গল্পের পেছনের গল্প
jugantor
গল্পের পেছনের গল্প

  সাদিকুল নিয়োগী পন্নী  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কৌতূহলী দর্শকের চোখ মঞ্চের দিকে। গুণীজনদের সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মুক্তার হোসেন শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর জীবনের গল্প বলা শুরু করলেন।

তিনি বললেন, আপনারা অনেকেই জানেন আমি একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। কর্মজীবনে এ পথটুকু পাড়ি দিতে আমাকে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। চাকরি জীবনে আমি কোনোদিন এক টাকাও অবৈধভাবে উপার্জন করিনি। এ আমার আমি হয়ে উঠার পেছনের মানুষটি হলেন বাবা। তার কাছ থেকেই আমি সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা পেয়েছি। বাবা যেমন সৎ ছিলেন, তেমনি ছিলেন উদার মনের অধিকারী। নিজের পকেটের টাকায় তিনি অনেক ছেলেমেয়ের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। একটা ঘটনা বললে হয়তো আপনারা বুঝতে পারবেন বাবা কত বড় মনের মানুষ ছিলেন।

আগত দর্শক সবাই মুগ্ধ হয়ে মুক্তার হোসেনের স্মৃতিচারণ শুনছেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হাসান মাহমুদ বললেন, নিশ্চয়ই আমরা তা শুনতে চাই। এমন গল্প আমাদের চলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মুক্তার হোসেন আবার বলা শুরু করলেন, আমি তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। বাবা আমার পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে একদিন স্কুলে গেলেন। স্যারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার আলোচনা হল। ততক্ষণে স্কুলে টিফিন বিরতির ঘণ্টা পড়ল।

বাবা আমার সঙ্গে দেখা করে অফিসের দিকে রওনা হলেন। আমি বায়না ধরলাম তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য। বাবার অফিস আমার স্কুলের কাছেই ছিল। তিনি প্রথমে আমাকে নিতে রাজি হলেন না। টিফিনের বিরতি মধ্যেই চলে আসব বললে বাবা আমাকে সঙ্গে নিলেন।

বাবার অফিসে আমি আগেও একাধিকবার গিয়েছি। বাবা ছিলেন অফিস প্রধান। তার রুমটি ছিল সুন্দর গোছানো। ওইদিন গিয়ে দেখি তার রুমে নতুন কম্পিউটার। আমি তা দেখে বেশ খুশি হলাম। তখন আমার কম্পিউটারে গেম খেলার প্রচণ্ড নেশা ছিল। স্কুল থেকে ফেরার পথে আমি প্রায়ই টাকা দিয়ে কম্পিউটারের দোকানে গেম খেলতাম।

আমি বাবাকে বললাম, তোমার কম্পিউটার দিয়ে গেম খেলা যায়?

সব করা যায় বাবা। তিনি মুচকি হেসে উত্তর দিলেন।

আমি একটু গেম খেলতে চাই।

বাবা কোনো উত্তর না দিয়ে কলিং বেল চাপলেন। কাশেম নামে একজন পিয়ন ছুটে এলেন। সঙ্গে তার ছেলেও। ছেলাটা আমার স্কুলে এক ক্লাস ওপরে পড়ত।

বাবা তাকে দেখে বললেন, কী কাশেম তোমার ছেলে নাকি?

জ্বি স্যার। ছেলে বৃত্তি পেয়েছে। খবর জানাতে সে এসেছে।

বলো কী! অনেক খুশির খবর। যাও তোমার ছেলে আর আমার ছেলের জন্য মিষ্টি নিয়ে আসো।

কাশেম চাচা মিষ্টি আনতে চলে গেলেন। বাবা তখন তার ছেলেকে কোলে নিয়ে বসালেন। তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন।

চাচা ফিরে এসে এ দৃশ্য দেখে বিস্মিত হলেন। পরে আমরা দু’জন একসঙ্গে বসে মিষ্টি খেলাম। বাবা অফিস শেষে চলে আসার আগে কাশেম চাচার হাতে পাঁচশ’ টাকা দিয়ে বললেন, এটা তোমার ছেলের জন্য। তার পড়াশোনায় খরচ করো। অথচ বাবা এ টাকা রেখেছিলেন আমার জামা কেনার জন্য।

জামা কেনা হবে না। আর কম্পিউটারে গেমও খেলতে পারিনি। তাই আমার মন ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ওইদিন রাতে খাবারের পর বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, কম্পিউটারটা সরকারি কাজের জন্য। তাই ওটা তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। আর জামা পরের মাসে বেতন পেলে কিনে দেব।

এসব কথা শুনেও মন ভালো হয়নি। কিন্তু এখন তা মনে হলে আমি গর্ববোধ করি।

উপস্থাপক ধন্যবাদ জানালেন মুক্তার হোসেনকে। দর্শকও কড়তালি দিয়ে অভিবাদন জানালেন।

তারপর স্মৃতিচারণের জন্য মঞ্চে মাজেদ আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হল। মাজেদ আহমেদ স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে তার বেশ সুনাম। তিনি স্কুলে পাঠদানের পাশাপাশি বাসায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ান।

মাজেদ আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, আসলে এমন অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার মতো যোগ্যতা আমার নেই। কয়েকজন ছাত্রের অনুরোধে আমাকে আসতে হল। তাছাড়া আপনাদের পুলকিত করার মতো আমার জীবনে তেমন কোনো গল্প নেই। নেই বর্ণাঢ্য কোনো ইতিহাস।

উপস্থিত দর্শকের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করছে।

মাজেদ আহমেদ বললেন, ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি। আমি ছিলাম বাবার একমাত্র সন্তান। বাবা সাধারণ পিয়নের চাকরি করতেন। বেতনের টাকা দিয়ে বাবা অতি কষ্টে আমার পড়াশোনার খরচ এবং সংসার চালাতেন। আর আমার বাবাকে অনেক সময় অপমানিত হতে হয়েছে। আমি তেমন একটা ঘটনা বলছি।

মাজেদ আহমেদ বললেন, বাবার অফিস আমার স্কুলের পাশেই ছিল। বাবা ছোট চাকরি করতেন বলে আমাকে তার অফিসে নিতে চাইতেন না। আমি কখনও গেলে তিনি অফিসের বাইরে থেকেই বিদায় করে দিতেন। একদিন ক্লাস ফাইভের বৃত্তির ফলাফল প্রকাশিত হল। আমি ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলাম। খুশির খবরটা দিতে দৌড়ে বাবার অফিসে গেলাম। বাবা একটা ঠোঙায় করে কী যেন নিয়ে বড় সাহেবের রুমের দিকে যাচ্ছিলেন।

আমাকে দেখে বাবা চমকে গেলেন।

তিনি বললেন, কিরে তুই এমন সময়! কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?

আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, আমি বৃত্তি পেয়েছি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি।

বাবা খুশিতে আমাকে কোলে তুলে নিলেন। তার হাতের ঠোঙাটা পড়ে গেল। ঠোঙার ভেতরে যে ক’টা সিঙ্গাড়া ছিল তা মেঝেতে গড়াগড়ি খেল। আমাদের কথা শুনে রুম থেকে বড় সাহেব বের হয়ে এলেন। সঙ্গে আমার বয়সী একটা ছেলে।

বড় সাহেব এ দৃশ্য দেখে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, করেছিসটা কী? আমার ছেলে কতক্ষণ ধরে না খেয়ে বসে আছে।

বাবা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, স্যার ভুল হয়ে গেছে।

ফাজলামি পেয়েছো। এই বলে বড় সাহেব বাবার গালে চড় বসিয়ে দিলেন।

বাবার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে শুরু করল। আমিও ভয়ে জোরে কান্না শুরু করলাম। সন্তানের সামনে এমন অপমান বাবা সহ্য করতে পারেননি। ওইদিন রাতেই বাবা স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আমি হয়ে গেলাম মা-বাবা হারা।

তারপর মাজেদ সাহেব নির্বাক হয়ে গেলেন। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে মঞ্চ থেকে নেমে গেলেন।

গল্পের পেছনের গল্প

 সাদিকুল নিয়োগী পন্নী 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কৌতূহলী দর্শকের চোখ মঞ্চের দিকে। গুণীজনদের সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মুক্তার হোসেন শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর জীবনের গল্প বলা শুরু করলেন।

তিনি বললেন, আপনারা অনেকেই জানেন আমি একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। কর্মজীবনে এ পথটুকু পাড়ি দিতে আমাকে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। চাকরি জীবনে আমি কোনোদিন এক টাকাও অবৈধভাবে উপার্জন করিনি। এ আমার আমি হয়ে উঠার পেছনের মানুষটি হলেন বাবা। তার কাছ থেকেই আমি সততা ও নিষ্ঠার শিক্ষা পেয়েছি। বাবা যেমন সৎ ছিলেন, তেমনি ছিলেন উদার মনের অধিকারী। নিজের পকেটের টাকায় তিনি অনেক ছেলেমেয়ের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। একটা ঘটনা বললে হয়তো আপনারা বুঝতে পারবেন বাবা কত বড় মনের মানুষ ছিলেন।

আগত দর্শক সবাই মুগ্ধ হয়ে মুক্তার হোসেনের স্মৃতিচারণ শুনছেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হাসান মাহমুদ বললেন, নিশ্চয়ই আমরা তা শুনতে চাই। এমন গল্প আমাদের চলার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

মুক্তার হোসেন আবার বলা শুরু করলেন, আমি তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। বাবা আমার পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে একদিন স্কুলে গেলেন। স্যারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তার আলোচনা হল। ততক্ষণে স্কুলে টিফিন বিরতির ঘণ্টা পড়ল।

বাবা আমার সঙ্গে দেখা করে অফিসের দিকে রওনা হলেন। আমি বায়না ধরলাম তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য। বাবার অফিস আমার স্কুলের কাছেই ছিল। তিনি প্রথমে আমাকে নিতে রাজি হলেন না। টিফিনের বিরতি মধ্যেই চলে আসব বললে বাবা আমাকে সঙ্গে নিলেন।

বাবার অফিসে আমি আগেও একাধিকবার গিয়েছি। বাবা ছিলেন অফিস প্রধান। তার রুমটি ছিল সুন্দর গোছানো। ওইদিন গিয়ে দেখি তার রুমে নতুন কম্পিউটার। আমি তা দেখে বেশ খুশি হলাম। তখন আমার কম্পিউটারে গেম খেলার প্রচণ্ড নেশা ছিল। স্কুল থেকে ফেরার পথে আমি প্রায়ই টাকা দিয়ে কম্পিউটারের দোকানে গেম খেলতাম।

আমি বাবাকে বললাম, তোমার কম্পিউটার দিয়ে গেম খেলা যায়?

সব করা যায় বাবা। তিনি মুচকি হেসে উত্তর দিলেন।

আমি একটু গেম খেলতে চাই।

বাবা কোনো উত্তর না দিয়ে কলিং বেল চাপলেন। কাশেম নামে একজন পিয়ন ছুটে এলেন। সঙ্গে তার ছেলেও। ছেলাটা আমার স্কুলে এক ক্লাস ওপরে পড়ত।

বাবা তাকে দেখে বললেন, কী কাশেম তোমার ছেলে নাকি?

জ্বি স্যার। ছেলে বৃত্তি পেয়েছে। খবর জানাতে সে এসেছে।

বলো কী! অনেক খুশির খবর। যাও তোমার ছেলে আর আমার ছেলের জন্য মিষ্টি নিয়ে আসো।

কাশেম চাচা মিষ্টি আনতে চলে গেলেন। বাবা তখন তার ছেলেকে কোলে নিয়ে বসালেন। তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন।

চাচা ফিরে এসে এ দৃশ্য দেখে বিস্মিত হলেন। পরে আমরা দু’জন একসঙ্গে বসে মিষ্টি খেলাম। বাবা অফিস শেষে চলে আসার আগে কাশেম চাচার হাতে পাঁচশ’ টাকা দিয়ে বললেন, এটা তোমার ছেলের জন্য। তার পড়াশোনায় খরচ করো। অথচ বাবা এ টাকা রেখেছিলেন আমার জামা কেনার জন্য।

জামা কেনা হবে না। আর কম্পিউটারে গেমও খেলতে পারিনি। তাই আমার মন ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ওইদিন রাতে খাবারের পর বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, কম্পিউটারটা সরকারি কাজের জন্য। তাই ওটা তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। আর জামা পরের মাসে বেতন পেলে কিনে দেব।

এসব কথা শুনেও মন ভালো হয়নি। কিন্তু এখন তা মনে হলে আমি গর্ববোধ করি।

উপস্থাপক ধন্যবাদ জানালেন মুক্তার হোসেনকে। দর্শকও কড়তালি দিয়ে অভিবাদন জানালেন।

তারপর স্মৃতিচারণের জন্য মঞ্চে মাজেদ আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হল। মাজেদ আহমেদ স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে তার বেশ সুনাম। তিনি স্কুলে পাঠদানের পাশাপাশি বাসায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ান।

মাজেদ আহমেদ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, আসলে এমন অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার মতো যোগ্যতা আমার নেই। কয়েকজন ছাত্রের অনুরোধে আমাকে আসতে হল। তাছাড়া আপনাদের পুলকিত করার মতো আমার জীবনে তেমন কোনো গল্প নেই। নেই বর্ণাঢ্য কোনো ইতিহাস।

উপস্থিত দর্শকের মধ্যে নীরবতা বিরাজ করছে।

মাজেদ আহমেদ বললেন, ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছি। আমি ছিলাম বাবার একমাত্র সন্তান। বাবা সাধারণ পিয়নের চাকরি করতেন। বেতনের টাকা দিয়ে বাবা অতি কষ্টে আমার পড়াশোনার খরচ এবং সংসার চালাতেন। আর আমার বাবাকে অনেক সময় অপমানিত হতে হয়েছে। আমি তেমন একটা ঘটনা বলছি।

মাজেদ আহমেদ বললেন, বাবার অফিস আমার স্কুলের পাশেই ছিল। বাবা ছোট চাকরি করতেন বলে আমাকে তার অফিসে নিতে চাইতেন না। আমি কখনও গেলে তিনি অফিসের বাইরে থেকেই বিদায় করে দিতেন। একদিন ক্লাস ফাইভের বৃত্তির ফলাফল প্রকাশিত হল। আমি ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেলাম। খুশির খবরটা দিতে দৌড়ে বাবার অফিসে গেলাম। বাবা একটা ঠোঙায় করে কী যেন নিয়ে বড় সাহেবের রুমের দিকে যাচ্ছিলেন।

আমাকে দেখে বাবা চমকে গেলেন।

তিনি বললেন, কিরে তুই এমন সময়! কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?

আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, আমি বৃত্তি পেয়েছি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি।

বাবা খুশিতে আমাকে কোলে তুলে নিলেন। তার হাতের ঠোঙাটা পড়ে গেল। ঠোঙার ভেতরে যে ক’টা সিঙ্গাড়া ছিল তা মেঝেতে গড়াগড়ি খেল। আমাদের কথা শুনে রুম থেকে বড় সাহেব বের হয়ে এলেন। সঙ্গে আমার বয়সী একটা ছেলে।

বড় সাহেব এ দৃশ্য দেখে হুঙ্কার দিয়ে বললেন, করেছিসটা কী? আমার ছেলে কতক্ষণ ধরে না খেয়ে বসে আছে।

বাবা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, স্যার ভুল হয়ে গেছে।

ফাজলামি পেয়েছো। এই বলে বড় সাহেব বাবার গালে চড় বসিয়ে দিলেন।

বাবার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে শুরু করল। আমিও ভয়ে জোরে কান্না শুরু করলাম। সন্তানের সামনে এমন অপমান বাবা সহ্য করতে পারেননি। ওইদিন রাতেই বাবা স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আমি হয়ে গেলাম মা-বাবা হারা।

তারপর মাজেদ সাহেব নির্বাক হয়ে গেলেন। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে মঞ্চ থেকে নেমে গেলেন।