এ সাফল্য দেশবাসীর
jugantor
এ সাফল্য দেশবাসীর

  আর কে চৌধুরী  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত বা গরিব দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশ বা মধ্যবিত্তের কাতারে বাংলাদেশের যাত্রা আরও এক ধাপ এগোল। বুধবার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ বা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সুপারিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসাবে দেখা হচ্ছে জাতিসংঘের এ অনুমোদনকে। এ সাফল্যের অংশীদার দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাংলাদেশ এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল প্রদানের সুপারিশ করা হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এরই মধ্যে সিডিপির সুপারিশ অনুমোদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশের অনুমোদন পাবে, এ বিষয়ে কারও সংশয় ছিল না। স্বাধীনতার পর দীর্ঘকাল ধরে যে দেশকে বিদ্রুপ করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি বলে, সেদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে নিজেদের ভাগ্য গড়ার ব্যাপারে তারা কতটা আত্মপ্রত্যয়ী। দুই যুগের পাকিস্তানি শোষণ ও মুক্তিযুদ্ধকালের সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশের ভাগ্যে গরিবি হাল নিশ্চিত করেছিল। একসময় যে দেশ ছিল দুনিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ, সেদেশ সবচেয়ে গরিব দেশে পরিণত হয়েছিল। সেই বাংলাদেশ এখন অন্য দেশকে ঋণ দেওয়ার মতো সামর্থ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে যারা বিদ্রুপ করত, তারাও স্বীকার করছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পারের মানুষের সাফল্য।

ইতিহাসের নিরিখে বলা হয়, বাঙালির ইতিহাস বীরত্বের ইতিহাস। দুরন্ত সাহসে উজ্জীবিত এ জাতি। ২ হাজার বছর আগেও পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পারের মানুষের শক্তি-সামর্থ্য ও বীরত্বের প্রশংসা করেছেন গ্রিকবীর আলেকজান্ডারের সফরসঙ্গীরা। রোমান কবি ভার্জিলের কবিতায়ও স্থান পেয়েছে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপবাসীর প্রশস্তি। কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক এবং পাকিস্তানি জংলি শাসনে বাংলাদেশ তার স্বকীয় মর্যাদা হারাতে চলেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সে অপমানজনক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। বর্তমানে বিদেশিরাও বাংলাদেশের সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

এ সাফল্য দেশবাসীর

 আর কে চৌধুরী 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত বা গরিব দেশের কাতার থেকে উন্নয়নশীল দেশ বা মধ্যবিত্তের কাতারে বাংলাদেশের যাত্রা আরও এক ধাপ এগোল। বুধবার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ বা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সুপারিশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় অনুমোদন পেয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসাবে দেখা হচ্ছে জাতিসংঘের এ অনুমোদনকে। এ সাফল্যের অংশীদার দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বাংলাদেশ এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সভায় দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ লাভ করে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল প্রদানের সুপারিশ করা হয়। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এরই মধ্যে সিডিপির সুপারিশ অনুমোদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশের অনুমোদন পাবে, এ বিষয়ে কারও সংশয় ছিল না। স্বাধীনতার পর দীর্ঘকাল ধরে যে দেশকে বিদ্রুপ করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি বলে, সেদেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে নিজেদের ভাগ্য গড়ার ব্যাপারে তারা কতটা আত্মপ্রত্যয়ী। দুই যুগের পাকিস্তানি শোষণ ও মুক্তিযুদ্ধকালের সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ বাংলাদেশের ভাগ্যে গরিবি হাল নিশ্চিত করেছিল। একসময় যে দেশ ছিল দুনিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ, সেদেশ সবচেয়ে গরিব দেশে পরিণত হয়েছিল। সেই বাংলাদেশ এখন অন্য দেশকে ঋণ দেওয়ার মতো সামর্থ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে যারা বিদ্রুপ করত, তারাও স্বীকার করছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পারের মানুষের সাফল্য।

ইতিহাসের নিরিখে বলা হয়, বাঙালির ইতিহাস বীরত্বের ইতিহাস। দুরন্ত সাহসে উজ্জীবিত এ জাতি। ২ হাজার বছর আগেও পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পারের মানুষের শক্তি-সামর্থ্য ও বীরত্বের প্রশংসা করেছেন গ্রিকবীর আলেকজান্ডারের সফরসঙ্গীরা। রোমান কবি ভার্জিলের কবিতায়ও স্থান পেয়েছে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপবাসীর প্রশস্তি। কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক এবং পাকিস্তানি জংলি শাসনে বাংলাদেশ তার স্বকীয় মর্যাদা হারাতে চলেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সে অপমানজনক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। বর্তমানে বিদেশিরাও বাংলাদেশের সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

আর কে চৌধুরী : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক; মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৩ নং সেক্টরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন