সচেতনতাই বাঁচাতে পারে
jugantor
সচেতনতাই বাঁচাতে পারে

  সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। রোগটি সম্পর্কে মানুষকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘Ending the HIV Epidemic: Equitable Access, Everyone’s Voice’.

এইডস (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম) রোগ এইচআইভি নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এ ভাইরাস মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। তবে মানবদেহে এইচআইভি সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয় না। শুরুতে ক্ষেত্রবিশেষে ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এরপর বহুদিন হয়তো কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই কোনো লক্ষণ ছাড়া এই রোগ বহন করে। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ পর কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, মুখের অভ্যন্তরে ঘা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, স্বাস্থ্যের অবনতি, লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়, যার কারণে রোগী এই ভাইরাস সম্পর্কে বুঝতে পারে না।

সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে আমেরিকায় এই রোগ ধরা পড়ে। তবে রোগটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানবদেহে বিভিন্নভাবে এইডস রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা বীর্য বা জরায়ু রসের সঙ্গে যদি সুস্থ কোনো ব্যক্তির রক্ত, শরীর রস, বা মিউকাশ আবরণের সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে এইচআইভি তথা এইডস রোগের বিস্তার ঘটে। এসব সংস্পর্শ নানাভাবে ঘটতে পারে। যেমন-অবাধ যৌন সম্পর্ক, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে ধারণ বা গ্রহণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার ইত্যাদি। এমনকি সংক্রমিত গর্ভবতী নারী থেকে শিশুর দেহেও এ রোগ ছড়াতে পারে। এইডস রোধে বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিকারের বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিলে এইচআইভির সংক্রমণ থেকে মানুষ মুক্ত থাকতে পারবে নিশ্চিতভাবেই।

বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোয় ইতোমধ্যে এইডস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মৃদু আক্রান্তের দেশ হিসাবে বিবেচিত। তবে প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশও ঝুঁকিপূর্ণ। এইডস থেকে নিজেকে, সমাজকে রক্ষা করতে এবং মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। এজন্য ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আমাদের আবাসভূমি নতুন প্রজন্মের জন্য সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখব, এই হোক আগামীর অঙ্গীকার।

সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র : সমন্বয়ক, মিডিয়া সেল টু ভাইস চ্যান্সেলর; কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

সচেতনতাই বাঁচাতে পারে

 সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। রোগটি সম্পর্কে মানুষকে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘Ending the HIV Epidemic: Equitable Access, Everyone’s Voice’.

এইডস (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম) রোগ এইচআইভি নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এ ভাইরাস মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। তবে মানবদেহে এইচআইভি সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয় না। শুরুতে ক্ষেত্রবিশেষে ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এরপর বহুদিন হয়তো কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই কোনো লক্ষণ ছাড়া এই রোগ বহন করে। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ পর কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, মুখের অভ্যন্তরে ঘা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, স্বাস্থ্যের অবনতি, লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়, যার কারণে রোগী এই ভাইরাস সম্পর্কে বুঝতে পারে না।

সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে আমেরিকায় এই রোগ ধরা পড়ে। তবে রোগটি আফ্রিকা থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মানবদেহে বিভিন্নভাবে এইডস রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা বীর্য বা জরায়ু রসের সঙ্গে যদি সুস্থ কোনো ব্যক্তির রক্ত, শরীর রস, বা মিউকাশ আবরণের সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে এইচআইভি তথা এইডস রোগের বিস্তার ঘটে। এসব সংস্পর্শ নানাভাবে ঘটতে পারে। যেমন-অবাধ যৌন সম্পর্ক, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে ধারণ বা গ্রহণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা দাঁতের চিকিৎসা বা অপারেশন, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার ইত্যাদি। এমনকি সংক্রমিত গর্ভবতী নারী থেকে শিশুর দেহেও এ রোগ ছড়াতে পারে। এইডস রোধে বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিকারের বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিলে এইচআইভির সংক্রমণ থেকে মানুষ মুক্ত থাকতে পারবে নিশ্চিতভাবেই।

বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোয় ইতোমধ্যে এইডস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মৃদু আক্রান্তের দেশ হিসাবে বিবেচিত। তবে প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশও ঝুঁকিপূর্ণ। এইডস থেকে নিজেকে, সমাজকে রক্ষা করতে এবং মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। এজন্য ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আমাদের আবাসভূমি নতুন প্রজন্মের জন্য সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখব, এই হোক আগামীর অঙ্গীকার।

সুব্রত বিশ্বাস শুভ্র : সমন্বয়ক, মিডিয়া সেল টু ভাইস চ্যান্সেলর; কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন