যে কথা যায় না বলা সহজে
jugantor
যে কথা যায় না বলা সহজে

  রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী  

১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গর্ভ মোচনের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছো,

আর কিছুক্ষণ পরেই

তোমার কোল অন্ধকার করে

জন্ম নেবে যে শিশু

তার কোনো পিতৃপরিচয় থাকবে না।

আমি অলক্ষে দাঁড়িয়ে অনুধাবনের চেষ্টায় বিভোর,

কোন অনুভূতি অধিক যন্ত্রণাময়-

তোমার এই প্রসব বেদনা,

নাকি অবৈধ সন্তানের মা হওয়ার গৌরব,

নাকি সেই পাষণ্ড প্রেমিকের প্রতারণা

যে সুনিপুণ কৌশলে বপন করেছে বীজ

তোমার উর্বর জমিনে?

অবশ্য এমন জন্ম কথা ঢের আছে

রামায়ণ-মহাভারতে, বাইবেলে;

পিতৃপরিচয় দুষ্প্রাপ্য- এমন সন্তানের জন্ম দিয়ে

কত মহীয়সী পূজনীয় হয়েছেন ত্রিভুবনে;

তাহলে তোমায় কেন দোষী করা!

তোমার সন্তানের একজন জনক আছে-

এই সত্য প্রতিষ্ঠার অভ্রংলিহ কামনায়

তুমি আশ্রয় মেঙ্গেছো মহামান্য আদালতের;

তোমার যন্ত্রণার ওমে বিবর্ণ এই অবিশ্বস্ত অন্ধকারে

আমি স্মরণের সঞ্চয় থেকে তুলে আনার চেষ্টা করছি

সেই ভয়ংকর দৃশ্য-

আদালতের কাঠগড়ায় তোমার প্রাণপণ আকুতি

ধর্মাবতার, আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ঐ যে মহামানব

সেইই তো জনক আমার সন্তানের;

মুহূর্তে এক দঙ্গল কালো কোট

ঝাঁপিয়ে পড়ল তোমার ওপর

তুমি দ্বিতীয়বার ধর্ষিত হলে আদালতের পবিত্র বাতাসে!

যে সকল অসংস্কৃত প্রশ্নবাণে কেঁপে উঠল তোমার হৃদয়

গভীর লজ্জায়

তার সব উত্তর জমা ছিল তোমার অন্তরে,

তোমার সুশীল সত্তা সায় দিল না-

তুমি নিরুত্তর রয়ে গেলে;

সুযোগ নিল সেই সুচতুর কৌঁসুলি

মহামান্য আদালত, বাদিনীর স্বীকারোক্তি

আসামি নির্দোষ!

আদালতের ন্যায়বিচারে

বেকসুর খালাস আসামি!

সেই থেকে আমাকে তাড়া করে ফেরে এক বোধ

এই আদালতের রায়ই শেষ বিচার নয়

আরও আদালত আছে- মানুষের অন্তরে।

এতক্ষণে ককিয়ে উঠল এক শিশু

আমি সন্তানের জনক হলাম।

যে কথা যায় না বলা সহজে

 রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী 
১৪ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গর্ভ মোচনের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছো,

আর কিছুক্ষণ পরেই

তোমার কোল অন্ধকার করে

জন্ম নেবে যে শিশু

তার কোনো পিতৃপরিচয় থাকবে না।

আমি অলক্ষে দাঁড়িয়ে অনুধাবনের চেষ্টায় বিভোর,

কোন অনুভূতি অধিক যন্ত্রণাময়-

তোমার এই প্রসব বেদনা,

নাকি অবৈধ সন্তানের মা হওয়ার গৌরব,

নাকি সেই পাষণ্ড প্রেমিকের প্রতারণা

যে সুনিপুণ কৌশলে বপন করেছে বীজ

তোমার উর্বর জমিনে?

অবশ্য এমন জন্ম কথা ঢের আছে

রামায়ণ-মহাভারতে, বাইবেলে;

পিতৃপরিচয় দুষ্প্রাপ্য- এমন সন্তানের জন্ম দিয়ে

কত মহীয়সী পূজনীয় হয়েছেন ত্রিভুবনে;

তাহলে তোমায় কেন দোষী করা!

তোমার সন্তানের একজন জনক আছে-

এই সত্য প্রতিষ্ঠার অভ্রংলিহ কামনায়

তুমি আশ্রয় মেঙ্গেছো মহামান্য আদালতের;

তোমার যন্ত্রণার ওমে বিবর্ণ এই অবিশ্বস্ত অন্ধকারে

আমি স্মরণের সঞ্চয় থেকে তুলে আনার চেষ্টা করছি

সেই ভয়ংকর দৃশ্য-

আদালতের কাঠগড়ায় তোমার প্রাণপণ আকুতি

ধর্মাবতার, আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ঐ যে মহামানব

সেইই তো জনক আমার সন্তানের;

মুহূর্তে এক দঙ্গল কালো কোট

ঝাঁপিয়ে পড়ল তোমার ওপর

তুমি দ্বিতীয়বার ধর্ষিত হলে আদালতের পবিত্র বাতাসে!

যে সকল অসংস্কৃত প্রশ্নবাণে কেঁপে উঠল তোমার হৃদয়

গভীর লজ্জায়

তার সব উত্তর জমা ছিল তোমার অন্তরে,

তোমার সুশীল সত্তা সায় দিল না-

তুমি নিরুত্তর রয়ে গেলে;

সুযোগ নিল সেই সুচতুর কৌঁসুলি

মহামান্য আদালত, বাদিনীর স্বীকারোক্তি

আসামি নির্দোষ!

আদালতের ন্যায়বিচারে

বেকসুর খালাস আসামি!

সেই থেকে আমাকে তাড়া করে ফেরে এক বোধ

এই আদালতের রায়ই শেষ বিচার নয়

আরও আদালত আছে- মানুষের অন্তরে।

এতক্ষণে ককিয়ে উঠল এক শিশু

আমি সন্তানের জনক হলাম।