মাস্ক না পরা বাহাদুরি নয়
jugantor
মাস্ক না পরা বাহাদুরি নয়

  প্রদীপ সাহা  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, করোনার সংক্রমণ রোধে মাস্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সামান্য মাস্কই জীবন বাঁচানোর সহজ হাতিয়ার।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়লেও একশ্রেণির মানুষের মধ্যে এখনো চেতনতাবোধ জাগছে না। বিভিন্নভাবে জনগণকে সচেতন হতে বলা হলেও অনেকেই ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন।

তারা ধরেই নিয়েছেন, করোনা একটি সাধারণ ব্যাপার! তাই তাদের কোনোভাবেই সচেতনও করা যাচ্ছে না। তারা দিব্যি মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না। অথচ এসব মানুষের কারণে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আপনি হয়তো আপনার প্রয়োজনে বাজারে কিংবা জনসমাগম স্থানে গেলেন। আপনার সামনে বুক ফুলিয়ে মাস্ক না পরে, হাঁচি-কাশি দিয়ে আপনার কাছ ঘেষে হেঁটে গেলেন স্বাস্থ্যবিধি না মানা একজন লোক। বিশেষ প্রয়োজনে আপনাকে গণপরিবহণ ব্যবহার করতেই হয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে আরও বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মাস্ক না পরে কেউ হয়তো আপনার পাশের সিটে বসে পড়ছেন কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, আপনি তাকে মাস্ক পরার ব্যাপারে কিছু বললে তিনি হয়তো তর্ক শুরু করে দিলেন। গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীরাও কিছু বললেন না। তার মানে আপনি ইচ্ছা করলেও নিরাপদ থাকতে পারছেন না।

করোনার তোয়াক্কা না করে অনেকেই যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এটি যে শুধু অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, তা নয়। অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিকেও দেখা যায় মাস্ক না পরে দিব্যি চলাফেরা করছেন, প্রাণখুলে কথা বলছেন আরেকজন মাস্কবিহীন লোকের সঙ্গে। গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আমরা মাস্ক না পরার নানা অজুহাতের বক্তব্য শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যাই। ভাবতে কষ্ট লাগে-যেখানে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষ সচেতন থাকার চেষ্টা করছে, বাঁচতে চাচ্ছে করোনার থাবা থেকে, সেখানে তারা এত নির্বোধ হন কীভাবে?

গণপরিবহণে ও জনসমাগম স্থানে সহজেই করোনাভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে-এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এ দুটি স্থানেই দেখা যাচ্ছে সচেতনতার অভাব সবচেয়ে বেশি। তাই বিশেষ করে এ দুটি স্থানে আরও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো, মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন করার দায়িত্ব কি শুধু সরকার বা প্রশাসনের, নাকি আমাদের নিজেদেরও? আসলে সচেতন থাকাটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের ওপর। আমি-আপনি যদি সচেতন হই এবং সচেতন থাকার গুরুত্বটা বুঝতে পারি, তাহলে সহজেই আমরা করোনার সংক্রমণ রোধ করতে পারব।

মাস্ক না পরার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। এটা আমাদের জীবন বাঁচানোর সহজ একটি হাতিয়ার। তাই আসুন, আমরা মাস্ক ব্যবহার করার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুফলগুলো অনুধাবন করি। নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করার চেষ্টা করি।

প্রদীপ সাহা : লেখক

pradipsaha509@gmail.com

মাস্ক না পরা বাহাদুরি নয়

 প্রদীপ সাহা 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, করোনার সংক্রমণ রোধে মাস্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সামান্য মাস্কই জীবন বাঁচানোর সহজ হাতিয়ার।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়লেও একশ্রেণির মানুষের মধ্যে এখনো চেতনতাবোধ জাগছে না। বিভিন্নভাবে জনগণকে সচেতন হতে বলা হলেও অনেকেই ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন।

তারা ধরেই নিয়েছেন, করোনা একটি সাধারণ ব্যাপার! তাই তাদের কোনোভাবেই সচেতনও করা যাচ্ছে না। তারা দিব্যি মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না। অথচ এসব মানুষের কারণে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। আপনি হয়তো আপনার প্রয়োজনে বাজারে কিংবা জনসমাগম স্থানে গেলেন। আপনার সামনে বুক ফুলিয়ে মাস্ক না পরে, হাঁচি-কাশি দিয়ে আপনার কাছ ঘেষে হেঁটে গেলেন স্বাস্থ্যবিধি না মানা একজন লোক। বিশেষ প্রয়োজনে আপনাকে গণপরিবহণ ব্যবহার করতেই হয়। সেক্ষেত্রে আপনাকে আরও বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মাস্ক না পরে কেউ হয়তো আপনার পাশের সিটে বসে পড়ছেন কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, আপনি তাকে মাস্ক পরার ব্যাপারে কিছু বললে তিনি হয়তো তর্ক শুরু করে দিলেন। গাড়িতে থাকা অন্য যাত্রীরাও কিছু বললেন না। তার মানে আপনি ইচ্ছা করলেও নিরাপদ থাকতে পারছেন না।

করোনার তোয়াক্কা না করে অনেকেই যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এটি যে শুধু অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, তা নয়। অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিকেও দেখা যায় মাস্ক না পরে দিব্যি চলাফেরা করছেন, প্রাণখুলে কথা বলছেন আরেকজন মাস্কবিহীন লোকের সঙ্গে। গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আমরা মাস্ক না পরার নানা অজুহাতের বক্তব্য শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যাই। ভাবতে কষ্ট লাগে-যেখানে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষ সচেতন থাকার চেষ্টা করছে, বাঁচতে চাচ্ছে করোনার থাবা থেকে, সেখানে তারা এত নির্বোধ হন কীভাবে?

গণপরিবহণে ও জনসমাগম স্থানে সহজেই করোনাভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে-এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এ দুটি স্থানেই দেখা যাচ্ছে সচেতনতার অভাব সবচেয়ে বেশি। তাই বিশেষ করে এ দুটি স্থানে আরও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। প্রশ্ন হলো, মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন করার দায়িত্ব কি শুধু সরকার বা প্রশাসনের, নাকি আমাদের নিজেদেরও? আসলে সচেতন থাকাটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের ওপর। আমি-আপনি যদি সচেতন হই এবং সচেতন থাকার গুরুত্বটা বুঝতে পারি, তাহলে সহজেই আমরা করোনার সংক্রমণ রোধ করতে পারব।

মাস্ক না পরার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। এটা আমাদের জীবন বাঁচানোর সহজ একটি হাতিয়ার। তাই আসুন, আমরা মাস্ক ব্যবহার করার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুফলগুলো অনুধাবন করি। নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করার চেষ্টা করি।

প্রদীপ সাহা : লেখক

pradipsaha509@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন