গ্রামের কলমই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে: রিফাত চৌধুরী
jugantor
গ্রামের কলমই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে: রিফাত চৌধুরী

  জুননু রাইন  

০৬ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৬০ সালে কিশোরগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। লেখালেখি শুরু আশির দশক থেকে। আশির দশকের লিটল ম্যাগাজিন মুভমেন্টের অন্যতম কর্মী রিফাত চৌধুরীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘মেঘের প্রতিভা’, ‘উঠন্ত বৃক্ষ্যের পত্র’, ‘বধির ব-দ্বীপ’, ‘সমুদ্রে নুনের পুতুল’, ‘সুপ্রভাত, সূর্য্য’, ‘অন্য মন অন্য জীবন অন্য স্বপ্নের কথা’, ‘আগে পড়নি’, ‘আমি একজন ভৌগোলিক’। ‘ছাঁট কাগজের মলাট’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদনাও করেছেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

যুগান্তর : একজন লেখককে পুরস্কার কতখানি প্রভাবিত করে?

রিফাত চৌধুরী : বাংলাদেশে অনেকগুলো কালচারাল টেরোরিস্ট গ্রুপ আছে। আমার ডানে কালচারাল টেরোরিস্ট এবং বামে পলিটিক্যাল টেরোরিস্ট গ্রুপ-আমি মাঝখানে। এ গ্রুপগুলো পুরস্কার দেয়, আর ব্যর্থ লেখকরা পুরস্কার গ্রহণ করে। আমার মনে হয় প্রকৃত ও মৌলিক লেখালেখির কাজে নিয়োজিত লেখদের এসব পুরস্কার কোনোভাবেই প্রভাবিত করে না। একটা দেশে দু’ধরনের সাহিত্য হয়, একটি মানুষকে এগিয়ে দেয় অপরটি মানুষকে পিছিয়ে দেয়।

সাহিত্যের সংগঠন লেখকের কী উপকারে আসে?

: সংগঠন হলো দুর্বল লেখকের কাজ। একজন সত্যিকারের সাহিত্যিক কিংবা লেখক প্রকৃত পক্ষে পুরো দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। বলা যেতে পারে লেখকরাই একটি দেশের গোপন ‘পাওয়ার হাউজ’। তবে; সাহিত্যচর্চা করার ক্ষেত্রে সাহিত্য পত্রিকার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বটে।

মফস্বল থেকে লেখালেখির সুবিধা অসুবিধা?

: লেখকরা শহরে থেকেই সুবিধা করতে পারেন না। বলা যেতে পারে নিজেদের সুবিধার যতটুকু প্রাপ্তি-ততটুকু সাহিত্যের প্রাপ্তি নয়। আর যারা শহরে থাকেন তারা শাহরিক এবং নাগরিক নন। আর মফস্বল যদি ধান উৎপাদনের কারখানা হয়, তাহলে পুরো রাজধানী ঢাকা শহরই একটি ভাতের হোটেল। আমাদের মতো আমাদের পূর্ব পুরুষরাও রাজধানী শহরের ওই ভাতের হোটেলে আসা যাওয়া করেছেন। কিন্তু; বাস্তবতা হলো এই মফস্বল থেকেই তো সাহিত্যের বিকাশ ঘটেছে। যেহেতু আমার প্রত্যাশিত নগর বিণির্মাণ করতে পারিনি-সুতরাং মফস্বলই সাহিত্যের মূল উৎস।

লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে রাজধানীগামী হওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

: রাজধানী যদি একটি ছাপাখানা হয়-তাহলে মফস্বল হলো লেখক সৃষ্টির কারখানা। রাজধানীর প্রকাশকরা লেখদের বই ছেপে পাঠকের হাতে তুলে দেয়। এ ক্ষেত্রেই বাহক হিসাবে রাজধানীর অবদান।

লেখক জীবন নিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করেন?

: লেখক জীবন নিয়ে আমি প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির কোনো হিসাব করি না। কারণ আমার লেখক জীবনের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়টি আমার সাহিত্য কর্মেই নিহিত। জীবনে অনেক লাভ-লোকসানের হিসাব আছে, কিন্তু; সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রে সে হিসাব করার কোনো সুযোগ নেই।

মফস্বলে লেখকরা কতটুকু গুরুত্বসহকারে সাহিত্যচর্চা করেন?

: গুরুত্বসহকারে তো বটেই। গ্রামের কলম অনেক শক্তিমান। গ্রামের কলমই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। আর এসব নিয়েই আমাদের সাহিত্যে গ্রাম-বাংলার ছবি। গ্রাম-বাংলার এসব সাহিত্যকর্মের সামষ্টিক রূপই আমাদের জাতীয় সাহিত্যকে অলঙ্কৃত করেছে।

কিশোরগঞ্জের সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

: আমি তো মনে করি বাংলা সাহিত্যের আশি ভাগই কিশোরগঞ্জের লেখকদের অবদান। চন্দ্রবতীর ‘রামায়ণ’, তার পিতা দ্বীজ বংশী দাসের ‘মনসা মঙ্গল’ বাক্য থেকে কবি মনির উদ্দিন ইউসুফের ‘শাহানামা’র বাংলা অনুবাদ, ছড়া সাহিত্যের জাদুকর সুকুমার রায়সহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও কাব্য সম্ভার রেখে যাওয়ার এমন সমৃদ্ধ ইতিহাস বোধহয় দেশের আর কোথাও নেই। সেই চন্দ্রবতী-দ্বীজ বংশী দাস থেকে আবিদ আজদ পর্যন্ত অসংখ্য কীর্তিমান লেখকদের সৃষ্টিই আমাদের বাংলা সাহিত্যকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে লিটল ম্যাগ মুভমেন্টকে আপনি কীভাবে দেখেন?

: লিটল ম্যাগ মুভমেন্টের সেই সাহিত্য মিছিলে আমিও ছিলাম। একদিন দেখি যে, সেই মিছিল থেকে আমাকে ফেলে দিয়ে কেউ একজন আমার ওপর দিয়ে চলে গেল। স্বাধীনতার পর একটি জিনিস পেয়েছি-সেটি হলো রাস্তা, মানে জীবন সরণি। এ রাস্তায় দাঁড়িয়েই আমরা বলতে পারি-অমুক ভালো-তমুক খারাপ। শুধু জয় বাংলা জয় বাংলা বলে কী হবে? স্লোগানের ভেতর থেকে মুক্তির ঠিকানাও খুঁজতে হবে। আমাদের পশ্চাৎপদ সব ভাবনাকে পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সেই লিটল ম্যাগাজিন মুভমেন্টের মিছিলে আবারও অংশ নিতে হবে। শুধু দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা নির্ভর করে সাহিত্য চর্চা সম্ভব নয়। যদিও আজকাল দেখতে পাই যে, দৈনিক পত্রিকাগুলো সব গল্পের কাগজ হয়ে গেছে। প্রতিদিন নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে সেই পত্রিকা পাঠক কিনে নেয়। বাংলা পড়ে না কে বলল? তবে লেখকদের জন্য একটি স্বাধীন ফ্ল্যাটফরম জরুরি। যেখানে দাঁড়িয়ে লেখক তার মনের কথা বলবে ও লিখবে। দেখবে এবং দেখাবে।

লেখক সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা কতটুকু প্রভাব ফেলে?

: ইতিহাস-ঐতিহ্য ছাড়া তো সাহিত্য সৃষ্টি হয় না। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, আমাদের বাংলা সাহিত্য অনেক সমৃদ্ধ। চন্দ্রবতীর ভাষায় বলা যায়, ‘গোলায় গোলায় ধান, আর গলায় গলায় গান’। সেই সমৃদ্ধি এখন অতীত হয়ে গেছে। এখন দেখি কাকদের নাচানাচি, ভাঙা প্লেট আর ভাঙা গ্লাস। এখন গোলাভরা ধান নেই, নেই পুকুর ভরা মাছ আর গলায় গলায় গান। আগে গান পরে স্টেনগান। সেই যে, কবি বলেছেন, রাষ্ট্র মানেই ‘লেফট-রাইট, লেফট-রাইট, লেফট-রাইট’। আগে রাষ্ট্র নিজেই ঠিক করে নিক-সে কোন দিকে যাবে। বামে না ডানে? আর সামাজ সব সময়ই সোজা পথে চলে। রাষ্ট্র একদিকে আর সমাজ আরেক দিকে। রাষ্ট্র যদি বাড়ি হয় তবে সরকার হলো রাষ্ট্রের ভাড়াটিয়া।

সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সুকুরাম বৃত্তি বিকাশে রাষ্ট্র এবং সমাজের দায় সম্পর্কে আপনার মতামত?

: আমি মনে করি এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজের এক ফোটাও দায়িত্ব নেই। আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের সাহিত্য থেকে রাষ্ট্র ও সমাজ পাঠ নেয়নি-এটিই আমাদের সাহিত্যের ইতিহাস। তবে সাহিত্য ও সংস্কৃতি যদি আমাদের মাটি হয়-তবে তো সেই মাটির উর্বর ফসলই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ চেতনা। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সুকুমার বৃত্তি বিকাশে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা সব সময়ই উদাসীন।

গ্রামের কলমই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে: রিফাত চৌধুরী

 জুননু রাইন 
০৬ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৬০ সালে কিশোরগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন কবি ও অভিনেতা রিফাত চৌধুরী। লেখালেখি শুরু আশির দশক থেকে। আশির দশকের লিটল ম্যাগাজিন মুভমেন্টের অন্যতম কর্মী রিফাত চৌধুরীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘মেঘের প্রতিভা’, ‘উঠন্ত বৃক্ষ্যের পত্র’, ‘বধির ব-দ্বীপ’, ‘সমুদ্রে নুনের পুতুল’, ‘সুপ্রভাত, সূর্য্য’, ‘অন্য মন অন্য জীবন অন্য স্বপ্নের কথা’, ‘আগে পড়নি’, ‘আমি একজন ভৌগোলিক’। ‘ছাঁট কাগজের মলাট’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদনাও করেছেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

যুগান্তর : একজন লেখককে পুরস্কার কতখানি প্রভাবিত করে?

রিফাত চৌধুরী : বাংলাদেশে অনেকগুলো কালচারাল টেরোরিস্ট গ্রুপ আছে। আমার ডানে কালচারাল টেরোরিস্ট এবং বামে পলিটিক্যাল টেরোরিস্ট গ্রুপ-আমি মাঝখানে। এ গ্রুপগুলো পুরস্কার দেয়, আর ব্যর্থ লেখকরা পুরস্কার গ্রহণ করে। আমার মনে হয় প্রকৃত ও মৌলিক লেখালেখির কাজে নিয়োজিত লেখদের এসব পুরস্কার কোনোভাবেই প্রভাবিত করে না। একটা দেশে দু’ধরনের সাহিত্য হয়, একটি মানুষকে এগিয়ে দেয় অপরটি মানুষকে পিছিয়ে দেয়।

সাহিত্যের সংগঠন লেখকের কী উপকারে আসে?

: সংগঠন হলো দুর্বল লেখকের কাজ। একজন সত্যিকারের সাহিত্যিক কিংবা লেখক প্রকৃত পক্ষে পুরো দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করেন। বলা যেতে পারে লেখকরাই একটি দেশের গোপন ‘পাওয়ার হাউজ’। তবে; সাহিত্যচর্চা করার ক্ষেত্রে সাহিত্য পত্রিকার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বটে।

মফস্বল থেকে লেখালেখির সুবিধা অসুবিধা?

: লেখকরা শহরে থেকেই সুবিধা করতে পারেন না। বলা যেতে পারে নিজেদের সুবিধার যতটুকু প্রাপ্তি-ততটুকু সাহিত্যের প্রাপ্তি নয়। আর যারা শহরে থাকেন তারা শাহরিক এবং নাগরিক নন। আর মফস্বল যদি ধান উৎপাদনের কারখানা হয়, তাহলে পুরো রাজধানী ঢাকা শহরই একটি ভাতের হোটেল। আমাদের মতো আমাদের পূর্ব পুরুষরাও রাজধানী শহরের ওই ভাতের হোটেলে আসা যাওয়া করেছেন। কিন্তু; বাস্তবতা হলো এই মফস্বল থেকেই তো সাহিত্যের বিকাশ ঘটেছে। যেহেতু আমার প্রত্যাশিত নগর বিণির্মাণ করতে পারিনি-সুতরাং মফস্বলই সাহিত্যের মূল উৎস।

লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে রাজধানীগামী হওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

: রাজধানী যদি একটি ছাপাখানা হয়-তাহলে মফস্বল হলো লেখক সৃষ্টির কারখানা। রাজধানীর প্রকাশকরা লেখদের বই ছেপে পাঠকের হাতে তুলে দেয়। এ ক্ষেত্রেই বাহক হিসাবে রাজধানীর অবদান।

লেখক জীবন নিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব করেন?

: লেখক জীবন নিয়ে আমি প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির কোনো হিসাব করি না। কারণ আমার লেখক জীবনের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিষয়টি আমার সাহিত্য কর্মেই নিহিত। জীবনে অনেক লাভ-লোকসানের হিসাব আছে, কিন্তু; সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রে সে হিসাব করার কোনো সুযোগ নেই।

মফস্বলে লেখকরা কতটুকু গুরুত্বসহকারে সাহিত্যচর্চা করেন?

: গুরুত্বসহকারে তো বটেই। গ্রামের কলম অনেক শক্তিমান। গ্রামের কলমই আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। আর এসব নিয়েই আমাদের সাহিত্যে গ্রাম-বাংলার ছবি। গ্রাম-বাংলার এসব সাহিত্যকর্মের সামষ্টিক রূপই আমাদের জাতীয় সাহিত্যকে অলঙ্কৃত করেছে।

কিশোরগঞ্জের সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

: আমি তো মনে করি বাংলা সাহিত্যের আশি ভাগই কিশোরগঞ্জের লেখকদের অবদান। চন্দ্রবতীর ‘রামায়ণ’, তার পিতা দ্বীজ বংশী দাসের ‘মনসা মঙ্গল’ বাক্য থেকে কবি মনির উদ্দিন ইউসুফের ‘শাহানামা’র বাংলা অনুবাদ, ছড়া সাহিত্যের জাদুকর সুকুমার রায়সহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও কাব্য সম্ভার রেখে যাওয়ার এমন সমৃদ্ধ ইতিহাস বোধহয় দেশের আর কোথাও নেই। সেই চন্দ্রবতী-দ্বীজ বংশী দাস থেকে আবিদ আজদ পর্যন্ত অসংখ্য কীর্তিমান লেখকদের সৃষ্টিই আমাদের বাংলা সাহিত্যকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে লিটল ম্যাগ মুভমেন্টকে আপনি কীভাবে দেখেন?

: লিটল ম্যাগ মুভমেন্টের সেই সাহিত্য মিছিলে আমিও ছিলাম। একদিন দেখি যে, সেই মিছিল থেকে আমাকে ফেলে দিয়ে কেউ একজন আমার ওপর দিয়ে চলে গেল। স্বাধীনতার পর একটি জিনিস পেয়েছি-সেটি হলো রাস্তা, মানে জীবন সরণি। এ রাস্তায় দাঁড়িয়েই আমরা বলতে পারি-অমুক ভালো-তমুক খারাপ। শুধু জয় বাংলা জয় বাংলা বলে কী হবে? স্লোগানের ভেতর থেকে মুক্তির ঠিকানাও খুঁজতে হবে। আমাদের পশ্চাৎপদ সব ভাবনাকে পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সেই লিটল ম্যাগাজিন মুভমেন্টের মিছিলে আবারও অংশ নিতে হবে। শুধু দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা নির্ভর করে সাহিত্য চর্চা সম্ভব নয়। যদিও আজকাল দেখতে পাই যে, দৈনিক পত্রিকাগুলো সব গল্পের কাগজ হয়ে গেছে। প্রতিদিন নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে সেই পত্রিকা পাঠক কিনে নেয়। বাংলা পড়ে না কে বলল? তবে লেখকদের জন্য একটি স্বাধীন ফ্ল্যাটফরম জরুরি। যেখানে দাঁড়িয়ে লেখক তার মনের কথা বলবে ও লিখবে। দেখবে এবং দেখাবে।

লেখক সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা কতটুকু প্রভাব ফেলে?

: ইতিহাস-ঐতিহ্য ছাড়া তো সাহিত্য সৃষ্টি হয় না। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, আমাদের বাংলা সাহিত্য অনেক সমৃদ্ধ। চন্দ্রবতীর ভাষায় বলা যায়, ‘গোলায় গোলায় ধান, আর গলায় গলায় গান’। সেই সমৃদ্ধি এখন অতীত হয়ে গেছে। এখন দেখি কাকদের নাচানাচি, ভাঙা প্লেট আর ভাঙা গ্লাস। এখন গোলাভরা ধান নেই, নেই পুকুর ভরা মাছ আর গলায় গলায় গান। আগে গান পরে স্টেনগান। সেই যে, কবি বলেছেন, রাষ্ট্র মানেই ‘লেফট-রাইট, লেফট-রাইট, লেফট-রাইট’। আগে রাষ্ট্র নিজেই ঠিক করে নিক-সে কোন দিকে যাবে। বামে না ডানে? আর সামাজ সব সময়ই সোজা পথে চলে। রাষ্ট্র একদিকে আর সমাজ আরেক দিকে। রাষ্ট্র যদি বাড়ি হয় তবে সরকার হলো রাষ্ট্রের ভাড়াটিয়া।

সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সুকুরাম বৃত্তি বিকাশে রাষ্ট্র এবং সমাজের দায় সম্পর্কে আপনার মতামত?

: আমি মনে করি এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজের এক ফোটাও দায়িত্ব নেই। আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের সাহিত্য থেকে রাষ্ট্র ও সমাজ পাঠ নেয়নি-এটিই আমাদের সাহিত্যের ইতিহাস। তবে সাহিত্য ও সংস্কৃতি যদি আমাদের মাটি হয়-তবে তো সেই মাটির উর্বর ফসলই আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ চেতনা। সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সুকুমার বৃত্তি বিকাশে রাষ্ট্র ও সমাজের ভূমিকা সব সময়ই উদাসীন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১