বাংলা সাহিত্যে নারায়ণগঞ্জের অবদান
jugantor
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন
বাংলা সাহিত্যে নারায়ণগঞ্জের অবদান

  নাফিজ আশরাফ  

০১ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুকাল আগে থেকে নারায়ণগঞ্জে সাহিত্যচর্চা হয়ে আসছে। মনমোহন দত্ত নামে একজন গীতিকার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। তার জন্ম ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। সংক্ষিপ্ত আয়ু নিয়ে তিনি জন্মেছিলেন। মাত্র ৪২ বছরের আয়ুস্কালে তিনি আধ্যাত্মবাদ লেখক ও সাধক হিসাবে পরিচিতি লাভ করলেও আদিবাসী গীতিকার হিসাবে তার সুখ্যাতি ছিল। মনমোহনের লেখা একাধিক বইও প্রকাশ পেয়েছে। তার মধ্যে মলয়া (সংগীতগ্রন্থ), যোগপ্রনালি ও ময়না উল্লেখযোগ্য। আরও একজন লেখক তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার নরসিংদীর পাঁচদোনায় জন্ম নেওয়া গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৪-১৯১১)। গিরিশচন্দ্র সেনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের মধ্যে আছে তাপস মালা, বণিতা ও বিনোদন উল্লেখযোগ্য। আত্মজীবনীসহ প্রায় ৫০টি বইয়ের রচয়িতা তিনি। গিরিশচন্দ্র সেনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তিনি ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন শরীফ অনুবাদ করেছেন। এটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসাবে বিবেচিত হয়। এ কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক তাকে ভাই মৌলবী গিরিশচন্দ্র বলেও ডাকতেন।

কবি বেনজীর আহমেদ (১৯০৩-১৯৮৫)-এর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার শিবপুরের ধনুয়া গ্রামে জন্ম। তার বিখ্যাত গ্রন্থ বৈশাখী, বন্দির বাঁশি। তিনি লিখেছেন ইসলাম ও কমিউনিজম এবং কুরআনের গল্প নামে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মেছিলেন খ্যাতিমান কবি মহিউদ্দিন (১৯০৫-১৯৮৩)। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, অন্ন চাই আলো চাই, দিগন্তের পথে একা, এলো বিপ্লব, কঙ্কা নদীর তীরে, গরীবের পাঁচালী, কামিনী কাঞ্চন উল্লেখযোগ্য। উল্লেখিত ক’জন লেখক ছাড়া নারায়ণগঞ্জে সে সময় কোনো ধরনের সাহিত্যচর্চার জন্য কোনো সংগঠন ছিল না। সে সময়ের খ্যাতিমান লেখকরা অনেকটা কলকাতামুখী ছিলেন।

পঞ্চাশের দশকে লেখক ও সম্পাদক সিরাজুল হক নারায়ণগঞ্জে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনটি উপন্যাস লিখেছেন সিরাজুল হক, লিখেছেন গল্প। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে; ভরা নদীর বাঁকে, নীল শাড়ি, আকাশ নদী জাগে, প্রেম পাগল এবং মর্তে ও মৃত্তিকা। স্বশিক্ষিত আকিল উদ্দিন নামে একজন নিভৃতচারী লোককবি ছিলেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকায়। সে সময় আরও দু’জন কবির আবির্ভাব ঘটে। এমএ মালেক এবং সিরাজ মাস্টার। তাদের প্রকাশনার মধ্যে উল্লেখ করার মতো এমএ মালেকের কাব্য গ্রন্থ ‘বাংলার পরিনাম’। সিরাজ মাস্টারের কাব্যগ্রন্থ ‘ফোয়ারা’। নগরের শীতলক্ষ্যা এলাকায় বসবাসরত এমএ হাফিজ নামে একজন কবির সন্ধান মেলে পঞ্চাশের দশকে। তার কাব্য গ্রন্থের নাম ‘চৈত্রের দুপুরে’। পঞ্চাশের দশকে পিয়ার আলী নামে একজন লেখক দুই বাংলার কাগজে লিখতেন। তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ নামে তাঁর একটি অপ্রকাশিত উপন্যাস রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সাহিত্যমনা তরুণ ষাটের দশকে সাহিত্যবিতান নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, শরফুল আজিজ, সাহেদ আলী মজনু, স্মৃতিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, গোবিন্দ আচার্য, সুশীল চৌধুরী, হিরন্ময় রায়, মনোরঞ্জন পাল, রফিকুল ইসলাম, শীতাংশু চক্রবর্তী, জালাল উদ্দিন রুমী। এ সংগঠনে পরে যোগ দিয়েছিলেন, শরীফ সারোয়ার, ফজলুল বারী, আমজাদ হোসেনসহ আরও কিছু সংখ্যক তরুণ। এদের মধ্যে কবি আমজাদ হোসেন সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। জালাল উদ্দিন রুমী বাংলাদেশ বেতারে দীর্ঘদিন নাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ষাটের দশকের শেষের দিকের লেখক করুণাময় গোস্বামী (প্রয়াত)। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তিনি গবেষণার মাধ্যমে থিসিস করে ডক্টরেট করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। নজরুলকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে করুণাময় গোস্বামীই প্রথম ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।

স্বাধীনতা উত্তর নারায়ণগঞ্জে সাহিত্যচর্চার সোনালি সময় শুরু হয়। একঝাঁক তরুণ এবং কিশোরদের মধ্যে লেখালেখির প্রবল আগ্রহ দেখা যায়। সাহিত্যচর্চার জন্য ধীরে ধীরে একের পর এক সংগঠন গড়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হল-অক্ষর, শাপলা, পলাশ, ডেফোডিল, দারুচিনি, প্যাপিরাস।

তারপর দুই দশক পরিবর্তন হয়ে প্রগতি সাহিত্য পরিষদের নাম উল্লেখ করার মতো। এসব সংগঠনে এবং সংগঠনের বাইরেও যেসব তরুণ সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং এখনো করছেন তারা হলেন-আব্দুল মান্নান (প্রয়াত), শাহেদ আলী মজনু, অধ্যাপক বুলবুল চৌধুরী, মুজিবুল হক কবীর, হাসান হাফিজ, খালেদ হোসাইন, একেএম শামসুদ্দিন, মাহবুব কামরান (প্রয়াত), সৈকত আসগর (প্রয়াত), ওয়াহিদ রেজা (প্রয়াত), হালিম আজাদ, বজলুর রায়হান, মোহাম্মদ ইসহাক, আজহার ইসলাম, জালাল উদ্দিন নলুয়া, অভিজিত রায়, সালাম জুবায়ের, সাইদয়ুর রহমান, রফিউর রাব্বী, আলী এহসান, রুহুল আমীন বাবুল, ইউসুফ আলী এটম, আব্দুল আজীজ, করিম রেজা, শহিদুজ্জামান ফিরোজ, চৈতালী বসু, ম আ হাফিজ (প্রয়াত), নাহিদ আজাদ, অশোক গুহ, নিরঞ্জন রায় (প্রবাসী), বাকী বিল্লাহ, শামসুদ্দোহা চৌধুরী, অনুপম হায়াৎ, আবুল হাসেম হাসু (প্রয়াত), এ কে এম শানেওয়াজ, নাফিজ আশরাফ, আলতাফ সরকার, আনিসুর রহমান আনিস, বাবুল মোশারফ (প্রয়াত), রেজা ফারুক, পুলক হাসান, মির্জা স্বপন, মহিউদ্দিন আকবর (প্রয়াত), রানা প্রমিথিউস, নাসিম আফজাল, শাওন আসগর, আরিফ বুলবুল, রনজতি কুমার (প্রয়াত), মোহাম্মদ সেলিম, সিকান্দার মোহাম্মদ (প্রয়াত), দীপক ভৌমিক, চঞ্চল মেহমুদ কাশেম, হাবিব সিদ্দিকী, জ্যোতির্ময় মানিক, মাসুদুল হাসান রনী, রুমন রেজা, দর্পন কবীর, মোর্শেদ কমল, জাবেদ বাবু, রহমান মুজিব, শাহেদ কায়েস, কাজল কানন, শরীফ উদ্দিন সবুজ, রইস মুকুল, মোহাম্মদ শাহ আলম, আবু দায়েন, জিয়াবুল ইবন, নিতুপূর্ণা, শ ম মোজাম্মেল, জাহাঙ্গীর খোকন, রনজিত মোদক, এস এ শামীম, শ্যামল দাষ, পিয়ারা বেগম, শ্যামল পাল, দেওয়ান আতিকুর রহমান, মোকলেছ কালাম, আহমেদ বাবলু, অমল আকাশ, ফাহমিদা আজাদ, জয়নুল শামীম, ইসতিয়াক আহমেদ, হাসান মাহমুদ রিপন, ফজলে রাব্বী সোহেল, জাহাঙ্গীর ডালিম, রবিউল হুসাইন, শংকর প্রকাশ, মোয়াজ্জেনুল হক, আল আমিন তুষার, দেওয়ান শামসুর রহমান, খাজা মাসুদ, মোহাম্মদ শারবিন, সিরাজুল ইসলাম, কবির হোসেন, খায়রুল আলম খোকন, এরশাদ হুসাইন অন্য, মোফাখখার সাগর, এস এ জগৎ, রাজলক্ষ্মী, অমিত আশরাফ, মিলন মাহমুদ, রজনী, অপার অরণ্য, অভি জাহিদ, নির্মিতা নূর, বিভা বৃষ্টিসহ আরও অনেকেই।

নব্বই দশক ও একের দশকে নারায়ণগঞ্জে আরও কিছু সাহিত্য সংগঠন গড়ে ওঠে। এদের মধ্যে অন্যতম শ্রুতি, সমগীত, উন্মেষ, সুবর্ণগ্রাম, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতন প্রমুখ। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ধাবমান, পত্তর, ওঙ্কার, ঠিকানা, চর্চা অন্যতম। কবি সাহেদ আলী মজনুর পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটি উপন্যাস, তিনটি কাব্যগ্রন্থ ও একটি স্মৃতিকথা লিখে পাঠক প্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সত্তর দশকের হাতেগোনা কয়েকজন কবির মধ্যে কবি মুজিবুল হক কবীর অন্যতম। মুজিবুল হক কবীরের ‘পা যে আমার অনড় পাথর’ কাব্যগ্রন্থ বেশ আলোড়ন সৃষ্টিকারী। একাধিক কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি প্রবন্ধগ্রন্থও রয়েছে মুজিবুল হক কবীরের। সত্তর দশকের লেখক ড. সৈকত আসগর। তিনি কবি ও গবেষক। লোকসাহিত্য বিষয়ে ড. সৈকত আসগর গবেষণা করতেন। এ বিষয়ে তার একাধিক প্রকাশনা রয়েছে। তার গ্রন্থ সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

মাহবুব কামরান ছিলেন কবি, চিত্রশিল্পী, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক। তার একটি দীর্ঘ কবিতায় একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। গুণী এ ব্যক্তিত্বের অকাল মৃত্যু হয়েছে। ভিন্ন ধারার লেখক ছিলেন কবি ওয়াহিদ রেজা। ‘দাঁড়াও কথা আছে’ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। তিনি লিখেছেন প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প ও কবিতা। তার অনুবাদ গ্রন্থও রয়েছে। তার গ্রন্থ সংখ্যা বিশ-এর অধিক। খুব সাহসী মানুষ ছিলেন, সত্য প্রকাশে কখনো ভীত হতেন না। কবি ওয়াহিদ রেজার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প উপন্যাস লেখেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দূর্বাঘাস আর গ্রেনেডের গল্প’ গ্রন্থের জন্য চ্যানেল আই-এর আনন্দ আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বাইশটি। কবি গল্পকার এবং অনুবাদক হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান। তিনি ইংরেজি ভাষায় লেখেন। তার একটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। কবি শামসুর রাহমানের সিলেক্টেড পোয়েম ও কবি মুজিবুল হক কবিরের কবিতাগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন সাইদুর রহমান। তার প্রকাশিত অনুবাদ গ্রন্থ পাঁচটি।

