ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ!
jugantor
ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ!

  লিয়াকত হোসেন খোকন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারি চলে গিয়েও যেন যাচ্ছে না। ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিষ্কারের পর মনে করা হয়েছিল, মহামারির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরোপজুড়ে এ মহামারি আবার সংহারমূর্তি ধারণ করেছে। এরই মধ্যে আরও উদ্বেগজনক খবর হলো, করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনের নাম দিয়েছে ওমিক্রন। বলা হচ্ছে, করোনারভাইরাসের এখন পর্যন্ত যত ধরন এসেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ওমিক্রন। ইতোমধ্যে ওমিক্রন অস্বাভাবিকভাবে রূপ বদল করে চলছে। এখন পর্যন্ত এটি ৫০ বার রূপ বদলেছে।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে গোটা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে দেশে জারি হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো কম কার্যকর বলে মনে হচ্ছে। টিকা উৎপাদনকারী ওষুধ কোম্পানিগুলো নতুন ভ্যারিয়েন্টকে কিভাবে কাবু করা যায়, সে ব্যাপারে টিকার নতুন সংস্কার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। এমআরএনএ প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনকেও প্রতিরোধ করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সারাবিশ্বে খুবই বড় বিপদ হিসাবে দেখা দিতে পারে করোনার নতুন ধরনটি। যদিও এই নতুন ধারার ভাইরাস ঠিক কতটা সংক্রমণ ছড়াতে পারে বা কতটা এর মারণক্ষমতা, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাননি চিকিৎসক, গবেষকরা। তবে এমআরএনএ পদ্ধতি সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। এটি নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনের পথ উন্মোচন করছে। এটি পুরোনো শত্রু যেমন এইচআইভি এবং শিশুদের রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি ও মেটানিউমোভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরাট সাফল্য এনে দিতে পারে। মেলানোমা ও ব্রেন টিউমারসহ ক্যানসারের চিকিৎসায়ও এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একে জিন থেরাপি হিসাবেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে ওমিক্রন প্রতিরোধে এটি কতটা কাজে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।

মহামারি করোনা ইতোমধ্যেই জীবন কেড়ে নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের। এ ভাইরাস হয়ে উঠেছে আতঙ্কের অপর নাম। প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গড় আয়ুও কমিয়ে দিয়েছে এই মহামারি। ৩৯ থেকে ৬৯ বছর বয়সের পুরুষদের সর্বাধিক জীবন কেড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিবার মানুষ যখন কোনো মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তখন আয়ু হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান দেশগুলোতে এইচআইভি-এইডস মহামারির পর আয়ু হ্রাস পেয়েছিল। ওমিক্রন কী বিপদ ডেকে আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন : প্রাবন্ধিক

ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগ!

 লিয়াকত হোসেন খোকন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারি চলে গিয়েও যেন যাচ্ছে না। ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিষেধক আবিষ্কারের পর মনে করা হয়েছিল, মহামারির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরোপজুড়ে এ মহামারি আবার সংহারমূর্তি ধারণ করেছে। এরই মধ্যে আরও উদ্বেগজনক খবর হলো, করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনের নাম দিয়েছে ওমিক্রন। বলা হচ্ছে, করোনারভাইরাসের এখন পর্যন্ত যত ধরন এসেছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ওমিক্রন। ইতোমধ্যে ওমিক্রন অস্বাভাবিকভাবে রূপ বদল করে চলছে। এখন পর্যন্ত এটি ৫০ বার রূপ বদলেছে।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে গোটা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে দেশে জারি হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো কম কার্যকর বলে মনে হচ্ছে। টিকা উৎপাদনকারী ওষুধ কোম্পানিগুলো নতুন ভ্যারিয়েন্টকে কিভাবে কাবু করা যায়, সে ব্যাপারে টিকার নতুন সংস্কার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। এমআরএনএ প্রযুক্তি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনকেও প্রতিরোধ করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, সারাবিশ্বে খুবই বড় বিপদ হিসাবে দেখা দিতে পারে করোনার নতুন ধরনটি। যদিও এই নতুন ধারার ভাইরাস ঠিক কতটা সংক্রমণ ছড়াতে পারে বা কতটা এর মারণক্ষমতা, তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাননি চিকিৎসক, গবেষকরা। তবে এমআরএনএ পদ্ধতি সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। এটি নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনের পথ উন্মোচন করছে। এটি পুরোনো শত্রু যেমন এইচআইভি এবং শিশুদের রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি ও মেটানিউমোভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরাট সাফল্য এনে দিতে পারে। মেলানোমা ও ব্রেন টিউমারসহ ক্যানসারের চিকিৎসায়ও এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। একে জিন থেরাপি হিসাবেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে ওমিক্রন প্রতিরোধে এটি কতটা কাজে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।

মহামারি করোনা ইতোমধ্যেই জীবন কেড়ে নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের। এ ভাইরাস হয়ে উঠেছে আতঙ্কের অপর নাম। প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গড় আয়ুও কমিয়ে দিয়েছে এই মহামারি। ৩৯ থেকে ৬৯ বছর বয়সের পুরুষদের সর্বাধিক জীবন কেড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিবার মানুষ যখন কোনো মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তখন আয়ু হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ, আফ্রিকান দেশগুলোতে এইচআইভি-এইডস মহামারির পর আয়ু হ্রাস পেয়েছিল। ওমিক্রন কী বিপদ ডেকে আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন : প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন