হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের : ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’
jugantor
হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের : ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’

  শুচি সৈয়দ  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

না তার নাম শুনেছি, না তাকে চিনি। আমার সহকর্মী দিলেন কবিতার বইটি যেন কিছু লিখি বইটি নিয়ে। সাধারণত এরকম বই অনেক ক্ষেত্রেই কাব্য যশোপ্রার্থীর ‘কবিতা’ নামক পঙ্ক্তিমালায় ভরা থাকে তাতে প্রায়সই কোনো কবিতা থাকে না- এ কবিতার বইটিও তেমনই কিছু হবে তাই কুণ্ঠিত হাতেই সহকর্মীর হাত থেকে বইটি নিয়েছিলাম আদৌ লিখব বা লিখতে পারব তেমন ভরসা ছিল না মনে। কিন্তু...! এই গভীর রাতে ভরসাহীন সেই বইয়ের পৃষ্ঠায় চোখ বুলোতে গিয়ে আটকে গেলাম। পড়ে ফেললাম পুরো বইটি। আর পাঠান্তে প্রতিক্রিয়াটিও লিখে ফেলছি-পরে যদি লিখি তাহলে অনেকখানি হারিয়ে যাবে মুগ্ধতার তাই। কবি হেদায়েতুল ইসলাম-(তার ‘বাদল’ নামটি লিখতে চাই না) ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’ কাব্যে অনেকগুলো দ্যুতিময় পঙ্ক্তিতে আমাকে চমকে দিয়েছেন। প্রথমত, তিনি তাঁর লেখায় স্বচ্ছন্দ, সাবলীল- অমিত্রাক্ষর গদ্যের সমকালীন ভাষ্যে তাঁর অনুভূতি, উপলব্ধি তুলে ধরেছেন। যা আমাকে স্পর্শ করেছে। আমার বিশ্বাস স্পর্শ করবে যে কোনো পাঠককেও। কবি হেদায়েতুল ইসলাম তাঁর ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’ পাঠের সময় কবি জয় গোস্বামী’র একটি ছোট্ট কবিতার কথা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তা হচ্ছে-

‘জীবন এক ফোঁটা মধু।

বিষ বলতে কিছু হয়নারে,

এই কথাটাই সব্বাই বুঝতে পারে

দিন শেষ হয়ে আসার কাছাকাছি’

হুবহু স্মরণ নেই- অনেকটাই এমন কবিতাটি। হেদায়েতুল ইসলাম তাঁর যাপিত জীবনের সেই মধুকে ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’য় অমৃত করে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। আর সেটা সম্ভব হয়েছে তার কবিসত্তার গুণে। আমার কথাগুলোকে পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্য- কবির লেখা আমার ভালো লাগা পঙ্ক্তিগুলো থেকে নিচে দুটো কবিতা তুলে ধরছি-

ক.

‘আমি এখন অক্ষর বিক্রেতা/ সফল শব্দ ব্যবসায়ী!

আজকাল অনেকেই আমাকে/ তথাকথিত কবি বলে ডাকতেই ভালোবাসে!/ তারা আসলে জানে না-আমি একজন ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়ার রোগী, অরিজিনাল পাগল।’

[সিজোফ্রেনিয়া। পৃষ্ঠা-৯]

খ.

অমিত্রাক্ষর ছন্দের মাঝেই আমি খুঁজে পাই/ কবিতার সুর সুরভী, আনন্দ লহরী!

...

তবু লিখে যাই, লিখে আনন্দ পাই,

লিখতে চাই সময়ের সবটুকু সন্ধিক্ষণজুড়ে

সেদিন স্মরণ সভা হবে, চোখের জলে

হয়তো ভিজে যাবে

এইসব পাণ্ডুলিপি, অতঃপর

উনুনের জ্বালানি হবে কারো হেশেলের, এটাই নিয়তি!

[নির্মম নিয়তি। পৃষ্ঠা-১০]

দেশের বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ তরুণদের জন্য এ বছর কবিতায় কোনো পুরস্কার প্রদান করেনি। অথচ এই করোনা অতিমারির মধ্যে, খরায় আক্রান্ত একুশের বই মেলায়ও হাজারের অধিক কবিতার বই বেরিয়েছে। তার মধ্যেও চিহ্নিত করার মতো কাব্য ‘কালি ও কলমের’ প্রতিযোগিতার জন্য জমা পড়েনি। ফলে এ বছর তারা কবিতার জন্য কোনো কবিকে পুরস্কার দেননি। এ তথ্যের সোজাসাপ্টা অর্থ হচ্ছে কবিতার বইয়ের এমন বন্যার মধ্যেও প্রকৃত কবিতার তীব্র আকাল চলছে। আর সেই প্রকৃত কবিতার দুর্ভিক্ষেরকালে হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের কবিতাগুলো পড়ে আমি তৃপ্ত।

হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের : ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’

 শুচি সৈয়দ 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

না তার নাম শুনেছি, না তাকে চিনি। আমার সহকর্মী দিলেন কবিতার বইটি যেন কিছু লিখি বইটি নিয়ে। সাধারণত এরকম বই অনেক ক্ষেত্রেই কাব্য যশোপ্রার্থীর ‘কবিতা’ নামক পঙ্ক্তিমালায় ভরা থাকে তাতে প্রায়সই কোনো কবিতা থাকে না- এ কবিতার বইটিও তেমনই কিছু হবে তাই কুণ্ঠিত হাতেই সহকর্মীর হাত থেকে বইটি নিয়েছিলাম আদৌ লিখব বা লিখতে পারব তেমন ভরসা ছিল না মনে। কিন্তু...! এই গভীর রাতে ভরসাহীন সেই বইয়ের পৃষ্ঠায় চোখ বুলোতে গিয়ে আটকে গেলাম। পড়ে ফেললাম পুরো বইটি। আর পাঠান্তে প্রতিক্রিয়াটিও লিখে ফেলছি-পরে যদি লিখি তাহলে অনেকখানি হারিয়ে যাবে মুগ্ধতার তাই। কবি হেদায়েতুল ইসলাম-(তার ‘বাদল’ নামটি লিখতে চাই না) ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’ কাব্যে অনেকগুলো দ্যুতিময় পঙ্ক্তিতে আমাকে চমকে দিয়েছেন। প্রথমত, তিনি তাঁর লেখায় স্বচ্ছন্দ, সাবলীল- অমিত্রাক্ষর গদ্যের সমকালীন ভাষ্যে তাঁর অনুভূতি, উপলব্ধি তুলে ধরেছেন। যা আমাকে স্পর্শ করেছে। আমার বিশ্বাস স্পর্শ করবে যে কোনো পাঠককেও। কবি হেদায়েতুল ইসলাম তাঁর ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’ পাঠের সময় কবি জয় গোস্বামী’র একটি ছোট্ট কবিতার কথা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তা হচ্ছে-

‘জীবন এক ফোঁটা মধু।

বিষ বলতে কিছু হয়নারে,

এই কথাটাই সব্বাই বুঝতে পারে

দিন শেষ হয়ে আসার কাছাকাছি’

হুবহু স্মরণ নেই- অনেকটাই এমন কবিতাটি। হেদায়েতুল ইসলাম তাঁর যাপিত জীবনের সেই মধুকে ‘মধুরেণ মঞ্জুষা’য় অমৃত করে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। আর সেটা সম্ভব হয়েছে তার কবিসত্তার গুণে। আমার কথাগুলোকে পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্য- কবির লেখা আমার ভালো লাগা পঙ্ক্তিগুলো থেকে নিচে দুটো কবিতা তুলে ধরছি-

ক.

‘আমি এখন অক্ষর বিক্রেতা/ সফল শব্দ ব্যবসায়ী!

আজকাল অনেকেই আমাকে/ তথাকথিত কবি বলে ডাকতেই ভালোবাসে!/ তারা আসলে জানে না-আমি একজন ক্রনিক সিজোফ্রেনিয়ার রোগী, অরিজিনাল পাগল।’

[সিজোফ্রেনিয়া। পৃষ্ঠা-৯]

খ.

অমিত্রাক্ষর ছন্দের মাঝেই আমি খুঁজে পাই/ কবিতার সুর সুরভী, আনন্দ লহরী!

...

তবু লিখে যাই, লিখে আনন্দ পাই,

লিখতে চাই সময়ের সবটুকু সন্ধিক্ষণজুড়ে

সেদিন স্মরণ সভা হবে, চোখের জলে

হয়তো ভিজে যাবে

এইসব পাণ্ডুলিপি, অতঃপর

উনুনের জ্বালানি হবে কারো হেশেলের, এটাই নিয়তি!

[নির্মম নিয়তি। পৃষ্ঠা-১০]

দেশের বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’ তরুণদের জন্য এ বছর কবিতায় কোনো পুরস্কার প্রদান করেনি। অথচ এই করোনা অতিমারির মধ্যে, খরায় আক্রান্ত একুশের বই মেলায়ও হাজারের অধিক কবিতার বই বেরিয়েছে। তার মধ্যেও চিহ্নিত করার মতো কাব্য ‘কালি ও কলমের’ প্রতিযোগিতার জন্য জমা পড়েনি। ফলে এ বছর তারা কবিতার জন্য কোনো কবিকে পুরস্কার দেননি। এ তথ্যের সোজাসাপ্টা অর্থ হচ্ছে কবিতার বইয়ের এমন বন্যার মধ্যেও প্রকৃত কবিতার তীব্র আকাল চলছে। আর সেই প্রকৃত কবিতার দুর্ভিক্ষেরকালে হেদায়েতুল ইসলাম বাদলের কবিতাগুলো পড়ে আমি তৃপ্ত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন