যশোরের সাহিত্য
jugantor
যশোর জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন
যশোরের সাহিত্য

  মামুন আজাদ  

১৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের সাহিত্যের কথা বললেই অবধারিতভাবে আসে মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের নাম। আর আসবেই বা না কেন রবীন্দ্র-নজরুলের আগে-পরে এত বড় কবি তো বাংলা সাহিত্যে আসেনি। ঠিক এ কারণেই যশোরের কবি-সাহিত্যিকদের একটা অম্ল-মধুর মন্তব্য প্রায়শ শুনতে হয় ‘মাইকেলের দেশের লোক একটু কবিত্ব তো থাকবেই’। মুন্সি মেহেরউল্লাহ, ধীরাজ ভট্টাচার্য্যরে পর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত কবি গল্পকার আনোয়ারা সৈয়দ হক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন, গল্পকার হোসেনউদ্দিন হোসেন, ছড়া লেখার জন্য কারাবরণকারী ছড়াকার আবু সালেহ, কবি গবেষক বেনজীন খান প্রমুখ ভালো লিখছেন। যশোরের শিল্প সাহিত্য সব সময় মোটামুটিভাবে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিকেন্দ্রিক। সেই সত্তর আশি নব্বই দশকে এখানে এসেছেন আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ সামসুল হক, সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, বর্তমান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা কে, আসেননি যশোরে!

যদিও বর্তমানে কবি গবেষক বেনজীন খান প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যসংঘ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের মতো একদল তরুণ তুর্কি কবি-গল্পকার-নাট্যকার প্রতিদিন তুমুল আড্ডায় মেতে ওঠেন।

সত্তরের দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত কবি আজিজুল হকের নেতৃত্বে যশোরে একদল তরুণ কবিদের মেলা বসত যশোর সাহিত্য পরিষদকে ঘিরে। করোনা পূর্ববর্তী যশোরে যশোর টাউন হল, শিল্পকলা, প্রেস ক্লাব, প্রাচ্যসংঘে প্রভৃতি স্থানে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো নাটক, গান, কবিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠত যশোরবাসী।

যশোর সম্পর্কে চমৎকার কথা বলতেন প্রয়াত সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হক, তার স্ত্রী যশোরের চুড়িপট্টির মেয়ে আনোয়ারা সৈয়দ হককে গর্ব করে বলতেন, ‘যশোর রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি আমারও শ্বশুরবাড়ি।’

আশির দশকে এই যশোরে বাংলাদেশে প্রথম দর্শনারির বিনিময়ে বি ডি হলে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে টিকিট না পেয়ে কবিতা প্রেমিকরা রামদা হাতে আয়োজকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাই বলা চলে যশোর হচ্ছে কবিতার শহর, শিল্প সাহিত্যের শহর। যশোরে অনেকেই লিখছেন যাদের মধ্যে ঢাকায় আছেন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, আব্দুর রব, সুহিতা সুলতানা, সৈয়দ রানা মুস্তাফি, সৈয়দ আহসান কবীর, মনিরুজ্জামান টিপু, আরিফ জামান, সাফি সুমুদ্র, দ্বারা মাহমুদ, টিপু সুলতান প্রমুখ।

যশোরে যারা লিখছেন যেমন বেনজীন খান, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, পাভেল চৌধুরী, নান্নু মাহবুব, মাজেদ নওয়াজ, মোকাররম হোসেন, মমিনুর রহমান, গাজী শহিদুল ইসলাম, অমল কান্তি সরকার, আহাদ আলী, ভাগরতী রানী দত্ত, রাশিদা আক্তার লিলি, সুরাইয়া শরীফ, কাকলী ইসলাম, সানজীদা ফেরদৌস, তানিয়া খাতুন, তাসলিমা মনসুর, গীতা রানী কুণ্ড, ফারহানা ফেরদৌস, প্রিয়াংকা ইসলাম, রাবেয়া জাহান, শিরিন ইবাদী, তৃষা চামেলী, নাহার সিদ্দিকী, নুরজাহান আরা নীতি, শিরিন সুলতানা, হালিমা অরন্য, মাহমুদা রিনি, নাজমুন নাহার, এম এম রবিউল, তারাপদ দাস, এ আর কৌশিক, তৌহিদুর রহমান দীপ্ত, দিপংকর দাস রতন, পাবলো শাহি, আমিরুল ইসলাম রন্টু, আব্দুল লতিফ, সুভাষ বিশ্বাস, এ ডি এম রতন, শেখ হামিদুল হক, শাহরিয়ার সোহেল, সুধাসিন্ধু তাপস, সুব্রত দেবনাথ, মো. রহমতুল্লাহ, শংকর নিভানন, আব্দুর রহিম, আতিয়ার রহমান, অসিম কুমার মণ্ডল, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আলীম, অশোক কুমার বিশ্বাস, আব্দুল কাদের, আমিরুল হক, তাজুল ইসলাম, এম ই ইদ্রিস, আবুল কাসেম, জি জি এ কাদরী, জসিম মাহমুদ, মনিরুজ্জামান মনির, মিলন রহমান, খোন্দকার মিন্টু, মহব্বত আলী মন্টু, গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, রেজাউল করিম রোমেল, মুহাম্মদ নাসিম, তানভীর কবীর, শেখ আহসান হাবীব, আমিরুক হক, আব্দুর রহিম, আতিয়ার রহমান, বাশার মাহফুজ, হুমায়ন আফতাফ, শান্তনু চক্রবর্তী, শফিক শিমু, হুসাইন নজরুল হক, গাজী আব্দুল লতিফ মান্না, মিরানা সুলতানা বৃষ্টি, মিজানুর রহমান মায়া, জি এম মসিদুল ইসলাম, সোনিয়া সুলতানা রেনু, আলম সিদ্দিকী কাসেদুজ্জামান সেলিম, সেলিম রেজা সেলিম, শাহিদুর রহমান, জাহিদ আক্কাজ, মাসউদ জামান, তৌহিদ মনি, মাজেদ নওয়াজ, লিখন আলম, রেজা মণ্ডল, আরশি গাইন, সাইফুদ্দিন সাইফুল, টিপু সুলতান, অনিক মাযহার, ঋসি পুরুষ, আশরাফুল হাসান বিপ্লব, এম এন এস তূর্কি, সবুজ শামিম আহসান, মোফাজ্জেল হোসেন, মুজিবর রহমান, আবু জাহিদ, জাহিদুল ইসলাম যাদু, দেওয়ান মোর্শেদ, গোলাম মুস্তাফা মুন্না, আব্দুর রহিম কৌশিক, বিল্লাল হোসেন কৌরেশি, আশা উজ জামান প্রমুখ।

যশোরের প্রবাদ প্রবচন

১. পেটে নেই ভাত

বেরাশ দিয়ে মাজে দাঁত

২. যশোরের যশ

খাজুরের রস

৩. চুনো শয়তান (ভালো মানুষের ভানে শয়তান)

৪. পারে না ছিঁড়তি

উঠে বসে বিয়ান রাত্রি

৫. তোর শিল তোর নুড়া

ভাঙবোরে তোর দাঁতের গোড়া

৬. ঘর বানতি দড়ি

বিয়ে কত্তি কড়ি

৭. মোটে মা রান্দে না, তার তপ্ত আর পান্তা

৮. দায় (দা/গৃহস্থের প্রয়োজনীয় অস্ত্র) ধার নেই,

আছাড়ির যুত (ফ্যাসান) আছে

যশোর জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন

যশোরের সাহিত্য

 মামুন আজাদ 
১৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের সাহিত্যের কথা বললেই অবধারিতভাবে আসে মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের নাম। আর আসবেই বা না কেন রবীন্দ্র-নজরুলের আগে-পরে এত বড় কবি তো বাংলা সাহিত্যে আসেনি। ঠিক এ কারণেই যশোরের কবি-সাহিত্যিকদের একটা অম্ল-মধুর মন্তব্য প্রায়শ শুনতে হয় ‘মাইকেলের দেশের লোক একটু কবিত্ব তো থাকবেই’। মুন্সি মেহেরউল্লাহ, ধীরাজ ভট্টাচার্য্যরে পর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত কবি গল্পকার আনোয়ারা সৈয়দ হক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন, গল্পকার হোসেনউদ্দিন হোসেন, ছড়া লেখার জন্য কারাবরণকারী ছড়াকার আবু সালেহ, কবি গবেষক বেনজীন খান প্রমুখ ভালো লিখছেন। যশোরের শিল্প সাহিত্য সব সময় মোটামুটিভাবে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিকেন্দ্রিক। সেই সত্তর আশি নব্বই দশকে এখানে এসেছেন আল মাহমুদ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ সামসুল হক, সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, বর্তমান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা কে, আসেননি যশোরে!

যদিও বর্তমানে কবি গবেষক বেনজীন খান প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যসংঘ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের মতো একদল তরুণ তুর্কি কবি-গল্পকার-নাট্যকার প্রতিদিন তুমুল আড্ডায় মেতে ওঠেন।

সত্তরের দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত কবি আজিজুল হকের নেতৃত্বে যশোরে একদল তরুণ কবিদের মেলা বসত যশোর সাহিত্য পরিষদকে ঘিরে। করোনা পূর্ববর্তী যশোরে যশোর টাউন হল, শিল্পকলা, প্রেস ক্লাব, প্রাচ্যসংঘে প্রভৃতি স্থানে প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো নাটক, গান, কবিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠত যশোরবাসী।

যশোর সম্পর্কে চমৎকার কথা বলতেন প্রয়াত সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হক, তার স্ত্রী যশোরের চুড়িপট্টির মেয়ে আনোয়ারা সৈয়দ হককে গর্ব করে বলতেন, ‘যশোর রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি আমারও শ্বশুরবাড়ি।’

আশির দশকে এই যশোরে বাংলাদেশে প্রথম দর্শনারির বিনিময়ে বি ডি হলে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে টিকিট না পেয়ে কবিতা প্রেমিকরা রামদা হাতে আয়োজকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাই বলা চলে যশোর হচ্ছে কবিতার শহর, শিল্প সাহিত্যের শহর। যশোরে অনেকেই লিখছেন যাদের মধ্যে ঢাকায় আছেন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, আব্দুর রব, সুহিতা সুলতানা, সৈয়দ রানা মুস্তাফি, সৈয়দ আহসান কবীর, মনিরুজ্জামান টিপু, আরিফ জামান, সাফি সুমুদ্র, দ্বারা মাহমুদ, টিপু সুলতান প্রমুখ।

যশোরে যারা লিখছেন যেমন বেনজীন খান, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, পাভেল চৌধুরী, নান্নু মাহবুব, মাজেদ নওয়াজ, মোকাররম হোসেন, মমিনুর রহমান, গাজী শহিদুল ইসলাম, অমল কান্তি সরকার, আহাদ আলী, ভাগরতী রানী দত্ত, রাশিদা আক্তার লিলি, সুরাইয়া শরীফ, কাকলী ইসলাম, সানজীদা ফেরদৌস, তানিয়া খাতুন, তাসলিমা মনসুর, গীতা রানী কুণ্ড, ফারহানা ফেরদৌস, প্রিয়াংকা ইসলাম, রাবেয়া জাহান, শিরিন ইবাদী, তৃষা চামেলী, নাহার সিদ্দিকী, নুরজাহান আরা নীতি, শিরিন সুলতানা, হালিমা অরন্য, মাহমুদা রিনি, নাজমুন নাহার, এম এম রবিউল, তারাপদ দাস, এ আর কৌশিক, তৌহিদুর রহমান দীপ্ত, দিপংকর দাস রতন, পাবলো শাহি, আমিরুল ইসলাম রন্টু, আব্দুল লতিফ, সুভাষ বিশ্বাস, এ ডি এম রতন, শেখ হামিদুল হক, শাহরিয়ার সোহেল, সুধাসিন্ধু তাপস, সুব্রত দেবনাথ, মো. রহমতুল্লাহ, শংকর নিভানন, আব্দুর রহিম, আতিয়ার রহমান, অসিম কুমার মণ্ডল, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আলীম, অশোক কুমার বিশ্বাস, আব্দুল কাদের, আমিরুল হক, তাজুল ইসলাম, এম ই ইদ্রিস, আবুল কাসেম, জি জি এ কাদরী, জসিম মাহমুদ, মনিরুজ্জামান মনির, মিলন রহমান, খোন্দকার মিন্টু, মহব্বত আলী মন্টু, গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, রেজাউল করিম রোমেল, মুহাম্মদ নাসিম, তানভীর কবীর, শেখ আহসান হাবীব, আমিরুক হক, আব্দুর রহিম, আতিয়ার রহমান, বাশার মাহফুজ, হুমায়ন আফতাফ, শান্তনু চক্রবর্তী, শফিক শিমু, হুসাইন নজরুল হক, গাজী আব্দুল লতিফ মান্না, মিরানা সুলতানা বৃষ্টি, মিজানুর রহমান মায়া, জি এম মসিদুল ইসলাম, সোনিয়া সুলতানা রেনু, আলম সিদ্দিকী কাসেদুজ্জামান সেলিম, সেলিম রেজা সেলিম, শাহিদুর রহমান, জাহিদ আক্কাজ, মাসউদ জামান, তৌহিদ মনি, মাজেদ নওয়াজ, লিখন আলম, রেজা মণ্ডল, আরশি গাইন, সাইফুদ্দিন সাইফুল, টিপু সুলতান, অনিক মাযহার, ঋসি পুরুষ, আশরাফুল হাসান বিপ্লব, এম এন এস তূর্কি, সবুজ শামিম আহসান, মোফাজ্জেল হোসেন, মুজিবর রহমান, আবু জাহিদ, জাহিদুল ইসলাম যাদু, দেওয়ান মোর্শেদ, গোলাম মুস্তাফা মুন্না, আব্দুর রহিম কৌশিক, বিল্লাল হোসেন কৌরেশি, আশা উজ জামান প্রমুখ।

যশোরের প্রবাদ প্রবচন

১. পেটে নেই ভাত

বেরাশ দিয়ে মাজে দাঁত

২. যশোরের যশ

খাজুরের রস

৩. চুনো শয়তান (ভালো মানুষের ভানে শয়তান)

৪. পারে না ছিঁড়তি

উঠে বসে বিয়ান রাত্রি

৫. তোর শিল তোর নুড়া

ভাঙবোরে তোর দাঁতের গোড়া

৬. ঘর বানতি দড়ি

বিয়ে কত্তি কড়ি

৭. মোটে মা রান্দে না, তার তপ্ত আর পান্তা

৮. দায় (দা/গৃহস্থের প্রয়োজনীয় অস্ত্র) ধার নেই,

আছাড়ির যুত (ফ্যাসান) আছে

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১