সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই প্রকৃত সাহিত্য বিকশিত হয়: জয়দুল হোসেন
jugantor
সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই প্রকৃত সাহিত্য বিকশিত হয়: জয়দুল হোসেন

  জুননু রাইন  

২০ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি, গবেষক ও সংগঠক জয়দুল হোসেন ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মা মাহতাব বানু ও বাবা আবদুল মোতালেব ভূঞা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখালেখি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অগ্রভাগে থেকে। তার নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। প্রকাশিত গ্রন্থ ২২টি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরের কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

জয়দুল হোসেন : অনেকের মাঝেই লেখক হওয়ার জন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তারা মনে করেন, লেখক হওয়ার জন্য কেন্দ্রে থাকা জরুরি। তাদের ধারণা, কেন্দ্রে না থাকলে লেখালেখির পরিবেশ পাওয়া যায় না। তার মানে লেখালেখির বিষয়ে যদি কারও মনে কোনো প্রশ্ন জাগে, তবে সে প্রশ্নের সঠিক জবাব মফস্বলে না-ও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু রাজধানীতে যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে ইচ্ছা করলেই একাধিক লেখকের সন্তান পাওয়া যায়। তাদের সঙ্গে আড্ডা বা খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে নতুন কিছু জানার সুযোগ তৈরি হয়। এতে লেখকের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। লেখক হওয়ার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ভিত্তিটা মজবুত করা। ভিত্তি মজবুত হয়ে গেলে যে কোনো লেখক যে কোনো স্থানে থেকেই ভালো লিখতে পারেন। লেখক হওয়ার জন্য পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ভালো বই পাঠ, নতুন নতুন বিষয় জানার অগ্রহ, মানুষকে বুঝতে পারার ক্ষমতা একজন লেখককে লেখালেখিতে উৎসাহিত করে।

বর্তমানে সাহিত্যের সামাজিক রাজনৈতিক প্রয়োগ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

: সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই প্রকৃত সাহিত্য বিকশিত হয়। তবে সাহিত্য যেন রাজনীতি দ্বারা কলুষিত না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। মানুষ যেমন সামাজিক জীব তেমন রাজনৈতিক সচেতনও বটে। তবে এ দুইয়ের সমন্বয় যে সাহিত্যে স্থান পায় সে সাহিত্যই উৎকৃষ্ট সাহিত্য হিসাবে টিকে থাকে। আবার রাজনীতি বর্জিত সাহিত্যও উৎকৃষ্ট সাহিত্য হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে। যেমন সামাজিক সাহিত্য। এ উভয় ধারাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এ উভয় ধারাকেই আমাদের মেনে নিতে হবে।

আমাদের মননশীলতা সৃষ্টিশীলতা কমছে না বাড়ছে? কমে থাকলে কারণ কী? এ থেকে উত্তরণের উপায়?

: কমছে এ কথা বলা যাবে না। বলা ভালো বাড়ছে। যুগে যুগে সৃষ্টিশীল আবিষ্কারের পাশাপাশি সাহিত্যও সৃষ্টিশীল থেকেছে। তবে এ ধারায় খুব বেশি লেখকের সাক্ষাৎ আমরা পাইনি। সৃজনশীলতাকে খুব কম সংখ্যক লেখকই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে মননশীল ও সৃজনশীল লেখকের পাশাপাশি অনেক অলেখকের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। প্রতিবছর বইমেলাকে কেন্দ্র করে যত বই প্রকাশিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই নিুমানের। এদের কবলে পড়ে সৃজনশীল সাহিত্য ধসে যাচ্ছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার? কীভাবে?

: বাংলাদেশের সাহিত্যের নিজস্ব একটা ধারা সৃষ্টি হয়ে গেছে। এ ধারা বিশ্বের যে কোনো ধারা থেকে স্বতন্ত্র। এ ধারা কলকাতার বাংলা সাহিত্য থেকে আলাদা হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধই এ ধারা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রভূমি বললে ভুল হবে না। ঢাকাকে বাংলা সাহিত্যের রাজধানী বলে ঘোষণা করেছেন অনেকেই। এখন এ ধারাকে এগিয়ে নেওয়া বাঙালিদের দায়িত্বে এবং কর্তব্য বলেও মনে করি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি একজন লেখককে দিয়ে সৃষ্টিশীল কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি লিখিয়ে নিতে পারে না। তবে লেখাটা হয়ে গেলে তা প্রচার এবং প্রসারের জন্য প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আবার মননশীল লেখক বা গবেষক যারা তাদের অনেকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষক হয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে অনেকে হচ্ছেনও। তবে এতে নিজস্ব অভিমত বা সৃজনশীলতা থাকে না। যে কোনো লেখা, সৃজনশীলই হোক বা মননশীলই হোক, তার মধ্যে লেখকের নিজস্ব অভিমতের প্রতিফলন থাকতে হবে।

পৃথিবীর আর কোন কোন ভাষায় ছড়া সাহিত্য বা শিশু সাহিত্যকে আলাদা নামকরণ করা হয়?

: পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায়ই ছড়া-সাহিত্য বা শিশু-সাহিত্য বলে আলাদা একটি বিষয় রয়েছে। একেক দেশে একেক নামে পরিচিত। ছড়া সাহিত্য পৃথিবীর উৎকৃষ্টতম সাহিত্যের অন্যতম। সুর-তাল-লয় এবং ছন্দজ্ঞান না থাকলে ছড়া লেখা যায় না। তাই মানতেই হবে যে চাইলেই কেউ ছড়া লিখতে পারবেন না, বিষয়টি এত সহজ নয়। যে বিষয় সহজ নয়, সে বিষয়ের গুরুত্বও ভিন্ন হয়।

সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্যে জন্য কতখানি ভালো বা মন্দ?

: সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্যের বা সাহিত্যিকের জন্য একটা স্বীকৃতি। এটি সাহিত্যিককে উৎসাহিত করে। কিন্তু বর্তমানে যে ধারা চলছে তাতে কোনো কোনো পুরস্কার সাহিত্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। গলাবাজি বা লাইনবাজির জোরেও আজকাল অনেক অযোগ্য লেখক পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক যোগ্য লেখকও মূল্যায়িত হচ্ছে না। অনেক ভুঁইফোঁড় সংগঠনও পয়সার বিনিময়ে অনেককে পুরস্কার দিয়ে থাকে। এতে খ্যাতিমান সংগঠনের, এমনকি সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারও মর্যাদা হারাচ্ছে। তাই পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নীতিমালায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সাহিত্যের সংগঠন লেখকের কী উপকারে আসে?

: মূলত চর্চার জন্যই সাহিত্যের সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে যে অনেক বড় বড় লেখক সৃষ্টি হয়েছেন, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। তবে চর্চাটা সৃজনশীল হতে হবে। সংগঠনকেন্দ্রিক পত্রপত্রিকার মাধ্যমেও লেখালেখির প্রচার এবং প্রসার ঘটে। সংগঠনকেন্দ্রিক লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে নবীন লেখকদের জন্য তা অপরিহার্য। লিটল ম্যাগাজিনের মাধ্যমে আমাদের সাহিত্যের যে উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোনো মাধ্যমে হয়নি। তাই বলাই যায়, সাহিত্যের সংগঠন, লিটল ম্যাগাজিন আমাদের সাহিত্যের ভিত্তি মজবুত ও বিকাশে ব্যাপক অবদান রাখছে।

মফস্বল থেকে লেখালেখির সুবিধা অসুবিধা কী?

: সাহিত্যের মূল সুরটা এখনো মফস্বল পর্যন্ত প্রসারিত হয়নি। তাই মফস্বল থেকে অনেকেই সাহিত্যের নামে অপ-সাহিত্য, কবিতার নামে অপ-কবিতা লিখে বাহবা পেতে চান। না পেলে অভিমান করেন। সাহিত্য সম্পর্কে ধারণার অভাব থেকেই এমনটি হয়। মফস্বলকেন্দ্রিক সাহিত্য সংগঠনই তাদের মধ্যে সাহিত্যের মূল ধারাটা পৌঁছে দিতে পারেন। মফস্বল বলতে এখানে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের বাইরে যাদের অবস্থান তাদেরই বোঝানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের মফস্বলীয় সীমাবদ্ধতা তো আছেই। সাহিত্যের মূল ধারার সঙ্গে যোগাযোগের অভাব থেকেই এমনটি হয়ে থাকে। একে আমরা ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী’ও বলতে পারি। সাহিত্য রচনার নামে অপ-সাহিত্য রচনা করে তারা জোর-জবরদস্তিমূলক স্বীকৃতি পেতে চায়। এ হলো মফস্বলীয় সীমাবদ্ধতার আসল রূপ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাহিত্যের আসর বা লিটন ম্যাগাজিনের অবস্থা কী?

: একটা সময় ছিল যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়মিত সাহিত্যের আসর বসত। নিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো। বর্তমানে সেটির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এতে ক্ষতিটা হচ্ছে সাহিত্যের।

সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই প্রকৃত সাহিত্য বিকশিত হয়: জয়দুল হোসেন

 জুননু রাইন 
২০ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি, গবেষক ও সংগঠক জয়দুল হোসেন ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মা মাহতাব বানু ও বাবা আবদুল মোতালেব ভূঞা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

লেখালেখি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অগ্রভাগে থেকে। তার নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে উঠেছে। প্রকাশিত গ্রন্থ ২২টি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরের কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

জয়দুল হোসেন : অনেকের মাঝেই লেখক হওয়ার জন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তারা মনে করেন, লেখক হওয়ার জন্য কেন্দ্রে থাকা জরুরি। তাদের ধারণা, কেন্দ্রে না থাকলে লেখালেখির পরিবেশ পাওয়া যায় না। তার মানে লেখালেখির বিষয়ে যদি কারও মনে কোনো প্রশ্ন জাগে, তবে সে প্রশ্নের সঠিক জবাব মফস্বলে না-ও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু রাজধানীতে যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে ইচ্ছা করলেই একাধিক লেখকের সন্তান পাওয়া যায়। তাদের সঙ্গে আড্ডা বা খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে নতুন কিছু জানার সুযোগ তৈরি হয়। এতে লেখকের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। লেখক হওয়ার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ভিত্তিটা মজবুত করা। ভিত্তি মজবুত হয়ে গেলে যে কোনো লেখক যে কোনো স্থানে থেকেই ভালো লিখতে পারেন। লেখক হওয়ার জন্য পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ভালো বই পাঠ, নতুন নতুন বিষয় জানার অগ্রহ, মানুষকে বুঝতে পারার ক্ষমতা একজন লেখককে লেখালেখিতে উৎসাহিত করে।

বর্তমানে সাহিত্যের সামাজিক রাজনৈতিক প্রয়োগ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

: সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েই প্রকৃত সাহিত্য বিকশিত হয়। তবে সাহিত্য যেন রাজনীতি দ্বারা কলুষিত না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। মানুষ যেমন সামাজিক জীব তেমন রাজনৈতিক সচেতনও বটে। তবে এ দুইয়ের সমন্বয় যে সাহিত্যে স্থান পায় সে সাহিত্যই উৎকৃষ্ট সাহিত্য হিসাবে টিকে থাকে। আবার রাজনীতি বর্জিত সাহিত্যও উৎকৃষ্ট সাহিত্য হিসাবে স্বীকৃতি পেতে পারে। যেমন সামাজিক সাহিত্য। এ উভয় ধারাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এ উভয় ধারাকেই আমাদের মেনে নিতে হবে।

আমাদের মননশীলতা সৃষ্টিশীলতা কমছে না বাড়ছে? কমে থাকলে কারণ কী? এ থেকে উত্তরণের উপায়?

: কমছে এ কথা বলা যাবে না। বলা ভালো বাড়ছে। যুগে যুগে সৃষ্টিশীল আবিষ্কারের পাশাপাশি সাহিত্যও সৃষ্টিশীল থেকেছে। তবে এ ধারায় খুব বেশি লেখকের সাক্ষাৎ আমরা পাইনি। সৃজনশীলতাকে খুব কম সংখ্যক লেখকই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে মননশীল ও সৃজনশীল লেখকের পাশাপাশি অনেক অলেখকের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। প্রতিবছর বইমেলাকে কেন্দ্র করে যত বই প্রকাশিত হচ্ছে, তার অধিকাংশই নিুমানের। এদের কবলে পড়ে সৃজনশীল সাহিত্য ধসে যাচ্ছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার? কীভাবে?

: বাংলাদেশের সাহিত্যের নিজস্ব একটা ধারা সৃষ্টি হয়ে গেছে। এ ধারা বিশ্বের যে কোনো ধারা থেকে স্বতন্ত্র। এ ধারা কলকাতার বাংলা সাহিত্য থেকে আলাদা হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধই এ ধারা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্রভূমি বললে ভুল হবে না। ঢাকাকে বাংলা সাহিত্যের রাজধানী বলে ঘোষণা করেছেন অনেকেই। এখন এ ধারাকে এগিয়ে নেওয়া বাঙালিদের দায়িত্বে এবং কর্তব্য বলেও মনে করি।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি একজন লেখককে দিয়ে সৃষ্টিশীল কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি লিখিয়ে নিতে পারে না। তবে লেখাটা হয়ে গেলে তা প্রচার এবং প্রসারের জন্য প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। আবার মননশীল লেখক বা গবেষক যারা তাদের অনেকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষক হয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে অনেকে হচ্ছেনও। তবে এতে নিজস্ব অভিমত বা সৃজনশীলতা থাকে না। যে কোনো লেখা, সৃজনশীলই হোক বা মননশীলই হোক, তার মধ্যে লেখকের নিজস্ব অভিমতের প্রতিফলন থাকতে হবে।

পৃথিবীর আর কোন কোন ভাষায় ছড়া সাহিত্য বা শিশু সাহিত্যকে আলাদা নামকরণ করা হয়?

: পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায়ই ছড়া-সাহিত্য বা শিশু-সাহিত্য বলে আলাদা একটি বিষয় রয়েছে। একেক দেশে একেক নামে পরিচিত। ছড়া সাহিত্য পৃথিবীর উৎকৃষ্টতম সাহিত্যের অন্যতম। সুর-তাল-লয় এবং ছন্দজ্ঞান না থাকলে ছড়া লেখা যায় না। তাই মানতেই হবে যে চাইলেই কেউ ছড়া লিখতে পারবেন না, বিষয়টি এত সহজ নয়। যে বিষয় সহজ নয়, সে বিষয়ের গুরুত্বও ভিন্ন হয়।

সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্যে জন্য কতখানি ভালো বা মন্দ?

: সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্যের বা সাহিত্যিকের জন্য একটা স্বীকৃতি। এটি সাহিত্যিককে উৎসাহিত করে। কিন্তু বর্তমানে যে ধারা চলছে তাতে কোনো কোনো পুরস্কার সাহিত্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। গলাবাজি বা লাইনবাজির জোরেও আজকাল অনেক অযোগ্য লেখক পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক যোগ্য লেখকও মূল্যায়িত হচ্ছে না। অনেক ভুঁইফোঁড় সংগঠনও পয়সার বিনিময়ে অনেককে পুরস্কার দিয়ে থাকে। এতে খ্যাতিমান সংগঠনের, এমনকি সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের পুরস্কারও মর্যাদা হারাচ্ছে। তাই পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নীতিমালায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সাহিত্যের সংগঠন লেখকের কী উপকারে আসে?

: মূলত চর্চার জন্যই সাহিত্যের সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে যে অনেক বড় বড় লেখক সৃষ্টি হয়েছেন, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। তবে চর্চাটা সৃজনশীল হতে হবে। সংগঠনকেন্দ্রিক পত্রপত্রিকার মাধ্যমেও লেখালেখির প্রচার এবং প্রসার ঘটে। সংগঠনকেন্দ্রিক লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে নবীন লেখকদের জন্য তা অপরিহার্য। লিটল ম্যাগাজিনের মাধ্যমে আমাদের সাহিত্যের যে উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোনো মাধ্যমে হয়নি। তাই বলাই যায়, সাহিত্যের সংগঠন, লিটল ম্যাগাজিন আমাদের সাহিত্যের ভিত্তি মজবুত ও বিকাশে ব্যাপক অবদান রাখছে।

মফস্বল থেকে লেখালেখির সুবিধা অসুবিধা কী?

: সাহিত্যের মূল সুরটা এখনো মফস্বল পর্যন্ত প্রসারিত হয়নি। তাই মফস্বল থেকে অনেকেই সাহিত্যের নামে অপ-সাহিত্য, কবিতার নামে অপ-কবিতা লিখে বাহবা পেতে চান। না পেলে অভিমান করেন। সাহিত্য সম্পর্কে ধারণার অভাব থেকেই এমনটি হয়। মফস্বলকেন্দ্রিক সাহিত্য সংগঠনই তাদের মধ্যে সাহিত্যের মূল ধারাটা পৌঁছে দিতে পারেন। মফস্বল বলতে এখানে রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের বাইরে যাদের অবস্থান তাদেরই বোঝানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের মফস্বলীয় সীমাবদ্ধতা তো আছেই। সাহিত্যের মূল ধারার সঙ্গে যোগাযোগের অভাব থেকেই এমনটি হয়ে থাকে। একে আমরা ‘অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী’ও বলতে পারি। সাহিত্য রচনার নামে অপ-সাহিত্য রচনা করে তারা জোর-জবরদস্তিমূলক স্বীকৃতি পেতে চায়। এ হলো মফস্বলীয় সীমাবদ্ধতার আসল রূপ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাহিত্যের আসর বা লিটন ম্যাগাজিনের অবস্থা কী?

: একটা সময় ছিল যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়মিত সাহিত্যের আসর বসত। নিয়মিত লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো। বর্তমানে সেটির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এতে ক্ষতিটা হচ্ছে সাহিত্যের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন