শিশুর জন্য প্রয়োজন অভিন্ন শিক্ষা
jugantor
শিশুর জন্য প্রয়োজন অভিন্ন শিক্ষা

  মো. সিদ্দিকুর রহমান  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষা বিষয়টি দীর্ঘ সময় থেকে চলে আসছে। পরীক্ষার অর্থ শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিমাপ যাচাই করা। পরীক্ষাব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীর জ্ঞানলাভে ঘাটতি থাকলে সেই দুর্বলতা পূরণের কোনো সুযোগ থাকে না। পরীক্ষায় পাশ করলে শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সবার মাঝে আনন্দের সুবাতাস বয়ে যায়। আর ফেল করলে বিষাদের কালো মেঘ ছেয়ে যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে এ আনন্দ ও কান্নার বৈষম্য কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। সব শিশু আনন্দঘন পরিবেশে জ্ঞান অর্জন করবে, এ প্রত্যাশা সবার। সচ্ছল-বিত্তবান মানুষের সন্তানরা টাকার বিনিময়ে তাদের শিক্ষা কিনবে; আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে অসহায়-দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষালাভে বিঘ্ন ঘটবে-এমনটি কাম্য হতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল হয়। এ প্যানেলই প্রথম ও শেষ। ১৯৭৫ সালের পর থেকে চলে আসছে প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট। শিক্ষকদের অবসরগ্রহণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রশিক্ষণ, অন্য পেশায় চলে যাওয়া, মৃত্যুসহ নানা কারণে পদ খালি হয়। অনেকটা জমিদারি স্টাইলে সময়ক্ষেপণ করে ২/৩/৪ বছর পর শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি তো একযুগ ধরে বন্ধ। একদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, অপরদিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শূন্যপদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।

করোনার ব্যাপকতা কমে আসার পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের তোড়জোড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ প্রাথমিকে কী কারণে নিয়োগ পরীক্ষা ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে পেছানো হলো, তা বোধগম্য নয়। শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার কারণ হলো, করোনার দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের যে ঘাটতি হয়েছে, তা পূরণে এ সংকট দূর করা জরুরি। শিক্ষক সংকটের কারণে দুর্বল শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাময়মূলক পাঠের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অকার্যকর মূল্যায়ন সবার মাঝে বিরূপ ধারণা বয়ে আনবে। জনগণের মাঝে বদ্ধমূল ধারণা জন্মাবে, এ বুঝি অটোপাশ! এদিকে বিপুলসংখ্যক শিশু পরীক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ থাকছে। কিন্ডারগার্টেনের বিপুলসংখ্যক শিশু সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় শিশু শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্ঞান অর্জনমুখী শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। সব শিশুর জন্য প্রয়োজন অভিন্ন বই, সময়সূচি ও মূল্যায়ন বা পরীক্ষা পদ্ধতি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানীসহ শিশু শিক্ষায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ বোর্ড গঠন করার যৌক্তিকতা ভেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, শিশুর প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিকে ক্যাডার সার্ভিসসহ প্রয়োজন সহকারী শিক্ষক পদ থেকে শতভাগ পদোন্নতি।

আমরা শিশুদের ভালোবাসি। অথচ তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উলটাপালটা কাজ করছি। শিশুদের শিক্ষা নিয়ে বাস্তবসম্মত ভাবনা হোক সবার মাঝে। সফল বাস্তবায়ন হোক আনন্দঘন পরিবেশে শিশুর শিক্ষা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কানে পানি ঢুকুক।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

শিশুর জন্য প্রয়োজন অভিন্ন শিক্ষা

 মো. সিদ্দিকুর রহমান 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরীক্ষা বিষয়টি দীর্ঘ সময় থেকে চলে আসছে। পরীক্ষার অর্থ শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিমাপ যাচাই করা। পরীক্ষাব্যবস্থায় কোনো শিক্ষার্থীর জ্ঞানলাভে ঘাটতি থাকলে সেই দুর্বলতা পূরণের কোনো সুযোগ থাকে না। পরীক্ষায় পাশ করলে শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সবার মাঝে আনন্দের সুবাতাস বয়ে যায়। আর ফেল করলে বিষাদের কালো মেঘ ছেয়ে যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে এ আনন্দ ও কান্নার বৈষম্য কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। সব শিশু আনন্দঘন পরিবেশে জ্ঞান অর্জন করবে, এ প্রত্যাশা সবার। সচ্ছল-বিত্তবান মানুষের সন্তানরা টাকার বিনিময়ে তাদের শিক্ষা কিনবে; আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে অসহায়-দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষালাভে বিঘ্ন ঘটবে-এমনটি কাম্য হতে পারে না।

বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল হয়। এ প্যানেলই প্রথম ও শেষ। ১৯৭৫ সালের পর থেকে চলে আসছে প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট। শিক্ষকদের অবসরগ্রহণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, প্রশিক্ষণ, অন্য পেশায় চলে যাওয়া, মৃত্যুসহ নানা কারণে পদ খালি হয়। অনেকটা জমিদারি স্টাইলে সময়ক্ষেপণ করে ২/৩/৪ বছর পর শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি তো একযুগ ধরে বন্ধ। একদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, অপরদিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শূন্যপদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে।

করোনার ব্যাপকতা কমে আসার পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের তোড়জোড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ প্রাথমিকে কী কারণে নিয়োগ পরীক্ষা ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে পেছানো হলো, তা বোধগম্য নয়। শিক্ষক সংকট নিয়ে কথা বলার কারণ হলো, করোনার দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের যে ঘাটতি হয়েছে, তা পূরণে এ সংকট দূর করা জরুরি। শিক্ষক সংকটের কারণে দুর্বল শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাময়মূলক পাঠের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অকার্যকর মূল্যায়ন সবার মাঝে বিরূপ ধারণা বয়ে আনবে। জনগণের মাঝে বদ্ধমূল ধারণা জন্মাবে, এ বুঝি অটোপাশ! এদিকে বিপুলসংখ্যক শিশু পরীক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ থাকছে। কিন্ডারগার্টেনের বিপুলসংখ্যক শিশু সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় শিশু শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্ঞান অর্জনমুখী শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। সব শিশুর জন্য প্রয়োজন অভিন্ন বই, সময়সূচি ও মূল্যায়ন বা পরীক্ষা পদ্ধতি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানীসহ শিশু শিক্ষায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ বোর্ড গঠন করার যৌক্তিকতা ভেবে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, শিশুর প্রতি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাথমিকে ক্যাডার সার্ভিসসহ প্রয়োজন সহকারী শিক্ষক পদ থেকে শতভাগ পদোন্নতি।

আমরা শিশুদের ভালোবাসি। অথচ তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উলটাপালটা কাজ করছি। শিশুদের শিক্ষা নিয়ে বাস্তবসম্মত ভাবনা হোক সবার মাঝে। সফল বাস্তবায়ন হোক আনন্দঘন পরিবেশে শিশুর শিক্ষা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কানে পানি ঢুকুক।

মো. সিদ্দিকুর রহমান : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন