শীতে যেমন থাকে টাঙ্গুয়ার হাওড়
jugantor
শীতে যেমন থাকে টাঙ্গুয়ার হাওড়

  শেখ একেএম জাকারিয়া  

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওড়। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝিরি (ঝরনা) এসে মিশেছে এই হাওড়ে। নয়ন মোহিত করা মাথার উপরে নীল আকাশ, উড়ে চলা সাদা বক ও পানকৌড়ির ঝাঁক, চারদিকে শান্ত জলরাশি, মাঝে মাঝে হিজল-করচ গাছ, পাখিদের মধুর গুঞ্জনধ্বনি-এসব দেখতে-শুনতে এ হাওড়ে প্রতিদিন ছুটে আসেন পাখি অনুরক্ত সাধারণ মানুষ ও সৌন্দর্যপিয়াসী পরিব্রাজকরা।

টাঙ্গুয়ার হাওড় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির নিম্নভূমি। জনশ্রুতি আছে, হাওড়টি নয় কুড়ি কান্দা ও ছয় কুড়ি বিল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। সুদূর অতীত থেকেই এ হাওড় দেশি-বিদেশি পাখি ও মাছের বিশেষ অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এ হাওড়ে সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মেলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে? বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওড় পুরোটাই পানিতে ডুবে থাকে। শীত আসার দু-তিন মাস আগ থেকেই পানি কমতে শুরু করে। বিশেষত মাঘের শীতে হাওড়ের পানি তলানিতে ঠেকে। সে সময় হাওড়ের অর্ধেকের বেশি স্থান শুকিয়ে যায়।

১৯৯৯ সালে যখন টাঙ্গুয়ার হাওড়কে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়, তখনই সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি এই হাওড়কে দ্বিতীয় ‘রামসার স্থান’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে আইসিইউএন এই হাওড়ের উদ্ভিদ ও অণুজীবসহ প্রাণিকুলের বৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখিদের প্রধান অভয়ারণ্য হলো লেউচ্ছামারা ও বেরবেড়িয়ার বিল। এছাড়া যে বিলগুলোতে পাখিদের বিচরণ বেশি সেগুলো হলো-রৌয়ার বিল, গজারিয়ার বিল, আলমের ডোয়ার, সাংসার বিল, কৈখালি বিল, ছুনখোলা বিল, জিততলার গোপ, ফইল্লার বিল, রূপাভূই বিল, সত্তার বিল, মইষের গাতা, হাতির গাতা, বালোয়ার ডোবা, কাউয়ার বিল, আনসারের বিল, খাজুরী বিল, আইন্নার বিল, নলকাঠির বিল ইত্যাদি। শীতকালে যখন টাঙ্গুয়ার হাওড়ের পানি কমে একেবারে শুকিয়ে যায়, তখন এসব বিলসহ প্রায় ২৪টি বিলের পাড় বা কান্দা জেগে ওঠে। এসব কান্দার ভেতরের অংশে অনেক আদি বিল থাকে, যেখানে প্রচুর মাছ ও পাখির দেখা মেলে। এ সময় বিলের পাশে অর্থাৎ শুকিয়ে যাওয়া অংশে (কান্দা ব্যতিরেকে) স্থানীয় কৃষকরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া কান্দা গোচারণভূমি হিসাবে ব্যবহার হয়।

ঢাকা থেকে দুদিন হাতে নিয়ে বের হলে সহজেই দেখে আসা যায় এই বৃহৎ জলাভূমি। এ হাওড়ে একা না গিয়ে দলবেঁধে যাওয়াই উত্তম। কেননা, একা গেলে আনন্দ তেমন একটা জমবে না। তাছাড়া রাত্রি যাপনের জন্য হোটেল, খাবারদাবার ও যাতায়াতের বিষয়গুলো আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে, নইলে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

শেখ একেএম জাকারিয়া : সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

শীতে যেমন থাকে টাঙ্গুয়ার হাওড়

 শেখ একেএম জাকারিয়া 
২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওড়। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝিরি (ঝরনা) এসে মিশেছে এই হাওড়ে। নয়ন মোহিত করা মাথার উপরে নীল আকাশ, উড়ে চলা সাদা বক ও পানকৌড়ির ঝাঁক, চারদিকে শান্ত জলরাশি, মাঝে মাঝে হিজল-করচ গাছ, পাখিদের মধুর গুঞ্জনধ্বনি-এসব দেখতে-শুনতে এ হাওড়ে প্রতিদিন ছুটে আসেন পাখি অনুরক্ত সাধারণ মানুষ ও সৌন্দর্যপিয়াসী পরিব্রাজকরা।

টাঙ্গুয়ার হাওড় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির নিম্নভূমি। জনশ্রুতি আছে, হাওড়টি নয় কুড়ি কান্দা ও ছয় কুড়ি বিল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। সুদূর অতীত থেকেই এ হাওড় দেশি-বিদেশি পাখি ও মাছের বিশেষ অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত। এ হাওড়ে সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মেলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে? বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওড় পুরোটাই পানিতে ডুবে থাকে। শীত আসার দু-তিন মাস আগ থেকেই পানি কমতে শুরু করে। বিশেষত মাঘের শীতে হাওড়ের পানি তলানিতে ঠেকে। সে সময় হাওড়ের অর্ধেকের বেশি স্থান শুকিয়ে যায়।

১৯৯৯ সালে যখন টাঙ্গুয়ার হাওড়কে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়, তখনই সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ ৬০ বছরের ইজারাদারির। ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি এই হাওড়কে দ্বিতীয় ‘রামসার স্থান’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে আইসিইউএন এই হাওড়ের উদ্ভিদ ও অণুজীবসহ প্রাণিকুলের বৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখিদের প্রধান অভয়ারণ্য হলো লেউচ্ছামারা ও বেরবেড়িয়ার বিল। এছাড়া যে বিলগুলোতে পাখিদের বিচরণ বেশি সেগুলো হলো-রৌয়ার বিল, গজারিয়ার বিল, আলমের ডোয়ার, সাংসার বিল, কৈখালি বিল, ছুনখোলা বিল, জিততলার গোপ, ফইল্লার বিল, রূপাভূই বিল, সত্তার বিল, মইষের গাতা, হাতির গাতা, বালোয়ার ডোবা, কাউয়ার বিল, আনসারের বিল, খাজুরী বিল, আইন্নার বিল, নলকাঠির বিল ইত্যাদি। শীতকালে যখন টাঙ্গুয়ার হাওড়ের পানি কমে একেবারে শুকিয়ে যায়, তখন এসব বিলসহ প্রায় ২৪টি বিলের পাড় বা কান্দা জেগে ওঠে। এসব কান্দার ভেতরের অংশে অনেক আদি বিল থাকে, যেখানে প্রচুর মাছ ও পাখির দেখা মেলে। এ সময় বিলের পাশে অর্থাৎ শুকিয়ে যাওয়া অংশে (কান্দা ব্যতিরেকে) স্থানীয় কৃষকরা রবিশস্য ও বোরো ধানের আবাদ করেন। অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া কান্দা গোচারণভূমি হিসাবে ব্যবহার হয়।

ঢাকা থেকে দুদিন হাতে নিয়ে বের হলে সহজেই দেখে আসা যায় এই বৃহৎ জলাভূমি। এ হাওড়ে একা না গিয়ে দলবেঁধে যাওয়াই উত্তম। কেননা, একা গেলে আনন্দ তেমন একটা জমবে না। তাছাড়া রাত্রি যাপনের জন্য হোটেল, খাবারদাবার ও যাতায়াতের বিষয়গুলো আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে, নইলে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

শেখ একেএম জাকারিয়া : সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন