নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮ ও ২০১৯

  আকেল হায়দার ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছর বিচারক প্যানেলের একজনের যৌন কেলেঙ্কারির কারণে সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা স্থগিত রাখে সুইডিশ নোবেল কমিটি। তাই এই বছর একই সঙ্গে দুটি পুরস্কারের ঘোষণা দেয় তারা। ২০১৮ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কারটি অর্জন করেন পোল্যান্ডের সামাজকর্মী ও লেখিকা অলগা তকারজুক। ২০১২ সালেও একবার তার নাম নোবেল পুরস্কার মনোনয়ন তালিকায় ছিল, যদিও সে বছর তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি, তবে এবার তার সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্নটা তার জীবনে সত্যি হয়ে এলো। এ ছাড়াও তার লেখা ষষ্ঠ উপন্যাস ‘ফ্লাইটস’ ২০১৮ সালে অর্জন করে ম্যানবুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ।

অলগা তকারজুকের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৯ জানুয়ারি পোল্যান্ডে। বিচারকদের মতে, তকারজুক বহুগুণে গুণান্বি^ত লেখক। তিনি যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে পুরো পৃথিবীকে অবলোকন করেন। তার লেখা বুদ্ধিমত্তায় পূর্ণ এবং চিন্তাশক্তি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। উপন্যাস ছাড়া অনুবাদেও যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়াও বুদ্ধিজীবী এবং নারীবাদী হিসেবে পোল্যান্ডের রক্ষণশীল মানুষের কাছে বিশেষ স্থানে আসীন অলগা তকারজুক। পোল্যান্ডের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মূলত সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয় সূক্ষ্মভাবে উঠে আসে তার লেখায়। তিনি তার কাল্পনিক বিশ্বকোষে আবেগকে জীবনের রূপরেখা হিসেবে নিয়ে সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে চেয়েছেন। সুন্দর ও সুখের অন্বেষণে দেশ ও দেশের মানুষকে অনাবিল এক আকাশের ছবিতে সবসময় আঁকতে চেয়েছেন। আর এ কারণেই নিজ দেশের নাগরিকদের কাছে লেখক হিসেবে তার রয়েছে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তার এ সম্মান আরও বেশি পূর্ণতা পেল। পোল্যান্ডের নাইক পুরস্কার লাভের পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন- নিপীড়নকারীদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য দেশপ্রেমিকরা বিভিন্ন সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। এটা যেন একটা ইতিহাস। তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘ফ্লাইটস’, ‘দ্য বুকস অব জ্যাকব’, ‘ড্রাইভ ইওর প্লো ওভার দ্য বোনস অব দ্য ড্যাড’, ‘প্রিমিভাল অ্যান্ড আদার টাইমস’, ‘লালকা আই পেরলা’ ও ‘ডার্ক রুমস’ উল্লেখযোগ্য।

২০১৯ সালের জন্য সাহিত্যে নোবেল বিজেতা হিসেবে যার নাম এসেছে তিনি হলেন অস্ট্রিয়ার অনুবাদক, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক পিটার হ্যান্ডকে। ১৯৪২ সালের ৬ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ভাষাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিক অভিজ্ঞতার পরিধি এবং বৈশিষ্ট্যের সন্ধান করেছেন এমন কিছু উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য তাকে এই বছরের নোবেল বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। মূলত পুরুষকেন্দ্রিক লেখায় অভ্যস্ত তিনি। এ কারণে অনেক মহলে তার লেখা বিতর্কের মুখে পড়ে। নোবেল কমিটিও প্রাথমিক পর্যায়ে এমন একটি মনোভাব পোষণ করলেও তাকেই চলতি বছরের সাহিত্যে নোবেল বিজেতা হিসেবে ঘোষণা দেয়।

শিল্পের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী পিটার নব্বইয়ের দশক থেকে প্যারিসে বসবাস করছেন। তার নাটক ‘উয়ি নিউ নাথিং অব ইচ আদার’ ও ‘উইম উইন্ডারস উইনস অব ডিজায়ার’ দুটি উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম। ২০০৬ সালে সার্বিয়ান যুদ্ধপরাধীদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় একটি বক্তব্য রেখেছিলেন যার জন্য তিনি বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন। একই বছর হেইরিচ হেইন প্রাইজের জন্য তার নাম মনোনয়নের প্রত্যাশায় থাকেলও রাজনৈতিক কারণে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইবসন অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেও তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। তর্ক-বিতর্ক ও বিদ্বেষ ছাপিয়ে তিনি তার লেখা চালিয়ে গেছেন এবং নিজের জোরালো অবস্থানের কাছে আত্মবিশ্বাসের সুদৃঢ় ভীত রচনা করেছেন। যার পুরস্কার নোবেল প্রাইজের মতো একটি বিশেষ সম্মাননা।

পিটার হ্যান্ডকের লেখা বইগুলোর মধ্যে ‘আ সরো বিয়ন্ড ড্রিমস’, ‘দ্য গোলিস আংজাইটি’, স্ট্রম স্টিল’, ‘দ্য লেফট হ্যান্ডেড ওম্যান’, ‘স্লো হোমকামিং’, ‘দ্য আফটারনুন অব আ রাইটার’, ‘দ্য মোরাভিয়ান নাইট’, ‘অ্যাক্রস’, ‘দ্য ওয়েট অব দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য মোমেন্ট অব ট্রু ফিলিং’, ‘ননসেন্স অ্যান্ড হ্যাপিনেস’, ‘শর্ট লেটার লং ফেয়ারওয়েল’ বেশ পাঠকপ্রিয় ও সমাদৃত। লেখালেখিও শিল্পকর্মের জন্য তিনি জর্জ বুসনার প্রাইজ, ফ্রাঞ্জ কাফকা প্রাইজ, জার্মান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, ওবায়ি অ্যাওয়ার্ডসহ আরও অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×