নেরুদার সঙ্গে নির্বাসিত জীবন

  মূল মাতিলদে উরুটিয়া অনুবাদ আন্দালিব রাশদী ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ শতকের সর্বাধিক পঠিত কবি চিলির পাবলো নেরুদা (জন্ম ১২ জুলাই ১৯০৪ - মৃত্যু ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩)। মাতিলদে উরুটিয়া (জন্ম ৩০ এপ্রিল ১৯১২ - মৃত্যু ৫ জানুয়ারি ১৯৮৫) পাবলো নেরুদার তৃতীয় স্ত্রী, দাফতরিকভাবে তাদের দাম্পত্যকাল ১৯৬৬ থেকে নেরুদার মৃত্যু পর্যন্ত।

চিলির ডানপন্থী সরকারের হাতে নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত পাবলো নেরুদা তখন দেশান্তরে। সেবিকা-গায়িকা মাতিলদের সঙ্গে নেরুদার প্রেম হয়ে ওঠে সেকালের অন্যতম গোপন কাহিনী। জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে নেরুদাকে নিয়ে মাতিলদে উরুটিয়ার মাই লাইফ উইথ পাবলো নেরুদার একাংশ অনূদিত হল।

নেরুদা ও মাতিলদে

আমি তৃতীয়বারের জন্য প্যারিস এসে পৌঁছলাম। আমার জন্য যে কেউ প্রতীক্ষা করবে না তা তো আমার জানাই আছে। আমি এসবের আর পরোয়া করি না। আমি অমূল্য সম্পদ বহন করে এনেছি, আমার পার্সবোঝাই সম্পদ, আমাকে নিয়ে লেখা পাবলোর আবেগময় কবিতা। আমি অগাধ ভালোবাসাকে আমার সঙ্গী করে এনেছি আর আছে নিয়নের স্মৃতি। সেই জাদুকরী শব্দ নিয়ন সম্পদের সিন্দুক খুলে দেয়। তাতে আছে হাসি, আবেগ, লেইক জেনেভা আর এর রাজহাঁস ও গাংচিল।

প্যারিসে আমি আর একবার আমার ছোট অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাই। এটা অনেকটা আমার নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মতো। যেখানে কেউ দু-এক রাত কাটিয়েছে, ঘুমিয়েছে, কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছে, সেখানে নিজের বাড়ির অনুভূতি পাওয়াটা কি অদ্ভূত ব্যাপার নয়? এক পাত্র কফি বানানোর জন্য আমি তখনই রান্নাঘরে ঢুকি। আমার তখন উৎফুল্ল মেজাজ, কফির কাপ নিয়ে আমি চিলেকোঠার জানালার সামনে বসি। কেন এমন হল জানি না, আমার মেক্সিকোর অ্যাপার্টমেন্টের কথা মনে পড়ল। মেক্সিকোর এক সময়ের শক্তিশালী স্মৃতি মিলিয়ে যেতে শুরু করল এবং এর গুরুত্ব কমে এলো। আমার হৃদয় চাইল এ স্মৃতি চিরদিনের মতো মুছে যাক, কারণ তা আমার বর্তমানের সুখময় জীবনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মনে হয় এখন একটি শক্তিশালী হাত আমার নিয়তি নিয়ন্ত্রণ করছে। সেদিন থেকে আগামীর দিনগুলোয় আমি কেবল পাবলো এবং আমার ভালোবাসার সঙ্গে সম্পর্কিত যা কিছু আছে কেবল তা-ই গণ্য করব।

আমার বেলায় মেক্সিকো হবে বিস্মৃত সময়ের স্মৃতি।

পাবলোর সঙ্গে যে শিগগির আমার আবার দেখা হবে এবং আমরা আবার একসঙ্গে বসবাস করতে পারব এই ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে আমি বেশ আয়েশের সঙ্গে প্যারিসে কয়েকটি দিন কাটিয়ে দিলাম। পাবলো আমাকে কয়েকজন বন্ধুর ঠিকানা দিয়েছে। আমি একমাত্র পল এলুয়ারের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি তার কবিতা পড়েছি, মেক্সিকোয় আমাদের দেখা হয়েছে। আমি তার কিছু মধুর স্মৃতি লালন করছি এবং তাকে আবারও দেখার জন্য আমার কৌতূহল রয়েছে। এক অপরাহ্ণে পল এলুয়ার এবং তার স্ত্রী ডোমেনিক আমাকে যেভাবে সাদরে গ্রহণ করলেন তা কখনও ভোলার নয়। তাদের ঘরের আরামদায়ক যে কোণটিতে আমরা বসি সেখানে ছিল ডিমলাইট, মনে হয় সুসংগঠিত একটি নৈরাজ্য, চারদিকে পেইন্টিং ঝোলানো। আমি যখন প্রথম এলাম, লক্ষ্য করলাম তারা গভীর কৌতূহল নিয়ে আমাকে দেখছেন। ডোমেনিক আমার বাকি জীবনের বন্ধু হয়ে ওঠে।

পাবলো কেমন আছে তাদের জানাই এবং বলি ফ্রান্স সরকারের বহিষ্কারাদেশের কারণে তার পক্ষে প্যারিস আসা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতি তাদের জানা, পল বলল, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। পল পাবলো সম্পর্কে একটার পর একটা প্রশ্ন করে যাচ্ছে, অসংখ্য বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাইছে যেন পল বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করছেন। আমি একান্তভাবে উত্তর দিয়ে যাচ্ছি, মিথ্যা না বলে এবং কোনো ধরনের লুকোচুরি না করে কেবল আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পেরেছি।

প্যারিসে বসবাসকারী চিলির ক’জন বন্ধুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে যাই। নেমেসিও আন্তনেজ এবং তার স্ত্রী ইনেস ফিগারোয়া এক বিকালে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি নেমেসিওর স্টুডির ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখলাম তার কাজের টেবিলে কিছু পচা মাছ।

‘মাছ?’ আমি ইনেসকে জিজ্ঞেস করলাম।

‘নেমেসিও এগুলোকে রং করছে।’ যেন এগুলোই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাকৃতিক বস্তু।

আমি একটু একটু করে এগোচ্ছি, এ এক অন্য পৃথিবী- কত কিছু যে দেখার আছে আর কত বিস্ময়!

অধৈর্য আমার ভালো দিকটাকে হরণ করতে শুরু করেছে- কয়েকদিন পর কোনো কিছুই আর আমি উপভোগ করতে পারছিলাম না। আমি সবকিছুই দ্রুতগতিতে করতে থাকি। আমি একটু হাঁটাহাঁটি করব, কিন্তু আমি এত দ্রুত হাঁটি যে সামান্য পথ গিয়েই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। গিয়েই বলছি আমি আসি, বিদায়, যেন আমাকে জরুরি কাজে ছুটতে হবে। আমি রাতে ঘুমাতে পারছি না।

আমি রোমের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, যেখানে পাবলোর জন্য প্রতীক্ষায় থাকব। আমি আমার মেক্সিকান বন্ধুদের ডেকে আমার পরিবর্তিত পরিকল্পনার কথা জানালাম। তাদের কোনো পান্থশালায় আমার জন্য বন্দোবস্ত করতে পারবে কিনা জানতে চাইলাম। আমি সেই প্রিয় বন্ধুদের সান্নিধ্য লাভের আশায় আছি।

স্টেশনে গেলাম, আসার সময় স্যুটকেস যত না ভারী ছিল এখন তার চেয়ে অনেক বেশি ভারী। আমাদের ঘর সাজানোর জন্য প্যারিস থেকে অনেক কিছু কিনেছি- কিন্তু কখন কোথায় যে আমরা একত্রে বসবাস করতে পারব আমার কোনো ধারণাই নেই। আমি কতগুলো সুন্দর কাপ কিনেছি, গোলাপি টি-পট, পাখি আঁকা কটা ডিশ। আমি জানি পাবলো এগুলোতে খুশি হবে। রোমে পৌঁছলাম, দেখলাম বন্ধুরা সত্যিই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা খুব আমোদে আছে। হাসিঠাট্টার মধ্য দিয়ে তারা আমাকে এই পান্থশালার মালিকের পরিচয় দিল। ভদ্রমহিলার নাম ব্যামবোলা। বিশালদেহী, গোলাকার মিষ্টি স্বভাবের এই মহিলা আমাকে সস্নেহে গ্রহণ করলেন। তিনি বললন, তোমার সম্মানে আজ রাতে আমাদের স্পেশাল ডিনার হবে। আমরা মোৎজারেলা সালাদ এবং রিসোতো আলা মিলানিজ খাব।

পান্থশালার অতিথিদের নিয়ে আমরা বড় টেবিলে খেতে বসি। ব্যামবোলা বসেন হেড টেবিলে এবং সবার মায়ের ভূমিকা পালন করতে থাকেন, সবার প্লেটে প্রচুর খাবার বেড়ে দেন। সবাই কথা বলছে, হাসাহাসি করছে। প্যারিসে অনেক নিঃসঙ্গ দিনের ভোগান্তি সইবার পর শেষ পর্যন্ত আমি আনন্দসঙ্গী পাচ্ছি। মেক্সিকান বন্ধুদের সান্নিধ্য আমাকে সরল আনন্দের সেই বেপরোয়া জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাদের একজন ডোরা বলে, ‘আমরা একটি পার্টি দিই না কেন, মাতিলদে রাঁধবে তার বিশেষ খাবার সে ছাড়া অন্য কেউ রাঁধতে জানে না, আমরা রাঁধব মেক্সিকান খাবার। আমরা টার্কি কিনে আনতে পারি, আর তারপর বানাব মোল সস।’ ডোরা যে খাবারের কথা বলছে সে সম্পর্কে ইতালিয়ানদের কোনো ধারণাই নেই। তাদের কাছে সবই অভিনব মনে হচ্ছে। আমরা সুস্বাদু রিসোতো খেলাম, চিজ ও ওয়াইন, সঙ্গে মুরগি দিয়ে রান্না করা ভাত এই রিসোতো।

রোমে আমি অনেক স্বস্তিবোধ করছি। পান্থনিবাসটি পিয়াৎজা দেল পপোলোতে; সেখানে প্রাণবন্ত কর্মচাঞ্চল্য, অনেক কাফে, অনেক ব্যবসা। বিশাল মনে হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন কফি খেতে যাই, আমাদের অনেক কিছু ধরার আছে, স্মরণ করার আছে- আমরা মেক্সিকোর অনেক কথা বলি। আমার বন্ধুদের চেয়ে আমি বেশি মেক্সিকান। আমি মেক্সিকোর সবই জানতে চেষ্টা করেছি- এর রীতিনীতির, আমার মেক্সিকোর বিশাল জাঁকজমক- অন্য কোনো দেশে এমন নেই। বহু বিচিত্র মানুষ, সবাই জাতীয় অহংকার ভাগ করছে, প্রায় সবাই দেশজ অতীতের সঙ্গে নিজেদের একটি যোগসূত্র দাবি করে চলেছে। আমি এর প্রশংসা করি, কারণ আমি এমন এক দেশ থেকে এসেছি যেখানে আদিবাসীদের প্রতি ঘৃণা লালন করা হয়।

আরভিন সেরিও নামের একজন লেখকের কথা শুনেছি, ক্যাপ্রিতে থাকেন। ইতালির সরকার নেরুদার সঙ্গে যে আচরণ করেছে তাতে এই লেখক অসন্তুষ্ট বলে মনে হয়েছে। তিনি ক্যাপ্রিতে তার বাড়িতে নেরুদা ও তার স্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। চিলির প্রাদেশিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমরা ভাবছিলাম কবি যাকে নিয়ে সেখানে হাজির হবেন সে তার স্ত্রী নয়, মাতিলদে নামের একজন নারী, তখন তিনি কী ভাববেন? আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আগে সত্যটা আমরা তাকে খুলে বলব, তারপর আশা করতে থাকব যে ভাগ্য আমাদের প্রতি প্রসন্ন হবে।

আমরা সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম- আমরা রোম থেকে পৃথকভাবে রওনা হব, তারপর ন্যাপলসে আমাদের দেখা হবে। সেখান থেকে পাবলো সেরিওকে ফোন করবে এবং বলবে এখানে আমার সঙ্গে তার দেখা হয়ে গেছে, তাই আমাকে নিয়েই আসছে। পাবলো ন্যাপলস রওনা হয়ে গেল। আমি রোমে আমার শেষদিন উদ্বিগ্নে কাটালাম। আমি এক অজানা ভূখণ্ডে যাত্রা করতে যাচ্ছি। আমার অনেক কিছু শেখার আছে। আমার বেলায় পুরো ব্যাপারটাই এতটাই নতুন যে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। নিয়নে আমরা যেমন একত্রে থেকেছি, এখানেও তাই করব- কিন্তু তা হবে বেশ ক’মাসের অবস্থান। সবকিছুর ওপরে এখন পাবলোকে তার নিজের কাজে নিবেদিত হতে হবে। আমার নিজের অহংকার এক পাশে সরিয়ে রাখতে হবে। তা করার সামর্থ্য কি আমার আছে? পাবলোর সঙ্গে আমার এই সম্পর্কের জন্য আমাকে যে সবকিছু বিসর্জন দিতে হবে। আতঙ্কিত অনুভূতি নিয়ে বুঝতে পারছি আমার একটি অংশ এখনও দেয়ালের পেছনে আমার স্বাধীনতা ও আমার স্বতন্ত্র পরিস্থিতির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আমি নিজের ভেতর আবিষ্কার করছি মহান আবেগময় ভালোবাসা যা আমাকে অবিরাম পাবলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু পাবলো আমার জন্য যে তীব্র ও শক্তিশালী ভালোবাসা দেখিয়ে যাচ্ছে আমার কি তার জবাব দেয়ার সামর্থ্য আছে? সুন্দর ও সংবেদনশীল সম্পর্কে আমাদের আবদ্ধ থাকতে হবে।

আমার স্যুটকেস গোছানোর সময় আমার ছোট কুকুরটিকে পাশে নিয়ে কেবল ভেবেছি আর ভেবেছি, নিয়ন ঘুম ঘুম চোখে আমার দিকে চেয়ে রয়েছে। আমি নিয়নকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সেরিও যদি আমাদের তার বাড়িতে থাকতে না দেয় তাহলে? তখন আমরা কী করব?’ নিয়ন ঘড়ঘড় শব্দের একটা কিছু বলল, আমি হেসে উঠলাম। সবচেয়ে ভালো ঘুমিয়ে পড়া।

ন্যাপলসে পাবলো সম্ভবত আমার কথা ভাবছে। আমি ভাবছি তার মনও কি আমার মতো চিন্তায় বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে?

ভোর হল। সুন্দর রৌদ্রস্নাত সকাল। রাতেই মিলিয়ে গেছে আমার উদ্বেগ। আমি পান্থশালার কোলাহলে যোগ দিই। আমার বন্ধুরা আবার আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে শুরু করেছে। তাদের কজন আমাকে স্টেশনে নিয়ে এলো। চেঁচিয়ে স্কার্ফ উড়িয়ে আমাকে বিদায় জানাল যেন তারা আমার বর্ধিত পরিবারেরই অংশ। আমি গৌরবের সাগরে সাঁতার কাটছি। আমার জীবনে আমি এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি? আমার ছোট্ট কুকুর কুণ্ডলি পাকিয়ে আমার বুকের ওপর শুয়ে আছে।

রোম থেকে ন্যাপলসের ট্রিপটা মনে হয় অনেক দীর্ঘ। আমি শিগগির পৌঁছার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছি। আমাদের বন্ধু সারাহ অ্যালিসাটা স্টেশনে আমাকে অভ্যর্থনা জানাল। বুদ্ধিমতী, সুন্দরী, আনন্দময়ী এই মেয়েটি সময় গড়ালে যতটা না বন্ধু তার চেয়ে বেশি বোন হয়ে উঠল। সারাহ আমাকে আলিঙ্গন করে বলল, ‘তুমি আসাতে আমি খুব খুশি হয়েছি। পাবলো অধৈর্য হয়ে উঠেছে। গতরাতে আমাকে বলেছে, মাতিলদে যদি না আসে তাহলে কী হবে? পাবলো এ দুশ্চিন্তার মধ্যেই আটকে আছে, সে যে আমাকে কতটা ভোগাচ্ছে তুমি ভাবতেই পারবে না। আমিও ভাবছিলাম মাতিলদে যদি না আসে তাহলে পাবলোকে নিয়ে কী করব? সে তোমাকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু একই সঙ্গে খুব ঈর্ষাপরায়ণ ও আতঙ্কগ্রস্ত যে তুমি তার জীবন থেকে নিরুদ্দিষ্ট হয়ে যেতে পার যেমন তুমি অনেকবার আগেও করেছ।’

আমি সারাহর দিকে তাকিয়ে হাসি, বলি, ‘জীবন আমাদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছে, এবার মনে হচ্ছে তা চিরদিনের জন্য। অন্তত আমি তা-ই মনে করি- আমি পাবলোকে যেভাবে চিনি এখন মনে হচ্ছে আগে যা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তির কথা ভাবতেও পারছি না।’ আমি এখন ভিন্ন এক নারী।

আমরা একটি ছোট উপসাগরের দিকে এগোই। এখান থেকে পাবলো ও আমি ক্যাপ্রিতে পারাপারের জন্য নৌকা ধরব। পাবলো সেখানে অপেক্ষা করছিল, তাকে উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। আমি শিগগিরই তার বাহুতে আলিঙ্গনে বাঁধা হয়ে যাই, তার প্রেমে মত্ত। সেরিওকে নিয়ে আমার প্রথম প্রশ্ন : ‘সে কী বলেছে? আমাকে গ্রহণ করবে?’

পাবলো হেসে উঠে বলল, ‘আমরা এতটা প্রাদেশিক ভাবনার মধ্যে আছি। আমি যখন তাকে বললাম, আমার স্ত্রী নয় এমন একজন নারীকে নিয়ে আমি আসছি, সে বরং আর উদ্দীপিত হল, বলল, দারুণ শোনাচ্ছে, বিয়ে মানুষকে কেবল ঝগড়ার দিকে ঠেলে দেয়। সে আমাকে আরও বলেছে তার বাড়িতে তোমার জন্য পুষ্পস্তবক অপেক্ষা করছে।’

সারাহ আমাদের নৌযাত্রার বন্দোবস্ত করল। আমাদের নৌকা ছেড়ে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরও দেখি সারাহ তার রুমাল উড়িয়ে আমাদের বিদায় জানাচ্ছে। আমরা পরস্পর চাপাচাপি করে বসি, নিঃশব্দে হাত ধরে রাখি, আমাদের অন্তরঙ্গ সুখ উপভোগ করতে থাকি। বিকালের আকাশ রং বদলাচ্ছে সংবেদনশীল নীলের সমারোহ গোলাপির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে- আমরা এতই আচ্ছন্ন হয়ে দেখছি ঠাণ্ডা টের পাচ্ছি না। আমি চাই, এই মুহূর্তটি যদি চিরদিন থাকত।

আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থাকি, আমরা যে জাদুতে আচ্ছন্ন তার ঘোর কাটাতে চাচ্ছি না। এভাবেই আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের একটি অধ্যায় শুরু হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×