ঢাকাকেন্দ্রিক মূল্যায়নের মানসিকতার কারণেই সবাই ঢাকামুখী: বাকী বিল্লাহ্
jugantor
ঢাকাকেন্দ্রিক মূল্যায়নের মানসিকতার কারণেই সবাই ঢাকামুখী: বাকী বিল্লাহ্

  জুননু রাইন  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি বাকী বিল্লাহর জন্ম : ৯ জানুয়ারি ১৯৫৯। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, আইন শাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভুক্ত হলেও জামালপুর জেলা জজ আদালতেই নিয়মিত আইনচর্চা করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জননেত্রী শেখ হসিনার একনিষ্ঠ-নিঃশঙ্ক সহযাত্রী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ১৯৭৯-৮০ ও ১৯৮০-৮১ দুই মেয়াদে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন এবং একই সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নানা বিষয়ে লেখালেখি করলেও কবিতাই তার আসল জায়গা। ‘লাবণ্যে জড়ানো পাপ’ তার গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: ঢাকাকেন্দ্রিক মূল্যায়নের মানসিকতার কারণেই সবাই ঢাকামুখী। ঢাকার বাইরে বসবাসকারী কোনো কবি-লেখকের পক্ষে বর্তমানে প্রচলিত ধারার বাইরে যেয়ে প্রতিষ্ঠা অর্জন সম্ভব নয়। এক সময়ে ঢাকার বাইরে প্রচুর সাহিত্য পত্রিকা, কবিতাপত্র প্রকাশিত হতো, যেখানে নবীন তরুণ কবি তার লেখা প্রকাশের সুযোগ পেত! আমরা যখন লেখালেখি শুরু করি স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র সাহিত্য সভা, কবিতা পাঠের আসর, কবিতা পত্র ইত্যাদি এমনকি স্কুল-কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো এবং তাতে লেখা ছাপা হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন লেখকের অভিষেক হতো। আমিও তেমনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিনে কবিতা ছেপে লেখক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছি! কিন্তু আজকের বাস্তবতা তার বিপরীত!

রাজধানী ঢাকার বাইরে সাহিত্যচর্চার পরিসর সংকুচিত হতে হতে একটি সরল রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে যার অপর প্রান্তে শুধুই রাজধানী ঢাকা!

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: সাহিত্য হচ্ছে আমাদের জীবন এবং স্বপ্নের আয়না। আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটে এবং যা কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখে তাই সাহিত্য এবং আমাদের জীবন সংগ্রামই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপুষ্ট বাংলাদেশের সাহিত্যের বিষয়বস্তু!

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এখনকার অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান-

: এক কথায় ভালেবাসা ভালো নেই!

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: বাংলাসাহিত্য আমাদের পূর্বপুরুষের লালিত স্বপ্ন ফসল! যে সাহিত্যে মাটির গন্ধ- ঘ্রাণ, আলো-আশা-ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যায় না, মানুষের জীবন সংগ্রামের পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না সে সাহিত্য আমাদের নয়। জীবনের গন্ধবিহীন সাহিত্য কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে সন্দেহ নেই!

৭১’ পরবর্তী বাংলাসাহিত্য কতটা বাংলাদেশি সাহিত্য হয়ে উঠতে পেরেছে?

: দেখুন বাংলাদেশি সাহিত্য বলতে কিছু নেই! আমরা বলতে পারি বাংলাসাহিত্য। কিন্তু বাংলাসাহিত্য বললে অনেকে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার সাহিত্যকে এক করে ফেলে। আর একটি কথা আমরা কিন্তু বাঙালি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ বাঙালির রক্তে বিজয়ী একটি জাতি! সুতরাং আমাদের সাহিত্যও কিন্তু বাংলাদেশের সাহিত্য এবং বাঙালির সাহিত্য! তো এ বাংলাদেশের সাহিত্য বিকৃত হবে যদি পরদেশি ধার করা সাহিত্যরুচি আমাদের লেখায় অতিমাত্রায় স্থান করে নেয়!

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: দেখুন, প্রযুক্তি আমাদের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে, আমাদের ভৌগলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে সবকিছু আমাদের হাতের মুঠোয় কিংবা আঙুলের ডগায় নিয়ে এসেছে, আমরা বীরদর্পে এগিয়ে চলেছি সামনে। আবার এর বিপরীত চিত্র যদি বলি তাহলে আজকে মানুষের আবেগের জায়গাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভুলে না মোরে’ এ পত্রে ভালোবাসার মানুষের যে আবেগ হৃদয়ে আলোড়ন তুলে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে ১২ কোটি মানুষের হাতের মোবাইলে মেসেজ অপশনে লেখা ‘ইংরেজি আই লাভ ইউ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ইলু’-তে সেই ভাব বা আবেগ মোটেই খুঁজে পাওয়া যায় না!

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: এ প্রশ্নটি একটু রাজনীতির গন্ধমাখা প্রশ্ন হলেও আমি বলব মানুষ জন্মসূত্রেই রাজনৈতিক প্রাণী! সুতরাং রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক নিতান্তই তার মৌলিক চাহিদার সম্পর্ক! এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের এই বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হচ্ছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ অর্থাৎ প্রজা মানে নাগরিক আমরা যারা আছি বর্তমানে সতেরো কোটি মানুষ আমরা হচ্ছি বাংলাদেশের মালিক।

ঢাকাকেন্দ্রিক মূল্যায়নের মানসিকতার কারণেই সবাই ঢাকামুখী: বাকী বিল্লাহ্

 জুননু রাইন 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কবি বাকী বিল্লাহর জন্ম : ৯ জানুয়ারি ১৯৫৯। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, আইন শাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভুক্ত হলেও জামালপুর জেলা জজ আদালতেই নিয়মিত আইনচর্চা করেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জননেত্রী শেখ হসিনার একনিষ্ঠ-নিঃশঙ্ক সহযাত্রী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ১৯৭৯-৮০ ও ১৯৮০-৮১ দুই মেয়াদে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন এবং একই সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। নানা বিষয়ে লেখালেখি করলেও কবিতাই তার আসল জায়গা। ‘লাবণ্যে জড়ানো পাপ’ তার গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: ঢাকাকেন্দ্রিক মূল্যায়নের মানসিকতার কারণেই সবাই ঢাকামুখী। ঢাকার বাইরে বসবাসকারী কোনো কবি-লেখকের পক্ষে বর্তমানে প্রচলিত ধারার বাইরে যেয়ে প্রতিষ্ঠা অর্জন সম্ভব নয়। এক সময়ে ঢাকার বাইরে প্রচুর সাহিত্য পত্রিকা, কবিতাপত্র প্রকাশিত হতো, যেখানে নবীন তরুণ কবি তার লেখা প্রকাশের সুযোগ পেত! আমরা যখন লেখালেখি শুরু করি স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র সাহিত্য সভা, কবিতা পাঠের আসর, কবিতা পত্র ইত্যাদি এমনকি স্কুল-কলেজের বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো এবং তাতে লেখা ছাপা হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন লেখকের অভিষেক হতো। আমিও তেমনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিনে কবিতা ছেপে লেখক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছি! কিন্তু আজকের বাস্তবতা তার বিপরীত!

রাজধানী ঢাকার বাইরে সাহিত্যচর্চার পরিসর সংকুচিত হতে হতে একটি সরল রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে যার অপর প্রান্তে শুধুই রাজধানী ঢাকা!

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: সাহিত্য হচ্ছে আমাদের জীবন এবং স্বপ্নের আয়না। আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটে এবং যা কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখে তাই সাহিত্য এবং আমাদের জীবন সংগ্রামই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপুষ্ট বাংলাদেশের সাহিত্যের বিষয়বস্তু!

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এখনকার অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান-

: এক কথায় ভালেবাসা ভালো নেই!

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: বাংলাসাহিত্য আমাদের পূর্বপুরুষের লালিত স্বপ্ন ফসল! যে সাহিত্যে মাটির গন্ধ- ঘ্রাণ, আলো-আশা-ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যায় না, মানুষের জীবন সংগ্রামের পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না সে সাহিত্য আমাদের নয়। জীবনের গন্ধবিহীন সাহিত্য কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে সন্দেহ নেই!

৭১’ পরবর্তী বাংলাসাহিত্য কতটা বাংলাদেশি সাহিত্য হয়ে উঠতে পেরেছে?

: দেখুন বাংলাদেশি সাহিত্য বলতে কিছু নেই! আমরা বলতে পারি বাংলাসাহিত্য। কিন্তু বাংলাসাহিত্য বললে অনেকে বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বাংলার সাহিত্যকে এক করে ফেলে। আর একটি কথা আমরা কিন্তু বাঙালি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ বাঙালির রক্তে বিজয়ী একটি জাতি! সুতরাং আমাদের সাহিত্যও কিন্তু বাংলাদেশের সাহিত্য এবং বাঙালির সাহিত্য! তো এ বাংলাদেশের সাহিত্য বিকৃত হবে যদি পরদেশি ধার করা সাহিত্যরুচি আমাদের লেখায় অতিমাত্রায় স্থান করে নেয়!

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: দেখুন, প্রযুক্তি আমাদের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে, আমাদের ভৌগলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে সবকিছু আমাদের হাতের মুঠোয় কিংবা আঙুলের ডগায় নিয়ে এসেছে, আমরা বীরদর্পে এগিয়ে চলেছি সামনে। আবার এর বিপরীত চিত্র যদি বলি তাহলে আজকে মানুষের আবেগের জায়গাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভুলে না মোরে’ এ পত্রে ভালোবাসার মানুষের যে আবেগ হৃদয়ে আলোড়ন তুলে ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে ১২ কোটি মানুষের হাতের মোবাইলে মেসেজ অপশনে লেখা ‘ইংরেজি আই লাভ ইউ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ইলু’-তে সেই ভাব বা আবেগ মোটেই খুঁজে পাওয়া যায় না!

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: এ প্রশ্নটি একটু রাজনীতির গন্ধমাখা প্রশ্ন হলেও আমি বলব মানুষ জন্মসূত্রেই রাজনৈতিক প্রাণী! সুতরাং রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক নিতান্তই তার মৌলিক চাহিদার সম্পর্ক! এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের এই বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম হচ্ছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ অর্থাৎ প্রজা মানে নাগরিক আমরা যারা আছি বর্তমানে সতেরো কোটি মানুষ আমরা হচ্ছি বাংলাদেশের মালিক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১