সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি: ওবায়েদ মজুমদার
jugantor
সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি: ওবায়েদ মজুমদার

  জুননু রাইন  

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি: ওবায়েদ মজুমদার

ওবায়েদ মজুমদার। জন্ম : ১ জুন ১৯৫৪, পূর্ব দেবপুর, ছাগলনাইয়া, ফেনী। সাতের দশকের নীরবচারী কবি ওবায়েদ মজুমদারের কাব্যভুবন তার নিজস্ব সৃষ্টিশীল ছায়াপথে পরিভ্রমণরত। ঋজু বাকভঙ্গির অধিকারী এ কবির শব্দস্থাপনা পরিমিতির সৌকর্যে মার্জিত। মিথলজি, নস্টালজিয়া, মানবতা, প্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ কবির আগ্রহের বিষয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এ কবি থাকেন গ্রামে, নিটোল প্রকৃতির ছায়ায়, করেন কৃষিকাজ। প্রকাশিত কাব্য : নর্মদা রমণী।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন-সাহিত্য থেকে কী পেলেন বা সাহিত্যের জন্য কী হারালেন; কোনো কারণে এমন চিন্তা মাথায় এসেছিল?

: সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি। ‘নিজেকে ভালোবাসা’। মানুষ সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবাসে? নিজেকে। তখন নিজের কল্যাণে নিজের জন্য সর্বোচ্চটা করা হয়। ব্যক্তি মানুষ ঋদ্ধ হলে সমাজ, দেশ, পৃথিবী ঋদ্ধ হয়। আমার একটি স্লোগান আছে-মানুষকে ভালোবাসুন, সব মানুষকে ভালোবাসুন। প্রাণিকে ভালোবাসুন, বৃক্ষকে ভালোবাসুন। এটি আমি প্রচার করি, নিজ জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা করি। কিছুই হারাইনি। যশ পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি, সম্পর্ক পেয়েছি, বন্ধু পেয়েছি। দেখুন কবিতায় কাজ করি, এটি আমার একটি ঈপ্সিত অহংকার।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: নগর সভ্যতা তো স্বীকৃত সত্য। লেখক হওয়ার জন্য লেখক সাহচর্যও প্রয়োজন। জ্ঞানী-গুণিজনরা তো প্রায় শহরেই থাকেন। তবে এটি একমাত্র সত্য নয়। হাসান আজিজুল হক তো ঢাকাবিমুখ মানুষ। আজকাল গ্রাম-শহরের ব্যবধান কমে গেছে। অন্যদিকে গ্রাম তথা প্রকৃতিতে বসবাস সুখকর জীবনের শর্ত। ‘GO TO THE NATURE’ । ঢাকা শহর তো ধূলি, ধোঁয়া, দুর্গন্ধ আর জ্যামে ভরা।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: দেখুন, জীবন বড় হর্ষ-বিষাদে ভরা। কোন বিষয়ে কবি ভারাক্রান্ত হবেন তা একান্তই তার। যান্ত্রিকতার পেষণ, নৈরাজ্য, অপরাধ, দেহজ কামনা-বাসনা এসব নিয়ে তো আমাদের কবিরা চমৎকার লিখছেন। আন্তর্জাতিকতাও বাদ নেই। তবু আরও প্রগতিশীলতা যেন ছড়িয়ে যায় গণমানুষের দুয়ারে; তেমনি বিষয় নেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। বিশেষত দুর্নীতি, ধর্মীয় কুসংস্কার, গণতন্ত্র, সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য। সর্বোপরি, শিল্প উদ্ভাসিত হোক বিমূর্ত মহিমায়।

বর্তমানে বাংলা কবিতা দুর্বোধ্য হচ্ছে? না, পাঠক নিজেকে কবিতা পড়ার উপযুক্ত করে তুলতে পারছেন না? কবিতার পাঠক কমে যাওয়ার কী কী কারণ আছে বলে মনে করেন?

: বাংলা কবিতা অথবা যে কোনো সংস্কৃতিকালের প্রয়োজন ফুরাচ্ছে মাত্র। এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ অর্থহীন। আমরা বঙ্কিম, মাইকেল, রবীন্দ্র, বুদ্ধদেব, জীবনানন্দদের সিঁড়ি বেয়ে-বেয়েই তো আজকের জায়গায় এসেছি। পাঠকও এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে লেখক-পাঠক সবার জন্য যেন আজ সময় বের করে বইপড়া কঠিন হয়ে গেছে। অন্য মাধ্যমগুলোতে কবিরা অথবা পাঠকরা প্রচুর পড়ছেন, কাজ করছেন।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

: ভালোবাসা একটি সুকুমার বৃত্তি। কাম, ক্রোধ, মোহ, মদ, মাৎসর্য্যরে সঙ্গে নিয়ত যুদ্ধ করে মানুষকে তার বিবেক সমুন্নত রাখতে হয়। ভালোবাসা পবিত্র রাখতে হয়। মানুষের সঙ্গে অন্য প্রাণীর অসামঞ্জস্য শুধু মনে রাখার শক্তি নিয়ে। অন্য প্রাণী দীর্ঘ সময় মনে রাখতে পারে না। মানুষেরা মনে রেখে, লিখে রেখে, রেকর্ড রেখে প্রজেক্ট তৈরি করে। সভ্যতা এগিয়ে যায়, বাঁশের সাঁকো হয় পদ্মা সেতু। কেবল বিবেক পরাজিত হলেই মানুষের হিংসা বহুবিধ মাত্রা পায়। ভালোবাসা মরে যায়। আজকাল ভালোবাসার অনুপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অনুভব করি, কষ্ট পাই, কিন্তু হতাশ হই না।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি-মানুষ-জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: যা সাহিত্য, তা বিকৃত নয়। প্রকৃতি, মানুষ, জীবন নিয়েই আমাদের সাহিত্য। যা অসুন্দর যা বিকৃত, তা অসুস্থ এবং অবিবেকের ফসল। আপনি সঙ্গতই বলেছেন, এ ধারায় আমাদের জ্ঞানপাপী কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। তারা স্বার্থান্বেষী। সাহিত্যকে উপজীব্য করে বাণিজ্য করে। ক্ষমতা পেতে চায়। বিকৃত ইতিহাস লেখে।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো-কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি আজ জীবনের অনুষঙ্গ। আমরাও দখল করেছি, আমাদেরও গিলেছে। কাগজ-কলমের পাট তো চুকেই গেছে; কবে যে কলম মিউজিয়ামে যায়! তবে প্রযুক্তিরও মন্দ-ভালো রয়েছে। প্রকৃত শিক্ষাই আমাদেরকে পৃথকীকরণের পথ দেখাবে। দ্রুত তথা ত্বরিৎ প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্প শৌকর্য বিনষ্ট হয়।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: প্রভূত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও আজ রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত কম জনবান্ধব, কম জনসম্পৃক্ত। আমরা অর্থবহ গণতন্ত্র এবং সুশাসন চাই। রবিঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালি এক জায়গায় খুবই কৃপণ, প্রশংসা করতে জানে না।’ উন্নয়নের জায়গায় আমরা কেন প্রশংসা করব না? তবেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এ বিশ্বাস হারাতে চাই না।

সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি: ওবায়েদ মজুমদার

 জুননু রাইন 
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি: ওবায়েদ মজুমদার
ছবি: যুগান্তর

ওবায়েদ মজুমদার। জন্ম : ১ জুন ১৯৫৪, পূর্ব দেবপুর, ছাগলনাইয়া, ফেনী। সাতের দশকের নীরবচারী কবি ওবায়েদ মজুমদারের কাব্যভুবন তার নিজস্ব সৃষ্টিশীল ছায়াপথে পরিভ্রমণরত। ঋজু বাকভঙ্গির অধিকারী এ কবির শব্দস্থাপনা পরিমিতির সৌকর্যে মার্জিত। মিথলজি, নস্টালজিয়া, মানবতা, প্রেম ও মুক্তিযুদ্ধ কবির আগ্রহের বিষয়। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এ কবি থাকেন গ্রামে, নিটোল প্রকৃতির ছায়ায়, করেন কৃষিকাজ। প্রকাশিত কাব্য : নর্মদা রমণী।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন-সাহিত্য থেকে কী পেলেন বা সাহিত্যের জন্য কী হারালেন; কোনো কারণে এমন চিন্তা মাথায় এসেছিল?

: সাহিত্য থেকে ভালোবাসার শক্তি পেয়েছি। ‘নিজেকে ভালোবাসা’। মানুষ সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবাসে? নিজেকে। তখন নিজের কল্যাণে নিজের জন্য সর্বোচ্চটা করা হয়। ব্যক্তি মানুষ ঋদ্ধ হলে সমাজ, দেশ, পৃথিবী ঋদ্ধ হয়। আমার একটি স্লোগান আছে-মানুষকে ভালোবাসুন, সব মানুষকে ভালোবাসুন। প্রাণিকে ভালোবাসুন, বৃক্ষকে ভালোবাসুন। এটি আমি প্রচার করি, নিজ জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা করি। কিছুই হারাইনি। যশ পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি, সম্পর্ক পেয়েছি, বন্ধু পেয়েছি। দেখুন কবিতায় কাজ করি, এটি আমার একটি ঈপ্সিত অহংকার।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: নগর সভ্যতা তো স্বীকৃত সত্য। লেখক হওয়ার জন্য লেখক সাহচর্যও প্রয়োজন। জ্ঞানী-গুণিজনরা তো প্রায় শহরেই থাকেন। তবে এটি একমাত্র সত্য নয়। হাসান আজিজুল হক তো ঢাকাবিমুখ মানুষ। আজকাল গ্রাম-শহরের ব্যবধান কমে গেছে। অন্যদিকে গ্রাম তথা প্রকৃতিতে বসবাস সুখকর জীবনের শর্ত। ‘GO TO THE NATURE’ । ঢাকা শহর তো ধূলি, ধোঁয়া, দুর্গন্ধ আর জ্যামে ভরা।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: দেখুন, জীবন বড় হর্ষ-বিষাদে ভরা। কোন বিষয়ে কবি ভারাক্রান্ত হবেন তা একান্তই তার। যান্ত্রিকতার পেষণ, নৈরাজ্য, অপরাধ, দেহজ কামনা-বাসনা এসব নিয়ে তো আমাদের কবিরা চমৎকার লিখছেন। আন্তর্জাতিকতাও বাদ নেই। তবু আরও প্রগতিশীলতা যেন ছড়িয়ে যায় গণমানুষের দুয়ারে; তেমনি বিষয় নেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। বিশেষত দুর্নীতি, ধর্মীয় কুসংস্কার, গণতন্ত্র, সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য। সর্বোপরি, শিল্প উদ্ভাসিত হোক বিমূর্ত মহিমায়।

বর্তমানে বাংলা কবিতা দুর্বোধ্য হচ্ছে? না, পাঠক নিজেকে কবিতা পড়ার উপযুক্ত করে তুলতে পারছেন না? কবিতার পাঠক কমে যাওয়ার কী কী কারণ আছে বলে মনে করেন?

: বাংলা কবিতা অথবা যে কোনো সংস্কৃতিকালের প্রয়োজন ফুরাচ্ছে মাত্র। এখানে কোনো নিয়ন্ত্রণ অর্থহীন। আমরা বঙ্কিম, মাইকেল, রবীন্দ্র, বুদ্ধদেব, জীবনানন্দদের সিঁড়ি বেয়ে-বেয়েই তো আজকের জায়গায় এসেছি। পাঠকও এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে লেখক-পাঠক সবার জন্য যেন আজ সময় বের করে বইপড়া কঠিন হয়ে গেছে। অন্য মাধ্যমগুলোতে কবিরা অথবা পাঠকরা প্রচুর পড়ছেন, কাজ করছেন।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

: ভালোবাসা একটি সুকুমার বৃত্তি। কাম, ক্রোধ, মোহ, মদ, মাৎসর্য্যরে সঙ্গে নিয়ত যুদ্ধ করে মানুষকে তার বিবেক সমুন্নত রাখতে হয়। ভালোবাসা পবিত্র রাখতে হয়। মানুষের সঙ্গে অন্য প্রাণীর অসামঞ্জস্য শুধু মনে রাখার শক্তি নিয়ে। অন্য প্রাণী দীর্ঘ সময় মনে রাখতে পারে না। মানুষেরা মনে রেখে, লিখে রেখে, রেকর্ড রেখে প্রজেক্ট তৈরি করে। সভ্যতা এগিয়ে যায়, বাঁশের সাঁকো হয় পদ্মা সেতু। কেবল বিবেক পরাজিত হলেই মানুষের হিংসা বহুবিধ মাত্রা পায়। ভালোবাসা মরে যায়। আজকাল ভালোবাসার অনুপস্থিতি আগের চেয়ে বেশি অনুভব করি, কষ্ট পাই, কিন্তু হতাশ হই না।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি-মানুষ-জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: যা সাহিত্য, তা বিকৃত নয়। প্রকৃতি, মানুষ, জীবন নিয়েই আমাদের সাহিত্য। যা অসুন্দর যা বিকৃত, তা অসুস্থ এবং অবিবেকের ফসল। আপনি সঙ্গতই বলেছেন, এ ধারায় আমাদের জ্ঞানপাপী কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। তারা স্বার্থান্বেষী। সাহিত্যকে উপজীব্য করে বাণিজ্য করে। ক্ষমতা পেতে চায়। বিকৃত ইতিহাস লেখে।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো-কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি আজ জীবনের অনুষঙ্গ। আমরাও দখল করেছি, আমাদেরও গিলেছে। কাগজ-কলমের পাট তো চুকেই গেছে; কবে যে কলম মিউজিয়ামে যায়! তবে প্রযুক্তিরও মন্দ-ভালো রয়েছে। প্রকৃত শিক্ষাই আমাদেরকে পৃথকীকরণের পথ দেখাবে। দ্রুত তথা ত্বরিৎ প্রযুক্তির ব্যবহারে শিল্প শৌকর্য বিনষ্ট হয়।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: প্রভূত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও আজ রাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত কম জনবান্ধব, কম জনসম্পৃক্ত। আমরা অর্থবহ গণতন্ত্র এবং সুশাসন চাই। রবিঠাকুর বলেছেন, ‘বাঙ্গালি এক জায়গায় খুবই কৃপণ, প্রশংসা করতে জানে না।’ উন্নয়নের জায়গায় আমরা কেন প্রশংসা করব না? তবেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এ বিশ্বাস হারাতে চাই না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১