অমৃতা প্রীতমের ৩টি কবিতা

অনুবাদ : আন্দালিব রাশদী

  স্মৃতি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সূর্য’র বরং আজ অস্বস্তিতে ছিল

সূর্য আলোর জানালা খুলে দিয়েছে

তারপর বন্ধ করেছে মেঘের জানালা

তারপর সিঁড়ি বেয়ে অন্ধকারে নেমে গেছে।

আকাশের ভ্রূ-তে

ঘামের বিন্দু পুঁতির মতো ঝুলে আছে

তারার বোতাম খুলে দিয়েছে

তুলে নিয়েছে চাঁদের শার্ট।

আমি নগ্ন হয়ে এক কোনে বসেছিলাম

তোমার স্মৃতি আমার কাছে এলো

ভেজা কাঠের

ভারি ও তিতকুটে ধোঁয়ার মতো।

শত শত চিন্তা ভিড় জমালো

শুকনো কাঠের

আগুনের লাল দীর্ঘশ্বাসের মতো

আমি দুটো কাঠের তৃষ্ণা মেটাই।

পুরোনো যুগের কয়লা ছড়ানো চারদিক

কোনোটা তৃপ্ত করি। কোনোটা নয়

সময় যখন তাদের মুছে নিতে চায়

আঙ্গুলের ডগা পুড়ে যায়।

রান্না হাঁড়ি তোমার হাত থেকে পড়ে যায়

এবং ভেঙ্গে যায়

আমরা ইতিহাসকে ভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছি

ক্ষুধার্ত থেকেই তিনি চলে গেছেন।

একটি গল্প

খাঁটি দুধের মতো আমার ভালোবাস,

বহু বছরের পুরোনো চালের মতো ভালোবাস

হৃদয়ের মাটির পাত্রে কচলানো এবং ধুয়ে রাখা।

পৃথিবী পুরাতন সিক্ত খড়ির মতো

সবকিছু ধোঁয়াতে অনুজ্জ্বল

রাতটা পেতলের পাত্রের মতো

চাঁদের রূপোর পোশাক ছেঁড়া ফাড়া

কল্পনা মলিন হয়ে এসেছে

স্বপ্ন পচা দুর্গন্ধময়

ঘুম হয়ে গেছে তিতকুটে।

জীবনের আঙ্গুলে

ঝামেলার আংটির মতো স্মৃতিগুলো চেপে ধরে আছে

যেন সময়ের স্বর্ণকারের হাত থেকে

স্বর্ণরেণু ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

ভালোবাসার শরীর সঙ্কুচিত হচ্ছে

সঙ্গীতের জামা আমি কেমন করে সেলাই করব?

আমার কল্পনার সুতোতে জট লেগে গেছে

আমার কলমের নিব ভেঙ্গে গেছে

আর সমস্ত গল্পটা হারিয়ে গেছে।

প্রতিশ্রুতি

যন্ত্রণার রেখা খোদাই করা

আমার করতল একটি প্রতিশ্রুতি দেয়,

বিশ্বাসের রেখা

বয়সের রেখাকে ছাপিয়ে যায়।

তোমার জানতে ইচ্ছে করে

আমার ভালোবাসা কতোদিন টিকে থাকবে

অভ্যাসবশত বক্তৃতার ভালোবাসার কথা শেখাবে না

কেমন করে শুনতে হয় এখনো তা যে শিখেনি।

শব্দের ঐশ্বর্য ছাড়াই ভালোবাসার সমৃদ্ধি ঘটে।

আমার শরীরের দয়ার উপর আমার নিঃশ্বাস

যে কোনো সময় তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে

কিন্তু সময়ের বক্ষদেশে

আমাদের ভালোবাসার লিখন

কখনো মোছা যাবে না।

হির তো লায়লার নকল কেউ নয়

কিংবা মজনুও নয় রানঝার মডেল

প্রেম তার কাহিনীর পুনরাবৃত্তি করে না

প্রতিটি পৃষ্ঠাই তাজা এবং তুলনাহীন।

যন্ত্রণার তীর

আমার করতল ও আঙ্গুলের ডগায় বিদ্ধ হয়

কিন্তু জখম হওয়া আঙ্গুলে কোথাও না কোথাও

একটি আশা জীবনকে জাগিয়ে তুলছে।

(পাঞ্জাবের হির ও রানঝা কাহিনী লাইলি মজনুর সমান্তরাল মনে করা হয়)

৩১ আগস্ট ছিল বিশিষ্ট পাঞ্জাবি কবি ও কথাসাহিত্যিক অমৃতা প্রীতমের জন্মশতবার্ষিকী।

অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালাতে ৩১ আগস্ট ১৯১৯ তার জন্ম। সুন্দরী ও মেধাবী অমৃতার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অমৃত লেহরান’ (অমর ঢেউ) যখন প্রকাশিত হয় তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অমৃতা হিন্দি ও পাঞ্জাবি দু’ভাষাতেই লিখেছেন। তার প্রকাশিত উপন্যাস ২৪টি, কাব্যগ্রন্থ ২৩, গল্প সংকলন ১৫, তিনি ভারতের সর্বাধিক অনূদিত সাহিত্যিকদের একজন। জ্ঞানপীঠ, পদ্মবিভূষণ, আকাদেমিসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। মৃতু্যু ৩১ অক্টোবর ২০০৫।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×