নওশাদ নূরীর কবিতা
jugantor
নওশাদ নূরীর কবিতা
নওশাদ নূরী বাংলাদেশের ধ্রুপদী ও প্রগতিশীল ঘরানার কবি। তার কাব্য রচনার ভাষা উর্দু। জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ছিলেন তিনি; তারই বহিঃপ্রকাশ নিজে অবাঙালি উর্দুভাষী হয়েও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার স্পষ্ট সমর্থন এবং কবিতা রচনা। পরবর্তী সময়ে একাত্তর পূর্বকালে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার সক্রিয় সমর্থন ছিল। কলম ধরেছেন একাত্তরে পাক হানাদারদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবং কবিতায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়াই একমাত্র পথ’। এজন্য তার ওপর নেমে আসে পাকিস্তানি শাসকদের নানবিধ জুলুম-নির্যাতন। কবির জন্ম ২১ অক্টোবর ১৯২৬ সালে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার বসন্তপুর গ্রামে; আর মৃত্যু ২০০০ সালে ১৮ জুলাই, ঢাকায়।

  অনুবাদ : আসাদ চৌধুরী  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাথর

হাতের পরশ থেকে দূরে-যে পাথর

তাকে বলি পাহাড়-পর্বত

যে-প্রস্তরে মূর্তি গড়ি

তাকে বলি অনাথের নাথ।

হাতের পরশ থেকে দূরে-যে পাথর

তার জন্য স্তোত্র-পাঠ শ্রবণে আসে না,

যে প্রস্তরে এঁকে দিই প্রগাঢ় চুম্বন

তাকে বলি প্রাণের দেবতা।

যে পাথরে মূর্তি গড়ি

শোনাই শঙ্খের ধ্বনি তাকে

তার দেহে আঁকি যে তিলক

অকৃপণ অমৃত ছিটাই।

সে পাথরে দেহাতীরা ঢালে গঙ্গাজল

উষা রাখে ভক্তিভরে থরে থরে

পুষ্পের অঞ্জলি,

গোধূলিও জ্বেলে দেয় নিশার প্রদীপ।

শিল্পের ঐতিহ্য

নৃত্য, তুলি, কলম আর বাদ্যযন্ত্র

স্বীকৃতি বাঞ্ছা করে আমার কাছেই।

রঙ এবং সঙ্গীত, সৌন্দর্য এবং অনুভূতি

প্রকাশের সীমা জানতে চায় আমার কাছেই।

উন্মত্ততার শীর্ষ ছুঁতে চায় তারা

তাই একটু-আধটু সাহায্য চায় আমার কাছেই।

প্রতিটি সৃজনকর্মের

প্রশংসার সনদ চায় আমার কাছেই।

আর সনদ হাতে পেয়েই

আমাকেই ছুড়ে দেয় বাতিলের খাতায়।

নওশাদ নূরীর কবিতা

নওশাদ নূরী বাংলাদেশের ধ্রুপদী ও প্রগতিশীল ঘরানার কবি। তার কাব্য রচনার ভাষা উর্দু। জাতীয়তাবাদী সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ছিলেন তিনি; তারই বহিঃপ্রকাশ নিজে অবাঙালি উর্দুভাষী হয়েও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার স্পষ্ট সমর্থন এবং কবিতা রচনা। পরবর্তী সময়ে একাত্তর পূর্বকালে বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার সক্রিয় সমর্থন ছিল। কলম ধরেছেন একাত্তরে পাক হানাদারদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবং কবিতায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়াই একমাত্র পথ’। এজন্য তার ওপর নেমে আসে পাকিস্তানি শাসকদের নানবিধ জুলুম-নির্যাতন। কবির জন্ম ২১ অক্টোবর ১৯২৬ সালে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার বসন্তপুর গ্রামে; আর মৃত্যু ২০০০ সালে ১৮ জুলাই, ঢাকায়।
 অনুবাদ : আসাদ চৌধুরী 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাথর

হাতের পরশ থেকে দূরে-যে পাথর

তাকে বলি পাহাড়-পর্বত

যে-প্রস্তরে মূর্তি গড়ি

তাকে বলি অনাথের নাথ।

হাতের পরশ থেকে দূরে-যে পাথর

তার জন্য স্তোত্র-পাঠ শ্রবণে আসে না,

যে প্রস্তরে এঁকে দিই প্রগাঢ় চুম্বন

তাকে বলি প্রাণের দেবতা।

যে পাথরে মূর্তি গড়ি

শোনাই শঙ্খের ধ্বনি তাকে

তার দেহে আঁকি যে তিলক

অকৃপণ অমৃত ছিটাই।

সে পাথরে দেহাতীরা ঢালে গঙ্গাজল

উষা রাখে ভক্তিভরে থরে থরে

পুষ্পের অঞ্জলি,

গোধূলিও জ্বেলে দেয় নিশার প্রদীপ।

শিল্পের ঐতিহ্য

নৃত্য, তুলি, কলম আর বাদ্যযন্ত্র

স্বীকৃতি বাঞ্ছা করে আমার কাছেই।

রঙ এবং সঙ্গীত, সৌন্দর্য এবং অনুভূতি

প্রকাশের সীমা জানতে চায় আমার কাছেই।

উন্মত্ততার শীর্ষ ছুঁতে চায় তারা

তাই একটু-আধটু সাহায্য চায় আমার কাছেই।

প্রতিটি সৃজনকর্মের

প্রশংসার সনদ চায় আমার কাছেই।

আর সনদ হাতে পেয়েই

আমাকেই ছুড়ে দেয় বাতিলের খাতায়।