কবিতা

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায় প্রচ্ছায়া

নাসরীন জাহান

তুমি যখন চতুর্দিকে

ওর ঘ্রাণ পাচ্ছ, ও তখন অশরীরী।

ওকে হারিয়ে উন্মাদপ্রায় তুমি,

চোখ বাঁধা মানুষের মতো,

দিগি¦দিক চক্কর খাচ্ছ।

অন্যতমা, তোমার অস্ফুট কণ্ঠ চিরে,

এই ডাকেও বোবা চারপাশ।

সীমান্তে হেলান দিয়ে,

কেবল ওর ঘ্রাণে তুমি যখন পাগলপ্রায়, তখন

অন্য এক পুরুষালি ঘ্রাণে তুমি চূড়ান্ত বিভ্রমময়,

তুমি ওর আঁচলস্পর্শ তৃষ্ণায়

তালগাছ হাত সমুখে প্রসারিত করলে,

অমনি বাতাস ফুঁড়ে ওর ফিসফিস কণ্ঠ

চরাচরে আছড়ে পড়ে,

যাই।

যদি না সন্ধিসূত্রের নিই পাঠ

কাবেদুল ইসলাম

গোলাপের তীক্ষè কাঁটা দেখো বিঁধে আছে মধ্যমায়;

রক্তাক্ত তালুর স্বেদে মিলেমিশে সব একাকার,

তবু জেনো রক্তস্নাত আমি তুলবো না হাহাকার,

যতই অসহ্য হোক- পড়বো না ভেঙে যন্ত্রণায়।

প্রত্যাখ্যাত হতে-হতে এতটাই পাষাণ হৃদয়-

একে তুমি যেভাবেই দেখো, অবিমৃশ্যকারিতার

গাঢ় তকমাও এঁটে দিতে পারো ললাটে আমার,

শুধু জেনো, সহজে হবে না চোখ আর অশ্রুময়।

বেদনাও কখনো কখনো হিরন্ময় হয়ে ওঠে;

হীরকদ্যুতির ন্যায় ছড়ায় আলোক চারপাশে,

বহু মতের সমাজে তাই শোনা চাই অন্যস্বর,

তুমি মানো না কিছুই, শোনাও অশ্রাব্য অবান্তর;

কী করে বাঁচবো তবে- ভালোবেসে কার সহবাসে?

যদি না সন্ধিসূত্রের নিই পাঠ নাস্তির সঙ্কটে!

ছায়া তরুবর

উম্মে মুসলিমা

চিনি ছাড়া চা খেলাম। খেতে হয়।

বাইরে দিনের আলো কেমন সোডায় কাচা

আটপৌরে বিধবার থানের মত আড়ায় দুলছে।

আমিও দুলতে দুলতে থেমে গেলাম সামনের স্টেশনে।

ট্রেনের জানালায় স্থির হলো ছাল ওঠা প্ল্যাটফরম।

রেলিংএ ঠেস দিয়ে তাড়াহীন রোদ পোহাচ্ছে

সস্তা লিপস্টিকে প্রসাধিত বিগত যৌবনের গণিকা।

ডাইনে বায়ে ছুটছে মানুষ। কারো তাড়ায়

চিনে বাদামের ডালা কাত হয়ে খনিকটা পড়ে গেলে

বাদামআলা মা তুলে গালাচ্ছে।

ঠিক হুবহু এ দৃশ্য আমি এখানে অথবা অন্য কোন

স্টেশনে আগে দেখেছি। খোদার কসম।

আমার এরকম হয়। খুব হয়।

একদিন সকালে ছুটিশেষে দেখি আমাদের বুড়ো দুধআলা

গ্রামের দোকানে বসে চা খাচ্ছে।

সোয়া দুশো কিলোমিটার পেরিয়ে ঐদিন ঢাকায় ফিরে

টিএসসির টঙে একই ভঙ্গীতে ওকেই দেখেছি।

দিব্যি পা দুলাচ্ছে।

তো কে দাঁড়িয়ে ওখানে?

জানলার সমান্তরালে ঋজুদেহ নতমুখ, শোকার্ত বৃক্ষ।

বুকে নকশা কাটা হরিত পুলওভার

আঁটো প্যান্টের দুপকেটে শীতার্ত দুহাতের

কাছে আসার তুমুল পীড়াপীড়ি, বিরহের চির যক্ষ।

পকেটে রাখা ঠিক তার দুহাতের সংগ্রাম।

রেলের নিচে বয়ে চলা রেললাইনও বটে।

ন’দশ মিনিটেই তিন যুগ ঘণ্টা বাজিয়ে কেটে গেল

চলে গেল সরে সরে আতপের বেলা

তার সেই তরুছায়া কেটে কেটে আমার এ ট্রেন

আজও পার করে কবেকার অফুরাণ স্টেশন।

ছায়া কি কাটা যায়?

এই যুদ্ধ, এই সহবাস!

আনা

তোমরা কীকরে পারো,

যুদ্ধ করতে করতে

কেমনে সহবাসটা সারো!

চির বিবাদের ময়দানে

দেখি প্রেমের কাব্য ঝরে,

জানি না কেমনে কামানের মুখে

শিহরণ খেলা করে।

কামসংকটে বাদী ও বিবাদী

দোসর কেমনে হয়,

বিরাগি মনে কামনা কেমনে

বিস্বাদকে করে জয়!

সম্ভোগ শেষে উদ্ধত বেশে

তলোয়ারে বিষ মাখো,

জানিনা কীবশে বিবাদে আপসে

ব্যাকুলতা ধরে রাখো।

শয্যা কাঁপিয়ে কেমনে রচো গো

অস্ফুট শীৎকার,

সংগম শেষে নব উদ্যমে

সংঘাত চিৎকার!

হৃদয় হারিয়ে শরীর জিতে

কীকরে গোপনে হারো।

দেহের সুখে প্রাণ বলি দিতে

এভাবে কীকরে পারো!

বলবে কীকরে পারো?

তোমরা কীকরে এমন পারো!

যুদ্ধ করতে করতে

নিছক দায় সংগম সারো।

আটাশ বছর পর

আসাদ উল্লাহ

আটাশ বছর পর বৃষ্টি হলো হঠাৎ

আটাশ বছর পর বৃষ্টিতে ফুটলো ফুল

ফুলের গোপনে লুকানো আগুন

কোথাও পড়ে আছে পোড়া ছাই

কোথাও নীল নীল ক্ষতের দাগ

আটাশ বছর পর ভিজলো এক নারী নির্জন পথে একা।

আটাশ বছর আগের সে দিনটি কেমন ছিলো?

চঞ্চল পাখির লুকোচুরি ছিলো পাতার আড়ালে

চঞ্চুতে ছিলো ব্যাকুল চুম্বন

তবুও ছিলো পথে পালক ভাঙার ভয়,

আটাশ বছর আগে কিশোরী বলেছিলো

নিজের সাথে নিজের গোপন প্রণয়, আর-

দাঁড়িয়ে দেখেছিলো বাগানে গোলাপ কলির আত্মহনন

দশম ক্লাসে ছিলো পিন পতনের নীরবতা।

আটাশ বছর পর বৃষ্টি হলো আবার

আটাশ বছর পর, আটাশ বছর পর

উম্মে কুলসুমী সুরে ভাসে ছত্রাকারে বিকীর্ণ জীবন।

মানুষ

জেলী আক্তার

কিছু মানুষ ভাতের প্লেটে ছবি আঁকে,

কিছু মানুষ লোক দেখানো ভালো থাকে।

কিছু মানুষ দুঃখ পোষা প্রাণী,

কিছু মানুষ ছেঁড়া ফুলের দানী।

কিছু মানুষ পালিয়ে বাঁচার উপায় খোঁজে,

কিছু মানুষ মুখ দেখে’ই মন বোঝে।

কিছু মানুষ লুকিয়ে রাখে ভাঙা স্বর,

কিছু মানুষ আপন হলেও ভীষণ পর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×