অবহেলিত জনপদের সাহিত্যের কথা
jugantor
কুড়িগ্রাম জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন
অবহেলিত জনপদের সাহিত্যের কথা

  এস.এম.আব্রাহাম লিংকন  

১৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রাম নামটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথেই মানুষের মনে একটা ছবি ভেসে ওঠে। বন্যা, অভাব, শীত আর খড়ায় ভাঙা থালি আর ছেড়া থলে হাতে পথে ঘাটে মানুষের আহাজারীর নামই কুড়িগ্রাম। আসলে চিত্রটা যে ভিন্ন সেখবর শহরের ভদ্রপাড়ায় খুব একটা পৌঁছায়নি। প্রযুক্তির সুবাদে এখন দু’চারজনের কথা সামনে চলে এলেও বাকিরা এখনো গহিণে লুকিয়েই আছেন।

আমাদের কাছে খবর নেই কুড়িগ্রামেরই সন্তান শ্রীকৃষ্ণ জীবন দাসের লেখালেখির কথা। তিনি ছিলেন রাজা রামকৃষ্ণের সভাসদ। তাঁর লেখা ‘দূর্গামঙ্গল’ বা অম্বিকামঙ্গল ১২২৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। বহুল আলোচিত ‘ভগবতির শতনাম’ পালাগানটি কুড়িগ্রামের বাহারবন্দ পরগনার উলিপুর থেকে ১২৪৩ বঙ্গাব্দে আবিস্কৃত হয়। এ সকল গান হিন্দু মুসলিম উভয় কুলের গিদালগন পরিবেশণ করতেন। নদী ঘেড়া রৌমারীর কশব উদ্দিন মোক্তার সাহিত্যে অবদান রাখেন। তার প্রকাশিত একটি পুস্তক ব্রিটিশরাজ বেআইনী ঘোষণা করেছিল।

সৈয়দ শামসুল হকের কথা আমরা জানি। পা ফাটা দাদওয়ালা জনপদ থেকে ঢাকায় আশ্রিত হওয়া একজন কিশোর ঢাকার তাবদ জাদরেলেদের ছাপিয়ে সেই ষাটের দশকেই প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। তাঁর কৃত সাহিত্য তাঁর অনুকুলে অন্যদের জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরুস্কার তাঁর হাতে উঠেছিল। যাঁর ঝুলিতে স্বাধীনতা পদকসহ দেশের সবগুলো সর্বোচ্চ বেসরকারি পদক। তাঁর পিতা চিকিৎসক সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন নিজেও লিখতেন। সেই যুগে তিনি চিকিৎসা ও সামাজিক বিষয় নিয়ে ছ/সাতখানা পুস্তক লিখেছিলেন।

লালসালুখ্যাত সৈয়দ ওয়ালিউল্যাহ এই কুড়িগ্রামে তাঁর বালক বেলায় সাহিত্যের সূচনা করেছিলেন। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত কুড়িগ্রাম শহরে পড়ালেখা করেছেন। কবি শেখর কালিদাস এই কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৯২০ থেকে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২০ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অধিবেশনে তিনি উলিপুরের মহারানী সত্যবতীর জীবনী অবলম্বনে একটি অনন্য কবিতা লিখে উপস্থিত সকলকে চমৎকৃত করেছিলেন।

কুড়িগ্রামের উত্তর সীমান্তে ভূরুঙ্গামারীর তিলাই ইউনিয়নে জন্ম কবি আব্দুল হাই সিকদারের। যিনি কবিতা ও নজরুল গবেষণায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি। স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী বিশিষ্ট যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গারকাজি জাকির হাসান চন্দন। যিনি বাংলাদেশ বেতারের স্ক্রপিট রাইটার ছিলেন। তিনি সারাদেশের বেতার শিল্পীদের জীবনী লিখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের মুখ্য পান্ডুলিপিকার ছিলেন। তাঁর পনেরটির অধিক বই ছিল।

আমাদের ভাওইয়া ভাষাকে এপার বাংলা ওপার বাংলার আমজনতাই সমৃদ্ধ করেছেন। আমাদের এ জনপদের হাজারো জননীর তাঁর সন্তানকে শৈশবে বলা গল্পগুলোকে সংকলিত করলে তা হবে সহস কোটি শব্দের সমৃদ্ধ সাহিত্য। জননীরাই আমাদের জীবনে প্রথম কথাসাহিত্যিক। জননীর ভাওয়াইয়া ভাষাকে ধরে এ অঞ্চলে যাঁরা গান কবিতা বেধেছেন তাদের মধ্যে সেরাদের সেরা আব্বাস উদ্দীন, সৈয়দ শামসুল হক, ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিমুদ্দিন, নূরল ইসলাম জাহিদ। এরপরে যাঁরা অবদান রাখেন তাঁরা হলেন হোসেন আলী মংলা, খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট, গোলজার হোসেন, শফি ভাওয়াইয়া, মদন চন্দ্র, মানবেদ্র রায়, মোহাম্মদ শাহ আলম খন্দকার, কুড়িগ্রামের সীমান্ত ঘিষে থাকা নীলকমল মিশ্রজীবন পোড়ে তুষের আগুনের জনক, রংপুরের ভাওয়াইয়া গ্রন্থের লেখক তদীয়ভ্রাতা রবীন্দ্রনাথ মিশ্র, উলিপুরেরভূপতি ভূষণ বর্মণ, রুপু মজুমদার, পঞ্চানন রায়, রাজারহাটের মজিবর রহমান, অনন্ত কুমার দেব, কৃপাসিন্দু রায়, নাজমুল ইসলাম, চিলমারীর বিষাদ চন্দ্র বর্মন, ফুলবাড়ির তৌহিদ উল ইসলাম, চিলমারীর ভবতর বর্মণ প্রমুখ। ভাওয়াইয়া কবিতায় এস এম আব্রাহাম লিংকন যার শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই ভাওয়াইয়া স্বরে বঙ্গবন্ধু নামে একটি বিশেষ কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তিনি মূলতই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেন। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস: রংপুর, ১৯৭১ ইপিআরের সেইসব বরেণ্য যোদ্ধাগণ, একাত্তরের অগ্রদূত, উত্তর রণাঙ্গণে সংখ্যালঘু গণহত্যা ও নারী নির্যাতন, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস: কুড়িগ্রাম জেলাসহ একাধিক গ্রন্থ ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞানকোষসহ একাধিক যৌথগ্রন্থ নানা প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের জনপদের ভাষায় রচিত নাটক আজ পৃথিবীখ্যাত। সৈয়দ হকের নুরলদীনের সারা জীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। গোলাম সারোয়ারের ভদ্রোরনোক উল্লেখযোগ্য। অনন্ত কুমার রায় কুড়িগ্রাম জেলার লোকজ সংস্কৃতির ওপর বাংলা একাডেমির সাথে কাজ করেছেন। কুড়িগ্রামের লোক সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর একটি যৌথ প্রকাশনা রয়েছে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালেও এখানে সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা হয়েছে যেখানে দেবব্রত বকসী বুলবুল, অধ্যাপক বলাই চন্দ্র বিশেষ ভূমিকা রাখেন। একাত্তরে রৌমারী রণাঙ্গণ থেকে প্রকাশিত হাতে লেখা অগ্রদূত পত্রিকায় কবির আসরে নিয়মিত লিখতেন বীরমুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন, আব্দুস সামাদ মোঘল। একাত্তরে যুদ্ধের বাঙ্কারে যৌথ কবিতা লিখতেন মেজর আ্দুস সালাম, হারুন অর রশিদ লাল। হারুন অর রশিদ লাল, জাহেদুল হক মিলু যুদ্ধের পরবর্তী সময়েও কবিতায় বেশ ভূমিকা রাখেন। তাদের হাত ধরে বেশকিছু প্রগতিশীল সাহিত্য কর্মী তৈরি হয়। একদা দাপুটে সাংবাদিক আমান উদ দৌলা নিয়মিত কতিা লিখতেন, তাঁর বিখ্যাত কবিতা- একাত্তরের লাল রঙের ট্রেনটায় চড়ে যে ত্রিশ লাখ যাত্রী চলে গেল। এ কবিতাটি জাতীয় ভাবে পুরস্কৃত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বৈরী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রামে একদল সাহিত্য রচয়িতার বিকাশ হয় যাদের মধ্যে জ্যোতি আহমেদ যিনি এখনো লিখেন, বাদল আহমেদ, মতিউর রহমান মানিক, মানিক চৌধুরী, ছালেহ আহমেদ মজনু, আফরোজা হক লিনা, নাজমুন নাহার বিজলী, মঞ্চুরী বোস, দুলাল বোস, ইমতে আহসান শিলু, শ্যামল ভৌমিক, ফারাহদীবা ইয়াসমীন গ্লোরী, নেজামুল হক বিলু, আমিনুল রহমান আলম, ছানা লাল বকসী, মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, মতলুবুর রহমান খান শফি, মঞ্জুরুল ইসলাম মণি, শামীমা আক্তার জেমিন, আশি ও নব্বইয়ের পর এসে প্রধন কবি হিসেবে জায়গা করে নেন কবি মিজান খন্দকার, জ্যোতি আহমেদ, সোলায়মান বাবুল। পিছনে পিছনে এগিয়ে আসেন নিউইয়র্ক নিবাসী চিলমারীর আবু রায়হান যাঁর অনেক গল্প ও পুঁথি কবিতা রয়েছে। হৈমন্তি শুক্লা, সুবীর নন্দীর মতন শিল্পীরা তার রচিত গান গেয়েছেন।

নাগেশ্বরীর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান হৃদয় কবিতা লিখার পাশাপাশি সম্পাদনা করছেন ‘দ্বিমাসিক উচ্ছাস’ সাহিত্য পত্রিকা।

কুড়িগ্রামের হাবিবুর রহমান ছড়া ও কবিতা লিখছেন দীর্ঘদিন ধরে। কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নীলু, সাবেক সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক, আশীষ বকসী নিয়মিত কবিতা লিখতেন। আব্দুল খালেক ফারুকের ফেলানি, গোলামের দরবারসহ একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। নাহিদ হাসান নলেজ জনহিতকর লড়াইসহ নিয়মিত কলাম লেখেন। বাদশাহ সৈকত একাধিক কাব্যগ্রন্থের লেখক। হুমায়ুন কবির সূর্য একাধিক ছোট গল্প ও উপন্যাসের লেখক।

উত্তরের অগ্নিকালের লেখক হেলাল জাহাঙ্গীর, যাঁর রচিত একাধিক নাটক আলোচিত ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

ফরিদা ইয়াসমীন বেবী, ইউসুফ আলমগীর, আলমগীর কবির বাবলু, রাজু মোস্তাফিজ, সুশান্ত বর্মণ, হাল সময়ে সাম্য রাইয়ান, বুদ্ধদেব সরখেল, মাইকেল রবিন সরকার নিয়মিত লিখছেন। নাগেশ্বরীর পয়রাডাঙ্গার অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষক, বাংলাদেশ বেতারের গুণী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুব্রত ভট্টাচার্য লিখে চলেছেন ‘সুন্দর হয়ে এসো করি সুন্দর’ চিন্তা চেতনার মধ্যদিয়ে। তাঁর ভাই বাংলার অধ্যাপক বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন ‘রবীন্দ্র নাট্যধারার প্রথম পর্যায়’ ও ‘রবীন্দ্রনাথঃ অভিন্ন ভাবনার ভিন্ন উপস্থাপন’। এছাড়াও তিনি রচনা করেছেন ‘কমরেড মণি সিংহের সংক্ষিপ্ত জীবনী’, কাব্যগ্রন্থ ‘সমাবিষ্ট স্বপ্নের সমূহ পতন’। নাগেশ্বরীর সন্তোষপুরের মারুফ হোসেন মাহাবুব সংস্কৃতি চর্চা, কবিতা ও গল্প রচনা করে চলেছেন একাধারে, বাবলা মন্ডল কবিতা ও গান রচনা করছেন দীর্ঘকাল ধরে। চমৎকার কবিতা ও গল্প লিখছেন ভুরুঙ্গামারীর আন্ধারীঝাড়ের লেখক ও চিত্রশিল্পী আইয়ুব আল আমিন। তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘কামনা বাসনালয়’ প্রশংসা কুড়িয়েছে। উলিপুরের আবু হেনা মোস্তফা ইতিহাসের লেখক, চিলমারীর নাজমুল হুদা পারভেজ, মাইদুল ইসলাম, বেলাল হোসেন আকছেদ, জিয়াউল হক সরকার, বশির আহমেদ, নয়ন ঝড়, রাজারহাটের আবু সাঈদ মোল্লা প্রমুখ ইতিহাস, গল্প কবিতা সবই লিখেন। পারভেজের একাধিক পুস্তক রয়েছে। কুড়িগ্রমের সন্তানেরা যাঁরা বিভিন্নি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে ড. তুহিন ওয়াদুদ নিয়মিত কলাম ছাড়াও সাহিত্য সমালোচনা ও নদী নিয়ে লিখেন। মাখন চন্দ্র রায়, আবু সুফিয়ান সম্রাট নিয়মিত গবেষণা মূলক কাজ ও প্রকাশনা করেন। বরেণ্য আর্কিউলজিস্ট সুফি মোস্তাফিজুর রহমান যার পুরাকৃর্তির ওপর কাজ ও ব্যাপক প্রকাশনা রয়েছে। প্রফেসর মোজাম্মেল হকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওপর একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিব মাসুদ ও রেজানুর রহমান এর বেশকিছু প্রকাশনা আছে। শেখ রোকন নদী নিয়ে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষনা এবং লেখালেখি করে চলেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আইনুল ইসলামের অর্থনীতির ওপর বেশ কয়েকটি প্রকাশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাখন চন্দ্র রায় আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন। এ সংক্রান্তে তাঁর একাধিক পুস্তক রয়েছে। ড. এরশাদুল হক তাঁরও একাধিক পুস্তুক আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আছে। নব্বই দশকের পর বেশ কয়েকটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে জনাব মোস্তফা তোফায়েল হোসেনের। তিনি কবিতাও লিখেন। কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা। জোর্তিময় রুদ্র নিধু সম্প্রতি শত বছরের কুড়িগ্রাম শহর নামে একটি মূল্যবান পুস্তুক প্রকাশ করেছেন।

এই জনপদে পাকিস্তান যুগে সাহিত্যে অবদান ছিল আশরাফ চৌধুরী, এডভোকেট আব্দুল করিম সরকারের। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবদান রেখে গেছেন প্রয়াত শিক্ষ আব্দুল হামিদ যিনি শ্রীবাস্তব নামে লিখতেন। তাঁর কুড়িগ্রামের নামকরণের ইতিহাস লেখাটি বহুভাবে সমাদৃত। কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সামিউল হক নান্টু, সনেট লিখতেন মোস্তাাফিজুর রহমান তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ধরলার তীরে’। প্রফেসর আবু বকর সিদ্দিক নিয়মিত লিখতেন, ষাটের দশকে তার সম্পাদনায় কলতান পত্রিকা প্রকাশ হতো। একাত্তরের শহিদ কবি মাহাতাব উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও স্টেশনে শহিদ), আব্দুল আহাদ, সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন প্রমুখ লিখতেন। ভূরুঙ্গামারীর ভান্ডারী প্রেসের ভান্ডারী সাহেব নিয়মিত লিখতেন ও পত্রিকা বেড় করতেন। সরকার মাসুদ, শাহাজাদা বসুনিয়া, সজল সমুদ্র, মাহবুব অনিন্দ্য সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। শাহাজাদা বসুনিয়ার পিতা হায়দার আলী বসুনিয়া পিতা পুত্র সাহিত্যিক তাঁদের দুজনের অর্ধ শতকের বেশি কাব্য ও উপন্যাস রয়েছে। হায়দার আলী বসুনিয়া একদম নিভৃতচারী। রাজারহাটের গ্রামে এই বাধ্যক্যকালেও লিখেই চলেছেন।

এখনো অনেক তরুন যুবা বৃদ্ধরা লিখেই চলেছেন যাঁদের নাম আমরা এখনো জানিনা অথছ তাঁরা অবদান রেখেই চলেছেন। এই মাতৃভূমি ভাওয়াইয়ার আকরভূমের অনিচ্ছাকৃত যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নিশ্চয়ই আগামীতে তারাও যুক্ত হবেন। তাঁদের অবদানে সমৃদ্ধ হোক আমাদের অবহেলিত জনপদের মাটি ও মানুষ।

কুড়িগ্রাম জেলার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ আয়োজন

অবহেলিত জনপদের সাহিত্যের কথা

 এস.এম.আব্রাহাম লিংকন 
১৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রাম নামটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথেই মানুষের মনে একটা ছবি ভেসে ওঠে। বন্যা, অভাব, শীত আর খড়ায় ভাঙা থালি আর ছেড়া থলে হাতে পথে ঘাটে মানুষের আহাজারীর নামই কুড়িগ্রাম। আসলে চিত্রটা যে ভিন্ন সেখবর শহরের ভদ্রপাড়ায় খুব একটা পৌঁছায়নি। প্রযুক্তির সুবাদে এখন দু’চারজনের কথা সামনে চলে এলেও বাকিরা এখনো গহিণে লুকিয়েই আছেন।

আমাদের কাছে খবর নেই কুড়িগ্রামেরই সন্তান শ্রীকৃষ্ণ জীবন দাসের লেখালেখির কথা। তিনি ছিলেন রাজা রামকৃষ্ণের সভাসদ। তাঁর লেখা ‘দূর্গামঙ্গল’ বা অম্বিকামঙ্গল ১২২৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। বহুল আলোচিত ‘ভগবতির শতনাম’ পালাগানটি কুড়িগ্রামের বাহারবন্দ পরগনার উলিপুর থেকে ১২৪৩ বঙ্গাব্দে আবিস্কৃত হয়। এ সকল গান হিন্দু মুসলিম উভয় কুলের গিদালগন পরিবেশণ করতেন। নদী ঘেড়া রৌমারীর কশব উদ্দিন মোক্তার সাহিত্যে অবদান রাখেন। তার প্রকাশিত একটি পুস্তক ব্রিটিশরাজ বেআইনী ঘোষণা করেছিল।

সৈয়দ শামসুল হকের কথা আমরা জানি। পা ফাটা দাদওয়ালা জনপদ থেকে ঢাকায় আশ্রিত হওয়া একজন কিশোর ঢাকার তাবদ জাদরেলেদের ছাপিয়ে সেই ষাটের দশকেই প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। তাঁর কৃত সাহিত্য তাঁর অনুকুলে অন্যদের জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরুস্কার তাঁর হাতে উঠেছিল। যাঁর ঝুলিতে স্বাধীনতা পদকসহ দেশের সবগুলো সর্বোচ্চ বেসরকারি পদক। তাঁর পিতা চিকিৎসক সৈয়দ সিদ্দিক হোসেন নিজেও লিখতেন। সেই যুগে তিনি চিকিৎসা ও সামাজিক বিষয় নিয়ে ছ/সাতখানা পুস্তক লিখেছিলেন।

লালসালুখ্যাত সৈয়দ ওয়ালিউল্যাহ এই কুড়িগ্রামে তাঁর বালক বেলায় সাহিত্যের সূচনা করেছিলেন। তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত কুড়িগ্রাম শহরে পড়ালেখা করেছেন। কবি শেখর কালিদাস এই কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৯২০ থেকে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২০ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অধিবেশনে তিনি উলিপুরের মহারানী সত্যবতীর জীবনী অবলম্বনে একটি অনন্য কবিতা লিখে উপস্থিত সকলকে চমৎকৃত করেছিলেন।

কুড়িগ্রামের উত্তর সীমান্তে ভূরুঙ্গামারীর তিলাই ইউনিয়নে জন্ম কবি আব্দুল হাই সিকদারের। যিনি কবিতা ও নজরুল গবেষণায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি। স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী বিশিষ্ট যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গারকাজি জাকির হাসান চন্দন। যিনি বাংলাদেশ বেতারের স্ক্রপিট রাইটার ছিলেন। তিনি সারাদেশের বেতার শিল্পীদের জীবনী লিখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের মুখ্য পান্ডুলিপিকার ছিলেন। তাঁর পনেরটির অধিক বই ছিল।

আমাদের ভাওইয়া ভাষাকে এপার বাংলা ওপার বাংলার আমজনতাই সমৃদ্ধ করেছেন। আমাদের এ জনপদের হাজারো জননীর তাঁর সন্তানকে শৈশবে বলা গল্পগুলোকে সংকলিত করলে তা হবে সহস কোটি শব্দের সমৃদ্ধ সাহিত্য। জননীরাই আমাদের জীবনে প্রথম কথাসাহিত্যিক। জননীর ভাওয়াইয়া ভাষাকে ধরে এ অঞ্চলে যাঁরা গান কবিতা বেধেছেন তাদের মধ্যে সেরাদের সেরা আব্বাস উদ্দীন, সৈয়দ শামসুল হক, ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিমুদ্দিন, নূরল ইসলাম জাহিদ। এরপরে যাঁরা অবদান রাখেন তাঁরা হলেন হোসেন আলী মংলা, খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট, গোলজার হোসেন, শফি ভাওয়াইয়া, মদন চন্দ্র, মানবেদ্র রায়, মোহাম্মদ শাহ আলম খন্দকার, কুড়িগ্রামের সীমান্ত ঘিষে থাকা নীলকমল মিশ্রজীবন পোড়ে তুষের আগুনের জনক, রংপুরের ভাওয়াইয়া গ্রন্থের লেখক তদীয়ভ্রাতা রবীন্দ্রনাথ মিশ্র, উলিপুরেরভূপতি ভূষণ বর্মণ, রুপু মজুমদার, পঞ্চানন রায়, রাজারহাটের মজিবর রহমান, অনন্ত কুমার দেব, কৃপাসিন্দু রায়, নাজমুল ইসলাম, চিলমারীর বিষাদ চন্দ্র বর্মন, ফুলবাড়ির তৌহিদ উল ইসলাম, চিলমারীর ভবতর বর্মণ প্রমুখ। ভাওয়াইয়া কবিতায় এস এম আব্রাহাম লিংকন যার শুধু বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই ভাওয়াইয়া স্বরে বঙ্গবন্ধু নামে একটি বিশেষ কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তিনি মূলতই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেন। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস: রংপুর, ১৯৭১ ইপিআরের সেইসব বরেণ্য যোদ্ধাগণ, একাত্তরের অগ্রদূত, উত্তর রণাঙ্গণে সংখ্যালঘু গণহত্যা ও নারী নির্যাতন, মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস: কুড়িগ্রাম জেলাসহ একাধিক গ্রন্থ ও এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের জ্ঞানকোষসহ একাধিক যৌথগ্রন্থ নানা প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের জনপদের ভাষায় রচিত নাটক আজ পৃথিবীখ্যাত। সৈয়দ হকের নুরলদীনের সারা জীবন, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। গোলাম সারোয়ারের ভদ্রোরনোক উল্লেখযোগ্য। অনন্ত কুমার রায় কুড়িগ্রাম জেলার লোকজ সংস্কৃতির ওপর বাংলা একাডেমির সাথে কাজ করেছেন। কুড়িগ্রামের লোক সংস্কৃতি নিয়ে তাঁর একটি যৌথ প্রকাশনা রয়েছে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালেও এখানে সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা হয়েছে যেখানে দেবব্রত বকসী বুলবুল, অধ্যাপক বলাই চন্দ্র বিশেষ ভূমিকা রাখেন। একাত্তরে রৌমারী রণাঙ্গণ থেকে প্রকাশিত হাতে লেখা অগ্রদূত পত্রিকায় কবির আসরে নিয়মিত লিখতেন বীরমুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন, আব্দুস সামাদ মোঘল। একাত্তরে যুদ্ধের বাঙ্কারে যৌথ কবিতা লিখতেন মেজর আ্দুস সালাম, হারুন অর রশিদ লাল। হারুন অর রশিদ লাল, জাহেদুল হক মিলু যুদ্ধের পরবর্তী সময়েও কবিতায় বেশ ভূমিকা রাখেন। তাদের হাত ধরে বেশকিছু প্রগতিশীল সাহিত্য কর্মী তৈরি হয়। একদা দাপুটে সাংবাদিক আমান উদ দৌলা নিয়মিত কতিা লিখতেন, তাঁর বিখ্যাত কবিতা- একাত্তরের লাল রঙের ট্রেনটায় চড়ে যে ত্রিশ লাখ যাত্রী চলে গেল। এ কবিতাটি জাতীয় ভাবে পুরস্কৃত হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বৈরী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রামে একদল সাহিত্য রচয়িতার বিকাশ হয় যাদের মধ্যে জ্যোতি আহমেদ যিনি এখনো লিখেন, বাদল আহমেদ, মতিউর রহমান মানিক, মানিক চৌধুরী, ছালেহ আহমেদ মজনু, আফরোজা হক লিনা, নাজমুন নাহার বিজলী, মঞ্চুরী বোস, দুলাল বোস, ইমতে আহসান শিলু, শ্যামল ভৌমিক, ফারাহদীবা ইয়াসমীন গ্লোরী, নেজামুল হক বিলু, আমিনুল রহমান আলম, ছানা লাল বকসী, মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, মতলুবুর রহমান খান শফি, মঞ্জুরুল ইসলাম মণি, শামীমা আক্তার জেমিন, আশি ও নব্বইয়ের পর এসে প্রধন কবি হিসেবে জায়গা করে নেন কবি মিজান খন্দকার, জ্যোতি আহমেদ, সোলায়মান বাবুল। পিছনে পিছনে এগিয়ে আসেন নিউইয়র্ক নিবাসী চিলমারীর আবু রায়হান যাঁর অনেক গল্প ও পুঁথি কবিতা রয়েছে। হৈমন্তি শুক্লা, সুবীর নন্দীর মতন শিল্পীরা তার রচিত গান গেয়েছেন।

নাগেশ্বরীর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান হৃদয় কবিতা লিখার পাশাপাশি সম্পাদনা করছেন ‘দ্বিমাসিক উচ্ছাস’ সাহিত্য পত্রিকা।

কুড়িগ্রামের হাবিবুর রহমান ছড়া ও কবিতা লিখছেন দীর্ঘদিন ধরে। কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আহসান হাবীব নীলু, সাবেক সম্পাদক শ্যামল ভৌমিক, আশীষ বকসী নিয়মিত কবিতা লিখতেন। আব্দুল খালেক ফারুকের ফেলানি, গোলামের দরবারসহ একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। নাহিদ হাসান নলেজ জনহিতকর লড়াইসহ নিয়মিত কলাম লেখেন। বাদশাহ সৈকত একাধিক কাব্যগ্রন্থের লেখক। হুমায়ুন কবির সূর্য একাধিক ছোট গল্প ও উপন্যাসের লেখক।

উত্তরের অগ্নিকালের লেখক হেলাল জাহাঙ্গীর, যাঁর রচিত একাধিক নাটক আলোচিত ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

ফরিদা ইয়াসমীন বেবী, ইউসুফ আলমগীর, আলমগীর কবির বাবলু, রাজু মোস্তাফিজ, সুশান্ত বর্মণ, হাল সময়ে সাম্য রাইয়ান, বুদ্ধদেব সরখেল, মাইকেল রবিন সরকার নিয়মিত লিখছেন। নাগেশ্বরীর পয়রাডাঙ্গার অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষক, বাংলাদেশ বেতারের গুণী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুব্রত ভট্টাচার্য লিখে চলেছেন ‘সুন্দর হয়ে এসো করি সুন্দর’ চিন্তা চেতনার মধ্যদিয়ে। তাঁর ভাই বাংলার অধ্যাপক বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন ‘রবীন্দ্র নাট্যধারার প্রথম পর্যায়’ ও ‘রবীন্দ্রনাথঃ অভিন্ন ভাবনার ভিন্ন উপস্থাপন’। এছাড়াও তিনি রচনা করেছেন ‘কমরেড মণি সিংহের সংক্ষিপ্ত জীবনী’, কাব্যগ্রন্থ ‘সমাবিষ্ট স্বপ্নের সমূহ পতন’। নাগেশ্বরীর সন্তোষপুরের মারুফ হোসেন মাহাবুব সংস্কৃতি চর্চা, কবিতা ও গল্প রচনা করে চলেছেন একাধারে, বাবলা মন্ডল কবিতা ও গান রচনা করছেন দীর্ঘকাল ধরে। চমৎকার কবিতা ও গল্প লিখছেন ভুরুঙ্গামারীর আন্ধারীঝাড়ের লেখক ও চিত্রশিল্পী আইয়ুব আল আমিন। তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘কামনা বাসনালয়’ প্রশংসা কুড়িয়েছে। উলিপুরের আবু হেনা মোস্তফা ইতিহাসের লেখক, চিলমারীর নাজমুল হুদা পারভেজ, মাইদুল ইসলাম, বেলাল হোসেন আকছেদ, জিয়াউল হক সরকার, বশির আহমেদ, নয়ন ঝড়, রাজারহাটের আবু সাঈদ মোল্লা প্রমুখ ইতিহাস, গল্প কবিতা সবই লিখেন। পারভেজের একাধিক পুস্তক রয়েছে। কুড়িগ্রমের সন্তানেরা যাঁরা বিভিন্নি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে ড. তুহিন ওয়াদুদ নিয়মিত কলাম ছাড়াও সাহিত্য সমালোচনা ও নদী নিয়ে লিখেন। মাখন চন্দ্র রায়, আবু সুফিয়ান সম্রাট নিয়মিত গবেষণা মূলক কাজ ও প্রকাশনা করেন। বরেণ্য আর্কিউলজিস্ট সুফি মোস্তাফিজুর রহমান যার পুরাকৃর্তির ওপর কাজ ও ব্যাপক প্রকাশনা রয়েছে। প্রফেসর মোজাম্মেল হকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওপর একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিব মাসুদ ও রেজানুর রহমান এর বেশকিছু প্রকাশনা আছে। শেখ রোকন নদী নিয়ে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষনা এবং লেখালেখি করে চলেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আইনুল ইসলামের অর্থনীতির ওপর বেশ কয়েকটি প্রকাশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাখন চন্দ্র রায় আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছেন। এ সংক্রান্তে তাঁর একাধিক পুস্তক রয়েছে। ড. এরশাদুল হক তাঁরও একাধিক পুস্তুক আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আছে। নব্বই দশকের পর বেশ কয়েকটি পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে জনাব মোস্তফা তোফায়েল হোসেনের। তিনি কবিতাও লিখেন। কুড়িগ্রাম জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা। জোর্তিময় রুদ্র নিধু সম্প্রতি শত বছরের কুড়িগ্রাম শহর নামে একটি মূল্যবান পুস্তুক প্রকাশ করেছেন।

এই জনপদে পাকিস্তান যুগে সাহিত্যে অবদান ছিল আশরাফ চৌধুরী, এডভোকেট আব্দুল করিম সরকারের। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবদান রেখে গেছেন প্রয়াত শিক্ষ আব্দুল হামিদ যিনি শ্রীবাস্তব নামে লিখতেন। তাঁর কুড়িগ্রামের নামকরণের ইতিহাস লেখাটি বহুভাবে সমাদৃত। কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সামিউল হক নান্টু, সনেট লিখতেন মোস্তাাফিজুর রহমান তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ধরলার তীরে’। প্রফেসর আবু বকর সিদ্দিক নিয়মিত লিখতেন, ষাটের দশকে তার সম্পাদনায় কলতান পত্রিকা প্রকাশ হতো। একাত্তরের শহিদ কবি মাহাতাব উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও স্টেশনে শহিদ), আব্দুল আহাদ, সাংবাদিক তোফায়েল হোসেন প্রমুখ লিখতেন। ভূরুঙ্গামারীর ভান্ডারী প্রেসের ভান্ডারী সাহেব নিয়মিত লিখতেন ও পত্রিকা বেড় করতেন। সরকার মাসুদ, শাহাজাদা বসুনিয়া, সজল সমুদ্র, মাহবুব অনিন্দ্য সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। শাহাজাদা বসুনিয়ার পিতা হায়দার আলী বসুনিয়া পিতা পুত্র সাহিত্যিক তাঁদের দুজনের অর্ধ শতকের বেশি কাব্য ও উপন্যাস রয়েছে। হায়দার আলী বসুনিয়া একদম নিভৃতচারী। রাজারহাটের গ্রামে এই বাধ্যক্যকালেও লিখেই চলেছেন।

এখনো অনেক তরুন যুবা বৃদ্ধরা লিখেই চলেছেন যাঁদের নাম আমরা এখনো জানিনা অথছ তাঁরা অবদান রেখেই চলেছেন। এই মাতৃভূমি ভাওয়াইয়ার আকরভূমের অনিচ্ছাকৃত যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। নিশ্চয়ই আগামীতে তারাও যুক্ত হবেন। তাঁদের অবদানে সমৃদ্ধ হোক আমাদের অবহেলিত জনপদের মাটি ও মানুষ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১