কথাসাহিত্যিক-গবেষক আজহার ইসলাম-এর জন্ম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা বিষয়ে একাধিক গ্রন্থ রয়েছে তার। তিনি প্রাবন্ধিক ও গবেষক হিসাবে পরিচিত হলেও উপন্যাস এবং গল্পও লিখেছেন। আড়াইহাজার উপজেলার সন্তান লেখক-গবেষক অনুপম হায়াৎ। তিনি চলচ্চিত্রের ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে লেখালেখি করে থাকেন। তবে নজরুল গবেষক হিসাবেও তার কাজ রয়েছে। কবি নজরুলের ওপর নয়টিসহ একাধিক প্রকাশিত গ্রন্থ আছে তার। সোনারগাঁয়ের সন্তান কথাসাহিত্যিক-গবেষক শামসুদ্দোহা চৌধুরীর সোনারগাঁয়ের প্রাচীন ইতিহাসসহ ১২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত লেখক রফিউর রাব্বী মূলত প্রবন্ধকার। ‘নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থসহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। সুপ্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক ও লেখক সালাম জুবায়ের। সংবাদপত্রের একজন কলামিস্ট। তার একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। কথাসাহিত্যিক আলী এহসানের একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। সত্তর দশকের সাড়াজাগানো ছড়াকার ইউসুফ আলী এটমের একটি ছড়াগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। লেখক ও সাংবাদিক নাফিজ আশরাফের শিশু সাহিত্য, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প উপন্যাসসহ দশটি বই প্রকাশিত হয়ছে। নদী বিষয়ে গবেষক আনিসুর রহমান আনিস লিখেছেন ২০টি বই। কবি শ্যামল দাষ তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। শিশুসাহিত্যিক শরীফ উদ্দিন সবুজের সতেরোটি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। কবি খালেদ হোসাইন-এর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। কবি রহমান মুজিবের চারটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি শাহেদ কায়েস-এর ছয়টি কাব্যগ্রন্থসহ গবেষণা ও সম্পাদনাসহ প্রকাশিত গ্রন্থ নয়টি। কবি কাজল কানন-এর প্রকাশিত কবিতা বইয়ের সংখ্যা ছয়টি। শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ শাহ আলম-এর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশটি, কবিতা ও গবেষণাসহ লেখক-গবেষক আবু দায়েন-এর প্রকাশিত গ্রন্থ নয়টি।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আরও যেসব কবি সাহিত্যিকের বই প্রকাশ পেয়েছে তারা হচ্ছে-কবি শহিদুজ্জামান ফিরোজ, জালাল উদ্দিন নলুয়া, রেজা ফারুক, পুলক হাসান, রানা প্রমিথিউস, দীপক ভৌমিক, নাসিম আফজাল, শাওন আসগর, আরিফ বুলবুল, নিতুপূর্ণা, মাকসুদ ইবনে রহমান, রনজতি কুমার, চঞ্চল মেহমুদ কাশেম, হাবিব সিদ্দিকী, জ্যোতির্ময় মানিক, মাসুদুল হাসান রনী, দর্পন কবীর, মোর্শেদ কমল, শ ম মোজাম্মেল ও রনজিত মোদকসহ আরও অনেকে।

তথ্যসূত্র : নারায়ণগঞ্জের সাহিত্যচর্চার আদি কথা (শাহেদ আলী মজনু)

নারায়ণগঞ্জ জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন

বাংলা সাহিত্যে নারায়ণগঞ্জের অবদান

 নাফিজ আশরাফ 
০১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুকাল আগে থেকে নারায়ণগঞ্জে সাহিত্যচর্চা হয়ে আসছে। মনমোহন দত্ত নামে একজন গীতিকার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। তার জন্ম ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। সংক্ষিপ্ত আয়ু নিয়ে তিনি জন্মেছিলেন। মাত্র ৪২ বছরের আয়ুস্কালে তিনি আধ্যাত্মবাদ লেখক ও সাধক হিসাবে পরিচিতি লাভ করলেও আদিবাসী গীতিকার হিসাবে তার সুখ্যাতি ছিল। মনমোহনের লেখা একাধিক বইও প্রকাশ পেয়েছে। তার মধ্যে মলয়া (সংগীতগ্রন্থ), যোগপ্রনালি ও ময়না উল্লেখযোগ্য। আরও একজন লেখক তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার নরসিংদীর পাঁচদোনায় জন্ম নেওয়া গিরিশচন্দ্র সেন (১৮৩৪-১৯১১)। গিরিশচন্দ্র সেনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের মধ্যে আছে তাপস মালা, বণিতা ও বিনোদন উল্লেখযোগ্য। আত্মজীবনীসহ প্রায় ৫০টি বইয়ের রচয়িতা তিনি। গিরিশচন্দ্র সেনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তিনি ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন শরীফ অনুবাদ করেছেন। এটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসাবে বিবেচিত হয়। এ কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক তাকে ভাই মৌলবী গিরিশচন্দ্র বলেও ডাকতেন।

কবি বেনজীর আহমেদ (১৯০৩-১৯৮৫)-এর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহকুমার শিবপুরের ধনুয়া গ্রামে জন্ম। তার বিখ্যাত গ্রন্থ বৈশাখী, বন্দির বাঁশি। তিনি লিখেছেন ইসলাম ও কমিউনিজম এবং কুরআনের গল্প নামে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জন্মেছিলেন খ্যাতিমান কবি মহিউদ্দিন (১৯০৫-১৯৮৩)। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, অন্ন চাই আলো চাই, দিগন্তের পথে একা, এলো বিপ্লব, কঙ্কা নদীর তীরে, গরীবের পাঁচালী, কামিনী কাঞ্চন উল্লেখযোগ্য। উল্লেখিত ক’জন লেখক ছাড়া নারায়ণগঞ্জে সে সময় কোনো ধরনের সাহিত্যচর্চার জন্য কোনো সংগঠন ছিল না। সে সময়ের খ্যাতিমান লেখকরা অনেকটা কলকাতামুখী ছিলেন।

পঞ্চাশের দশকে লেখক ও সম্পাদক সিরাজুল হক নারায়ণগঞ্জে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনটি উপন্যাস লিখেছেন সিরাজুল হক, লিখেছেন গল্প। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে; ভরা নদীর বাঁকে, নীল শাড়ি, আকাশ নদী জাগে, প্রেম পাগল এবং মর্তে ও মৃত্তিকা। স্বশিক্ষিত আকিল উদ্দিন নামে একজন নিভৃতচারী লোককবি ছিলেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকায়। সে সময় আরও দু’জন কবির আবির্ভাব ঘটে। এমএ মালেক এবং সিরাজ মাস্টার। তাদের প্রকাশনার মধ্যে উল্লেখ করার মতো এমএ মালেকের কাব্য গ্রন্থ ‘বাংলার পরিনাম’। সিরাজ মাস্টারের কাব্যগ্রন্থ ‘ফোয়ারা’। নগরের শীতলক্ষ্যা এলাকায় বসবাসরত এমএ হাফিজ নামে একজন কবির সন্ধান মেলে পঞ্চাশের দশকে। তার কাব্য গ্রন্থের নাম ‘চৈত্রের দুপুরে’। পঞ্চাশের দশকে পিয়ার আলী নামে একজন লেখক দুই বাংলার কাগজে লিখতেন। তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ নামে তাঁর একটি অপ্রকাশিত উপন্যাস রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন সাহিত্যমনা তরুণ ষাটের দশকে সাহিত্যবিতান নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, শরফুল আজিজ, সাহেদ আলী মজনু, স্মৃতিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, গোবিন্দ আচার্য, সুশীল চৌধুরী, হিরন্ময় রায়, মনোরঞ্জন পাল, রফিকুল ইসলাম, শীতাংশু চক্রবর্তী, জালাল উদ্দিন রুমী। এ সংগঠনে পরে যোগ দিয়েছিলেন, শরীফ সারোয়ার, ফজলুল বারী, আমজাদ হোসেনসহ আরও কিছু সংখ্যক তরুণ। এদের মধ্যে কবি আমজাদ হোসেন সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন। জালাল উদ্দিন রুমী বাংলাদেশ বেতারে দীর্ঘদিন নাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ষাটের দশকের শেষের দিকের লেখক করুণাময় গোস্বামী (প্রয়াত)। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে তিনি গবেষণার মাধ্যমে থিসিস করে ডক্টরেট করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। নজরুলকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে করুণাময় গোস্বামীই প্রথম ইংরেজি ভাষায় গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।

স্বাধীনতা উত্তর নারায়ণগঞ্জে সাহিত্যচর্চার সোনালি সময় শুরু হয়। একঝাঁক তরুণ এবং কিশোরদের মধ্যে লেখালেখির প্রবল আগ্রহ দেখা যায়। সাহিত্যচর্চার জন্য ধীরে ধীরে একের পর এক সংগঠন গড়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলো হল-অক্ষর, শাপলা, পলাশ, ডেফোডিল, দারুচিনি, প্যাপিরাস।

তারপর দুই দশক পরিবর্তন হয়ে প্রগতি সাহিত্য পরিষদের নাম উল্লেখ করার মতো। এসব সংগঠনে এবং সংগঠনের বাইরেও যেসব তরুণ সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং এখনো করছেন তারা হলেন-আব্দুল মান্নান (প্রয়াত), শাহেদ আলী মজনু, অধ্যাপক বুলবুল চৌধুরী, মুজিবুল হক কবীর, হাসান হাফিজ, খালেদ হোসাইন, একেএম শামসুদ্দিন, মাহবুব কামরান (প্রয়াত), সৈকত আসগর (প্রয়াত), ওয়াহিদ রেজা (প্রয়াত), হালিম আজাদ, বজলুর রায়হান, মোহাম্মদ ইসহাক, আজহার ইসলাম, জালাল উদ্দিন নলুয়া, অভিজিত রায়, সালাম জুবায়ের, সাইদয়ুর রহমান, রফিউর রাব্বী, আলী এহসান, রুহুল আমীন বাবুল, ইউসুফ আলী এটম, আব্দুল আজীজ, করিম রেজা, শহিদুজ্জামান ফিরোজ, চৈতালী বসু, ম আ হাফিজ (প্রয়াত), নাহিদ আজাদ, অশোক গুহ, নিরঞ্জন রায় (প্রবাসী), বাকী বিল্লাহ, শামসুদ্দোহা চৌধুরী, অনুপম হায়াৎ, আবুল হাসেম হাসু (প্রয়াত), এ কে এম শানেওয়াজ, নাফিজ আশরাফ, আলতাফ সরকার, আনিসুর রহমান আনিস, বাবুল মোশারফ (প্রয়াত), রেজা ফারুক, পুলক হাসান, মির্জা স্বপন, মহিউদ্দিন আকবর (প্রয়াত), রানা প্রমিথিউস, নাসিম আফজাল, শাওন আসগর, আরিফ বুলবুল, রনজতি কুমার (প্রয়াত), মোহাম্মদ সেলিম, সিকান্দার মোহাম্মদ (প্রয়াত), দীপক ভৌমিক, চঞ্চল মেহমুদ কাশেম, হাবিব সিদ্দিকী, জ্যোতির্ময় মানিক, মাসুদুল হাসান রনী, রুমন রেজা, দর্পন কবীর, মোর্শেদ কমল, জাবেদ বাবু, রহমান মুজিব, শাহেদ কায়েস, কাজল কানন, শরীফ উদ্দিন সবুজ, রইস মুকুল, মোহাম্মদ শাহ আলম, আবু দায়েন, জিয়াবুল ইবন, নিতুপূর্ণা, শ ম মোজাম্মেল, জাহাঙ্গীর খোকন, রনজিত মোদক, এস এ শামীম, শ্যামল দাষ, পিয়ারা বেগম, শ্যামল পাল, দেওয়ান আতিকুর রহমান, মোকলেছ কালাম, আহমেদ বাবলু, অমল আকাশ, ফাহমিদা আজাদ, জয়নুল শামীম, ইসতিয়াক আহমেদ, হাসান মাহমুদ রিপন, ফজলে রাব্বী সোহেল, জাহাঙ্গীর ডালিম, রবিউল হুসাইন, শংকর প্রকাশ, মোয়াজ্জেনুল হক, আল আমিন তুষার, দেওয়ান শামসুর রহমান, খাজা মাসুদ, মোহাম্মদ শারবিন, সিরাজুল ইসলাম, কবির হোসেন, খায়রুল আলম খোকন, এরশাদ হুসাইন অন্য, মোফাখখার সাগর, এস এ জগৎ, রাজলক্ষ্মী, অমিত আশরাফ, মিলন মাহমুদ, রজনী, অপার অরণ্য, অভি জাহিদ, নির্মিতা নূর, বিভা বৃষ্টিসহ আরও অনেকেই।

নব্বই দশক ও একের দশকে নারায়ণগঞ্জে আরও কিছু সাহিত্য সংগঠন গড়ে ওঠে। এদের মধ্যে অন্যতম শ্রুতি, সমগীত, উন্মেষ, সুবর্ণগ্রাম, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতন প্রমুখ। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বেশ কিছু লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ধাবমান, পত্তর, ওঙ্কার, ঠিকানা, চর্চা অন্যতম। কবি সাহেদ আলী মজনুর পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটি উপন্যাস, তিনটি কাব্যগ্রন্থ ও একটি স্মৃতিকথা লিখে পাঠক প্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সত্তর দশকের হাতেগোনা কয়েকজন কবির মধ্যে কবি মুজিবুল হক কবীর অন্যতম। মুজিবুল হক কবীরের ‘পা যে আমার অনড় পাথর’ কাব্যগ্রন্থ বেশ আলোড়ন সৃষ্টিকারী। একাধিক কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি প্রবন্ধগ্রন্থও রয়েছে মুজিবুল হক কবীরের। সত্তর দশকের লেখক ড. সৈকত আসগর। তিনি কবি ও গবেষক। লোকসাহিত্য বিষয়ে ড. সৈকত আসগর গবেষণা করতেন। এ বিষয়ে তার একাধিক প্রকাশনা রয়েছে। তার গ্রন্থ সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

মাহবুব কামরান ছিলেন কবি, চিত্রশিল্পী, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক। তার একটি দীর্ঘ কবিতায় একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। গুণী এ ব্যক্তিত্বের অকাল মৃত্যু হয়েছে। ভিন্ন ধারার লেখক ছিলেন কবি ওয়াহিদ রেজা। ‘দাঁড়াও কথা আছে’ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। তিনি লিখেছেন প্রবন্ধ, উপন্যাস, গল্প ও কবিতা। তার অনুবাদ গ্রন্থও রয়েছে। তার গ্রন্থ সংখ্যা বিশ-এর অধিক। খুব সাহসী মানুষ ছিলেন, সত্য প্রকাশে কখনো ভীত হতেন না। কবি ওয়াহিদ রেজার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প উপন্যাস লেখেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দূর্বাঘাস আর গ্রেনেডের গল্প’ গ্রন্থের জন্য চ্যানেল আই-এর আনন্দ আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বাইশটি। কবি গল্পকার এবং অনুবাদক হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান। তিনি ইংরেজি ভাষায় লেখেন। তার একটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। কবি শামসুর রাহমানের সিলেক্টেড পোয়েম ও কবি মুজিবুল হক কবিরের কবিতাগ্রন্থ অনুবাদ করেছেন সাইদুর রহমান। তার প্রকাশিত অনুবাদ গ্রন্থ পাঁচটি।

কথাসাহিত্যিক-গবেষক আজহার ইসলাম-এর জন্ম নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা বিষয়ে একাধিক গ্রন্থ রয়েছে তার। তিনি প্রাবন্ধিক ও গবেষক হিসাবে পরিচিত হলেও উপন্যাস এবং গল্পও লিখেছেন। আড়াইহাজার উপজেলার সন্তান লেখক-গবেষক অনুপম হায়াৎ। তিনি চলচ্চিত্রের ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে লেখালেখি করে থাকেন। তবে নজরুল গবেষক হিসাবেও তার কাজ রয়েছে। কবি নজরুলের ওপর নয়টিসহ একাধিক প্রকাশিত গ্রন্থ আছে তার। সোনারগাঁয়ের সন্তান কথাসাহিত্যিক-গবেষক শামসুদ্দোহা চৌধুরীর সোনারগাঁয়ের প্রাচীন ইতিহাসসহ ১২টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত লেখক রফিউর রাব্বী মূলত প্রবন্ধকার। ‘নারায়ণগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থসহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। সুপ্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক ও লেখক সালাম জুবায়ের। সংবাদপত্রের একজন কলামিস্ট। তার একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। কথাসাহিত্যিক আলী এহসানের একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। সত্তর দশকের সাড়াজাগানো ছড়াকার ইউসুফ আলী এটমের একটি ছড়াগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। লেখক ও সাংবাদিক নাফিজ আশরাফের শিশু সাহিত্য, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প উপন্যাসসহ দশটি বই প্রকাশিত হয়ছে। নদী বিষয়ে গবেষক আনিসুর রহমান আনিস লিখেছেন ২০টি বই। কবি শ্যামল দাষ তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। শিশুসাহিত্যিক শরীফ উদ্দিন সবুজের সতেরোটি গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। কবি খালেদ হোসাইন-এর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। কবি রহমান মুজিবের চারটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। কবি শাহেদ কায়েস-এর ছয়টি কাব্যগ্রন্থসহ গবেষণা ও সম্পাদনাসহ প্রকাশিত গ্রন্থ নয়টি। কবি কাজল কানন-এর প্রকাশিত কবিতা বইয়ের সংখ্যা ছয়টি। শিশুসাহিত্যিক মোহাম্মদ শাহ আলম-এর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চল্লিশটি, কবিতা ও গবেষণাসহ লেখক-গবেষক আবু দায়েন-এর প্রকাশিত গ্রন্থ নয়টি।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে আরও যেসব কবি সাহিত্যিকের বই প্রকাশ পেয়েছে তারা হচ্ছে-কবি শহিদুজ্জামান ফিরোজ, জালাল উদ্দিন নলুয়া, রেজা ফারুক, পুলক হাসান, রানা প্রমিথিউস, দীপক ভৌমিক, নাসিম আফজাল, শাওন আসগর, আরিফ বুলবুল, নিতুপূর্ণা, মাকসুদ ইবনে রহমান, রনজতি কুমার, চঞ্চল মেহমুদ কাশেম, হাবিব সিদ্দিকী, জ্যোতির্ময় মানিক, মাসুদুল হাসান রনী, দর্পন কবীর, মোর্শেদ কমল, শ ম মোজাম্মেল ও রনজিত মোদকসহ আরও অনেকে।

তথ্যসূত্র : নারায়ণগঞ্জের সাহিত্যচর্চার আদি কথা (শাহেদ আলী মজনু)

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১
২৯ অক্টোবর, ২০২১