এখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে জীবন দেখা যায়
jugantor
এখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে জীবন দেখা যায়

  কাজল কৌশিক  

১৬ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাজল কৌশিক জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৩ দ্বীপ জেলা ভোলায়। লেখাপড়ার সূচনা জেলা সদরের বাংলা স্কুলে, মাধ্যমিক ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে, উচ্চ মাধ্যমিক ভোলা সরকারি কলেজে, স্নাতকোত্তর পর্ব ঢাকায়। পেশায় কলেজ শিক্ষক। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘকাল। কবিতা দিয়ে সাহিত্য চর্চার সূচনা, পরে সাহিত্যের অন্য শাখায় অবাধ বিচরণ। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটি ছোট গল্পের ‘দুপুরের গল্প যা বলা হয়নি’, পরের গ্রন্থের শিরোনাম ‘আমার দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ’। নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়। তার লেখালেখি এবং ভোলার সাহিত্য চর্চা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে কথা বলেন জুননু রাইন।

যুগান্তর : লেখালেখির জন্য কেন্দ্রে/শহরে চলে আসটা কীভাবে দেখেন?

কাজল কৌশিক : প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকরা একসময় যে আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে শহরে চলে আসতেন আজকের দিনে নবীন লেখকরাও সেই আশায় বুক বেঁধে শহরে চলে আসেন। লেখকরা ভাবেন শহরে গেলে পরিচিতি বাড়বে। লেখা প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি হবে, খ্যাতি পাবেন।

মফস্বলে থেকে লেখালেখির সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাই

: এখানে প্রকৃতি কিংবা মাটির কাছাকাছি থেকে জীবনকে দেখা যায়, কোলাহল যান্ত্রিকতা থেকে দূরের এই জীবনে প্রয়োজন সীমিত, জীবনযাপন সরল-রৈখিক, জটিলতামুক্ত। তাই লেখক ইচ্ছা করলেই এখানে সহজ সরল জীবন যাপন করতে পারেন। আর অসুবিধা হচ্ছে প্রদীপের আলো থেকে দূরে থাকেন বলেই অনেকেই লেখককে চিনেন না, কিংবা জানেন না।

দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন, এক্ষেত্রে প্রত্যাশা প্রাপ্তির বিষয়টি কখনো চিন্তা করেছেন?

: সময় তো কম গড়িয়ে গেল না, এখন প্রত্যাশা প্রাপ্তির গড়মিল চোখে পড়ে। তখন মনে হয় মফস্বলে না থাকলেই ভালো হতো। আমার সমকালীন যারা একসময় ঢাকা শহরে চলে গিয়েছিলেন, তারা লেখালেখি করে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। যশ, খ্যাতি, পদ-পদবি সবই হয়েছে। অথচ এখানে থেকে কী পেলাম এমন ভাবনাগুলো পীড়া দেয়।

আপনার সামনে যদি মফস্বলের নদী, সবুজ মাঠ, প্রকৃতি আর নানা সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আধুনিক শহুরে চাকচিক্য থাকে; এই দুটোর মধ্যে একজন লেখক হিসাবে আপনি কোনটা বেছে নিবেন এবং কেন?

: আমি বরাবর প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে লিখতে চেয়েছি, তাই আমার লেখালেখিতে গ্রাম, নদী, সবুজ মাঠ ইত্যাদি প্রাধান্য পেয়েছে। নগরের যান্ত্রিকতা, আবেগ শূন্যতা, রুক্ষ জীবন, কোনো দিনই আমাকে তেমনভাবে টানেনি। লেখার উপাদান হিসাবে কখনো কখনো নগর জীবনকে বেছে নিয়েছি। তবে আমাকে প্রবলভাবে টেনেছে মফস্বলের শহর। সকাল বেলা রাস্তায় বের হলে যে চেনা মুখগুলো দেখি, তাদের মাঝেই আকর্ষণ অনেক, মুগ্ধতার দানা বাঁধে অনেক বেশি। এখানেই আমার প্রাণের শান্তি, আত্মার আরাম।

ভোলার কোন বিষয়গুলো আপনার লেখাকে বেশি প্রভাবিত করে?

: ভোলার চারপাশেই নদী, ফলে স্বভাবতই নদীবেষ্টিত মানুষের জীবন আমার লেখাকে প্রভাবিত করেছে অনেক বেশি। তা ছাড়া ভাগ্যের অন্বেষণে এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে এসেছে। ফলে এখানের যে সংস্কৃতি, তা হচ্ছে মিশ্র সংস্কৃতি কিংবা সংকর সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিতে বসবাসের ফলে এখানকার মানুষজনের জীবনযাপন খানিকটা আলাদা প্রকৃতির, তা ছাড়া ভাষাও বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। এগুলো আমার লেখাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছে।

আপনি কি রাজনীতি সচেতন? লেখকের রাজনীতি সচেতনতার বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?

: অবশ্যই রাজনীতি সচেতন। আমার লেখায় বারবার বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা উঠে এসেছে। আসলে আমি বিগত ৫০ বছরের রাজনৈতিক বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। যারা আমার মতের ভিন্ন মত পোষণ করেন তারা কষ্ট পেয়েছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক, তবে আমি নির্মোহভাবে সময়কে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, এটাই সত্য। যেহেতু লেখক সমাজে বসবাস করেন সমাজের ভালোমন্দ দুই তার চোখে পড়ে। রাজনৈতিক লুটপাট, নৈরাজ্য লেখককে ভাবিত করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ফলে লেখক হয়ে পড়েন, রাজনীতি সচেতন একজন নাগরিক।

আপনার এলাকায় শিল্প সাহিত্য অতীতের তুলনায় এখন কেমন সংক্রিয়? এলাকার কোন কোন ক্ষেত্রে সুদৃষ্টি দিলে সাহিত্যের মান এবং সক্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করেন?

: এক সময় এখানে সাহিত্যচর্চা ও অনুশীলন ছিল চোখে পড়ার মতো, এখন আর সেই ধারা অব্যাহত নেই। এর কারণ অনেক। আমাদের জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে পাঠাগার আছে ঠিকই, পাঠক কমে গেছে। সাহিত্য আড্ডার চল প্রায় উঠেই গেছে। মানুষ একা থাকতে পছন্দ করে, সামাজিক মানুষ যেন আর চোখেই পড়ে না। সাহিত্য তথা মননশীলতার উত্তরণ ঘটাতে হলে আমাদের কিছু পদক্ষেপ তো নিতেই হবে। যেমন স্কুল-কলেজে সাহিত্য সভার আয়োজন করতে হবে, লেখকদের উৎসাহিত করতে হবে, সৃজনশীলতার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে। কালচারাল ওয়ার্কসপ করা প্রয়োজন। কবি সাহিত্যিকদের নিয়োমিত আড্ডার আয়োজন করতে হবে। মফস্বলের লেখকদের লেখা প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে; তবেই এখানকার সাহিত্যের মান এবং সক্রিয়তা বাড়বে।

প্রান্তছোঁয়া আকাশ

এখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে জীবন দেখা যায়

 কাজল কৌশিক 
১৬ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাজল কৌশিক জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৬৩ দ্বীপ জেলা ভোলায়। লেখাপড়ার সূচনা জেলা সদরের বাংলা স্কুলে, মাধ্যমিক ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে, উচ্চ মাধ্যমিক ভোলা সরকারি কলেজে, স্নাতকোত্তর পর্ব ঢাকায়। পেশায় কলেজ শিক্ষক। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘকাল। কবিতা দিয়ে সাহিত্য চর্চার সূচনা, পরে সাহিত্যের অন্য শাখায় অবাধ বিচরণ। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটি ছোট গল্পের ‘দুপুরের গল্প যা বলা হয়নি’, পরের গ্রন্থের শিরোনাম ‘আমার দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ’। নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়। তার লেখালেখি এবং ভোলার সাহিত্য চর্চা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে কথা বলেন জুননু রাইন।

যুগান্তর : লেখালেখির জন্য কেন্দ্রে/শহরে চলে আসটা কীভাবে দেখেন?

কাজল কৌশিক : প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকরা একসময় যে আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে শহরে চলে আসতেন আজকের দিনে নবীন লেখকরাও সেই আশায় বুক বেঁধে শহরে চলে আসেন। লেখকরা ভাবেন শহরে গেলে পরিচিতি বাড়বে। লেখা প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি হবে, খ্যাতি পাবেন।

মফস্বলে থেকে লেখালেখির সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চাই

: এখানে প্রকৃতি কিংবা মাটির কাছাকাছি থেকে জীবনকে দেখা যায়, কোলাহল যান্ত্রিকতা থেকে দূরের এই জীবনে প্রয়োজন সীমিত, জীবনযাপন সরল-রৈখিক, জটিলতামুক্ত। তাই লেখক ইচ্ছা করলেই এখানে সহজ সরল জীবন যাপন করতে পারেন। আর অসুবিধা হচ্ছে প্রদীপের আলো থেকে দূরে থাকেন বলেই অনেকেই লেখককে চিনেন না, কিংবা জানেন না।

দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন, এক্ষেত্রে প্রত্যাশা প্রাপ্তির বিষয়টি কখনো চিন্তা করেছেন?

: সময় তো কম গড়িয়ে গেল না, এখন প্রত্যাশা প্রাপ্তির গড়মিল চোখে পড়ে। তখন মনে হয় মফস্বলে না থাকলেই ভালো হতো। আমার সমকালীন যারা একসময় ঢাকা শহরে চলে গিয়েছিলেন, তারা লেখালেখি করে অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। যশ, খ্যাতি, পদ-পদবি সবই হয়েছে। অথচ এখানে থেকে কী পেলাম এমন ভাবনাগুলো পীড়া দেয়।

আপনার সামনে যদি মফস্বলের নদী, সবুজ মাঠ, প্রকৃতি আর নানা সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আধুনিক শহুরে চাকচিক্য থাকে; এই দুটোর মধ্যে একজন লেখক হিসাবে আপনি কোনটা বেছে নিবেন এবং কেন?

: আমি বরাবর প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে লিখতে চেয়েছি, তাই আমার লেখালেখিতে গ্রাম, নদী, সবুজ মাঠ ইত্যাদি প্রাধান্য পেয়েছে। নগরের যান্ত্রিকতা, আবেগ শূন্যতা, রুক্ষ জীবন, কোনো দিনই আমাকে তেমনভাবে টানেনি। লেখার উপাদান হিসাবে কখনো কখনো নগর জীবনকে বেছে নিয়েছি। তবে আমাকে প্রবলভাবে টেনেছে মফস্বলের শহর। সকাল বেলা রাস্তায় বের হলে যে চেনা মুখগুলো দেখি, তাদের মাঝেই আকর্ষণ অনেক, মুগ্ধতার দানা বাঁধে অনেক বেশি। এখানেই আমার প্রাণের শান্তি, আত্মার আরাম।

ভোলার কোন বিষয়গুলো আপনার লেখাকে বেশি প্রভাবিত করে?

: ভোলার চারপাশেই নদী, ফলে স্বভাবতই নদীবেষ্টিত মানুষের জীবন আমার লেখাকে প্রভাবিত করেছে অনেক বেশি। তা ছাড়া ভাগ্যের অন্বেষণে এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে এসেছে। ফলে এখানের যে সংস্কৃতি, তা হচ্ছে মিশ্র সংস্কৃতি কিংবা সংকর সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিতে বসবাসের ফলে এখানকার মানুষজনের জীবনযাপন খানিকটা আলাদা প্রকৃতির, তা ছাড়া ভাষাও বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। এগুলো আমার লেখাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছে।

আপনি কি রাজনীতি সচেতন? লেখকের রাজনীতি সচেতনতার বিষয়ে আপনার অবস্থান কি?

: অবশ্যই রাজনীতি সচেতন। আমার লেখায় বারবার বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা উঠে এসেছে। আসলে আমি বিগত ৫০ বছরের রাজনৈতিক বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। যারা আমার মতের ভিন্ন মত পোষণ করেন তারা কষ্ট পেয়েছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক, তবে আমি নির্মোহভাবে সময়কে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, এটাই সত্য। যেহেতু লেখক সমাজে বসবাস করেন সমাজের ভালোমন্দ দুই তার চোখে পড়ে। রাজনৈতিক লুটপাট, নৈরাজ্য লেখককে ভাবিত করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। ফলে লেখক হয়ে পড়েন, রাজনীতি সচেতন একজন নাগরিক।

আপনার এলাকায় শিল্প সাহিত্য অতীতের তুলনায় এখন কেমন সংক্রিয়? এলাকার কোন কোন ক্ষেত্রে সুদৃষ্টি দিলে সাহিত্যের মান এবং সক্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করেন?

: এক সময় এখানে সাহিত্যচর্চা ও অনুশীলন ছিল চোখে পড়ার মতো, এখন আর সেই ধারা অব্যাহত নেই। এর কারণ অনেক। আমাদের জীবনধারায় পরিবর্তন এসেছে। তবে পাঠাগার আছে ঠিকই, পাঠক কমে গেছে। সাহিত্য আড্ডার চল প্রায় উঠেই গেছে। মানুষ একা থাকতে পছন্দ করে, সামাজিক মানুষ যেন আর চোখেই পড়ে না। সাহিত্য তথা মননশীলতার উত্তরণ ঘটাতে হলে আমাদের কিছু পদক্ষেপ তো নিতেই হবে। যেমন স্কুল-কলেজে সাহিত্য সভার আয়োজন করতে হবে, লেখকদের উৎসাহিত করতে হবে, সৃজনশীলতার পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে। কালচারাল ওয়ার্কসপ করা প্রয়োজন। কবি সাহিত্যিকদের নিয়োমিত আড্ডার আয়োজন করতে হবে। মফস্বলের লেখকদের লেখা প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে; তবেই এখানকার সাহিত্যের মান এবং সক্রিয়তা বাড়বে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১