কবিতা

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টির ছাঁট

মাহমুদ হাফিজ

টানা বর্ষার মুখরতার মধ্যে

ঘরবন্দি উৎসব-ফেরত মানুষ

কি রাস্তা কি বারিস্তা কফিশপে মানুষ মানুষ!

প্রথাশাসিতের মতো নিয়মের পত্রহাত

প্রতিদিন কড়া নাড়ি দোর থেকে দোর

দারুণ দাপটে দাবড়ে বেড়াই নগরীর অলিগলি

আহা, উইন্ডস্ক্রিনে মায়াময় বৃষ্টির ছাঁট

ঘনবর্ষায় বড় বাঁচিয়ে দিয়েছে প্রিয় এ প্রবক্স

উৎসব-কাতর মানুষের এই অনন্ত হাঁসফাঁসের ভেতর

মায়াময় বৃষ্টির এই মহানুমুখরতার ভেতর

আমি ভোর ভোর বেরিয়ে পড়ি পথে

কুয়াশাময় আচ্ছন্নতায় মুগ্ধ করে রাখে ঘুর্ণায়মান স্টেয়ারিং

স্বত:শ্চল ওয়াইপার গেয়ে চলে জীবন-জাগার গান...

সেলুলয়েড সইবেনা এক চুল

মারুফ রহমান

পাইরেসির আবর্জনা

আমাদের আকাশ ছুঁয়েছে।

যে আকাশ সেলুলয়েড হয়ে

এতকাল আমাদের পাহারাদার,

বিনোদনের অনন্য-ছায়া।

আমাদের সংস্কৃতি দোলায়মান

নড়বড়ে দেয়াল।

অপসংস্কৃতির রেড লাইনে

তরুণ নির্মাতার স্বপ্ন

ছুঁয়ে যায় স্বদেশেকে,

মৃত্তিকার সুবাস ছড়ায় চিত্রনাট্যে।

তখন পাইরেসির ঔদ্ধত্য,

কদর্যতা হুংকার তোলে।

মেঘে মেঘে যে বেলা হল

আজ কেন অভিযান?

মৃত্তিকাকে সান্ত্বনা দিতে।

ভুল সবই ভুল,

সেলুলয়েড সইবেনা এক চুল।

ত্রয়ী-২

শতাব্দী জাহিদ

তোমার সমস্ত শরীর জুড়ে মিথ্যের বুননে আঁকা পঙ্ক্তি

লেপে দিতে চাই; যেন অতি গোপন কিছু চিত্র

তোমাকে কাঁদায় ভাদ্রের নীল আকাশে। আর প্রকাশ্যে

মুছে ফেলা চিত্রশালা হয়ে উঠবে আমার কবিতার প্রচ্ছদ, চিত্রসমগ্র।

শীতের ধূসর সকালে ঘাসের মাঠ ফিরে আসে যদি

নগ্ন পায়ের চুম্বন, কুয়াশার রোদ, বাতাসের রং

তোমার শরীর জুরে শুকনো পাতার রেখা, এইসব নিয়ে

পালাব ঘাসের ঘন অন্ধকারের অচেনা রাস্তায়।

চুলের জলে দেয়ালের রং ঘামের মাটি, জলচুলের নদী

পিঠের পাতা, বুকের বেয়ে উঠা আকাশ আরও যতটা নামা যায়

জলের কীর্তন গেয়ে- এই সব দৃশ্যাবলি

ঈশ্বর বিশ্বাসী প্রেমিক করে তোলে মৃত্যু অবধি।

তোমাকে খুঁজে বেড়াব- নির্জন জঙ্গলের গ্লাসে

নদীর পাড় ঘেঁষে শত শত ভুল ফুল হয়ে ফুটে আছে

প্রত্যাখ্যানের জ্বলন্ত ক্যানভাসে।

চুম্বন নক্ষত্রের পায়ে উৎসর্গপত্রের মতো

নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে- দশমির দুর্গা রূপে।

ভেজা চোখের কালো মানচিত্র দুঃখ এবং কান্নার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে

খুঁজে বেড়ায় শরীর।

তোমাকে ছোঁয়ার অপরাধে মাথা পেতে নিই অবিশ্বাস ও বিশ্বাস

জীবনের প্রতিটি মধ্যরাতের বৃষ্টির হলুদ রং ধূসর শব্দ।

কতো কাল একা একা

আদ্যনাথ ঘোষ

কতোকাল একা একা

জ্বালাময় রাতগুলো আরও একা

ঘুম হারা চক্ষুদ্বয়

বুজে আসে, নেমে আসে স্বপ্নের ঘোর।

ভোরবেলা পাখি ডাকে

তখন সহসা আমিও জেগে উঠি

তাহাদের মত

শিশিরসিক্ত শেফালিরা মাটিতে ছড়িয়ে থাকে

সেই ফুল কুড়াতে কুড়াতে

হেঁটে যাই বহুদূর

সকল ভুলের চিহ্ন পিছে ফেলে।

প্রিয় বান্দিনী

মাহমুদ নোমান

প্রিয় বান্দিনী, চোখে এখন ভীষণ খরা

হাঁটতে গিয়ে ময়লা উড়া

কারো আঁচলের কোণায় কাতর

চোখ মেলি না,

নৈর্ব্যত্তিক হাসির মজমা নিয়ে

আগের মতোন

আমি কেবল, ঘরের কোণায় গুমরে থাকি

নিজের ভেতর কবর খুঁড়ি

আলো এলে ঝলসিয়ে দেয়

বুকের নদী শুকিয়ে যায়

ঢিবঢিবানি আর থামে না

কেউ বলে না, কেউ বলে না

কেমন আছেন, শরীর কেমন...?

খোয়াবনামা

কাউসার মাহমুদ

আধবোজা ঘুমঘুম চোখ

কাঠের দরোজার ওপারে রোদের বাজার

ব্যাট-বল, কানামাছি ভরপুর শৈশব

আমি দেখে যাই, অনাহারি পোস্টম্যান খালি পায়ে ঘোরে

রুমমেট শুয়ে থাকে আর্দ্র ফ্লোরে

পাখার আওয়াজে গুনতে থাকে ভবিষ্যৎ

নবান্ন উৎসবের গোলাভরা ধান

বৌয়ের নাকের নোলক

স্বপ্নের ওপারে পৃথিবীর সবুজ গন্ধ

একপাটি জুতো, খদ্দর পাঞ্জাবি, নিরেনের শার্ট

বহুবিধ পচা নষ্ট উপকরণ

ছড়িয়ে আছে মেঝের ওপরে

নোনাধরা শুকনো খড়খড়ে তোয়ালে

হঠাৎ ডাক আসে, কেউ আছেন!

চিঠি আছে।

ভয়

চৌধুরী রওশন ইসলাম

আমাকে আমার ভীষণ ভয়।

নিজের মুখোমুখি হওয়ার ভয় প্রতিদিন তাড়া করে।

জীবনে যতটা পথ হেঁটেছি, সব পথ

আমার পিঠে নিয়ে আমি হেঁটে যাই অবিরাম।

আমি আমাকে এড়িয়ে পথে পথে পালিয়ে বেড়াই।

আমিরা আমার পথের মোড়ে মোড়ে পাহারা বসায়;

আমি প্রতিবার নব নব ছদ্মবেশে আমাকে ফাঁকি দিয়ে

আমারই অচেনা কোথাও পালিয়ে যাই।

আমাকে আমার ভীষণ ভয়।

যদি একবার আমি এসে মুখোমুখি বসে আমাকে শুধায়,

‘কতটা পথ হেঁটে এলি?

কোথা তোর ব্যয় হলো পথের সঞ্চয়?’

আমাকে আমার ভীষণ ভয়।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter