এটা ভালো যে প্রত্যেক বাবারও বাবা আছে

  মাহমুদুল হক ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাহমুদুল হকের জন্ম ১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারি, বাগেরহাট জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬৮ সালে। রেজাল্ট হওয়ার পরের মাসেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন চারুকলায়। তিনি আমাদের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী শিল্পী। তিনি ১৯৮৪ সালে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিন্ট মেকিংয়ের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। মাহমুদুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ছাড়াও কলা শিক্ষা দিয়েছেন পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছিলেন বাংলাদেশে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক। নানা রকম দায়িত্ব পালনের মধ্যে ছবি আঁকছেন নিয়মিত। ক্যানভাসে তেল রং ও প্রিন্ট মেকিং উভয় মাধ্যমে কাজ করছেন দক্ষতার সঙ্গে। শিল্পী মাহমুদুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মোহাম্মদ আসাদ।

আপনার শৈশবটা কেমন ছিল?

: আমি গ্রামেই বড় হয়েছি। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শিমুলতলা গ্রাম। আমার বাবা ছিলেন গ্রামের ডাক্তার। আমাদের গ্রামে কোনো স্কুল ছিল না, মক্তব ছিল না। বাবা নিজের হাতে স্কুল, মক্তব গড়েছেন। সেই স্কুল এখন বিরাট বড় হাইইস্কুল। ছোটবেলায়ই আমার আর্টকালচারের প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল। আমার এক ফুপা কাগজ কেটে কেটে বিয়েবাড়ী সাজাতেন। সেখান থেকে আমার আর্টের প্রতি আগ্রহ। তারপর তার পেছনে থেকে সেগুলো দেখেছি। আমি ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাই। তখন তো বাগেরহাট মহকুমা। পুরো মহকুমায় বৃত্তি পাই। ১৯৬০ সালে মেট্রিক পাস করি। সে সময় আমার সঙ্গে পরিচয় হয় শিল্পী একেএম আবদুর রউফের সঙ্গে। শিল্পী আবদুর রইফ আমাদের সংবিধান হাতে লিখেছিলেন। উনি আমার মামাতো বোনকে বিয়ে করেছিলেন। ওনার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর আমি ওনাকে দেখে আর্ট কলেজে আসার পরিকল্পনা নিই।

চারুকলায় ভর্তি হলেন কীভাবে?

: ১৯৬৩ সালে ঢাকায় এসে চারুকলায় ভর্তি হই। তখন ঢাকায় আমার কেউ ছিল না। ঢাকায় এসে উঠেছিলাম বংশালে দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায়। পরে বংশালে আরেকজনের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে থাকতাম। সেখানে প্রায় কাটিয়েছি এক দেড় বছর। সেখানে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াতাম। থাকতে খাইতে দেয়া হতো। তারপর সেকেন্ড ইয়ারে উঠে হোস্টেলে চলে আসি। নিউমার্কেটের পাশে চারুকলার যে হোস্টেল আছে সেখানে। আমার পড়াশোন আর কর্মদক্ষতায় চারুকলা থেকে ভালো রেজাল্ট করে বেরিয়েছি। ১৯৬৯ সালে রেজাল্ট হওয়ার পরের মাসেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই চারুকলায়। ১৯৮০ সালে স্কলারশিপ নিয়ে জাপান যাই। সেখানে পড়াশোন করি চার বছর। ৮৪ সালে ফিরে এসে আবার শিক্ষকতা করতে থাকি। শিল্পী শাহাবুদ্দিন, শামীম সিকদার, রনজিৎ দাস এরা আমার ছাত্র ছিল। তারপর আবার জাপানে যাই ১৯৯২ সালে। তখন গিয়েছিলাম ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে। এক বছর ছিলাম সেখানে। তারপর ভিজিটিং প্রফেসর ছিলাম আমেরিকায়। তারপর গিয়েছি জার্মানিতে। এরপর গিয়েছি পাকিস্তানে। ভারতের রবীন্দ্রভারতি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা গভর্নমেন্ট কলেজে পড়িয়েছি কিছুদিন।

একাত্তরে আপনি কোথায় ছিলেন?

: ১৯৭১ সালে ছিলাম আমাদের গ্রামে। তখন আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা ছিলেন। যাই হোক আমার যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একাত্তরের শেষ দিকে ঢাকায় আসি। যুদ্ধের শেষ সময় পর্যন্ত আমি ঢাকায়ই ছিলাম। ঢাকায় আমার বাসা ছিল হাতিরপুলে। শিল্পী আলভী ধরা পড়ল, তার আগে সে আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। নিতুন কুণ্ডু, দেবদাস চক্রবর্তীর ওয়াইফ আরও অনেকে যখন ওপারে চলে যায়, আমার বাসা থেকেই তারা যান। যতটুকু পেরেছি নেপথ্যে থেকে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছি। হাশেম খান স্যার তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আমি হাতিরপুলে বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলাম। সেই বাসাটা ছিল কামরুল ভাইয়ের বাড়ির পাশে। আশির দশকে আমি প্রথম বাংলাদেশে আর্টিস্ট ক্যাম্প অর্গানাইজ করি। জার্মানদের সহায়তায় সেই ক্যাম্প হয়েছিল চট্টগ্রামে। আরেকটি আর্টিস্ট ক্যাম্প করি কলকাতায় ১৯৯৩ সালে। সেখানে আমার এক বন্ধু ছিল ডেপুটি হাইকমিশনার। তার সহায়তায় এ ক্যাম্পের আয়োজন করি। সেখানে গিয়েছিলাম কিবরিয়া সাহেব, সমরজিৎ বাবু, আমি এবং শাহাবুদ্দিন এ চারজন। আর কলকাতার বড় বড় শিল্পীরা যেমন সুনীল দাস, যোগেণ চৌধুরী, পরিতোষ সেন এরা সবাই সেই ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেছিল।

তখন তো আপনি চারুকলার পরিচালক, এটা কত সালের দিকে?

: ১৯৯৮ সালে আমি চারুকলার পরিচালক হিসেবে জয়েন করি তিন বছরের জন্য। আমি যখন পরিচালক তখন চারুকলার ৫০ বছর পূর্ণ হবে। তারপর দেখা গেল ফান্ডিং নেই, এটা নেই সেটা নেই। চিন্তা করলাম আর্টিস্টদের থেকে সহায়তা নেয়ার। সে সময় বিরাট একটা সহায়তা করেছিল ব্র্যাকের ফজলে হাসান আবেদ সাহেব। সবার সেই সহায়তায় ৫০ বছর পূর্তি উৎসব করলাম। ৫০ বছর পূর্তিতে কবি শামসুর রাহমান, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম, শিল্পী সফিউদ্দিন স্যার ওনারা সবাই ছিলেন। তৎকালীন ভিসি আজাদ চৌধুরী ছিলেন। সেটা একটা মাইলফলক। ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের আর্টিস্টরা মোটামুটি সবাই অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক থাকার সময়টি সম্পর্কে বলেন

: ২০০৪ সালে চারুকলা থকে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হয়ে এলাম। এটাই মনে হয় প্রথম একজন আর্টিস্ট জাতীয় জাদুঘরের ডিজি হয়ে যাওয়া। এখানে এসে একটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলাম। সবাই ভাবছে একজন আর্টিস্ট কীভাবে কী করবে। এখানে এসে প্লান করলাম কী করা যায়। প্রথম দেখলাম ৯০ বছরে জাদুঘরের কর্মচারীদের সর্ভিস রুল নেই। অনেক কষ্ট করে হলেও সার্ভিস রুলটা করতে পারছিলাম। তারপর আমার দায়িত্বে পড়ল জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা। যেটা আবেদিন স্যার থাকাকালীন করেছিলেন। সে জায়গাগুলো একয়ার করে উন্নয়নের আপ্রাণ চেষ্টা করে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাই। এনামুল হক সাহেব চেষ্টা করে জাদুঘরটাকে গড়েছিলেন এটা ঠিকই, কিন্তু আমি একজন শিল্পী হিসেবে ডিসপ্লে থেকে শুরু করে সুন্দরভাবে সাজানো চেষ্টা করেছি। জাতীয় জাদুঘরকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১০ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে অনুদান এনেছিলাম। এখন তো জাদুঘর সম্পূর্ণভাবে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। দুই তিন বছর একজন মানুষের জন্য বেশি সময় নয়। তারপরও আমার তিন বছরে যতটুকু সম্ভব তার চেয়েও বেশি উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। চেষ্টা করি এটাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার। সেখান থেকে আবার আমি চারুকলায় ফিরে যাই। ফিরে গিয়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণ করি।

আপনার কাজে যে একটা নিজস্বতা অর্জন করেছেন, এটা কী সচেতনভাবে না প্রাকৃতিভাবেই?

