বই আলোচনা

দশজন দিগম্বর একজন সাধক

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’ ধ্রুপদী কোনো গল্পের বই নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন স্টাইলে লেখ্য বিশ্বসাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, মিথ ও মানবিক অনুভূতির নিখুঁত সমন্বয়- যা মননশীল পাঠককে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে।

৩১টি অনবদ্য কাহিনী নিয়ে সাজানো হয়েছে শাহাব আহমেদের ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’ বইটি।

বইটি যেন একটি তথ্যভাণ্ডার। প্রতিটি কাহিনীর সঙ্গে উঠে এসেছে ইতিহাসের বিখ্যাত সব চরিত্র। অধিকাংশ কাহিনী রূপকধর্মী, ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’ তার মধ্যে অন্যতম। ‘কুকুর ও উপমানবের গল্প’তে সেরগেই ইয়েসিনিনের ‘একটি কুকুর বিষয়ক গান’ কবিতার সারমর্ম করেছেন লেখক। মূল কবিতাটি পড়ে কেঁদে ছিলেন ম্যাক্সিম গোর্কি। আমি না কাঁদলেও খুবই ব্যথিত বোধ করেছি শাহাব আহমেদের বর্ণনা পড়ে। পাঠকের উদ্দেশ্যে এখানে তুলে দিচ্ছি লেখাটির কিছু অংশ- ‘‘একবার এক স্যাঁতস্যাঁতে শীতল কুঠুরিতে কতগুলে জংয়ের দাগ লাগা ন্যাকড়ার কুণ্ডলিতে এক কুক্কুরী জন্ম দেয় ৭টি শিশু। মা তাদের যত্ন করে সারাদিন ধরে গা চেটে চেটে ভরে দেয় ভালোবাসায়। নিজের পেটের নিচে নিজস্ব তাপ দিয়ে উষ্ণ করে রাখে ওদের। কেননা চারদিক থেকে হু হু করে আসে তীরের ফলার মতো কনকনে শীতের বাতাস, যেমন বৈরী সন্ত্রাস ও ক্ষুধা। তারপরও আদিম অকৃত্রিম পৃথিবীর সুখ ছেয়ে থাকে সামান্য সেই কুক্কুরীর জীবন।

দিন শেষে বাড়ির মালিক আসে মেঘের মতো মুখ করে। বিরক্ত হয় এই কুকুরের দঙ্গল দেখে। এক মস্ত বড় ছালা এনে ভরে ফেলে শিশুর মত এই শিশুদের। তারপর কাঁধে নিয়ে হাঁটা শুরু করে। মা কুকুর আগে-পাছে-পাশে দৌড়ায়। করুণ ঘেউ ঘেউ করে মিনতি করে বাচ্চাদের ফিরিয়ে দিতে, কিন্তু মানুষের বুক কি কুকুরের বুক?

সে মুখে শিষ দিতে দিতে চলে যায় গন্তব্যের দিকে। রাস্তাঘাট সাদা সাদা তুষারে ঢাকতে শুরু করেছে। সে অবিকল মানুষের মতো মানুষটি একটা মস্ত বড় দীঘির তীরে এসে চড়ে বসে নৌকায়। দীঘির জল তখন বরফ শীতল, যে কোনো সময় জমে যাওয়ার অপেক্ষায়। সে মধ্য দীঘিতে এসে পাথর বেঁধে ছালাটি ছুড়ে দেয় জলে। অনেকগুলো বুদবুদ তুলে ডুবে যায় নিরীহ কতগুলো প্রাণ।” বইটি না পড়লে এমন একটি মর্মান্তিক কাহিনীটি হয়তো কখনও জানা হতো না আমার। তাই ধন্যবাদ লেখককে, নিজের লেখার পাশাপাশি অন্যের বিখ্যাত কিছু লেখা এবং এর পিছনের প্রেক্ষাপট এভাবে তুলে আনার জন্য।

একটি ‘ছন্নছাড়া প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান’ কাহিনীতে লেখক তুলে এনেছেন কিছু প্রশ্নের উত্তর এবং অজানা অনেক তথ্য। ধর্মগুরুরা যে বর্তমানের ন্যায়, কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমানের চেয়েও প্রচণ্ড প্রতাপশালী ছিলেন অতীতেও, তার প্রমাণ পাই এই কাহিনীতে।

‘‘...আক্রমণ শুরু হল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল সূর্যগ্রহণ। সূর্য ঢেকে গেল। পৃথিবী নিমজ্জিত হল অন্ধকারে, সৈন্যরা ভয় পেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল ঈশ্বরের রাগ দেখে। ফেরাউন নিহত হল। হেরিহর ক্ষমতা দখল করে হল নতুন ফেরাউন।”

আরেকটি অজানা তথ্য পেলাম বইটি থেকে। এতদিন ধারণা ছিল সতীদাহ প্রথার উদ্ভাবন ভারতীয় উপমহাদেশে। লেখকের বইটি থেকে জানতে পারলাম সতীদাহ প্রথার প্রবর্তক ছিল যাযাবর উপজাতি, দুর্ধর্ষ সাইথিয়ানরা। এরকম বহু অজানা তথ্য রয়েছে বইটিতে। গল্পের কাহিনী ছাপিয়ে উঠে এসেছে ইতিহাসের বিখ্যাত সব জানা-অজানা বিচিত্র কাহিনী ও চরিত্র। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, বইটি পাঠকের ভালো লাগবে, সমৃদ্ধ করবে তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার।

পপি চৌধুরী

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter