খ্যাতিমান হতে যে কর্মসাধনার দরকার তা মফস্বলে থেকেও করা যেতে পারে: হোসেনউদ্দীন হোসেন
jugantor
খ্যাতিমান হতে যে কর্মসাধনার দরকার তা মফস্বলে থেকেও করা যেতে পারে: হোসেনউদ্দীন হোসেন

  জুননু রাইন  

১৩ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম ১৯৪১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। বর্তমানে গ্রামে থাকেন এবং কৃষি পেশায় নিযুক্ত। কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর ঝিকরগাছা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে। ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৯ সালে আই, এ পাশ করেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কোনো আস্থা না থাকায় একাডেমিক শিক্ষা তিনি এখানেই শেষ করেন। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে কলকাতার দৈনিক লোকসেবক পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে। এরপর পর্যায়ক্রমে কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত তার গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : নষ্ট মানুষ, অমৃত বৈদেশিক, সাধুহাটির লোকজন, ইঁদুর ও মানুষেরা, প্লাবন এবং একজন নুহ, ভলতেয়ার ফ্লবেয়ার কলসত্ব ত্রয়ী উপন্যাস ও যুগমানস, ঐতিহ্য আধুনিকতা ও আহসান হাবীব, বাংলার বিদ্রোহ, সমাজ সাহিত্য দর্শন প্রবন্ধ, রণক্ষেত্রে সারাবেলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, লোকলোকোত্তর গাঁথা কিংবদন্তি, বনভূমি ও অন্যান্য গল্প, অনন্য রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬৫ সালে হিন্দুস্তান পাকিস্তান যুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

যুগান্তর: লেখক হওয়ার জন্য শহরে চলে আসার প্রবনতাকে কীভাবে দেখেন ?

হোসেনউদ্দীন হোসেন: লেখক হওয়ার জন্য শহরে কিংবা রাজধানীতে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। গল্প, উপন্যাস, কবিতা লেখার জন্য বিশেষ প্রয়োজন নির্জনতা। প্রয়োজন কোলাহলমুক্ত একটি উপযুক্ত স্থান। কারণ শিল্প কর্মের মূল হচ্ছে রূপ সৃষ্টি করা। যারা শহরে কিংবা রাজধানীতে যেতে চান, তারা খ্যাতিমান হওয়ার উদ্দেশ্যেই যান। খ্যাতিমান হতে গেলে যে কর্মসাধনার দরকার, তা মফস্বলে থেকেও করা যেতে পারে।

বর্তমান সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ?

: বর্তমানে সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে সস্তা কেচ্ছা কাহিনি। অর্থাৎ সাহিত্য এখন পণ্য হয়ে উঠেছে। এ সাহিত্যে মানুষ নেই। সমাজ নেই। সংগ্রাম নেই। ব্যর্থতা নেই, বিজয় নেই, চেতনাও নেই। জীবন ঘনিষ্ঠ কোনো গল্প ও উপন্যাস সৃষ্টি হচ্ছে না। একটা দায়সারা গোছের কেচ্ছা কাহিনি রচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান

: মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মার সম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসার অবনতি ঘটেছে। ব্যক্তিস্বার্থই এখন প্রাধান্য পেয়েছে। আমি আমার জীবনে আগে যা দেখেছি, মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক, এখন তা বিপরীত মেরুতে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিই এখন সমাজকর্তা, ব্যক্তিই এখন দণ্ডমুণ্ডের নিয়ন্ত্রক। ব্যক্তিই এখন দলকর্তা। এটা নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধ লেগে রয়েছে। কোথাও কোথাও রক্তপাতও ঘটছে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতোটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার ?

: আমাদের বর্তমান সাহিত্য সম্পর্কে ১ম প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বলেছি। প্রকৃতি মানুষ ও জীবন সম্পর্ক নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি হচ্ছে খুবই কম। অধিকাংশই হয়ে উঠছে প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদনমূলক লেখাকে বলছি গল্প ও উপন্যাস। সাহিত্য হচ্ছে ভিন্ন জিনিস। জীবনকে শিল্পের রূপায়ণ করা সহজ নয়। যে বিষয়টি শিল্পে রূপ লাভ করেনি, তার মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজা বৃথা।

এই সময়ে ভালো লিখছেন এমন তিনজন লেখকের নাম

: অনেকেরই গল্প উপন্যাস পড়েছি। ভালো লাগেনি। মনে হয়েছে কেচ্ছা কাহিনি। কোনো চরিত্রই উল্লেখযোগ্য চরিত্র হয়ে ওঠেনি। সবকিছু বিবরণমূলক। সাহিত্য হচ্ছে শুধু কেচ্ছা কাহিনি নয় কিংবা ঘটনার বিবরণ নয়। সাহিত্য হচ্ছে শিল্প। জীবনের শিল্প। আপনি তিনজন লেখকের নাম উল্লেখ করতে বলেছেন। সঙ্গত কারণেই বলা ঠিক হবে না। যারা প্রচারমূলক রচনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সংখ্যা অধিক। এরাই এখন বাজারটা নিজেদের দখলে রেখেছেন। আর যারা প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, তাদের সংখ্যা নিতান্ত নগণ্য। আমি এ নগণ্যদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রকাশ করা সমীচিন হয় বলে মনে করি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতোটা মন্দ ?

: প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞান। গল্প ও উপন্যাস রচনায় বিজ্ঞানের প্রয়োজন নেই। তবে প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সম্পর্ক কেমন ? কেমন হওয়া উচিৎ ?

: রাষ্ট্র হলো জনগণের রাষ্ট্র। কিন্তু এ রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো প্রজাতান্ত্রিক। জনগণতান্ত্রিক নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে জনগণের অবস্থান এখনো নিু পর্যায়ে। শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বাণিজ্য পুঁজির সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়। শিল্প উৎপাদন নেই। অশিক্ষিত বেকার ও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ধাপে ধাপে বেড়ে চলেছে। লুম্পেন পুঁজির প্রভাব বেড়েছে। গ্রামে ও নগরে প্রতারক শ্রেণির দৌরাত্ম্যে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা দুরুহ হয়ে উঠছে। সামাজিক নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে। দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছে।

আমাদের সাহিত্যের মধ্যে এ সামাজিক প্রতিচ্ছবি কোনো ঔপন্যাসিক বা কথাকার তুলে ধরার ব্যাপারে একেবারে নিরুৎসাহের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের মগজে এখন দৈশিক দেশভূমি নেই-বৈদেশিক তত্ত্ব ও মতবাদে মগজটা উষ্ণ হয়ে রয়েছে।

খ্যাতিমান হতে যে কর্মসাধনার দরকার তা মফস্বলে থেকেও করা যেতে পারে: হোসেনউদ্দীন হোসেন

 জুননু রাইন 
১৩ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম ১৯৪১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। বর্তমানে গ্রামে থাকেন এবং কৃষি পেশায় নিযুক্ত। কৃষ্ণনগর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর ঝিকরগাছা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে। ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৯ সালে আই, এ পাশ করেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কোনো আস্থা না থাকায় একাডেমিক শিক্ষা তিনি এখানেই শেষ করেন। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে কলকাতার দৈনিক লোকসেবক পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে। এরপর পর্যায়ক্রমে কলকাতা ও ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত তার গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : নষ্ট মানুষ, অমৃত বৈদেশিক, সাধুহাটির লোকজন, ইঁদুর ও মানুষেরা, প্লাবন এবং একজন নুহ, ভলতেয়ার ফ্লবেয়ার কলসত্ব ত্রয়ী উপন্যাস ও যুগমানস, ঐতিহ্য আধুনিকতা ও আহসান হাবীব, বাংলার বিদ্রোহ, সমাজ সাহিত্য দর্শন প্রবন্ধ, রণক্ষেত্রে সারাবেলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, লোকলোকোত্তর গাঁথা কিংবদন্তি, বনভূমি ও অন্যান্য গল্প, অনন্য রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬৫ সালে হিন্দুস্তান পাকিস্তান যুদ্ধে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

যুগান্তর: লেখক হওয়ার জন্য শহরে চলে আসার প্রবনতাকে কীভাবে দেখেন ?

হোসেনউদ্দীন হোসেন: লেখক হওয়ার জন্য শহরে কিংবা রাজধানীতে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। গল্প, উপন্যাস, কবিতা লেখার জন্য বিশেষ প্রয়োজন নির্জনতা। প্রয়োজন কোলাহলমুক্ত একটি উপযুক্ত স্থান। কারণ শিল্প কর্মের মূল হচ্ছে রূপ সৃষ্টি করা। যারা শহরে কিংবা রাজধানীতে যেতে চান, তারা খ্যাতিমান হওয়ার উদ্দেশ্যেই যান। খ্যাতিমান হতে গেলে যে কর্মসাধনার দরকার, তা মফস্বলে থেকেও করা যেতে পারে।

বর্তমান সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ?

: বর্তমানে সাহিত্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে সস্তা কেচ্ছা কাহিনি। অর্থাৎ সাহিত্য এখন পণ্য হয়ে উঠেছে। এ সাহিত্যে মানুষ নেই। সমাজ নেই। সংগ্রাম নেই। ব্যর্থতা নেই, বিজয় নেই, চেতনাও নেই। জীবন ঘনিষ্ঠ কোনো গল্প ও উপন্যাস সৃষ্টি হচ্ছে না। একটা দায়সারা গোছের কেচ্ছা কাহিনি রচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান

: মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মার সম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসার অবনতি ঘটেছে। ব্যক্তিস্বার্থই এখন প্রাধান্য পেয়েছে। আমি আমার জীবনে আগে যা দেখেছি, মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক, এখন তা বিপরীত মেরুতে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিই এখন সমাজকর্তা, ব্যক্তিই এখন দণ্ডমুণ্ডের নিয়ন্ত্রক। ব্যক্তিই এখন দলকর্তা। এটা নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধ লেগে রয়েছে। কোথাও কোথাও রক্তপাতও ঘটছে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতোটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার ?

: আমাদের বর্তমান সাহিত্য সম্পর্কে ১ম প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বলেছি। প্রকৃতি মানুষ ও জীবন সম্পর্ক নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি হচ্ছে খুবই কম। অধিকাংশই হয়ে উঠছে প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদনমূলক লেখাকে বলছি গল্প ও উপন্যাস। সাহিত্য হচ্ছে ভিন্ন জিনিস। জীবনকে শিল্পের রূপায়ণ করা সহজ নয়। যে বিষয়টি শিল্পে রূপ লাভ করেনি, তার মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজা বৃথা।

এই সময়ে ভালো লিখছেন এমন তিনজন লেখকের নাম

: অনেকেরই গল্প উপন্যাস পড়েছি। ভালো লাগেনি। মনে হয়েছে কেচ্ছা কাহিনি। কোনো চরিত্রই উল্লেখযোগ্য চরিত্র হয়ে ওঠেনি। সবকিছু বিবরণমূলক। সাহিত্য হচ্ছে শুধু কেচ্ছা কাহিনি নয় কিংবা ঘটনার বিবরণ নয়। সাহিত্য হচ্ছে শিল্প। জীবনের শিল্প। আপনি তিনজন লেখকের নাম উল্লেখ করতে বলেছেন। সঙ্গত কারণেই বলা ঠিক হবে না। যারা প্রচারমূলক রচনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সংখ্যা অধিক। এরাই এখন বাজারটা নিজেদের দখলে রেখেছেন। আর যারা প্রকৃত সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, তাদের সংখ্যা নিতান্ত নগণ্য। আমি এ নগণ্যদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রকাশ করা সমীচিন হয় বলে মনে করি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতোটা মন্দ ?

: প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞান। গল্প ও উপন্যাস রচনায় বিজ্ঞানের প্রয়োজন নেই। তবে প্রকাশনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সাথে জনগণের সম্পর্ক কেমন ? কেমন হওয়া উচিৎ ?

: রাষ্ট্র হলো জনগণের রাষ্ট্র। কিন্তু এ রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো প্রজাতান্ত্রিক। জনগণতান্ত্রিক নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে জনগণের অবস্থান এখনো নিু পর্যায়ে। শাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বাণিজ্য পুঁজির সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়। শিল্প উৎপাদন নেই। অশিক্ষিত বেকার ও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ধাপে ধাপে বেড়ে চলেছে। লুম্পেন পুঁজির প্রভাব বেড়েছে। গ্রামে ও নগরে প্রতারক শ্রেণির দৌরাত্ম্যে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা দুরুহ হয়ে উঠছে। সামাজিক নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটছে। দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য বিস্তার লাভ করেছে।

আমাদের সাহিত্যের মধ্যে এ সামাজিক প্রতিচ্ছবি কোনো ঔপন্যাসিক বা কথাকার তুলে ধরার ব্যাপারে একেবারে নিরুৎসাহের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের মগজে এখন দৈশিক দেশভূমি নেই-বৈদেশিক তত্ত্ব ও মতবাদে মগজটা উষ্ণ হয়ে রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১