: বিএফএ পাস করার আগ পর্যন্ত আমাদের রিয়ালিস্টিক কাজই করতে হয়েছে। তখন চারুকলায় মাস্টার ডিগ্রি ছিল না। একটু হায়ার এডুকেশনের জন্য, একটু অ্যাডভান্স ট্রেনিংয়ের জন্য যে প্রয়োজন সেটা সত্যিকার অর্থে এখানে ছিল না। সুযোগটা করতে হয়েছে নিজেদের প্রচেষ্টায়। তখন কিবরিয়া স্যার, আমিনুল ইসলাম, রশীদ চৌধুরী, কাজী আবদুল বাসেত এদের কাজ দেখে দেখে যেটুকু অনুকরণ, অনুসরণ এবং ইন্সপয়ার হওয়া। তখন দেখে দেখেই শিখতে হতো।

তখন তো আর প্রচুর পরিমাণে প্রদর্শনী হতো না। দেশ-বিদেশের সুযোগ সুবিধা কমই ছিল। যেহেতু বেসিক জায়গাটা চারুকলা থেকে শক্ত হয়ে বেরিয়েছিলাম। চেষ্টা করি রিয়ালিজম থেকে কীভাবে আস্তে আস্তে বের হয়ে আসা যায়। তারপর আধাবিমূর্ত কাজ শুরু করি। আমি যখন ১৯৮০ সালে জাপান যাই তার আগে শিল্পকলায় একটা প্রদর্শনী করি। সেখানে আমার একটা নিজস্ব ধারার শুরু হয়। জাপানে ছিলাম চার বছর। সেখানে পৃথিবীর বড় বড় শিল্পীদের কাজ দেখার সুযোগ হয়েছে। আস্তে আস্তে নিজেকে পরিপক্ব করার চেষ্টা করেছি। দেখে দেখে চর্চা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেছি।

আপনার ক্যানভাসের রং আসছে কোথা থেকে?

: আমার জন্ম অজ-পাড়াগাঁয়ে। আমি এমন একজন শিল্পী যে রুমালে ফুলতোলা থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক শিল্পকলা দেখেছি। এগুলো তো অভিজ্ঞতার আলোকে সম্ভব হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ রং এসেছে প্রকৃতি থেকে, এই রং এসেছে আমার মনের কল্পনা থেকে। তারপর কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন সম্ভব হয়েছে জাপানে যখন উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছি তখন। অভিজ্ঞতারও পরিবর্তন দেখা গেছে সেখানে। আমি নিজেই বুঝতে পেরেছি জাপানের সেই চার বছর আমার রঙের পরিবর্তন, রেখার পরিবর্তন, ফর্মের পরিবর্তন স্বভাবিকভাবেই এসেছে। অভিজ্ঞতার আলোকেই এগুলো সম্ভব হয়েছে।

আপনি তো পেইন্টিংয়ের ছাত্র ছিলেন, প্রিন্ট মেকিংয়ে গেলেন কীভাবে?

: সফিউদ্দিন আহমদ ও মোহাম্মদ কিবরিয়া বড় দু’জন প্রিন্টের শিল্পী ছিলেন আমাদের শিক্ষক। ছাত্রজীবন থেকেই আমি কিবরিয়ার ফলোয়ার। কিবরিয়া স্যারকে আমি বিভিন্নভাবে অনুকরণ করতাম। আমি ছাত্রাবস্থায় হোস্টেলে থাকতে ওনার সঙ্গে আমার একটা সখ্যতা তৈরি হয়। একসঙ্গে একই হোস্টেলে থাকতাম। সেখান থেকেই তার কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে, উৎসাহিত করে। ওনার জীবনযাত্রার সঙ্গে আমার জীবনযাত্রার একদম মিল নেই। তারপরও আমি ওনাকে ভীষণ অনুভব করতাম। ওনাকে ভীষণভাবে ফলো করার চেষ্টা করতাম। করতে করতে এক সময় দেখা গেছে অনেক কিছুতে কিবরিয়া স্যারের সঙ্গে আমার একটা মিল তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি এটা ভালো যে প্রত্যেক বাবারও বাবা আছে। শিল্পকলা কখনও হঠাৎ করে হয়ে যায় না। কোনো জায়গা থেকে নেয়া যেতে পারে কিন্তু সেটাকে নিয়ে নিজস্বতা তৈরি হবে। এটা বোধ হয় আমি খানিকটা চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি। যার ফলশ্রুতিতেই আজকের আমার এই কাজ।

বিদেশে শেখার বিষয়ে আপনি আর্টের কোন বিষয়টিকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন?

: আমি জাপানে শিক্ষাগ্রহণ করেছি এচিং পদ্ধতিতে। সেখানে গিয়ে আমি গোড়া থেকেই প্রিন্ট করি। তার আগে আমেরিকান প্রিন্ট মেকার মাইক্যাল পল জিলিয়ানের অধীনে তিন মাসের একটা ওয়ার্কশপে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেখান থেকে প্রিন্টের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়। পরবর্তী পর্যায়ে জাপানে গিয়ে মনে করলাম প্রিন্টের টেনিকটা ভালো করে শিখতে পারলে পরবর্তী পর্যায়ে দেশে ফিরে কিছু দিতে পারব। সে কারণেই ওখানে প্রিন্টের ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি করেছি। প্রিন্টের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত রপ্ত করার চেষ্টা করেছি। লাইন এচিং থেকে শুরু করে অ্যাকুয়াটিং, সফটগ্রাউন্ড, লিপগ্রাউন্ড সব করে শেষ পর্যন্ত মেজোটিক প্রদ্ধতি রপ্ত করেছি। যে পদ্ধতিতে আমাদের দেশের কেউ কাজ করেননি। সেটা মোটামুটি রপ্ত করে আমি দেশে ফিরেছি। দেশে ফিরে দেখি আমাদের এখানে এচিংয়ের মেশিন নেই। কয়েকবার চেষ্টা করলাম মেশিন কীভাবে তৈরি করা যায়। তৈরি করেও দেখলাম, কিন্তু সেভাবে কাজ হচ্ছিল না। আমি যেহেতু জাপানে ছিলাম, জাপানিদের ধরে চারুকলায় একটা অনুদান পাই। সেই অনুদান হিসেবেই জাপান দুটি মেশিন দেয়। একটা এচিং এবং একটা লিথোগ্রাফ মেশিন। সেই মেশিনগুলো কপি করে সাদেক নামে যশোরের এক লোক ৫০টি বেশি মেশিন তৈরি করেছে। এখন এ মেশিন বাংলাদেশ থেকে ভারত ও অন্যান্য জায়গায় যাচ্ছে। এ মেশিন হওয়াতে প্রতিটি চারু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটা করে মেশিন হয়েছে। অনেক ওয়ার্কশপ হয়েছে। সেই ওয়ার্কশপগুলোয় শিক্ষার্থীরা প্রাকটিস করতে পারছে। এই যে কাজ করা সম্ভব হয়েছে সেই ৯০-৯১ সালে জাপান থেকে দুটি মেশিন আসার পর থেকে। অর্থাৎ মেশিনগুলো আসার পর থেকে প্রিন্ট বেশি প্রচলন হয়েছে। এর আগে সফিউদ্দিন আহমেদ, কিবরিয়া সাহেব, মুর্তজা বশীর, আবদুর রাজ্জাক এরাই প্রিন্ট করেছেন। আর বাইরে থেকে এসে মনিরুল ইসলাম, রফিকুন নবী, কালিদাস কর্মকার এরা কিছু প্রিন্ট করেছে। একটা কথা না বললেই নয় মনিরুল ইসলাম স্পেনে প্রিন্ট নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। প্রিন্টের সত্যিকারের যে বৈচিত্র্য সেটা তার কাজে পাওয়া যায়। সফিউদ্দিন স্যার, কিবরিয়া স্যারের সময় প্রিন্টের যে ধারা ছিল সেটা পরিবর্তন হয়েছে মনিরুল ইসলামে। ছাত্রজীবনে যেহেতু তিনি জলরঙে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। সে কারণে প্রিন্টের মধ্যে জলরঙের প্রভাব তিনিই নিয়ে এসেছেন। প্রিন্টের মধ্যে বিভিন্ন ডাইভারসেশন মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। তিনি সফলভাবে সে কাজ করেছেন।

তরুণ প্রজন্মের কাজ কীভাবে দেখছেন?

: তরুণ প্রজন্ম অনেক অ্যাডভান্স। এখন ইন্টারনেট, মোবাইলের যুগ। কমিউনিকেশনটা এখন অনেক ইজি হওয়াতে ইয়াং জেনারেশন অনেক উৎসাহিত। এখনকার ইয়াং জেনারেশন হাইলি এডুকেটেটও। আমাদের সময় যখন আমিনুল ইসলাম স্যার ইতালি থেকে এলেন, কিবরিয়া সাহেব জাপান থেকে, রশীদ চৌধুরী ফ্রান্স থেকে, বাসেত স্যার আমেরিকা থেকে। আমরা তাদের কাজ মুগ্ধ হয়ে দেখেছি। এখন তো এসব ডাল-ভাতের মতো হয়ে গেল। এখন দেশ-বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ। এখন বাইরে থেকে অনেক শিল্পীরাও আসছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকেও অনেক শিল্পী যাচ্ছে বিদেশে এবং তারা দেশের মান ঊর্ধ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×