেষ্ঠ দু’জন সাহিত্যিক মার্শেল প্রুস্ত ও এমিল জোলা এবং ইমপ্রেশনিজম চিত্রকলার প্রাণপুরুষ ক্লদ মনে।

ক্লদ মনে

সবাই আমার আঁকা ছবি নিয়ে কথা বলে এবং ছবি বুঝেছে এসব ভান করে যেন ছবি বুঝতে পারাটা খুব জরুরি, যেখানে আসলে প্রয়োজন কেবল ভালোবাসা।’

ক্লদ মনে আরও বলেছেন, ‘আমার কখনও কোনো স্টুডিও ছিল না, নিজেকে একটি কক্ষে আটকে রাখার মানে কি আমি বুঝি না। কেবল ড্রইংয়ের জন্য হলে বেশ, রঙ করার জন্য হলে না। শেষ পর্যন্ত আমার চোখ খুলে গেল এবং আমি সত্যিই প্রকৃতিকে বুঝতে পারলাম, একই সঙ্গে আমি ভালোবাসতেও শিখলাম।’

চিত্রকলায় ইম্প্রেশনিজমের পথিকৃৎ ক্লদ মনের কথাগুলো একই সঙ্গে তার জীবন ও শিল্পদর্শনের একটি ধারণা দেয়। ১৮৭৪ সালে প্রদর্শিত তার আঁকা ছবি ইম্প্রেশন সানরাইজ থেকে ইম্প্রেশনিজম আন্দোলনের শুরু।

ওমেন উইথ প্যারাসল ১৮৭৫

ক্লদ মনের বাবা চাইলেন ছেলে তাদের পারিবারিক ব্যবসা-জাহাজের খুঁটিনাটি জিনিস কেনাবেচা এবং মুদিখানার কাজে যোগ দিক। কিন্তু এদিকে তার সামান্য আগ্রহও নেই, তিনি চিত্রশিল্পী হবেন। তার মা গান গাইতেন, তিনি ছেলের ইচ্ছে পূরণে হাত বাড়িয়ে দিলেন। বয়স যখন ষোলো বছর মায়ের মৃত্যু হল। তিনি প্যারিসে এসে ল্যুভ জাদুঘরের ঢুকে দেখলেন নতুন শিল্পীরা ওল্ড মাস্টারদের ছবি নকল করে আঁকছেন, এটা তিনি পছন্দ করলেন না। তার চেয়ে ভালো খোলা জানালার পাশে যা দেখা যায় তাই আঁকবেন।

১৮৫৬-র মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ের একজন ক্যারিকেচার আঁকিয়ে হিসেবে মনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেন। শিল্পী ইউজিন বুদাঁ তার প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাকে ল্যান্ডস্কেপ পেইন্টিংয়ের দিকে আগ্রহী করে তোলেন।

ইম্প্রেশন সানরাইজ

১৮৭২ সালে ক্লদ মনে অসনাতন সূর্যোদয়ের দৃশ্য এঁকে ছবির নাম দিলেন ইম্প্রেশন সানরাইজ, চারটি তেল রঙ ও সাতটি প্যাস্টেলে আঁকা ছবিটি ১৮৭৪ সালে যখন প্রদর্শিত হল চিত্র সমালোচক ঠাট্টা করে ছবির ধারাটিকে বললেন ইমপ্র্রেশনিজম। শেষ পর্যন্ত ইমপ্রেশনিজম চিত্রশিল্পের একটি শক্তিশালী ধারা ও আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল। প্রথম ইম্প্রেশনিস্ট চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ক্লদ মনে, পিয়েরে অগাস্ত রেনোয়া এদগার দেগা, ক্যামিই পিসারো, পল সেজান, আলফ্রেড মেয়ারসহ ৩০ জন শিল্পী। এই শিল্পীরা ১৮৭৭ থেকে নিজেদের ইম্প্রেশনিস্ট বলতে শুরু করেন।

ক্লদ মনেকে এদুয়ার্দ মানের মতো দীর্ঘ মনোবেদনা সইতে হয়নি। উনবিংশ শতকের শেষ দশকে ছবির বিনিময়ে তার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় এক লাখ ফ্রাঙ্ক। তিনি গিভার্নিকে করে তোলেন দূরদুরান্তের শিল্পীদের একটি তীর্থক্ষেত্র। গিভার্নির খড়ের গাদা থেকে শুরু করে জাপানি ধাঁচের সেতু একের পর এক তার ক্যানভাসে উঠে আসতে থাকে। তিনি যা-ই আঁকছেন তা হয়ে উঠছে একটি সিরিজ চিত্রমালার অংশ।

১৮৭৮ সালে ধনী শিল্প-সমঝদার ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরের মালিক আর্নেস্ট হসদে’র বাড়িতে এসে উঠেন। সঙ্গে দুই সন্তান, ছোটটি অসুস্থ। এদিকে আর্নেস্ট হসদে দেওলিয়া হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচকে ছয় সন্তান ও স্ত্রী এলিসকে রেখে বেলজিয়াম চলে যান। এলিস নিজের ছ’জনের সঙ্গে ক্লদ মনের দু’জনকেও লালন করতে থাকেন। আর্নেস্টের মৃত্যুর পর ১৮৯২ সালে মনে ও এলিস বিয়ে করেন এবং একত্রে আট সন্তান লালন করেন।

ব্যর্থতার হাহাকার

এতো সাফল্যের পরও ক্লদ মনে বলেছেন আমার জীবনটা ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। এটাই শিল্পীর অতৃপ্তি যা তাকে বৃহত্তর, মহত্তর সৃষ্টির দিকে ক্রমাগত ঠেলে দেয়।

৫ ডিসেম্বর ১৯২৬ ফুসফুসের ক্যান্সারে মনের মৃত্যু হয়, সমাহিত হন গিভার্নি চার্চ সিমেট্রিতে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×