সাহিত্যচর্চার পরিবেশ কোনো কালেই লেখকদের অনুকূলে ছিল না: বিধান মিত্র
jugantor
সাহিত্যচর্চার পরিবেশ কোনো কালেই লেখকদের অনুকূলে ছিল না: বিধান মিত্র

  জুননু রাইন  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম-১৯৬৮, নেত্রকোনা জেলায়। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। ধর্ম-সমাজ-ইতিহাস-ঐতিহ্য-শিক্ষা, স্বদেশ-সংস্কৃতি-মুক্তিযুদ্ধসহ বিচিত্র বিষয়ে লেখালেখি করেন। বিষয়বৈচিত্র্যের সঙ্গে তথ্য ও তত্ত্বের সংযোগ-তার রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

‘প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র’, ‘শিক্ষা-অশিক্ষা-কুশিক্ষা’ ‘সত্য, অসত্য, অর্ধসত্য’ ‘ধর্ম ধর্মতন্ত্র ও ব্রাহ্মণ্যবাদ’ ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা : রূপ ও রীতি’, ‘বনে যদি ফুটল কুসুম’। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

আপনাদের শুরুর সময়ের সাহিত্যের পরিবেশ...

: আমাদের সাহিত্যচর্চার পরিবেশ কোনো কালেই লেখকদের অনুকূলে ছিল না। প্রকাশনাশিল্প বা এর বিপণন কিংবা পাঠকরুচি-কোনোটাই, কোনোকালেই কবি-লেখকচিত্তের সহায়ক অনুষঙ্গ হিসাবে কাজ করেনি। অবশ্য বর্তমানে, মুদ্রণব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে-আমাদের প্রকাশনা-জগতে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এ পরিবর্তনের সবটুকুই ‘ইতিবাচকতা’ নিয়ে আসেনি।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: কেবল নগরকেন্দ্রিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে নগরকেন্দ্রিক বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংঘ, দল-উপদলের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র বলয়ের ভেতরেও। বর্তমানে গোষ্ঠী বা সংঘ-বিয়োজিত লেখক, তার সাহিত্য যত শিল্পসার্থকই হোক, কেবল মেধার জোরে তার প্রতিষ্ঠা লাভ-কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা সাহিত্যকেন্দ্রিক ‘একাডেমি’তে কর্মরত লোকজন-যত সহজে পরিচিতি পান, প্রান্তিক পর্যায়ের লেখক তো বটেই, এমন কি সংঘ-বিয়োজিত কুশলী নাগরিক লেখকরাও-তত সহজে পরিচিতি পান না। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে কেন্দ্র-বিয়োজিত বেশ কয়েকজন লেখক-দেশব্যাপী ‘খ্যাতিমান’ হয়েছেন বটে, তবে এ-গুলো ব্যতিক্রমধর্মী বিরল ঘটনা মাত্র।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: বর্তমান-সাহিত্যে-‘রাজনীতি’র প্রভাব ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এটা সাহিত্যের জন্য যেমন, তেমনি রাজনীতির জন্যও ‘সুখকর’ বিষয় নয়। পৃথিবীর কালজয়ী সাহিত্যগুলোর কোনো কোনোটাতে ‘রাজনীতি’ এসেছে, তবে বরাবরই তা গৌণ-বিষয় হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ, প্রেম-প্রকৃতি-মনস্তত্ত্ব-অর্থনীতি, কালচিত্র এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের আখ্যান-এ গুলোই সাহিত্যের মূল উপজীব্য হওয়া উচিত।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান

: ‘প্রেম’-মানুষের জীবনের চিরায়ত অনুষঙ্গ হলেও, কালান্তরে এর স্বরূপেও নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাধা-কৃষ্ণ, লায়লী-মজনু, অমিত-লাবণ্য, দেবদাস-পার্বতীর প্রেম-বর্তমান সমাজ-মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে না; ফলে বর্তমান-সাহিত্যে ওই ধরনের ‘প্রেমচিত্র’-উপস্থাপনের সুযোগ কম। মুনাফামুখী, ভোগবাদী সমাজে-প্রেম এখন যত না ‘চিত্ত-নির্ভর’ এর চেয়ে অনেক বেশি ‘দেহনির্ভর’ হয়ে গেছে। আর এরই-কখনো বস্তুনিষ্ঠ কখনো বা বাড়াবাড়ি রকমের নোংরামি-অশ্লীল চিন্তার প্রতিফলন ঘটছে-বর্তমান সাহিত্যে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: সাহিত্য সমাজ ও কালের প্রতিবিম্বস্বরূপ; সমাজ বা রাষ্ট্রে যদি বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, নীতিহীনতার প্রাদুর্ভাব ঘটে-তবে সাহিত্যে এর নিশ্চিত প্রতিফলন ঘটবেই। বর্তমান বাজার অর্থনীতির যুগে মানুষের সুকুমার প্রবৃত্তি ক্রমশ যেন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। লোভ-হিংসা-হিংস তা-শঠতা, যেনতেন প্রকারেণ আত্মস্বার্থ-সিদ্ধির প্রবণতা সর্বব্যাপী পরিদৃশ্যমান। মানবিকতার বিপর্যয় ঘটলে, সাহিত্যের স্বাভাবিক সৌন্দর্য লোপ পায় এবং এর ফলে লেখকের চিন্তন মননেও বিকৃতির জন্ম হয়। আর এর প্রতিফলন দেখা যায় সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাতেও।

প্রযুক্তি সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: বিজ্ঞান যেমন আশীর্বাদ এবং অভিশাপ-দুটো দিককেই ধারণ করে, তেমনি বিজ্ঞানজাত প্রযুক্তিরও ভালো-মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। প্রযুক্তির কারণে সাহিত্যের বিকাশ ও ব্যাপ্তি যেমন সহজতর হচ্ছে, তেমনি এর প্রভাবেই আমাদের সাহিত্য-দিনদিন তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। পাশ্চাত্যের উৎকট প্রভাবে একদিকে যেমন বাঙালিত্বের স্বাভাবিক-সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে কুম্ভিলক-প্রবণতা। তবে হ্যাঁ, প্রযুক্তির যতো মন্দ দিকই থাকুক, প্রযুক্তি-বিয়োজিত জীবন এখন-কল্পনাতীত ব্যাপার। প্রযুক্তির বিশাল অবদানকে কোনো দিক থেকেই অস্বীকার বা উপেক্ষা করবার উপায় নেই।

নেত্রকোনার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন? কোন কোন দিকে যত্ন নিলে আরও সক্রিয় হতে পারে

: অপ্রিয় হলেও সত্য যে, নেত্রকোনার বর্তমান সাহিত্যচর্চা-অতীতকালের তুলনায় ক্রমশ যেন ম্লান হয়ে পড়ছে। গদ্যচর্চার বেগবান ধারাটা দিনদিন বিবর্ণতাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবে কবিতার ধারাটা-মোটামুটিভাবে সচল আছে। আমি বিশ্বাস করি, সাহিত্যচর্চা-ব্যক্তিক অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। তাই বাইরে থেকে যত্ন করে বা উৎসাহ প্রদান করে সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করা যায় না।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: রাষ্ট্র প্রধানত জনগণকেন্দ্রিক বিশেষ একটা প্রপঞ্চ। তবে শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে-পড়া রাষ্ট্রে-জনমত কখনো কখনো উপেক্ষিত হয়। যে লক্ষ্য ও গণচেতনায় ঋদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, বর্তমান-রাষ্ট্র-আমাদের সে-প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে হতাশ হওযার কারণ দেখি না। ভবিষ্যৎ-বাংলাদেশ-আমাদের সব আশা-আকাক্সক্ষা-প্রত্যাশাকে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আরও বেশি উজ্জ্বলতাপ্রাপ্ত হবে, এ কেবল আশাবাদ নয়, এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

সাহিত্যচর্চার পরিবেশ কোনো কালেই লেখকদের অনুকূলে ছিল না: বিধান মিত্র

 জুননু রাইন 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম-১৯৬৮, নেত্রকোনা জেলায়। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। ধর্ম-সমাজ-ইতিহাস-ঐতিহ্য-শিক্ষা, স্বদেশ-সংস্কৃতি-মুক্তিযুদ্ধসহ বিচিত্র বিষয়ে লেখালেখি করেন। বিষয়বৈচিত্র্যের সঙ্গে তথ্য ও তত্ত্বের সংযোগ-তার রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

‘প্রাবন্ধিক বঙ্কিমচন্দ্র’, ‘শিক্ষা-অশিক্ষা-কুশিক্ষা’ ‘সত্য, অসত্য, অর্ধসত্য’ ‘ধর্ম ধর্মতন্ত্র ও ব্রাহ্মণ্যবাদ’ ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা : রূপ ও রীতি’, ‘বনে যদি ফুটল কুসুম’। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

আপনাদের শুরুর সময়ের সাহিত্যের পরিবেশ...

: আমাদের সাহিত্যচর্চার পরিবেশ কোনো কালেই লেখকদের অনুকূলে ছিল না। প্রকাশনাশিল্প বা এর বিপণন কিংবা পাঠকরুচি-কোনোটাই, কোনোকালেই কবি-লেখকচিত্তের সহায়ক অনুষঙ্গ হিসাবে কাজ করেনি। অবশ্য বর্তমানে, মুদ্রণব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে-আমাদের প্রকাশনা-জগতে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। তবে এ পরিবর্তনের সবটুকুই ‘ইতিবাচকতা’ নিয়ে আসেনি।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: কেবল নগরকেন্দ্রিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে নগরকেন্দ্রিক বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংঘ, দল-উপদলের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র বলয়ের ভেতরেও। বর্তমানে গোষ্ঠী বা সংঘ-বিয়োজিত লেখক, তার সাহিত্য যত শিল্পসার্থকই হোক, কেবল মেধার জোরে তার প্রতিষ্ঠা লাভ-কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া কিংবা সাহিত্যকেন্দ্রিক ‘একাডেমি’তে কর্মরত লোকজন-যত সহজে পরিচিতি পান, প্রান্তিক পর্যায়ের লেখক তো বটেই, এমন কি সংঘ-বিয়োজিত কুশলী নাগরিক লেখকরাও-তত সহজে পরিচিতি পান না। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে কেন্দ্র-বিয়োজিত বেশ কয়েকজন লেখক-দেশব্যাপী ‘খ্যাতিমান’ হয়েছেন বটে, তবে এ-গুলো ব্যতিক্রমধর্মী বিরল ঘটনা মাত্র।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: বর্তমান-সাহিত্যে-‘রাজনীতি’র প্রভাব ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এটা সাহিত্যের জন্য যেমন, তেমনি রাজনীতির জন্যও ‘সুখকর’ বিষয় নয়। পৃথিবীর কালজয়ী সাহিত্যগুলোর কোনো কোনোটাতে ‘রাজনীতি’ এসেছে, তবে বরাবরই তা গৌণ-বিষয় হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ, প্রেম-প্রকৃতি-মনস্তত্ত্ব-অর্থনীতি, কালচিত্র এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের আখ্যান-এ গুলোই সাহিত্যের মূল উপজীব্য হওয়া উচিত।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যবান

: ‘প্রেম’-মানুষের জীবনের চিরায়ত অনুষঙ্গ হলেও, কালান্তরে এর স্বরূপেও নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাধা-কৃষ্ণ, লায়লী-মজনু, অমিত-লাবণ্য, দেবদাস-পার্বতীর প্রেম-বর্তমান সমাজ-মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে না; ফলে বর্তমান-সাহিত্যে ওই ধরনের ‘প্রেমচিত্র’-উপস্থাপনের সুযোগ কম। মুনাফামুখী, ভোগবাদী সমাজে-প্রেম এখন যত না ‘চিত্ত-নির্ভর’ এর চেয়ে অনেক বেশি ‘দেহনির্ভর’ হয়ে গেছে। আর এরই-কখনো বস্তুনিষ্ঠ কখনো বা বাড়াবাড়ি রকমের নোংরামি-অশ্লীল চিন্তার প্রতিফলন ঘটছে-বর্তমান সাহিত্যে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: সাহিত্য সমাজ ও কালের প্রতিবিম্বস্বরূপ; সমাজ বা রাষ্ট্রে যদি বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, নীতিহীনতার প্রাদুর্ভাব ঘটে-তবে সাহিত্যে এর নিশ্চিত প্রতিফলন ঘটবেই। বর্তমান বাজার অর্থনীতির যুগে মানুষের সুকুমার প্রবৃত্তি ক্রমশ যেন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। লোভ-হিংসা-হিংস তা-শঠতা, যেনতেন প্রকারেণ আত্মস্বার্থ-সিদ্ধির প্রবণতা সর্বব্যাপী পরিদৃশ্যমান। মানবিকতার বিপর্যয় ঘটলে, সাহিত্যের স্বাভাবিক সৌন্দর্য লোপ পায় এবং এর ফলে লেখকের চিন্তন মননেও বিকৃতির জন্ম হয়। আর এর প্রতিফলন দেখা যায় সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাতেও।

প্রযুক্তি সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো কতটা মন্দ?

: বিজ্ঞান যেমন আশীর্বাদ এবং অভিশাপ-দুটো দিককেই ধারণ করে, তেমনি বিজ্ঞানজাত প্রযুক্তিরও ভালো-মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। প্রযুক্তির কারণে সাহিত্যের বিকাশ ও ব্যাপ্তি যেমন সহজতর হচ্ছে, তেমনি এর প্রভাবেই আমাদের সাহিত্য-দিনদিন তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। পাশ্চাত্যের উৎকট প্রভাবে একদিকে যেমন বাঙালিত্বের স্বাভাবিক-সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে কুম্ভিলক-প্রবণতা। তবে হ্যাঁ, প্রযুক্তির যতো মন্দ দিকই থাকুক, প্রযুক্তি-বিয়োজিত জীবন এখন-কল্পনাতীত ব্যাপার। প্রযুক্তির বিশাল অবদানকে কোনো দিক থেকেই অস্বীকার বা উপেক্ষা করবার উপায় নেই।

নেত্রকোনার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন? কোন কোন দিকে যত্ন নিলে আরও সক্রিয় হতে পারে

: অপ্রিয় হলেও সত্য যে, নেত্রকোনার বর্তমান সাহিত্যচর্চা-অতীতকালের তুলনায় ক্রমশ যেন ম্লান হয়ে পড়ছে। গদ্যচর্চার বেগবান ধারাটা দিনদিন বিবর্ণতাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তবে কবিতার ধারাটা-মোটামুটিভাবে সচল আছে। আমি বিশ্বাস করি, সাহিত্যচর্চা-ব্যক্তিক অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। তাই বাইরে থেকে যত্ন করে বা উৎসাহ প্রদান করে সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করা যায় না।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: রাষ্ট্র প্রধানত জনগণকেন্দ্রিক বিশেষ একটা প্রপঞ্চ। তবে শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে-পড়া রাষ্ট্রে-জনমত কখনো কখনো উপেক্ষিত হয়। যে লক্ষ্য ও গণচেতনায় ঋদ্ধ হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, বর্তমান-রাষ্ট্র-আমাদের সে-প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে হতাশ হওযার কারণ দেখি না। ভবিষ্যৎ-বাংলাদেশ-আমাদের সব আশা-আকাক্সক্ষা-প্রত্যাশাকে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আরও বেশি উজ্জ্বলতাপ্রাপ্ত হবে, এ কেবল আশাবাদ নয়, এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১