প্রযুক্তি সৃজনশীল ক্ষমতা খর্ব করে ভোগের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে: জাহেদ সরওয়ার
jugantor
প্রযুক্তি সৃজনশীল ক্ষমতা খর্ব করে ভোগের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে: জাহেদ সরওয়ার

  জুননু রাইন  

০৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭৬ সালের ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে একটি আধা জেলে আধা চাষি পরিবারে জন্ম। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকায় বেড়ে ওঠা। পিতা প্রয়াত আবুল ফজল, মাতা নুর আন কিজ। তিন সন্তানের জনক। আজীবন বোহিমিয়ান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হয়ে ঘুরেছেন পুরো দেশ। সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কবিতা গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ জীবনী মিলিয়ে প্রায় ১৮টি বইয়ের লেখক। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কিভাবে দেখেন?

: আমরা না চাইলেও প্রত্যেকটি বস্তু বা স্থানের একটা কেন্দ্র থাকে। ঢাকাকে বাংলাদেশের কেন্দ্র ধরলে দেখতে পাই- ছাপাছাপি বা বেশিরভাগ জাতীয় মানের প্রচারমাধ্যমগুলো ঢাকায়। একজন লেখক তার তৈরি লেখাকে যখন ছাপার জন্য দিতে চায়, তার দরকার হয় জাতীয় মানের ছোট-বড় পত্রিকা। তখন সে দেখে সেটা ঢাকায় বা কেন্দ্রে। সরাসরি পরিচিতির একটা ব্যাপার থাকে। তাই লেখক কেন্দ্রমুখী।

অনেক সময় দেখা গেছে আর্নেস্ট হেমিংওয়েরা বরং দেশ ছেড়ে বিদেশ বা ফ্রান্সে, কিউবায় গিয়ে লেখালেখি করেছেন। আমাদের ক্ষেত্রে কি এরকম দেখা যায়? বলা যায় বিদেশে গেলে তারা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। মফস্বলে কি কোনো লেখক বাস করে? হাতেগোনা কয়েকজন। কিন্তু এটা এরকম হওয়ার কথা না। কেন্দ্র আর প্রান্ত নয় লেখনীর শক্তিতেই লেখকের এগিয়ে যাওয়া উচিত।

বর্তমান সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: অভিজ্ঞতায় অনেকেই পোক্ত হলেও অভিজ্ঞতাকে যথাযতভাবে ব্যবহার করতে না পারার একটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অভিজ্ঞতা আছে তো সেটা প্রকাশ করার ভাষা নাই। ভাষা আছে হয়তো তার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নাই। প্রত্যেক মানুষের জীবনই আলাদা প্রক্রিয়ায় প্রবাহিত হয়। তার রস রূপ বা প্রকৃতিকে গ্রহণ করার স্বতন্ত্র পদ্ধতি থাকে। লেখক যদি নিউট্রাল থাকতে পারেন সে ক্ষেত্রে করাপটেট হওয়ার সুযোগ থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে সব কিছুতেই সরকারদলীয় কোনো ইসু বা বিষয়কে ক্রিয়েটিভ লেখার সঙ্গেও গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে হয়তো চাকরি বা ব্যবসায় ভালো করার সুযোগ আছে কিন্তু তাদের লেখাটাকে দূষিত করা হচ্ছে। মনে হয় না কারও গুণগান গাওয়াটা সাহিত্য। সাহিত্য বা সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক অর্থনীতির উপরি স্থর। বুদ্বুদ বা ফেনা। যা দেখে আমরা বুঝতে পারি তলায় কি হচ্ছে।

দীর্ঘজীবন অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

: সম্পর্কের ভালোবাসাটা একটু ভিন্ন। ধরি দুজন মানবমানবির সম্পর্ক। এটা তৈরি হয় একটা প্রাকৃতিক চুক্তির কারণে। মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর প্রধান কাজ হচ্ছে জিন ট্রান্সফার। মানে তার প্রজন্মের তার স্বজাতিকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে রাখা। তাই প্রজননের পর তার কাজ ফুরিয়ে যায়। রাস্তায় একটা মেয়েকে যখন আপনার ভালো লাগে বা একটা ছেলেকে। তখন আপনার আসলে মনে হয় এই সেই মানব-মানবী যার কাছে আমার জিন ভালো থাকবে। তো আপনি যখন তার হাতে একটা ফুল দিয়ে কোনো সন্ধ্যায় কোনো ম্রিয়মাণ রেস্তোরাঁয় বলেন আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন কিন্তু আসলে কথাটার মানে দাঁড়ায় আমি আপনার সঙ্গে উৎপাদনে যেতে চাই। ফুলটা দিয়ে কয়েকদিন হাতে হাত, চুমুটুমু আর বিছানা বিয়ের পর আপনারা দুএকজোড়া সন্তানের পিতামাতা। তখন ক্রাইসিসটা সামনে আসে আর তথাকথিত ভালোবাসা উবে যায়। সন্তান বা আপনার জিনকে নিরাপদে রাখা বা সামাজিক অর্থনৈতিক যাবতীয় নিরাপত্তা বিধানে আপনারা কোরবান।

আমাদের বর্তমান সাহিত্য প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: এক্ষেত্রে আগে সাহিত্যে সৌন্দর্য ও বিকৃতি বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত। সাহিত্যে নিজস্ব সৌন্দর্য বলতে বুঝি, তলস্তয়ের আনা কারেনিনা ফিকশনে আনা চরিত্রটি এটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান। বা বিভূতিভূষণের আরণ্যকে প্রকৃতি নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান। আবার কুপ্রিনের ইয়ামা এ হেল হোলে পতিতালয়ের যে সমাজ বা রাজনীতি সেটা প্রায় বিকৃতির পর্যায়ে যায়। সমাজে একই সঙ্গে সৌন্দর্য আর বিকৃতি হাতে হাত ধরে চলে। বিকৃতি আসলে সৌন্দর্যেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। সমাজ যখন বিকৃতিতে ভরে যায় তখন সৌন্দর্য খোঁজা বৃথা। রাজনৈতিক কারণে এখন বিকৃতি সবখানেই। সেটা খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়। আমরা যদি সুবিমল মিশ্র পড়ি বা সন্দীপন, তাদের লেখায় সৌন্দর্য থেকে বিকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়ার ধারা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু যে সমাজ বিকৃতিতে ভরা সেখানে সৌন্দর্য খোঁজা আরেক বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে।

আপনার জেলার সাহিত্যকর্মের বর্তমান অবস্থা?

: এখানে সিংহভাগই লোকদেখানো আর ষড়যন্ত্রের সাহিত্য। এরা সবসময় অস্তিত্বহীনতায় ভোগে। ধরেন একটা কবিতা পাঠের আসর হবে তো এই আসর করার দায়িত্ব যাদের দেওয়া হলো দেখা যাবে তারা বেছে বেছে অপেক্ষাকৃত ভালো কবিসাহিত্যিকদের এড়িয়ে যাবে তাদের ভয় এতে তাদের মান নেমে যাবে। ধরেন একজনের উদ্যোগে একটা বইমেলা হবে তিনি তার পছন্দের কয়েকজনের বই নিয়ে মেলাটা করবেন অন্যদের বই নিবেন না কারণ এতে তার নিজের বইয়ের মূল্য কমে যাবে। ধরেন একটা জায়গায় কক্সবাজারের দু-চারজন কবির কবিতা ছাপা হলো এক্ষেত্রে যারা যার গ্রুপের কবিদের কবিতা যদি নাও হয় তারা বাহবা দিতে থাকবে। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে কবিতা সাহিত্যকে বিচার করার ক্ষমতা কক্সবাজারের সাহিত্যিকরা অর্জন করে নাই। এটা হচ্ছে পড়াশোনা না করা আর অভিজ্ঞতা না থাকার ফল।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের একটা অংশ যার নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাদের হাতে, একে থামানোর ক্ষমতা কারও নাই। সে তাদের ইচ্ছা মতো বিকষিত হবেই। কথা হচ্ছে তাকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি। মানুষের একটা বেসিক জায়গা হচ্ছে যোগাযোগ, প্রযুক্তির কল্যাণে সেটা অনেক সহজ হয়েছে। যার হাতে একটা স্মার্টফোন আছে সে অনেকটা উন্মাদের মতো আচরণ করে সে সবকিছু ভুলে এটায় সেঁটে থাকে। কোনো ক্রিয়েটিভ একজন মানুষকে যদি আপনি এটা এক বছর চালাতে দেন তাহলে এরপর দেখবেন সে এক বছর আগে যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে স্মার্টফোন দেখছে। প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতাকে খর্ব করে ভোগের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

বর্তমান রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: রাষ্ট্র একটা বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান, ফরাসি দেশে ব্যবসায়ীদের বলা হতো বুর্জোয়া। এই বুর্জোয়ারা মূলত পণ্যের ব্রোকারি করত। একদেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য বিক্রি করত তাদেরও প্রচুর পরিমাণে কর দিতে হতো সামন্তীয় রাজাদের। যেহেতু এরা ব্যবসায়ী কোনো কোনো সামন্ত রাজারা এদের ওপর নির্ভর করত যখন তাদের পণ্য বা মুদ্রা প্রয়োজন হতো। ক্ষমতার খুব কাছে চলে আসায় এরা নিজেরাও ক্ষমতাবান হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এবং ব্যবসার মতো এই রাষ্ট্রও তারা দখল করতে সফল হয়। তখন থেকেই বুর্জোয়া রাষ্ট্রের শুরু। কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বদলায় না এটা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কর বাড়তে থাকে। কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সেবা চায়। জনগণ কি পরিমাণ কর দিচ্ছে তার বিনিময়ে রাষ্ট্র কি পরিমাণ সেবা দিচ্ছে সেটাই রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। রাষ্ট্রের উচিত জনগণের কাম্য সেবা তাদের প্রধান করা।

প্রযুক্তি সৃজনশীল ক্ষমতা খর্ব করে ভোগের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে: জাহেদ সরওয়ার

 জুননু রাইন 
০৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭৬ সালের ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে একটি আধা জেলে আধা চাষি পরিবারে জন্ম। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকায় বেড়ে ওঠা। পিতা প্রয়াত আবুল ফজল, মাতা নুর আন কিজ। তিন সন্তানের জনক। আজীবন বোহিমিয়ান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হয়ে ঘুরেছেন পুরো দেশ। সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কবিতা গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ জীবনী মিলিয়ে প্রায় ১৮টি বইয়ের লেখক। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কিভাবে দেখেন?

: আমরা না চাইলেও প্রত্যেকটি বস্তু বা স্থানের একটা কেন্দ্র থাকে। ঢাকাকে বাংলাদেশের কেন্দ্র ধরলে দেখতে পাই- ছাপাছাপি বা বেশিরভাগ জাতীয় মানের প্রচারমাধ্যমগুলো ঢাকায়। একজন লেখক তার তৈরি লেখাকে যখন ছাপার জন্য দিতে চায়, তার দরকার হয় জাতীয় মানের ছোট-বড় পত্রিকা। তখন সে দেখে সেটা ঢাকায় বা কেন্দ্রে। সরাসরি পরিচিতির একটা ব্যাপার থাকে। তাই লেখক কেন্দ্রমুখী।

অনেক সময় দেখা গেছে আর্নেস্ট হেমিংওয়েরা বরং দেশ ছেড়ে বিদেশ বা ফ্রান্সে, কিউবায় গিয়ে লেখালেখি করেছেন। আমাদের ক্ষেত্রে কি এরকম দেখা যায়? বলা যায় বিদেশে গেলে তারা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। মফস্বলে কি কোনো লেখক বাস করে? হাতেগোনা কয়েকজন। কিন্তু এটা এরকম হওয়ার কথা না। কেন্দ্র আর প্রান্ত নয় লেখনীর শক্তিতেই লেখকের এগিয়ে যাওয়া উচিত।

বর্তমান সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: অভিজ্ঞতায় অনেকেই পোক্ত হলেও অভিজ্ঞতাকে যথাযতভাবে ব্যবহার করতে না পারার একটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। অভিজ্ঞতা আছে তো সেটা প্রকাশ করার ভাষা নাই। ভাষা আছে হয়তো তার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নাই। প্রত্যেক মানুষের জীবনই আলাদা প্রক্রিয়ায় প্রবাহিত হয়। তার রস রূপ বা প্রকৃতিকে গ্রহণ করার স্বতন্ত্র পদ্ধতি থাকে। লেখক যদি নিউট্রাল থাকতে পারেন সে ক্ষেত্রে করাপটেট হওয়ার সুযোগ থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে সব কিছুতেই সরকারদলীয় কোনো ইসু বা বিষয়কে ক্রিয়েটিভ লেখার সঙ্গেও গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে হয়তো চাকরি বা ব্যবসায় ভালো করার সুযোগ আছে কিন্তু তাদের লেখাটাকে দূষিত করা হচ্ছে। মনে হয় না কারও গুণগান গাওয়াটা সাহিত্য। সাহিত্য বা সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনৈতিক অর্থনীতির উপরি স্থর। বুদ্বুদ বা ফেনা। যা দেখে আমরা বুঝতে পারি তলায় কি হচ্ছে।

দীর্ঘজীবন অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?

: সম্পর্কের ভালোবাসাটা একটু ভিন্ন। ধরি দুজন মানবমানবির সম্পর্ক। এটা তৈরি হয় একটা প্রাকৃতিক চুক্তির কারণে। মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর প্রধান কাজ হচ্ছে জিন ট্রান্সফার। মানে তার প্রজন্মের তার স্বজাতিকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে রাখা। তাই প্রজননের পর তার কাজ ফুরিয়ে যায়। রাস্তায় একটা মেয়েকে যখন আপনার ভালো লাগে বা একটা ছেলেকে। তখন আপনার আসলে মনে হয় এই সেই মানব-মানবী যার কাছে আমার জিন ভালো থাকবে। তো আপনি যখন তার হাতে একটা ফুল দিয়ে কোনো সন্ধ্যায় কোনো ম্রিয়মাণ রেস্তোরাঁয় বলেন আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন কিন্তু আসলে কথাটার মানে দাঁড়ায় আমি আপনার সঙ্গে উৎপাদনে যেতে চাই। ফুলটা দিয়ে কয়েকদিন হাতে হাত, চুমুটুমু আর বিছানা বিয়ের পর আপনারা দুএকজোড়া সন্তানের পিতামাতা। তখন ক্রাইসিসটা সামনে আসে আর তথাকথিত ভালোবাসা উবে যায়। সন্তান বা আপনার জিনকে নিরাপদে রাখা বা সামাজিক অর্থনৈতিক যাবতীয় নিরাপত্তা বিধানে আপনারা কোরবান।

আমাদের বর্তমান সাহিত্য প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: এক্ষেত্রে আগে সাহিত্যে সৌন্দর্য ও বিকৃতি বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত। সাহিত্যে নিজস্ব সৌন্দর্য বলতে বুঝি, তলস্তয়ের আনা কারেনিনা ফিকশনে আনা চরিত্রটি এটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান। বা বিভূতিভূষণের আরণ্যকে প্রকৃতি নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান। আবার কুপ্রিনের ইয়ামা এ হেল হোলে পতিতালয়ের যে সমাজ বা রাজনীতি সেটা প্রায় বিকৃতির পর্যায়ে যায়। সমাজে একই সঙ্গে সৌন্দর্য আর বিকৃতি হাতে হাত ধরে চলে। বিকৃতি আসলে সৌন্দর্যেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। সমাজ যখন বিকৃতিতে ভরে যায় তখন সৌন্দর্য খোঁজা বৃথা। রাজনৈতিক কারণে এখন বিকৃতি সবখানেই। সেটা খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়। আমরা যদি সুবিমল মিশ্র পড়ি বা সন্দীপন, তাদের লেখায় সৌন্দর্য থেকে বিকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়ার ধারা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু যে সমাজ বিকৃতিতে ভরা সেখানে সৌন্দর্য খোঁজা আরেক বিকৃতির পর্যায়ে পড়ে।

আপনার জেলার সাহিত্যকর্মের বর্তমান অবস্থা?

: এখানে সিংহভাগই লোকদেখানো আর ষড়যন্ত্রের সাহিত্য। এরা সবসময় অস্তিত্বহীনতায় ভোগে। ধরেন একটা কবিতা পাঠের আসর হবে তো এই আসর করার দায়িত্ব যাদের দেওয়া হলো দেখা যাবে তারা বেছে বেছে অপেক্ষাকৃত ভালো কবিসাহিত্যিকদের এড়িয়ে যাবে তাদের ভয় এতে তাদের মান নেমে যাবে। ধরেন একজনের উদ্যোগে একটা বইমেলা হবে তিনি তার পছন্দের কয়েকজনের বই নিয়ে মেলাটা করবেন অন্যদের বই নিবেন না কারণ এতে তার নিজের বইয়ের মূল্য কমে যাবে। ধরেন একটা জায়গায় কক্সবাজারের দু-চারজন কবির কবিতা ছাপা হলো এক্ষেত্রে যারা যার গ্রুপের কবিদের কবিতা যদি নাও হয় তারা বাহবা দিতে থাকবে। নিরপেক্ষ জায়গা থেকে কবিতা সাহিত্যকে বিচার করার ক্ষমতা কক্সবাজারের সাহিত্যিকরা অর্জন করে নাই। এটা হচ্ছে পড়াশোনা না করা আর অভিজ্ঞতা না থাকার ফল।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক বিবর্তনের একটা অংশ যার নিয়ন্ত্রণ পুঁজিবাদের হাতে, একে থামানোর ক্ষমতা কারও নাই। সে তাদের ইচ্ছা মতো বিকষিত হবেই। কথা হচ্ছে তাকে আমরা কিভাবে ব্যবহার করতে পারি। মানুষের একটা বেসিক জায়গা হচ্ছে যোগাযোগ, প্রযুক্তির কল্যাণে সেটা অনেক সহজ হয়েছে। যার হাতে একটা স্মার্টফোন আছে সে অনেকটা উন্মাদের মতো আচরণ করে সে সবকিছু ভুলে এটায় সেঁটে থাকে। কোনো ক্রিয়েটিভ একজন মানুষকে যদি আপনি এটা এক বছর চালাতে দেন তাহলে এরপর দেখবেন সে এক বছর আগে যেখানে ছিল সেখানেই দাঁড়িয়ে স্মার্টফোন দেখছে। প্রযুক্তি মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতাকে খর্ব করে ভোগের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

বর্তমান রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: রাষ্ট্র একটা বুর্জোয়া প্রতিষ্ঠান, ফরাসি দেশে ব্যবসায়ীদের বলা হতো বুর্জোয়া। এই বুর্জোয়ারা মূলত পণ্যের ব্রোকারি করত। একদেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য বিক্রি করত তাদেরও প্রচুর পরিমাণে কর দিতে হতো সামন্তীয় রাজাদের। যেহেতু এরা ব্যবসায়ী কোনো কোনো সামন্ত রাজারা এদের ওপর নির্ভর করত যখন তাদের পণ্য বা মুদ্রা প্রয়োজন হতো। ক্ষমতার খুব কাছে চলে আসায় এরা নিজেরাও ক্ষমতাবান হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এবং ব্যবসার মতো এই রাষ্ট্রও তারা দখল করতে সফল হয়। তখন থেকেই বুর্জোয়া রাষ্ট্রের শুরু। কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বদলায় না এটা আরও জটিল হয়ে ওঠে। কর বাড়তে থাকে। কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সেবা চায়। জনগণ কি পরিমাণ কর দিচ্ছে তার বিনিময়ে রাষ্ট্র কি পরিমাণ সেবা দিচ্ছে সেটাই রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। রাষ্ট্রের উচিত জনগণের কাম্য সেবা তাদের প্রধান করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১