বঙ্গবন্ধু : কণ্ঠে যার ছিল মুক্তির বারতা

তিনি দীর্ঘমেয়াদে যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজস্ব সম্পদের ওপর দেশকে দাঁড় করানো। যুদ্ধ করে যেমন গোটা পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে একটা স্বাধীন দেশ ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন, তেমনি নিজস্ব একটি অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। তার সেই দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাকের মধ্যেই ছিল সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন

  ড. আতিউর রহমান ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটা রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামের জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব। গভীরভাবে ভেবে দেখলে ঘটনাটি বিস্ময়কর বলে মনে হয়। মধুমতির শাখা নদী বাইগারের তীরের এক মধ্যবিত্ত গ্রামীণ অনাড়ম্বর পরিবেশে যার জীবন শুরু হয়েছিল একদিন। তিনি এলিট ছিলেন না, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা অর্থবিত্তের এমন ঐতিহ্যলালিত কোনো কাঠামো তাকে বিশিষ্টজন হওয়ার পথে প্ররোচিত কিংবা প্রেরণা দেয়নি। সাদামাটা নিত্যজীবনের গতিতে জীবনের পথে এগিয়ে চলা সেই মানুষটি যখন একদিন একটি জাতির আশা-আকাক্সক্ষা, সুখ-দুঃখ, নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন, একটি জাতিরাষ্ট্রের সমার্থক হয়ে ওঠেন তখন সেই ঘটনাকে বিস্ময়কর বললে অত্যুক্তি হয় না।

এই বিস্ময়কর হওয়ার শক্তি, প্রেরণা-প্রাণনা তিনি কিভাবে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন? অদম্য সাহস, সৎ ও নির্ভিক চরিত্রের কারণে সৃষ্ট আত্মবিশ্বাস আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণেই যে তা সম্ভব হয়েছিল সে কথা নিশ্চয় বলা যায়। হোস্টেলবাড়ির চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ছাত্রদের বই-বিছানা ভিজে যায় বলে কিশোর বয়সে একাই শেরেবাংলা আর সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সংস্কারের দাবি আদায় করতে পারা, বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়ে যাওয়ার কারণে পিতার গোলা থেকে তার অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা বিতরণ ইত্যাদি কর্ম তার আত্মউপলব্ধির পরিচয় বহন করে। তিনি তার আত্মপরিচয়ের অহংকারে বিশিষ্টতা অর্জন করেছিলেন তার স্বল্পকালীন জীবনে। তার উপলব্ধিতে ধরা দিয়েছিল যে তিনি সর্বাংশে বাঙালি, সেখানেই তিনি এই জাতির সবার সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি মানুষের প্রতি, আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে বাঙালি জাতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা অনুভব করতে পেরেছিলেন। রাজনীতির শুরু কিশোর বয়সে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে, কিন্তু তিনি নিজেই একদিন সবাইকে ছাড়িয়ে এই গাঙ্গেয় বদ্বীপের সাড়ে সাত কোটি মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন। রাজনৈতিক আদর্শে তিনি স্থিত হন নিপীড়িত-নির্যাতিত এই জাতিকে উদ্ধারের দৃঢ়সংকল্পের মধ্যে। শত শত বছরের বিদেশি-বিভাষী শাসনের যাতাকলে পড়ে এই জাতি যে তাদের আত্মবিশ্বাস একেবারে হারাতে বসেছিল, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এমনকি সামাজিকভাবে নিগৃহীত হতে হতে তারা আরও মাটি সংলগ্ন হয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল অস্তিত্বের দিক থেকে সেই কথাটাই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতা।

মধ্যবিত্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু নেমে গিয়েছিলেন নিুবিত্ত অভাজনদের কাতারে হৃদয়ের টানে তাদের মুক্তির আকাক্সক্ষায়। মনে হয় না যে, সারা জীবনে একটি দিনও তিনি ব্যয় করেছেন এই অভাজনদের কথা না ভেবে। এমনকি জেলখানার ভিতরে দুর্বিসহ জীবনের মধ্যে থেকেও নিজের কথা না ভেবে সাধারণ কয়েদিদের দুঃখ-দুর্দশার লাঘবের জন্য জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেন-দরবার করেছেন। তাদের জন্য পিটিশন লিখে দিয়েছেন। বাইরে তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের কথা ভেবেছেন। ভেবেছেন সাধারণ মানুষের কথা যাদের নায্য দাবি আদায়ের জন্য তিনি জেলে থাকতেন প্রায়ই। কারাগারের রোজনামচায় তিনি ১৯৬৬ সালের ২৩ জুন বৃহস্পতিবার লিখেন, ‘বন্যা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। চালের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা মণ হয়ে গেছে। জনগণের আর শান্তি নেই। শান্তি চেয়ে আনা যায় না, আদায় করে নিতে হয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। অত্যাচারী ভয় পেয়ে যাবে।’ [কারাগারের রোজনামচা, বাংলা একাডেমি, ২০১৭, পৃষ্ঠা ১১৭]

জেলেই আছেন, শাসকের খড়্গ কৃপাণ মাথার উপর ধরাই আছে। তবু তিনি নির্ভিক তার আহ্বানে- কাতর মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য। নিপীড়িত বাঙালির এমন দরদি সত্যিই হাজার বছরের মধ্যে আর পাওয়া যায়নি। তাই তো আমাদের বলতে একটুও দ্বিধা হয় না যে, বঙ্গবন্ধুই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তার ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত গতিতে চালাতে শুরু করে। কিন্তু দমাতে পারেনি তাকে। আত্মপরিচয়ের অহংকারে তিনি এতটাই নির্ভিক হয়ে উঠেছিলেন ক্রমে যে, এই জাতির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হননি। স্বাধীনতা কিংবা পাকিস্তান ভাঙার কথাটা তিনি ভাবেননি শুরুতে, কিন্তু আপামর জনসাধারণের অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়ে তিনি ছিলেন হিমালয়ের মতো অনঢ়। তার ছয় দফা সেই কথাই বলে। ছয় দফার মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব বাংলার বঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। অর্থনৈতিক মুক্তির মধ্য দিয়েই সুষম সামাজিক কাঠামো গঠন সম্ভব বলেই তিনি মনে করতেন। এ দেশের মানুষ তাকে কতখানি ভালোবাসতেন, মানুষকে তিনি কতটা আশাবাদী করতে পেরেছিলেন, জাগরণের মন্ত্রে আপামর জনসাধারণ কতটা দীক্ষিত হয়ে ছিল তার প্রতীকী প্রকাশ ঘটে ১৯৭০-এর নির্বাচনে। হ্যামিলনের এই বংশীবাদক তার মুক্তিবাণীর সুরে গোটা জাতিকে এককাতারে দাঁড় করাতে পেরেছিলেন। তার পরের ইতিহাস দ্রুত পট পরিবর্তন করে একটা অমোঘ নিয়তির দিকে নিয়ে যায় এই জাতিকে। কী অসাধারণ শক্তি তিনি সঞ্চারিত করেছিলেন এই পিছিয়ে পড়া, প্রায় নিঃশেষিত শক্তির এই জাতির মনে যে তার অনুপস্থিতিতে তারই আদেশকে নিজেদের মুক্তি মোক্ষম বাণী হিসেবে গ্রহণ করে প্রশিক্ষিত সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় বুক চিতিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধটাকে থামানোর জন্য একদিকে যেমন এ দেশের মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার শুরু হয় তেমনি যুদ্ধ বন্ধের জন্য পাকিস্তানে বন্দি বঙ্গবন্ধুর ওপর বারবার বন্দুক তাক করা হয়। তাকে ফাঁসির দড়িতে বাঁধার হুমকি আসতে থাকে। জেলখানার ভেতরেই কবর খোঁড়া হয়। কিন্তু তিনি ছিলেন অনঢ়। আপোষহীন। বন্দুকের মুখেও তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে এই জাতির কথাই ভেবেছেন।

স্বাধীন হল বাংলাদেশ। ফিরে এসে তিনি এটা মনে করেননি যে তার কাজ শেষ। তিনি ভূখণ্ডগত এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলার জন্য দেশ গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যে মানুষগুলোর সামগ্রিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছিলেন তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য, তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য, সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসে রেসকোর্সের মাঠে আবার জনতার সামনে দাঁড়ান তিনি। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা পুনর্ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘... গত দশ মাসে পাকিস্তানের বর্বর সেনাবাহিনী বাংলাকে বিরাণ করেছে। বাংলার লাখো মানুষের আজ খাবার নেই, অসংখ্য লোক গৃহহারা। ... আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের ভাই হিসেবে বলছি- যদি দেশবাসী খাবার না পায়, যুবকরা চাকরি বা কাজ না পায় তা হলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, পূর্ণ হবে না। তোমরা, আমার গেরিলা ভাইয়েরা, গেরিলা হয়েছিলে দেশমাতার মুক্তির জন্য। তোমরা রক্ত দিয়েছ। তোমাদের রক্ত বৃথা যাবে না।... বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। কিন্তু আজ আমাদের সামনে অসংখ্য সমস্যা আছে, যার আশু সমাধান প্রয়োজন। বিধ্বস্ত বাংলাকে নতুন করে গড়ে তুলুন।’ [বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, দৈনিক বাংলা, ঢাকা, ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২]। তিনি সেদিন বলেছিলেন যে, আমাদের আছে সংগ্রামী মানুষ ও উর্বর মাটি। তাই ভয় কিসের?

বাঙালি হিসেবে নিজের আত্মপরিচয়ের অহংকার না থাকলে এমন উদাত্ত আহ্বান জানানো যায় না। এত সহজে বলা যায় না, ‘আপনাদের ভাই হিসেবে বলছি’। বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী এই প্রবাদপুরুষের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির আকাক্সক্ষা। ১৯৬৬-এর ছয় দফা কিংবা ১৯৭০ সালে নির্বাচনী অঙ্গীকারের সবটাতেই সেই কথার প্রতিফলন দেখা যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও সেই সব কথার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি দীর্ঘমেয়াদে যে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজস্ব সম্পদের ওপর দেশকে দাঁড় করানো। যুদ্ধ করে যেমন গোটা পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে একটা স্বাধীন দেশ ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলেন, তেমনি নিজস্ব একটি অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করে জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। তার সেই দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাকের মধ্যেই ছিল সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি। প্রতিবিপ্লবী কদর্য কূটকৌশলে তাকে সাধের সোনার বাংলা ছেড়ে অকালে চলে যেতে হয়। পিতৃহত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা তারপর সেই দেশটা নিয়ে আবার পিছনে ফেরার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। যে মানুষটি একটি জাতির সমার্থক হয়ে রয়েছে তাকে ইতিহাসের ধারা থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করে। কিন্তু দেরিতে হলেও এটা উপলব্ধি করা গেছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার জাতীয় চেতনায় সর্বাংশে বাঙালি ছিলেন এবং তিনি জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের আপামর জনসাধারণের মনের মধ্যে এমনভাবে নিজেকে বিম্বিত করতে পেরেছিলেন যে কোনোভাবেই তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। দেশ গঠনের যে উপাদান তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে গেছেন তাই যেন আমাদের সামনে এগিয়ে চলার পাথেয় হয়। তা হলেই পিতৃঋণ পরিশোধ করার প্রয়াস পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে আমাদের সর্বক্ষণ মনে রাখতে হবে তিনি কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। নিচের উদ্বৃতিটিই আমাদের সেই সেই পথের দিশা দিতে পারে।

‘শ্মশান বাংলাকে আমরা সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলায় আগামীদিনের মায়েরা হাসবে, শিশুরা খেলবে। আমরা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো। ক্ষেত-খামার কলকারখানায় দেশ গড়ার আন্দোলন গড়ে তুলুন। কাজের মাধ্যমে দেশকে নতুন করে গড়া যায়। আসুন সকলে মিলে সমবেতভাবে আমরা চেষ্টা করি যাতে সোনার বাংলা আবার হাসে, সোনার বাংলাকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলতে পারি। ’ (বঙ্গবন্ধুর বেতার ও টেলিভিশন ভাষণ, ২৬ মার্চ, ১৯৭২)।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter