সাহিত্য ইতিবৃত্তের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
jugantor
বরিশাল জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন
সাহিত্য ইতিবৃত্তের সংক্ষিপ্ত আলোচনা

  হেনরী স্বপন  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সভ্যতার শুরু হতেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে বরিশাল বরাবরই অন্যতম। ফলে এখানকার সাহিত্যের ইতিহাসও প্রায় দেড়-হাজার বছরের পুরনো। সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তর- পত্রিকা প্রত্যেক জেলা-ভিত্তিক সাহিত্য তথ্য প্রকাশে, নির্বাচিত জেলার বর্তমান সাহিত্য চর্চার বিষয়কেই মুখ্য করে তুলতে চাইছেন। বলেই, বরিশালের সাহিত্য ইতিবৃত্তের সংক্ষিপ্ত এ-আলোচনা উপস্থাপন করছি।

কালপর্বের হিসেব অনুযায়ী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সঙ্গে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও রূপগত পার্থক্য অনেক। বর্তমানের সাহিত্য যেমন জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের চেতনায় সমৃদ্ধ, তেমনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে মনোগত আধ্যাত্মিকতা ও দৈব-নির্ভরতার প্রকাশ খুব বেশি ছিল। এ-ক্ষেত্রে বাংলার প্রাচীন কবি মীণনাথের বহু-আগেই বরিশালের আদিকবি খ্যাত চন্দ্রগোমিন (৪৫৬-৫৪৪ খ্রিস্টাব্দ) এই জনপদের প্রথম কবি ছিলেন। চন্দ্রগোমিন ‘চন্দ্রব্যাকরণ’ রচয়িতা এবং সাহিত্য, জ্যোতিষ, সংগীত, শিল্পকলায় সুপন্ডিত ছিলেন। আর মীণনাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ ছিলেন (৭ম/১২শ শতক) চন্দ্রদ্বীপের এক জেলে-পরিবারের সন্তান। নাথপন্থার আদিগুরু হিসেবে বহুনামে তিনি পরিচিতি ছিলেন। তিব্বতী ভাষায় ‘লুইপাদ’ নামে ‘লু-হিপদগীতিকা’ বাংলা সংকীর্তনের পদাবলীও লিখেছেন। ফলে প্রচীন চর্যাপদ থেকে মধ্যযুগীয় পন্ডিত বিজয়গুপ্তের কাল ও আধুনিক বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিকাশের জার্নিতে বরিশালের জীবনানন্দ-আবুল হাসানের ঐতিহ্যের মতোই আজকের আতি-তরুণ লেখকের আবদানও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই-তো একাদশ-শতকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা করে-ভিষক মাধবকর, যতোটা খ্যাতি পেয়েছিলেন, দ্বাদশ শতকের শ্রেষ্ঠকবি গোবর্দ্ধনাচার্য্যও তৎকালীন বাকলায় আশ্রয় নিয়ে ‘আর্যসপ্তসতী’ রচনা করেছিলেন। ভুসকবুপাদ এবং ত্রয়োদশ শতকের আরেক খ্যাতনামা কবি-হরি দত্ত, এরা-দুজনেও প্রচীন বরিশালেই বসবাস করতেন। পঞ্চদশ শতকে-সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী এবং জীব গোস্বামী এঁরাও অন্যতম কবি ছিলেন। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠকবি বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ (মনসামঙ্গল কাব্য) রচনা করেন ১৪৯৪- খ্রিস্টাব্দে। তিনি বরিশালের বিখ্যাত-গ্রাম ফুল্লশ্রীর অধিবাসী। জনপ্রিয় এই কবির প্রতিষ্ঠিত মনসামন্দির ও তাঁর খননকৃত দীঘি এখনো ফুল্লশ্রীতে বিদ্যমান আছে। এ-ছাড়াও মধ্যযুগের আরেক কবি মধুসুধন আচার্য্য ছাড়াও আরও অনেক লেখক ছিলেন। কারণ, প্রাচীনকাল থেকেই এখানকার অজস্র কীর্তিখ্যাত বাঙালি কবির কৃতিত্বের সাথে জড়িয়ে আছে অনন্য এই-বরিশালের সুনাম।

নির্দিধায় বলা যায়, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই বিশ্ব সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে বরিশালের লেখকদের সাফল্য ঈর্ষণীয় ছিল বলেই, এ-অঞ্চলে আরও যারা লিখতেন তারা হলেন- দীনমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, ললিত মোহন দাস, কামিনী রায়, অশ্বিনী কুমার দত্ত, অন্নদা সুন্দরী ঘোষ, অনন্তকুমার সেন, গিরিজা প্রসন্ন রায়চৌধুরী, চারণকবি মুকুন্দ দাস, কুসুমকুমারী দাশ, শরৎচন্দ্র ঘোষ, রেবতিমোহন সেন, শশীভূষণ দাশগুপ্ত, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, সতীষচন্দ্র গুহঠাকুরতা, রামচন্দ্র দাশগুপ্ত, সতীশচন্দ্র রায়, সরোজিনী দেবী, সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, সুরেন্দ্রনাথ সেন, হীরালাল দাসগুপ্ত, হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, কামিনীকুমার ঘোষ, দেবকুমার রায়চৌধুরী, কুসুমকুমারী রায়চৌধুরী, স্বামী প্রজ্ঞানন্দ স্বরস্বতী, যোগেশচন্দ্র বাগল, হযরত মাওলানা নেছার উদ্দিন, রোহিনীকুমার সেন, খোষালচন্দ্র রায়, অনীলচন্দ্র সেন, বাবু প্রতাপচন্দ্র, বাবু রসিকচন্দ্র, মনোরঞ্জন, চন্দ্রনাথ দাস, শ্রীমতি শান্তিসুধা ঘোষ, এমদাদ আলী মাস্টার, অরুণচন্দ্র গুহ, অনাথবন্ধু দত্ত, ফজলুর রহীম চৌধুরী, আলহাজ ফজলুল করিম, সুরেশ চক্রবর্তী, নরেশচন্দ্র রায়, দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শ্রী অমরেন্দ্র ঘোষ, বেগম সুফিয়া কামাল, চন্ডীচরণ সেন, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা এবং জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪), যিনি রবীন্দ্র পরবর্তীকালের অন্যতম আধুনিক বাংলার শ্রেষ্ঠকবি। বাংলাকাব্য আধুনিকতার পথিকৃত।

এ-ছাড়াও বরিশালের আরও যেসব লেখকদের সৃষ্টিগুলো-এখানকার নৈসর্গিক, ভৌগলিক উর্বরতার মিশেলে আত্মিক সঞ্জিবনী শক্তির মতোই দীপ্তি ছড়িয়েছে, তারা হলেন... জয়ন্ত কুমার দাশগুপ্ত, সৈয়দ মাকসুদ আলী, সৈয়দ আলী আহম্মেদ, আরজ আলী মাতুব্বর, আবদুল মাজেদ হাওলাদার, গোপাল কবিরাজ, শেখ নুরুল ইসলাম, আবদুস শহীদ, মাওলানা অবদুর রহীম, নুর মোহাম্মদ মিঞা, শিবনারায়ণ রায়, নচিকেতা ভরদ্বাজ, অরবিন্দ গুহ, নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়, রত্নেশ্বর হাজরা, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, মণীন্দ্র গুপ্ত, অনির্বাণ মিত্র, অভিজিৎ সেন, মিহির সেনগুপ্ত, ক্ষেত্র গুপ্ত, উৎপল দত্ত, ইতিহাসবিদ-সিরাজ উদদীন আহমেদ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, এমদাদ মাস্টার, মৌলভী সাইদুর রহমান, ফজলুল রহীম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, লেডি অবলা বসু, বি.ডি হাবিবুল্লাহ, ডা. আবদুল বাসেত, সরদার ফজলুল করিম, অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত, বিপ্লবী বিমল সেন, অবদুল গাফফার চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, হেদায়েত হোসেন মোর্শেদ, অন্নদা সুন্দরী ঘোষ, আহসান হাবীব, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবুল হাসেম ব্যাপারী, মোদাসের মিঞা, শিলা দাশগুপ্ত, যিশুদেব শর্মা, নলিনী দাস, হুমায়ুন কবির, নূর আহম্মদ, আবদুস সোবাহান, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল কাদের, অধীর কুমার সাহা, জয়নুল অবেদীন, শশাঙ্ক পাল, গোলাম মুর্শিদ, সন্তোষ গুপ্ত, বদিউর রহমার, এস আলী মোহাম্মদ, মো. আলি আসগর, আমেনা বেগম, এ.কে মকবুল আহম্মেদ, শাহনারা বেগম, মাহমুদ উল্লাহ, রবীন সমদ্দার, আবু জোবের, অজয় দাশগুপ্ত, ড. নীলকান্ত ব্যাপারি, এম.এ মান্নান, অরূপ তালুকদার, এস.এম ইকবাল, মিন্টু বসু, সমীর দত্ত, মকবুল আহম্মদ, হেলাল উদ্দিন, আবু-আল সাঈদ, গাজী শামসুর রহমান, আনোয়ার শাহাদাত, দীপংকর চক্রবর্তী, সোহরাব হাসান, এনায়েত হোসেন, সেলিম শাহ আলম, সরদার ফারুক, বেণীলাল দাশগুপ্ত, ফয়জুল হাকিম, মাসুদ আহমেদ মাসুদ, মোশারেফ হোসেন, আশিকুর রাজ্জাক, সিকান্দার মোমতাজী, ইকবাল হাসান, তাসলিমা আহসান, জসিম মল্লিক, বারেক আবদুল্লাহ, সৈয়দ মাকসুদ আলী, কাজী মোজাম্মেল হোসেন, খায়রুল আলম সবুজ, তপংকর চক্রবর্তী, ফেরদৌস নাহার, সালেহ মাহমুদ শেলী, নীতি বিকাশ ঘোষ, রবীন ঘোষ, রহমান মাসুদ, জিয়া সাঈদ, আকবর হোসেন, আবুল বাসার সেরনিয়াবাত, আনিসুর রহমান স্বপন, অসিত দাস, নজমুল হোসেন আকাশ, হেনরী স্বপন, সুরেশ চক্রবর্তী, মিহির দত্ত, ইমতিয়াজ মাহমুদ, পঙ্কজ রায় চৌধুরি, মোশতাক আল মেহেদী, সাইফুল আহসান বুলবুল, নসরত শাহ, মিলন আহমদ ফারাবী, আলফ্রেড খোকন, শামিম রেজা, জিয়া হাশান, সৈয়দ ওমর হাসান, শুভংকর চক্রবর্তী, অনন্ত হীরা, আলমগীর কবির, ইসহাক বাড়ৈ, সাঈদা মিমি, মুকুল দাস, তৌফিক আজাদ, মামুন নেসার য়াহমেদ, এম. কামাল হোসেন, বেগম নুরজাহান, অনীশ দাস, ড. মুহম্মদ মুহসিন, শিমুল আজাদ, তুহিন সমদ্দার, রবীন আহসান, তুহিন দাস, মুস্তফা হাবীব, শফিক আমিন, সচীন রায়, সাঈদ বাহাদুর, সাঈফ ইবনে রফিক, অভিজিৎ দাস, কিং সউদ, রুদ্রাক্ষ রায়হান, অনিন্দ্য দ্বীপ, অলকা সরকার কেয়া, সাইদ র’মান, দেবাশীষ চক্রবর্তী, সুশান্ত ঘোষ, ইকতিজা আহসান, ফেরদৌস মাহমুদ, কামরুন নাহার মুন্নী, জিনাত জাহান খান, সুদীপ্তা ঘোষ, দুখু বাঙাল, নয়ন আহমেদ, নাজমুল শামীম, নাজমুল হাসান, নাজমুস সামস, ফয়সাল বারী, ফয়জুন্নাহার শেলী, টুনু কর্মকার, ভাস্কর সাহা, তুহীন বিশ্বাস, অপূর্ব গৌতম, মাহমুদ মিটুল, মিছিল খন্দকার, শওকত আরা নাজনীন, আল হাফিজ, আহমেদ মুন্না, অনিতা পান্ডে, মিনতী রানী দাস, এস.এম তুষার, সুভাষ দাস, আব্দুর রহমান, আশরাফুর রহমান সুমন, মালেকা ফেরদৌস, কাজী সেলিনা, জিয়া কিসলু, আসমা চৌধুরী, রুমান শরীফ, শরীফ খিয়াম ঈয়ন, মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক, এস মিজানুল ইসলাম, মামুন আহম্মেদ, সানাউল্লাহ সাগর, সৈয়দ মেহেদী হাসান, হাসান মেহেদী, আব্দুল গাফফার খান, মুনসী এম, আবু নওশের ফারুকী, সাইফুল্লাহ নবীন, জাহাঙ্গির শাহরিয়ার, কায়েস সৈয়দ, খান বেনজির আহমেদ, সিয়ামুল হায়াত সৈকত, সাঈদ অহমেদ, শিকদার রেজাউল করিম, স্নিগ্ধ নীলিমা, সুমন রায়হান, শেখ খলিলুর রহমান, ফাতেমা জান্নাত চাঁদনী, মুশফিক শুভ, ঝর্না দাস লাবনী, বিনয় ঋষি, স.ম জসিম, কাজী বোরহান উদ্দীন, উৎপল চক্রবর্তী, মিলু বর্মন, শোভন কর্মকার কৃষ্ণ, বাউল পরেশ বাইন, দীনেশ জয়ধর, প্রফুল্লকুমার গাইন, মহাদেব বসু, রফিকুল হক রুবেল, শাল আলম সেরনিয়াবাত, আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, জেমস রিপন বাড়ৈ, সুনীল কুমার বাড়ৈ, হরেকষ্ণ রায় পলাশ, এনামুল হক লিটন, স্বপনকুমার ম­ল, কাজল দাশগুপ্ত, ইব্রাহীম খলিল, আতিকুর রহমান হিমুর মতো এসময়ের আরও অনেক প্রাজ্ঞ-লেখক বরিশালের সাহিত্যের উৎকর্ষকল্পে অবদান রেখে যাচ্ছেন। হয়তো অনিচ্ছাকৃত ভাবেই তেমন কিছু নাম অনুল্লেখিত থেকে গেল।

পত্রিকা-সাময়িকী ও লিটলম্যাগ: ১২৫-বছর আগে, ১৮৫৯-সালে বরিশাল থেকে প্রথম ‘পরিমল বাহিনী’ সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়। এরপর ‘হিতসাধনী’ ‘সাপ্তাহিক-বঙ্গ দর্পণ’ ‘পাক্ষিক-গ্রামদূত’ ‘সাপ্তাহিক বাল-রঞ্জিকা’ ‘কাশিপুর নিবাসী’ ‘বরিশাল হিতৈষী’ ‘মাসিক-ব্রক্ষ্মবাদী (জীবনানন্দ দাশের প্রথম লেখা ছাপা হয়) ‘ত্রৈমাসিক-তরুণ’ ‘মাসিক-পথিক’ ‘সাত সতেরো’ এবং যুদ্ধ চলাকালীন রণাঙ্গনের পত্রিকাখ্যাত ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে, স্বাধীনতার পর থেকে এখনো বরিশালের সাহিত্যের পৃষ্টপোষকতা করছে তেমনি গুটিকয় দৈনিক-সাপ্তাহিক পত্রিকা হচ্ছে : শাহজাহান খানের-লোকবাণী, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র- গণডাক, সমির দত্তের-চিরন্তন বাংলা, হোসেন শাহ’র-বাংলার বনে, শাহ সাজেদা’র-শাহনামা, সৈয়দ দুলালের-দৈনিক পরিবর্তন ও মাসিক-আনন্দলিখন, সাংবাদিক মুনির হোসেনের- সাপ্তাহিক ইতিবৃত্ত, আবদুল মতিনের-দক্ষিণাঞ্চল, কাজী নাসিরউদ্দিন বাবুলের-আজকের বার্তা, এস.এম জাকির হোসেনের- দৈনিক মতবাদ এবং আলম রায়হানের- দক্ষিণের সময় অন্যতম।

আমরা জানি, লিটলম্যাগ আন্দোলনের প্রধান কাজই হচ্ছে নতুন প্রতিভার উšে§ষ ঘটানো। তাই-তো সমাজের অলিগলি থেকে সাহিত্যকর্মীরা এসে লিটলম্যাগের মাধ্যমেই প্রথার বিরুদ্ধে তথাগত প্রথা নির্মাণ করেন। দৈনিকের কর্পোরেট পাতাগুলো হয়তো সৃষ্টিকে ধারণ করতে পারে কিন্তু উপান্তের লেখক সৃষ্টি হয় স্থানীয় লিটলম্যাগের মাধ্যমেই। এ-ক্ষেত্রে এখানেও স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে এখনও প্রকৃত কিছু লিটলম্যাগের অবদানও তাদের প্রকাশনার ভিন্নতায় ও পদ্ধতি-স্বতন্ত্রতার উর্বরতায় উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে, যেমন- ১৯৭২-সালে ‘ভাষাতীত’ নামের একটি একটি একুশের সংকলনের কথা যতোটা বলতে হয়, ততোটাই ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে সালেহ মাহমুদ শেলীর সম্পাদনায় স্বাধীনতা-পরবর্তী বরিশালের প্রথম লিটলম্যাগ-‘স্বকাল’ প্রকাশিত হয়। এরপর রহমান মাসুদ ও রবীন ঘোষের যৌথ সম্পাদনায় ‘সুনীল করতল’। নীতিবিকাশ ঘোষের ‘কম্পাস’। ইকবাল হাসান সম্পাদিত-পারাপার। বিহঙ্গ-সম্পাদক ছিলেন পরিমল দাশ। মণিলাল দাসের-রূপসি বাংলা। চেতনা- করেছেন হাসান কবীর শাহিন ও রবীন আহসানের- ছটফট। তপংকর চক্রবর্তী সম্পাদিত- নান্দনিক। তুহিন দাসের-আরণ্যক, আযাদ আলাউদ্দীন সম্পাদিত- মুক্তবুলি। মুস্তফা হাবীবের-অরুণিম ও হেনরী স্বপন সম্পাদিত-জীবনানন্দ কবিতাপত্র’ এ-গুলোই ছিল সম্পাদকীয় স্বকীয়তা ও দীপ্তিতে উল্লেখযোগ্য।

এ-ছাড়া ধারাপাত, উপকণ্ঠ, ত্রি-মাত্রিক, ‘কবি ও কবিতা’ ‘চিৎকার’ ‘চারাগাছ’ ‘ঘাস’ ‘কথক’ ‘তারুণ্য’ ‘দিশারী’ ‘জায়মান’ ‘কংক্রিট’ ‘নতুন মুখ’ ‘কালস্রেত’ ‘প্রতিকাশ’ ‘কাঠবিড়ালী’ ‘আগুনমুখা’ ‘ধ্র“বতারা’ ‘শিরদাঁড়া স্রোত’ ‘মৌসুমী’ ‘শেকড়’ ‘সন্ধ্যা’ ‘বৈঠা’ ‘আড্ডা’ ‘শ্রীমন্ত’ ‘অগ্নিযুগ’ ‘নন্দন’ ‘পৃষ্ঠা’ ‘সাদাপাতা’ ‘আন্ধার মানিক’ ‘মালবিকা’ ‘ভিনভাংড়া’ ইত্যাদি লিটলম্যাগের আবদানও অবধারিত ছিল।

আড্ডায় আতসবাজি:

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বরিশাল শাখার সাহিত্য আড্ডা, পল্লি কল্যাণ অমৃত লাইব্রেরীর আড্ডা, পাঠচক্রের আড্ডা, মুকুল মিলন ও শুকতারা খেলাঘরের আড্ডা, রুচিরার আড্ডা, প্রগতি পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডা, কবিতার সংগঠন ‘অক্ষর সাহিত্যের আড্ডা, শেকড় সাহিত্য সংসদের আড্ডা, ‘জাতীয় কবিতা পরিষদের আড্ডা’ ‘খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির আড্ডা’ ‘আনন্দধারা লাইব্রেরীর আড্ডা’ ‘বিজয় সেলুনের আড্ডা ও আড্ডা ধানসিড়ি-ছাড়াও আরও কিছু আড্ডা ছিল যা-এখানকার সাহিত্যপ্রেমি নবীন লিখিয়েদের প্রেরণা যুগিয়েছে। যদিও এখন শহরকেন্দ্রিক উল্লেখিত এসব কোনও অড্ডাই আর নিয়মিত নেই।

বরিশালের প্রবাদ প্রবচন

১. মাইয়্যা এক যায় খাইয়া

আরেক যায় লইয়্যা

আবার থাকে পথের দিকে চাইয়্যা।

২. পোলারে তুতিবুতি

মাইয়্যারে লাই

তার চৌদ্দ গুষ্টির নাই

নরকেও ঠাঁই।

৩. ছোট কালে সোনামুখ

বয়সের কালে আয়না

বুড়া কালে বান্দরীমুখ

কেউর দিকে কেউ চায় না।

৪. ভাগের হতিন সখিনা

রাত পোহালে দেখি না।

৫. মোডে মায় রান্দে না

পান্তায় তেরসা।

৬. পাইলাম থালে

দিলাম গালে

পাপ নাই তার

কোনো কালে।

বরিশাল জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন

সাহিত্য ইতিবৃত্তের সংক্ষিপ্ত আলোচনা

 হেনরী স্বপন 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সভ্যতার শুরু হতেই শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে বরিশাল বরাবরই অন্যতম। ফলে এখানকার সাহিত্যের ইতিহাসও প্রায় দেড়-হাজার বছরের পুরনো। সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তর- পত্রিকা প্রত্যেক জেলা-ভিত্তিক সাহিত্য তথ্য প্রকাশে, নির্বাচিত জেলার বর্তমান সাহিত্য চর্চার বিষয়কেই মুখ্য করে তুলতে চাইছেন। বলেই, বরিশালের সাহিত্য ইতিবৃত্তের সংক্ষিপ্ত এ-আলোচনা উপস্থাপন করছি।

কালপর্বের হিসেব অনুযায়ী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের সঙ্গে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও রূপগত পার্থক্য অনেক। বর্তমানের সাহিত্য যেমন জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের চেতনায় সমৃদ্ধ, তেমনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে মনোগত আধ্যাত্মিকতা ও দৈব-নির্ভরতার প্রকাশ খুব বেশি ছিল। এ-ক্ষেত্রে বাংলার প্রাচীন কবি মীণনাথের বহু-আগেই বরিশালের আদিকবি খ্যাত চন্দ্রগোমিন (৪৫৬-৫৪৪ খ্রিস্টাব্দ) এই জনপদের প্রথম কবি ছিলেন। চন্দ্রগোমিন ‘চন্দ্রব্যাকরণ’ রচয়িতা এবং সাহিত্য, জ্যোতিষ, সংগীত, শিল্পকলায় সুপন্ডিত ছিলেন। আর মীণনাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ ছিলেন (৭ম/১২শ শতক) চন্দ্রদ্বীপের এক জেলে-পরিবারের সন্তান। নাথপন্থার আদিগুরু হিসেবে বহুনামে তিনি পরিচিতি ছিলেন। তিব্বতী ভাষায় ‘লুইপাদ’ নামে ‘লু-হিপদগীতিকা’ বাংলা সংকীর্তনের পদাবলীও লিখেছেন। ফলে প্রচীন চর্যাপদ থেকে মধ্যযুগীয় পন্ডিত বিজয়গুপ্তের কাল ও আধুনিক বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিকাশের জার্নিতে বরিশালের জীবনানন্দ-আবুল হাসানের ঐতিহ্যের মতোই আজকের আতি-তরুণ লেখকের আবদানও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই-তো একাদশ-শতকে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা করে-ভিষক মাধবকর, যতোটা খ্যাতি পেয়েছিলেন, দ্বাদশ শতকের শ্রেষ্ঠকবি গোবর্দ্ধনাচার্য্যও তৎকালীন বাকলায় আশ্রয় নিয়ে ‘আর্যসপ্তসতী’ রচনা করেছিলেন। ভুসকবুপাদ এবং ত্রয়োদশ শতকের আরেক খ্যাতনামা কবি-হরি দত্ত, এরা-দুজনেও প্রচীন বরিশালেই বসবাস করতেন। পঞ্চদশ শতকে-সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী এবং জীব গোস্বামী এঁরাও অন্যতম কবি ছিলেন। মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠকবি বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ (মনসামঙ্গল কাব্য) রচনা করেন ১৪৯৪- খ্রিস্টাব্দে। তিনি বরিশালের বিখ্যাত-গ্রাম ফুল্লশ্রীর অধিবাসী। জনপ্রিয় এই কবির প্রতিষ্ঠিত মনসামন্দির ও তাঁর খননকৃত দীঘি এখনো ফুল্লশ্রীতে বিদ্যমান আছে। এ-ছাড়াও মধ্যযুগের আরেক কবি মধুসুধন আচার্য্য ছাড়াও আরও অনেক লেখক ছিলেন। কারণ, প্রাচীনকাল থেকেই এখানকার অজস্র কীর্তিখ্যাত বাঙালি কবির কৃতিত্বের সাথে জড়িয়ে আছে অনন্য এই-বরিশালের সুনাম।

নির্দিধায় বলা যায়, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই বিশ্ব সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে বরিশালের লেখকদের সাফল্য ঈর্ষণীয় ছিল বলেই, এ-অঞ্চলে আরও যারা লিখতেন তারা হলেন- দীনমোহন গঙ্গোপাধ্যায়, ললিত মোহন দাস, কামিনী রায়, অশ্বিনী কুমার দত্ত, অন্নদা সুন্দরী ঘোষ, অনন্তকুমার সেন, গিরিজা প্রসন্ন রায়চৌধুরী, চারণকবি মুকুন্দ দাস, কুসুমকুমারী দাশ, শরৎচন্দ্র ঘোষ, রেবতিমোহন সেন, শশীভূষণ দাশগুপ্ত, মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা, সতীষচন্দ্র গুহঠাকুরতা, রামচন্দ্র দাশগুপ্ত, সতীশচন্দ্র রায়, সরোজিনী দেবী, সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, সুরেন্দ্রনাথ সেন, হীরালাল দাসগুপ্ত, হেমচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, কামিনীকুমার ঘোষ, দেবকুমার রায়চৌধুরী, কুসুমকুমারী রায়চৌধুরী, স্বামী প্রজ্ঞানন্দ স্বরস্বতী, যোগেশচন্দ্র বাগল, হযরত মাওলানা নেছার উদ্দিন, রোহিনীকুমার সেন, খোষালচন্দ্র রায়, অনীলচন্দ্র সেন, বাবু প্রতাপচন্দ্র, বাবু রসিকচন্দ্র, মনোরঞ্জন, চন্দ্রনাথ দাস, শ্রীমতি শান্তিসুধা ঘোষ, এমদাদ আলী মাস্টার, অরুণচন্দ্র গুহ, অনাথবন্ধু দত্ত, ফজলুর রহীম চৌধুরী, আলহাজ ফজলুল করিম, সুরেশ চক্রবর্তী, নরেশচন্দ্র রায়, দেবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শ্রী অমরেন্দ্র ঘোষ, বেগম সুফিয়া কামাল, চন্ডীচরণ সেন, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা এবং জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪), যিনি রবীন্দ্র পরবর্তীকালের অন্যতম আধুনিক বাংলার শ্রেষ্ঠকবি। বাংলাকাব্য আধুনিকতার পথিকৃত।

এ-ছাড়াও বরিশালের আরও যেসব লেখকদের সৃষ্টিগুলো-এখানকার নৈসর্গিক, ভৌগলিক উর্বরতার মিশেলে আত্মিক সঞ্জিবনী শক্তির মতোই দীপ্তি ছড়িয়েছে, তারা হলেন... জয়ন্ত কুমার দাশগুপ্ত, সৈয়দ মাকসুদ আলী, সৈয়দ আলী আহম্মেদ, আরজ আলী মাতুব্বর, আবদুল মাজেদ হাওলাদার, গোপাল কবিরাজ, শেখ নুরুল ইসলাম, আবদুস শহীদ, মাওলানা অবদুর রহীম, নুর মোহাম্মদ মিঞা, শিবনারায়ণ রায়, নচিকেতা ভরদ্বাজ, অরবিন্দ গুহ, নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়, রত্নেশ্বর হাজরা, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, মণীন্দ্র গুপ্ত, অনির্বাণ মিত্র, অভিজিৎ সেন, মিহির সেনগুপ্ত, ক্ষেত্র গুপ্ত, উৎপল দত্ত, ইতিহাসবিদ-সিরাজ উদদীন আহমেদ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, এমদাদ মাস্টার, মৌলভী সাইদুর রহমান, ফজলুল রহীম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, লেডি অবলা বসু, বি.ডি হাবিবুল্লাহ, ডা. আবদুল বাসেত, সরদার ফজলুল করিম, অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত, বিপ্লবী বিমল সেন, অবদুল গাফফার চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, শামসুদ্দীন আবুল কালাম, হেদায়েত হোসেন মোর্শেদ, অন্নদা সুন্দরী ঘোষ, আহসান হাবীব, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবুল হাসেম ব্যাপারী, মোদাসের মিঞা, শিলা দাশগুপ্ত, যিশুদেব শর্মা, নলিনী দাস, হুমায়ুন কবির, নূর আহম্মদ, আবদুস সোবাহান, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল কাদের, অধীর কুমার সাহা, জয়নুল অবেদীন, শশাঙ্ক পাল, গোলাম মুর্শিদ, সন্তোষ গুপ্ত, বদিউর রহমার, এস আলী মোহাম্মদ, মো. আলি আসগর, আমেনা বেগম, এ.কে মকবুল আহম্মেদ, শাহনারা বেগম, মাহমুদ উল্লাহ, রবীন সমদ্দার, আবু জোবের, অজয় দাশগুপ্ত, ড. নীলকান্ত ব্যাপারি, এম.এ মান্নান, অরূপ তালুকদার, এস.এম ইকবাল, মিন্টু বসু, সমীর দত্ত, মকবুল আহম্মদ, হেলাল উদ্দিন, আবু-আল সাঈদ, গাজী শামসুর রহমান, আনোয়ার শাহাদাত, দীপংকর চক্রবর্তী, সোহরাব হাসান, এনায়েত হোসেন, সেলিম শাহ আলম, সরদার ফারুক, বেণীলাল দাশগুপ্ত, ফয়জুল হাকিম, মাসুদ আহমেদ মাসুদ, মোশারেফ হোসেন, আশিকুর রাজ্জাক, সিকান্দার মোমতাজী, ইকবাল হাসান, তাসলিমা আহসান, জসিম মল্লিক, বারেক আবদুল্লাহ, সৈয়দ মাকসুদ আলী, কাজী মোজাম্মেল হোসেন, খায়রুল আলম সবুজ, তপংকর চক্রবর্তী, ফেরদৌস নাহার, সালেহ মাহমুদ শেলী, নীতি বিকাশ ঘোষ, রবীন ঘোষ, রহমান মাসুদ, জিয়া সাঈদ, আকবর হোসেন, আবুল বাসার সেরনিয়াবাত, আনিসুর রহমান স্বপন, অসিত দাস, নজমুল হোসেন আকাশ, হেনরী স্বপন, সুরেশ চক্রবর্তী, মিহির দত্ত, ইমতিয়াজ মাহমুদ, পঙ্কজ রায় চৌধুরি, মোশতাক আল মেহেদী, সাইফুল আহসান বুলবুল, নসরত শাহ, মিলন আহমদ ফারাবী, আলফ্রেড খোকন, শামিম রেজা, জিয়া হাশান, সৈয়দ ওমর হাসান, শুভংকর চক্রবর্তী, অনন্ত হীরা, আলমগীর কবির, ইসহাক বাড়ৈ, সাঈদা মিমি, মুকুল দাস, তৌফিক আজাদ, মামুন নেসার য়াহমেদ, এম. কামাল হোসেন, বেগম নুরজাহান, অনীশ দাস, ড. মুহম্মদ মুহসিন, শিমুল আজাদ, তুহিন সমদ্দার, রবীন আহসান, তুহিন দাস, মুস্তফা হাবীব, শফিক আমিন, সচীন রায়, সাঈদ বাহাদুর, সাঈফ ইবনে রফিক, অভিজিৎ দাস, কিং সউদ, রুদ্রাক্ষ রায়হান, অনিন্দ্য দ্বীপ, অলকা সরকার কেয়া, সাইদ র’মান, দেবাশীষ চক্রবর্তী, সুশান্ত ঘোষ, ইকতিজা আহসান, ফেরদৌস মাহমুদ, কামরুন নাহার মুন্নী, জিনাত জাহান খান, সুদীপ্তা ঘোষ, দুখু বাঙাল, নয়ন আহমেদ, নাজমুল শামীম, নাজমুল হাসান, নাজমুস সামস, ফয়সাল বারী, ফয়জুন্নাহার শেলী, টুনু কর্মকার, ভাস্কর সাহা, তুহীন বিশ্বাস, অপূর্ব গৌতম, মাহমুদ মিটুল, মিছিল খন্দকার, শওকত আরা নাজনীন, আল হাফিজ, আহমেদ মুন্না, অনিতা পান্ডে, মিনতী রানী দাস, এস.এম তুষার, সুভাষ দাস, আব্দুর রহমান, আশরাফুর রহমান সুমন, মালেকা ফেরদৌস, কাজী সেলিনা, জিয়া কিসলু, আসমা চৌধুরী, রুমান শরীফ, শরীফ খিয়াম ঈয়ন, মোয়াজ্জেম হোসেন মানিক, এস মিজানুল ইসলাম, মামুন আহম্মেদ, সানাউল্লাহ সাগর, সৈয়দ মেহেদী হাসান, হাসান মেহেদী, আব্দুল গাফফার খান, মুনসী এম, আবু নওশের ফারুকী, সাইফুল্লাহ নবীন, জাহাঙ্গির শাহরিয়ার, কায়েস সৈয়দ, খান বেনজির আহমেদ, সিয়ামুল হায়াত সৈকত, সাঈদ অহমেদ, শিকদার রেজাউল করিম, স্নিগ্ধ নীলিমা, সুমন রায়হান, শেখ খলিলুর রহমান, ফাতেমা জান্নাত চাঁদনী, মুশফিক শুভ, ঝর্না দাস লাবনী, বিনয় ঋষি, স.ম জসিম, কাজী বোরহান উদ্দীন, উৎপল চক্রবর্তী, মিলু বর্মন, শোভন কর্মকার কৃষ্ণ, বাউল পরেশ বাইন, দীনেশ জয়ধর, প্রফুল্লকুমার গাইন, মহাদেব বসু, রফিকুল হক রুবেল, শাল আলম সেরনিয়াবাত, আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত, জেমস রিপন বাড়ৈ, সুনীল কুমার বাড়ৈ, হরেকষ্ণ রায় পলাশ, এনামুল হক লিটন, স্বপনকুমার ম­ল, কাজল দাশগুপ্ত, ইব্রাহীম খলিল, আতিকুর রহমান হিমুর মতো এসময়ের আরও অনেক প্রাজ্ঞ-লেখক বরিশালের সাহিত্যের উৎকর্ষকল্পে অবদান রেখে যাচ্ছেন। হয়তো অনিচ্ছাকৃত ভাবেই তেমন কিছু নাম অনুল্লেখিত থেকে গেল।

পত্রিকা-সাময়িকী ও লিটলম্যাগ: ১২৫-বছর আগে, ১৮৫৯-সালে বরিশাল থেকে প্রথম ‘পরিমল বাহিনী’ সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়। এরপর ‘হিতসাধনী’ ‘সাপ্তাহিক-বঙ্গ দর্পণ’ ‘পাক্ষিক-গ্রামদূত’ ‘সাপ্তাহিক বাল-রঞ্জিকা’ ‘কাশিপুর নিবাসী’ ‘বরিশাল হিতৈষী’ ‘মাসিক-ব্রক্ষ্মবাদী (জীবনানন্দ দাশের প্রথম লেখা ছাপা হয়) ‘ত্রৈমাসিক-তরুণ’ ‘মাসিক-পথিক’ ‘সাত সতেরো’ এবং যুদ্ধ চলাকালীন রণাঙ্গনের পত্রিকাখ্যাত ‘বিপ্লবী বাংলাদেশ’ উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে, স্বাধীনতার পর থেকে এখনো বরিশালের সাহিত্যের পৃষ্টপোষকতা করছে তেমনি গুটিকয় দৈনিক-সাপ্তাহিক পত্রিকা হচ্ছে : শাহজাহান খানের-লোকবাণী, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র- গণডাক, সমির দত্তের-চিরন্তন বাংলা, হোসেন শাহ’র-বাংলার বনে, শাহ সাজেদা’র-শাহনামা, সৈয়দ দুলালের-দৈনিক পরিবর্তন ও মাসিক-আনন্দলিখন, সাংবাদিক মুনির হোসেনের- সাপ্তাহিক ইতিবৃত্ত, আবদুল মতিনের-দক্ষিণাঞ্চল, কাজী নাসিরউদ্দিন বাবুলের-আজকের বার্তা, এস.এম জাকির হোসেনের- দৈনিক মতবাদ এবং আলম রায়হানের- দক্ষিণের সময় অন্যতম।

আমরা জানি, লিটলম্যাগ আন্দোলনের প্রধান কাজই হচ্ছে নতুন প্রতিভার উšে§ষ ঘটানো। তাই-তো সমাজের অলিগলি থেকে সাহিত্যকর্মীরা এসে লিটলম্যাগের মাধ্যমেই প্রথার বিরুদ্ধে তথাগত প্রথা নির্মাণ করেন। দৈনিকের কর্পোরেট পাতাগুলো হয়তো সৃষ্টিকে ধারণ করতে পারে কিন্তু উপান্তের লেখক সৃষ্টি হয় স্থানীয় লিটলম্যাগের মাধ্যমেই। এ-ক্ষেত্রে এখানেও স্বাধীনতা-পরবর্তীকাল থেকে এখনও প্রকৃত কিছু লিটলম্যাগের অবদানও তাদের প্রকাশনার ভিন্নতায় ও পদ্ধতি-স্বতন্ত্রতার উর্বরতায় উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে, যেমন- ১৯৭২-সালে ‘ভাষাতীত’ নামের একটি একটি একুশের সংকলনের কথা যতোটা বলতে হয়, ততোটাই ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে সালেহ মাহমুদ শেলীর সম্পাদনায় স্বাধীনতা-পরবর্তী বরিশালের প্রথম লিটলম্যাগ-‘স্বকাল’ প্রকাশিত হয়। এরপর রহমান মাসুদ ও রবীন ঘোষের যৌথ সম্পাদনায় ‘সুনীল করতল’। নীতিবিকাশ ঘোষের ‘কম্পাস’। ইকবাল হাসান সম্পাদিত-পারাপার। বিহঙ্গ-সম্পাদক ছিলেন পরিমল দাশ। মণিলাল দাসের-রূপসি বাংলা। চেতনা- করেছেন হাসান কবীর শাহিন ও রবীন আহসানের- ছটফট। তপংকর চক্রবর্তী সম্পাদিত- নান্দনিক। তুহিন দাসের-আরণ্যক, আযাদ আলাউদ্দীন সম্পাদিত- মুক্তবুলি। মুস্তফা হাবীবের-অরুণিম ও হেনরী স্বপন সম্পাদিত-জীবনানন্দ কবিতাপত্র’ এ-গুলোই ছিল সম্পাদকীয় স্বকীয়তা ও দীপ্তিতে উল্লেখযোগ্য।

এ-ছাড়া ধারাপাত, উপকণ্ঠ, ত্রি-মাত্রিক, ‘কবি ও কবিতা’ ‘চিৎকার’ ‘চারাগাছ’ ‘ঘাস’ ‘কথক’ ‘তারুণ্য’ ‘দিশারী’ ‘জায়মান’ ‘কংক্রিট’ ‘নতুন মুখ’ ‘কালস্রেত’ ‘প্রতিকাশ’ ‘কাঠবিড়ালী’ ‘আগুনমুখা’ ‘ধ্র“বতারা’ ‘শিরদাঁড়া স্রোত’ ‘মৌসুমী’ ‘শেকড়’ ‘সন্ধ্যা’ ‘বৈঠা’ ‘আড্ডা’ ‘শ্রীমন্ত’ ‘অগ্নিযুগ’ ‘নন্দন’ ‘পৃষ্ঠা’ ‘সাদাপাতা’ ‘আন্ধার মানিক’ ‘মালবিকা’ ‘ভিনভাংড়া’ ইত্যাদি লিটলম্যাগের আবদানও অবধারিত ছিল।

আড্ডায় আতসবাজি:

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ বরিশাল শাখার সাহিত্য আড্ডা, পল্লি কল্যাণ অমৃত লাইব্রেরীর আড্ডা, পাঠচক্রের আড্ডা, মুকুল মিলন ও শুকতারা খেলাঘরের আড্ডা, রুচিরার আড্ডা, প্রগতি পাঠাগারের সাহিত্য আড্ডা, কবিতার সংগঠন ‘অক্ষর সাহিত্যের আড্ডা, শেকড় সাহিত্য সংসদের আড্ডা, ‘জাতীয় কবিতা পরিষদের আড্ডা’ ‘খেলাঘর বরিশাল জেলা কমিটির আড্ডা’ ‘আনন্দধারা লাইব্রেরীর আড্ডা’ ‘বিজয় সেলুনের আড্ডা ও আড্ডা ধানসিড়ি-ছাড়াও আরও কিছু আড্ডা ছিল যা-এখানকার সাহিত্যপ্রেমি নবীন লিখিয়েদের প্রেরণা যুগিয়েছে। যদিও এখন শহরকেন্দ্রিক উল্লেখিত এসব কোনও অড্ডাই আর নিয়মিত নেই।

বরিশালের প্রবাদ প্রবচন

১. মাইয়্যা এক যায় খাইয়া

আরেক যায় লইয়্যা

আবার থাকে পথের দিকে চাইয়্যা।

২. পোলারে তুতিবুতি

মাইয়্যারে লাই

তার চৌদ্দ গুষ্টির নাই

নরকেও ঠাঁই।

৩. ছোট কালে সোনামুখ

বয়সের কালে আয়না

বুড়া কালে বান্দরীমুখ

কেউর দিকে কেউ চায় না।

৪. ভাগের হতিন সখিনা

রাত পোহালে দেখি না।

৫. মোডে মায় রান্দে না

পান্তায় তেরসা।

৬. পাইলাম থালে

দিলাম গালে

পাপ নাই তার

কোনো কালে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
১৫ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১
০৮ অক্টোবর, ২০২১