গল্প

তারকা

  ইকবাল খন্দকার ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোফায় পা ছড়িয়ে বসে পেপার পড়ছিল অধরা। নিজের ছবি সংবলিত পেপার। হঠাৎ কলিংবেল বেজে ওঠে। অধরা দাঁড়াতে দাঁড়াতে পেপারটা ভাঁজ করে। তারপর হাতে নিয়েই চলে যায় দরজা খুলতে। কতদিন পর আজ সে নিজ হাতে দরজা খুলতে এলো! বাসায় তিন তিনজন ‘বান্ধা’ কাজের মানুষ। একজন ‘ছুটা’র যাতায়াতও আছে। দরজা খোলাসহ আগন্তুকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার কাজগুলো তারাই করে থাকে। আর অধরা থাকে অন্দরমহলে। পর্দানশীনদের মতো খুব প্রয়োজন না হলে সে কারও সামনে আসে না, কথা বলে না।

অধরা আজ অনেকক্ষণ ধরে তৈরি ছিল দরজা খোলার জন্য। সেই পৌনে দশটা থেকে। কারণ, তার বাল্যবান্ধবী মারিয়া ফোন করে বলেছিল মোটামুটি এই সময়টায় আসবে। নইলে এত সকালে সে চোখই খুলত না। উঠে দাঁত ব্রাশ করে, চা খেয়ে, সোফায় বসে পেপার পড়া তো অনেক পরের বিষয়। মারিয়ার সঙ্গে আজ তার দেখা হচ্ছে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর। অথচ দুজন একই শহরে থাকে, একই এলাকায় থাকে। সর্বশেষ যখন তার সঙ্গে দেখা হয়, তখন সে অতিসাধারণ না হলেও সাধারণ। নাচ শেখে, টুকটাক র‌্যাম্প মডেলিং করে আর সিনেমায় অভিনয়ের রাস্তা খোঁজে।

অধরার চারপাশ ভরা তখন শত্রু। যে শুনছে সে সিনেমায় অভিনয় করবে, সে-ই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চেষ্টায় ধ্বংস করতে চাচ্ছে তার অভিনয়ের ইচ্ছা। আর এই শত্রু-তালিকার প্রথমে যে নামটি, সেটি তার বাবার। তিনি তালিকার শুরুতে নিজের নাম বসিয়েই ক্ষান্ত হন না, ক্ষমতা প্রদর্শনেরও চেষ্টা করেন। স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা। আত্মীয়-স্বজনকে জানিয়ে দেন, যে বা যারা তার মেয়ের বেশরিয়তি ইচ্ছাকে সমর্থন করবে, তার বা তাদের সঙ্গে তিনি কোনোপ্রকার সম্পর্ক রাখবেন না। আজীবনের জন্য কাটাকুটি। সেই দুর্দিনে অধরা যাকে ছায়ার মতো পাশে পেয়েছে, সে হল মারিয়া।

মারিয়া ঢাকার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত ছিল ছোটবেলা থেকেই। ছুটি-ছাঁটায় মামার বাসায় বেড়াতে আসার সুবাদে। একবার এলে পনেরদিন না থেকে যেত না। মামি যেতে দিতেন না। মামাতো ভাই-বোনরা ধরে রাখত। অধরা প্রথম ঢাকায় আসে ইন্টার পরীক্ষা দেয়ার পর। কোচিং উপলক্ষে। ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তির লক্ষ্য নিয়ে জোরালো পড়াশোনা করেছিল সে। থাকত মেসে। কোচিং সেন্টারের আওতাধীনই ছিল মেসটি। এসময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। পরিচয় থেকে প্রেম, প্রেম থেকে বিয়ে। সংসার। অধরার আর ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পাওয়া হয় না। সে ভর্তি হয় অখ্যাত একটা কলেজে।

সাগর-অধরার সংসার টিকেছিল মাত্র দশ মাস। মূলত সাগরের বাবা-মার গোঁয়ার্তুমির কারণেই ভেঙেছিল সংসারটা। তারা তাদের ছেলের ‘গলায় ঝুলে পড়া’ একটা মেয়েকে পুত্রবধূর মর্যাদা দিতে নারাজ। কিন্তু ততদিনে নিলয় চলে এসেছে অধরার পেটে। সে চাইলে সর্বোচ্চ আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাগরকে কব্জা করে রাখতে পারত। তার পরিবারকে নাকানি-চুবানি খাওয়াতে পারত। কিন্তু চায়নি। তার ব্যক্তিত্ব তাকে চাইতে দেয়নি। নিজের মতো করে বেঁচেছে, নিজের মতো করে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। সাগরকে ধারেকাছেও আসতে দেয়নি। যদি এই মেরুদণ্ডহীনের অশুভ ছায়া তার সন্তানের ওপর পড়ে!

নিলয় যখন একটু একটু করে বড় হচ্ছিল, তখনই বড় হচ্ছিল অধরার সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছাটা। আর তার ইচ্ছার চারাগাছে পানি ঢালছিল মারিয়ার মামার দেয়া একটা পার্টটাইম চাকরি। এই সহায়তাটুকু না পেলে অধরার ঢাকায়ও থাকা হতো না, অভিনয়ের চিন্তাও করা হতো না। চাকরি প্রাপ্তির পর মাস ছয়েক মারিয়ার সঙ্গে তার নিয়মিত দেখা হতো, কথা হতো, এখানে ওখানে যাওয়া হতো। কারণ, মারিয়া তখন রাজধানীর একটি প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রী। পড়াশোনার বাইরের সময়টুকু বলতে গেলে সে অধরাকেই দিত। দুই বান্ধবীর বিচ্ছেদ ঘটে নিলয়ের দেড় বছর বয়সের সময়। স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে চলে যায় মারিয়া। বেশি দিন না, মাত্র দু’বছরের জন্য। কিন্তু এই দু’বছরেই দু’জনের দৃঢ় সম্পর্কটা হয়ে যায় দুর্বল, নড়বড়ে। এতটা নড়বড়ে যে, মারিয়া দেশে ফিরে অধরার সঙ্গে দেখাও করে না। দেখা করার রুচি হয় না তার। আর অধরা দেখা করতে চাইলেও ব্যস্ততার জন্য পারে না। তার কাছে তখন পুরনো বন্ধুত্বের চেয়ে কাজটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজক-পরিচালকদের বন্ধুত্ব। এরপর দু’জনের দূরত্ব কেবল বেড়েছে আর বেড়েছে।

দরজা খুলে মারিয়াকে দেখে সব দূরত্বের কথা ভুলে যায় অধরা। চৌকাঠের ওপর দাঁড়িয়েই জড়িয়ে ধরে তাকে। ধরে রাখে অনেকক্ষণ। কুশল বিনিময় করে দু-এক শব্দের খুদে খুদে বাক্যের মাধ্যমে। তারপর তাকে নিয়ে আসে ড্রয়িংরুমে। বসে মুখোমুখি সোফায়। মারিয়া অবাক চোখে ঘরের রাজকীয় সাজসজ্জা দেখে। দেখে ফিগার, গায়ের রং আর চুলের রঙে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে আক্ষরিক অর্থেই তারকা বনে যাওয়া অধরাকে। তবে সরাসরি দেখতে কোথায় যেন সংকোচ, কিসের যেন লজ্জা, কেমন যেন দ্বিধা। তাই চোরাচোখে দেখে।

-এখানে বসাটা বোধহয় ঠিক হয়নি। একবারে ডাইনিং টেবিলে বসলে ভালো হতো। কারণ, আমি এখনও নাশতা করিনি। মারিয়ার চোরাচোখের বিচরণ থামিয়ে দিয়ে বলে অধরা।

-তুই তাহলে নাশতা করে আয়। আমি বসি।

-মানে কী? তোর জন্য কখন থেকে বসে আছি, আর তুই এখন বলছিস... চল, চল। একসঙ্গে নাশতা করব। টেবিল কিন্তু রেডি। চল। অধরা হাঁটা শুরু করে।

-আমি নাশতা করে বের হয়েছি। অতএব যতই চাপাচাপি করিস, লাভ নেই। খামোখা সময় নষ্ট। তোর নাশতা তুই করে আয়। তারপর জরুরি একটা কথা বলব। চলে যাব।

মারিয়ার গম্ভীর মুখের ‘জরুরি কথা’ শোনার কৌতূহল দমাতে পারে না অধরা। তাই সে বসে যায় আগের জায়গায়। তাগাদা দেয় কথাটা বলে ফেলার জন্য। তবে কথা বলার পর খেতে বসতে হবে, এই দাবিও জানিয়ে রাখে। মারিয়া মেদহীন ভূমিকা দিয়ে বলে- প্রথম ছবিটা সুপার ডুপার হিট হওয়ার পর তুই যখন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটা দৈনিকে বিশাল ইন্টারভিউ দিলি, আমি তখন বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে এমন ব্যস্ত, দম ফেলারও সময় নেই। তবু অনলাইনে ঢুকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ইন্টারভিউটা পড়লাম।

অধরা ধন্যবাদ জানায় মনোযোগ দিয়ে তার ইন্টারভিউ পড়ার জন্য। মারিয়া এই ধন্যবাদ গ্রহণ না করে নিজের কথার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখে- তোর ওপর আমার প্রথম রাগ হয় ওই ইন্টারভিউটা পড়ার পর। কারণ ওটা পড়েই আমি জেনেছিলাম তুই তোর সন্তানকে অস্বীকার করিস। এরপর যত ইন্টারভিউ পড়েছি, রাগ শুধু বেড়েছেই। তাই তোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। কিন্তু কদিন ধরে মনে হচ্ছিল একবার দেখা করা দরকার। জানা দরকার, তোর মধ্যে মানবিকতা বলতে কিছু আছে, নাকি পুরোপুরি অমানুষ হয়ে গেছিস।

অধরা তারকাসুলভ হাসি হাসে। আর বলে- তুই তো দেখছি দিন-দুনিয়ার কোনো খোঁজ-খবরই রাখিস না। তাহলে দেশ-বিদেশ ঘুরে লাভ কী! আরে, সারা দুনিয়ার তারকারাই তাদের পার্সোনাল লাইফ নিয়ে লুকোচুরি করে। ‘পাস্ট’ লুকায়। দেখ, প্রেম-ভালোবাসা খুব নরমাল একটা ব্যাপার। অথচ এই নরমাল ব্যাপারটাও কেউ স্বীকার করতে চায় না। বিয়ের কথা তো না-ই। সেখানে আমি যদি আমার বাচ্চার কথা স্বীকার করতে যাই, তাহলে কেয়ামত হয়ে যাবে না? ক্যারিয়ারের ‘ক’ও কি অবশিষ্ট থাকবে?

-সন্তানের চেয়ে তোর কাছে ক্যারিয়ার বড়? আরে, তুই যদি ক্যারিয়ারের ভয়ে তাকে দূরে সরিয়ে রাখিস, তাহলে রাস্তার একটা জারজ সন্তানের সঙ্গে ওর পার্থক্যটা থাকল কোথায়?

এবার চটে যায় অধরা। তার সন্তানকে জারজ সন্তানের সঙ্গে তুলনা করার দায়ে সে মারিয়াকে নির্দেশ দেয় ‘সরি’ বলার জন্য। মারিয়া নির্দেশ পালন না করে নিজের কথার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করায়- নিলয় জানে না তার বাবা কে। তুই জানতে দিসনি। আর মার পরিচয় জেনেও জানে না। কারণ, তুই তাকে বলে দিয়েছিস কারও সামনে যেন তোকে ‘মা’ বলে না ডাকে। কিন্তু বাচ্চা মানুষ, মনের ভুলে ডেকে ফেলতে পারে, এই ভয়ে তাকে পাঠিয়ে দিলি গ্রামে। তো যে বাবার পরিচয় জানে না, মাকে মা ডাকতে পারে না, জারজের সঙ্গে তার ডিফারেন্স কতটুকু?

অধরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার দামি মোবাইল নিয়ে। কারণ, এক পরিচালক শুটিং-শিডিউল পাঠিয়েছে এসএমএস করে। এই ব্যস্ততা দেখে মারিয়া উঠে যায় সোফা ছেড়ে। তারপর অধরার দিকে এক কদম এগিয়ে বলে- তোর ভাগ্য ভালো, তোর বাবা মারা গিয়েছিলেন। উনি জীবিত থাকলে সিনেমায় নামার অপরাধে তুইই গ্রামে যেতে পারতি না। নিলয়কে তোর মার কাছে রাখা তো ছিল অকল্পনীয়। থাক, ওসব প্যাঁচাল আর না পাড়ি। শুধু এই রিকোয়েস্টটুকু করব, ছেলেটাকে তোর কাছে নিয়ে আয়। শুনেছি সে নাকি খুব অসুস্থ। তোর সঙ্গটা তার ভীষণ দরকার। প্লিজ, নিয়ে আয়।

অধরার দায়সারা সাধা উপেক্ষা করে চলে যায় মারিয়া। কাজের মেয়ে সাবিনা দরজা বন্ধ করে দেয় সশব্দে। আর অধরা সোফায় বসে থাকে চোখ বুজে। রাগে শরীর রি-রি করছে তার। সে ভেবে পায় না মানুষ এত ফালতু কেন। কেন অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে কথা বলতে আসে। আরে বাপু, তোর তো উচিত ছিল একজন তারকার সংস্পর্শ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করা। উপর্যুপরি সেলফি তোলা। আর তুই কিনা উপদেশ দেয়ার নামে আপত্তিকর কথাবার্তা শুনিয়ে গেলি? ছোটবেলার বন্ধু না হলে আজ তোকে...

অধরার ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয় মোবাইলের আওয়াজে। এবারের আওয়াজ এসএমএসের না। ফোনের। মা ফোন করেছেন গ্রাম থেকে। অধরার রাগ এক লাফে তিনগুণ হয়ে যায়। ইচ্ছা হয় ফোনটা ধরে মাকে আচ্ছামতো ঝাড়তে। নিলয়ের অসুখের খবর দুদিন পরপর তাকে জানানোর কী আছে? ডাক্তারকে জানালেই হয়। প্রতিমাসে সে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠায়। এই টাকা দিয়ে ডাক্তার গুলে খাওয়ানো সম্ভব। তাহলে কেন শুধু শুধু ফোন করে তার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলা? এই ফোনের সূত্র ধরে কি জানাজানি হয়ে যেতে পারে না সে এক সন্তানের মা? তখন?

মুখ বিষ্ঠা করে ফোন ধরে অধরা। ক্ষুব্ধ গলায় বলে যা বলার তাড়াতাড়ি বলার জন্য। মা তাড়াতাড়িই বলেন। এবার ধমকাতে শুরু করে অধরা- সব দোষ আপনার। আপনি যদি ওকে একটু আদর-যত্ন করতেন, তাহলে আমার অভাবটা ফিল করত না। একটু অসুখ হলেই আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইত না। আমার কাছে আসতে চাইত না। দোষ আপনার, অতএব প্রায়শ্চিত্তও করতে হবে আপনাকেই। আমার ফাইনাল কথাটা শোনেন মা। আমি এখন নিলয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারব না। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় সাংবাদিক আসবে সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। রাখলাম।

মা অনুরোধ করেন অন্তত একটা মিনিট কথা বলার জন্য। জানান, নিলয় আজ অন্য যে কোনো দিনের চেয়ে বেশি অসুস্থ। কোনো ওষুধেই জ্বর কমছে না। জ্বরের ঘোরে কেবল ‘মা’ ‘মা’ করছে আর মার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছে। অধরার পাথর মন একটু গলে। বলে ফোনটা নিলয়কে দেয়ার জন্য। মা দেন। আর অমনি বেজে ওঠে কলিংবেল। অধরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে ফোন রাখার আগে এক নিঃশ্বাসে বলে- সাংবাদিক চলে এসেছে বাবা। এখন আর কথা বলতে পারব না। রাতে ফোন করব। তখন যত ইচ্ছে কথা বল।

রাতে আর ফোন করতে হয় না অধরাকে। এর আগেই সে খবর পায়- নিলয় নেই। আর খবরটা যখন আসে, তখন অধরার সামনে তার নতুন ছবির প্রযোজক বসা। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজক। যার প্রতিষ্ঠানের ছবি মানেই বড় বাজেটের ছবি, বাম্পার হিট ছবি। অধরাকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠতে দেখে তিনি জানতে চান কী হয়েছে। কেউ মারা গেছে কি না। অধরা শোক আর আবেগ সংবরণ করতে না পেরে হড়বড় করে বলে দেয় সবকিছু। কিন্তু একটু পর সম্বিৎ ফিরে পেতেই সে তাকে করজোড় অনুরোধ করে বিষয়টা যেন গোপন রাখেন।

প্রযোজক গালে হাত দিয়ে বসে থাকেন বউ-মরা স্বামীদের মতো। এরপর অধরা গ্রামে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে শুরু করলে তিনি বলেন- কথাগুলো হয়তো নিষ্ঠুর শোনাবে, অমানবিক শোনাবে। তবু বলতে হচ্ছে। কারণ, আমি বিজনেসম্যান। আমার কাছে ইমোশনের চেয়ে টাকা বড়। তুমি আমার তিনটি ছবিতে সাইন করেছ। অ্যাডভান্স নিয়েছ। আর আজ জানলাম এক আশ্চর্য কাহিনী। নো প্রোবলেম। কাহিনীটা যেহেতু আমি একা জেনেছি, ঝামেলা হবে না। কিন্তু তুমি যদি এখন গ্রামে যাও, কী অবস্থা হবে চিন্তা করে দেখেছ?

অধরা ব্যাগ গোছানো বাদ দিয়ে ধপ করে বসে পড়ে খাটে। জানতে চায় তার করণীয় কী। প্রযোজক বলেন- করণীয় একটাই, তোমাকে ইমোশন কন্ট্রোল করতে হবে। প্র্যাকটিক্যাল হতে হবে। কোনোভাবেই এখন গ্রামে যাওয়া যাবে না। আরে এতদিন ক্যারিয়ারের স্বার্থে ছেলেকে দূরে রাখতে পেরেছ, এখন এত উতলা হওয়ার কী আছে? মনে কর তুমি বিদেশে আছ। ভিসা-পাসপোর্ট জটিলতার কারণে দেশেও আসতে পারছ না, ছেলেকে শেষ দেখা দেখতেও পারছ না। ব্যস। পরে না হয় একদিন চুপ করে গিয়ে কবরটা জিয়ারত করে আসবে।

অধরা মাথা নাড়ে। প্রযোজক হাঁফ ছাড়েন। চেয়ে চা খান কাজের মেয়ের কাছ থেকে। এরপর তিনি বিদায় হন খুশিমনে। কিন্তু তার এই খুশি বিষাদের সিন্ধুতে পরিণত হয় মাঝরাস্তায় যেতে না যেতেই। বিষাদের কারণ, অধরার সদ্য দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস-

‘গ্রামে যাচ্ছি আমার বুকের মানিককে শেষ দেখা দেখতে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×