কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে স্বল্প প্রতিভাবানরাও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন: দুখু বাঙাল
jugantor
কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে স্বল্প প্রতিভাবানরাও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন: দুখু বাঙাল

  জুননু রাইন  

০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম ৩০ জুন ১৯৫৭ পটুয়াখালী জেলার ছোট ডালিমা গ্রামে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কিশোরযোদ্ধা। একাত্তর ও ১৯৭৪ এ সেনাবাহিনীর হাতে দুই-দুইবার গ্রেফতার। ১৯৮১ সালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান। ২০০৮-এর জুনে বিভাগীয় এক বৈঠকে ক্রসফায়ার ও কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য রাখার জের ধরে চাকরি ছেড়ে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ। ছেলেবেলা থেকে বিভিন্ন পত্রিকার ছোটদের আসর ও শিশুতোষ পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। সত্তর দশকের এ কবি কবিতায় ভিন্ন স্বাদ ও মাত্রার দাবিদার। জেলা প্রশাসন সাতক্ষীরা কর্তৃক জীবনানন্দ সম্মাননা স্মারক, স্বাধীনতা সংসদ ঢাকা কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক, কবিতালাপ পুরস্কার ২০১১, মাইকেল মধুসূদন শুভেচ্ছা সম্মাননা, কাজী ইমদাদুল হক সম্মাননাসহ অনেক। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-নির্বাচিত নির্বাসন, কাছে আসি দূরে যাই, হরিজন শব্দাবলি। ছড়ার বই-পায়রা নদীর পট এবং একাত্তর ও সপ্তম নৌবহর, সম্পাদিত গ্রন্থ- দীর্ঘ কবিতায় পিতা তুমি ও ছড়া সংগ্রহ। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

আপনাদের শুরুর সময়ের সাহিত্যের পরিবেশ এখনকার পরিবেশে মিলালে কোনো ভিন্নতা চোখে পড়ে? এবং তার ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব?

: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টাকে আমার শুরুর সময় বলা যেতে পারে। তখন অভাব-অনটন লেগে থাকলেও আপন জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠায় আশা ও উদ্দীপনায় উজ্জীবিত ছিল মানুষের মন। যার যার অবস্থান থেকে সাহিত্যে ধ্বনিত হতে থাকল আশা জাগানিয়ার জয়যাত্রা। আজ অভাব কম। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভক্তির কারণে সেই আশা ও উদ্দীপনা অনেকটাই শ্লথ। আমি বিশ্বাস করি তরুণদের হাতে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। সময়ের ব্যবধানে লেখকদের মধ্যে উপমা-অলংকার ব্যবহার ও উপস্থাপনায় ঘটে গেছে অনেক পার্থক্য।

প্রযুক্তির এই পুঁজিবাদী সময়ে একজন কবি তার কবিসত্তাকে কতটা লালন-পালন করতে পারে?

: রক্তমাংসের মানুষ প্রেমে পড়বে, তার আত্মায় অনুরণিত হতে থাকবে কবিতার বীজ এটাই স্বাভাবিক; এভাবেই কবিসত্তাও টিকে থাকবে আপন গতিতে।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: আমার বিবেচনায় শহর বা মফস্বল যে কোনো জায়গায় বসেই সাহিত্যসাধনা করা যায়-লেখক হওয়া যায়। তবে কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে স্বল্প প্রতিভাবান লেখককেও খ্যাতিমান হয়ে উঠতে দেখা যায়।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: সাহিত্য গণ্ডিবদ্ধ জিনিস নয়। সাহিত্যের ক্ষেত্র বিস্তৃত। তবে সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ বিষয় প্রাধান্য পেয়ে থাকে। যেমন স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাঙালির বিজয়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মূল বিষয়বস্তু মানুষ। সাহিত্য জীবনের প্রতিবিম্ব।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন।

: ভালোবাসা শুধু মানব-মানবীর প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মমত্বসহ ভালোবাসার ক্ষেত্র বিশাল এবং বিস্তৃত। এখনকার দিনে মানব-মানবী বা মানুষে মানুষে ভালোবাসায় কোথায় যেন একটা স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে ভালোবাসার জয় অবশ্যম্ভাবী।

কবিতার পাঠক কমেছে, না কবিতা দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে? এই সংকট থেকে বেরুনোর পথ কী?

: কবিতার একটা নিজস্ব ডাক আছে। লোকালয়ে বাঘের গর্জনের মতো; সবাই তখন কানখাড়া করতে বাধ্য হয়। সে রকম কবিতা সৃষ্টি হলেই এই প্রশ্নের উত্তর মিটে যাবে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: হ্যাঁ, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কখনো ভুল বর্ণে বিবৃত হচ্ছে, আবার কখনো শুদ্ধতার নামে ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে আমাদের প্রকৃতি মানুষ আর জীবন। কমক্ষেত্রেই ঠিকের সঙ্গে ঠিকের মিল খুঁজে পাই আমরা। এখানে লেখাপড়া, বোধের বিস্তার আর শ্রমসাধ্য হয়ে ওঠার বিকল্প নেই।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রযুক্তি অপব্যবহারের মাধ্যমে সাহিত্যের মৌলিকতা ফিকে হয়ে আসছে। এখানে প্রকৃত লেখককে নিজেই নিজের রক্ষাব্যূহ রচনা করতে হবে।

খুলনার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন? কোন কোন দিকে যত্ন নিলে আরও সক্রিয় হতে পারে?

: আমার বিশ্বাস একদিন খুলনা হবে সাংস্কৃতিক রাজধানী। নিয়মিত আড্ডা, পরস্পর মতবিনিময়, বেশি বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পড়াশোনার প্রতি আরও মনোনিবেশ করা দরকার।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: জনগণ সামষ্টিক শক্তি। রাষ্ট্র মানবস্বার্থে মানবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সখ্য একটা দেখা যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র মানবচরিত্র অধ্যায়নে ব্যর্থ হয়। আপনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মানবসাধারণকে ধরনা দিতে হয় স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য। মানুষের বিজয় অবধারিত।

কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে স্বল্প প্রতিভাবানরাও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন: দুখু বাঙাল

 জুননু রাইন 
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম ৩০ জুন ১৯৫৭ পটুয়াখালী জেলার ছোট ডালিমা গ্রামে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কিশোরযোদ্ধা। একাত্তর ও ১৯৭৪ এ সেনাবাহিনীর হাতে দুই-দুইবার গ্রেফতার। ১৯৮১ সালে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান। ২০০৮-এর জুনে বিভাগীয় এক বৈঠকে ক্রসফায়ার ও কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে বক্তব্য রাখার জের ধরে চাকরি ছেড়ে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ। ছেলেবেলা থেকে বিভিন্ন পত্রিকার ছোটদের আসর ও শিশুতোষ পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ। সত্তর দশকের এ কবি কবিতায় ভিন্ন স্বাদ ও মাত্রার দাবিদার। জেলা প্রশাসন সাতক্ষীরা কর্তৃক জীবনানন্দ সম্মাননা স্মারক, স্বাধীনতা সংসদ ঢাকা কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক, কবিতালাপ পুরস্কার ২০১১, মাইকেল মধুসূদন শুভেচ্ছা সম্মাননা, কাজী ইমদাদুল হক সম্মাননাসহ অনেক। প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-নির্বাচিত নির্বাসন, কাছে আসি দূরে যাই, হরিজন শব্দাবলি। ছড়ার বই-পায়রা নদীর পট এবং একাত্তর ও সপ্তম নৌবহর, সম্পাদিত গ্রন্থ- দীর্ঘ কবিতায় পিতা তুমি ও ছড়া সংগ্রহ। সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জুননু রাইন

আপনাদের শুরুর সময়ের সাহিত্যের পরিবেশ এখনকার পরিবেশে মিলালে কোনো ভিন্নতা চোখে পড়ে? এবং তার ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব?

: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টাকে আমার শুরুর সময় বলা যেতে পারে। তখন অভাব-অনটন লেগে থাকলেও আপন জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠায় আশা ও উদ্দীপনায় উজ্জীবিত ছিল মানুষের মন। যার যার অবস্থান থেকে সাহিত্যে ধ্বনিত হতে থাকল আশা জাগানিয়ার জয়যাত্রা। আজ অভাব কম। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভক্তির কারণে সেই আশা ও উদ্দীপনা অনেকটাই শ্লথ। আমি বিশ্বাস করি তরুণদের হাতে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। সময়ের ব্যবধানে লেখকদের মধ্যে উপমা-অলংকার ব্যবহার ও উপস্থাপনায় ঘটে গেছে অনেক পার্থক্য।

প্রযুক্তির এই পুঁজিবাদী সময়ে একজন কবি তার কবিসত্তাকে কতটা লালন-পালন করতে পারে?

: রক্তমাংসের মানুষ প্রেমে পড়বে, তার আত্মায় অনুরণিত হতে থাকবে কবিতার বীজ এটাই স্বাভাবিক; এভাবেই কবিসত্তাও টিকে থাকবে আপন গতিতে।

লেখক হওয়ার জন্য শহরে/কেন্দ্রে চলে আসার প্রবণতাকে কীভাবে দেখেন?

: আমার বিবেচনায় শহর বা মফস্বল যে কোনো জায়গায় বসেই সাহিত্যসাধনা করা যায়-লেখক হওয়া যায়। তবে কেন্দ্রে অবস্থানের কারণে স্বল্প প্রতিভাবান লেখককেও খ্যাতিমান হয়ে উঠতে দেখা যায়।

বর্তমানে সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। কোন বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত?

: সাহিত্য গণ্ডিবদ্ধ জিনিস নয়। সাহিত্যের ক্ষেত্র বিস্তৃত। তবে সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ বিষয় প্রাধান্য পেয়ে থাকে। যেমন স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাঙালির বিজয়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মূল বিষয়বস্তু মানুষ। সাহিত্য জীবনের প্রতিবিম্ব।

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন।

: ভালোবাসা শুধু মানব-মানবীর প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মমত্বসহ ভালোবাসার ক্ষেত্র বিশাল এবং বিস্তৃত। এখনকার দিনে মানব-মানবী বা মানুষে মানুষে ভালোবাসায় কোথায় যেন একটা স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে ভালোবাসার জয় অবশ্যম্ভাবী।

কবিতার পাঠক কমেছে, না কবিতা দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে? এই সংকট থেকে বেরুনোর পথ কী?

: কবিতার একটা নিজস্ব ডাক আছে। লোকালয়ে বাঘের গর্জনের মতো; সবাই তখন কানখাড়া করতে বাধ্য হয়। সে রকম কবিতা সৃষ্টি হলেই এই প্রশ্নের উত্তর মিটে যাবে।

আমাদের বর্তমান সাহিত্যে প্রকৃতি মানুষ জীবন কতটা নিজস্ব সৌন্দর্যে বহমান, কতটা বিকৃতির শিকার?

: হ্যাঁ, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কখনো ভুল বর্ণে বিবৃত হচ্ছে, আবার কখনো শুদ্ধতার নামে ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে আমাদের প্রকৃতি মানুষ আর জীবন। কমক্ষেত্রেই ঠিকের সঙ্গে ঠিকের মিল খুঁজে পাই আমরা। এখানে লেখাপড়া, বোধের বিস্তার আর শ্রমসাধ্য হয়ে ওঠার বিকল্প নেই।

প্রযুক্তির ব্যবহার সাহিত্যের জন্য কতটা ভালো, কতটা মন্দ?

: প্রযুক্তিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রযুক্তি অপব্যবহারের মাধ্যমে সাহিত্যের মৌলিকতা ফিকে হয়ে আসছে। এখানে প্রকৃত লেখককে নিজেই নিজের রক্ষাব্যূহ রচনা করতে হবে।

খুলনার সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা কেমন? কোন কোন দিকে যত্ন নিলে আরও সক্রিয় হতে পারে?

: আমার বিশ্বাস একদিন খুলনা হবে সাংস্কৃতিক রাজধানী। নিয়মিত আড্ডা, পরস্পর মতবিনিময়, বেশি বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পড়াশোনার প্রতি আরও মনোনিবেশ করা দরকার।

বর্তমানে রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেমন? কেমন হওয়া উচিত?

: জনগণ সামষ্টিক শক্তি। রাষ্ট্র মানবস্বার্থে মানবসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান হলেও এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সখ্য একটা দেখা যায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র মানবচরিত্র অধ্যায়নে ব্যর্থ হয়। আপনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে মানবসাধারণকে ধরনা দিতে হয় স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য। মানুষের বিজয় অবধারিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : প্রান্তছোঁয়া আকাশ

২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৩ ডিসেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১
০৫ নভেম্বর, ২০২১