ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন বনাম একটি পুরোনো আইন
jugantor
ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন বনাম একটি পুরোনো আইন

  অভিজিৎ বড়ুয়া অভি  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশনের কারণে ভূমিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও কিছু বিষয় এ সফলতাকে ম্লান করে দিতে পারে। যেমন জমির ভোগদখল সংক্রান্ত ব্রিটিশ আমলের একটি আইনের আজও কোনো সংস্কার হয়নি। ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বিনা বাধায় কারও জমি একাধারে ১২ বছর দখলে রাখতে পারে, বা ভোগদখল করে রাখতে পারে, তাহলে সে ভূমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করতে পারে। দখলদার যদি আদালতে বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সে ওই জমির মালিকানা পেতে পারে।

এ আইনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনেক নিরীহ মানুষ তাদের মালিকানাধীন ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ আইনের সুযোগে একজন সাধারণ নাগরিক উত্তরাধিকার সূত্রে এবং আরএস/বিএস/নামজারি খতিয়ান অনুসারে জমির মালিক হলেও এবং খাজনাদি যথাসময়ে পরিশোধ করলেও অন্যের ভোগদখলের কারণে ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হন। অসাধু আইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগে এরা ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৮ ধারার আশ্রয় নিয়ে আইন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে, পেশিশক্তির বলে জমির প্রকৃত মালিককে তার ভূমি থেকে উৎখাত ও উচ্ছেদ করে জমির দখল নেয়। আদালতে এখন যত মামলা রয়েছে, তার ৭০ শতাংশই জমিসংক্রান্ত। আর এর বেশিরভাগই জমির দখলবিষয়ক মামলা। এসব মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর। নিষ্পত্তি হওয়ার হারও উল্লেখযোগ্য নয়।

পরিতাপের বিষয় হলো, দেশে ‘ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইন’ বিদ্যমান থাকার ফলে সাধারণ নিরীহ নাগরিকরা তাদের বৈধ সম্পদ বেদখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর ফলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে এমন একটি আইন থাকার চেয়ে না থাকাই শ্রেয়। আগেই বলেছি, দেশে জমির ভোগদখল সংক্রান্ত আইনটি ব্রিটিশ আমলের। প্রকৃতপক্ষে এটি ১৮৮৫ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে অনেক আইনের পরিবর্তন হলেও এ আইনটি আগের মতোই রয়ে গেছে। রূপকল্প-২০৪১-এর আলোকে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এ আইন বাতিল করা বা আইনে যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তন আনা এবং ‘ভূমির ব্যবহার স্বত্ব গ্রহণ আইন ২০২০’ পাশ করা সময়ের দাবি। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে ‘ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইনে’র অস্তিত্ব থাকা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

অভিজিৎ বড়ুয়া অভি : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন বনাম একটি পুরোনো আইন

 অভিজিৎ বড়ুয়া অভি 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশনের কারণে ভূমিসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রভূত উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও কিছু বিষয় এ সফলতাকে ম্লান করে দিতে পারে। যেমন জমির ভোগদখল সংক্রান্ত ব্রিটিশ আমলের একটি আইনের আজও কোনো সংস্কার হয়নি। ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ বিনা বাধায় কারও জমি একাধারে ১২ বছর দখলে রাখতে পারে, বা ভোগদখল করে রাখতে পারে, তাহলে সে ভূমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করতে পারে। দখলদার যদি আদালতে বিষয়টি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সে ওই জমির মালিকানা পেতে পারে।

এ আইনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনেক নিরীহ মানুষ তাদের মালিকানাধীন ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ আইনের সুযোগে একজন সাধারণ নাগরিক উত্তরাধিকার সূত্রে এবং আরএস/বিএস/নামজারি খতিয়ান অনুসারে জমির মালিক হলেও এবং খাজনাদি যথাসময়ে পরিশোধ করলেও অন্যের ভোগদখলের কারণে ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হন। অসাধু আইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগে এরা ১৯০৮ সালের তামাদি আইনের ২৮ ধারার আশ্রয় নিয়ে আইন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে, পেশিশক্তির বলে জমির প্রকৃত মালিককে তার ভূমি থেকে উৎখাত ও উচ্ছেদ করে জমির দখল নেয়। আদালতে এখন যত মামলা রয়েছে, তার ৭০ শতাংশই জমিসংক্রান্ত। আর এর বেশিরভাগই জমির দখলবিষয়ক মামলা। এসব মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর। নিষ্পত্তি হওয়ার হারও উল্লেখযোগ্য নয়।

পরিতাপের বিষয় হলো, দেশে ‘ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইন’ বিদ্যমান থাকার ফলে সাধারণ নিরীহ নাগরিকরা তাদের বৈধ সম্পদ বেদখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এর ফলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সব অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং দেশে এমন একটি আইন থাকার চেয়ে না থাকাই শ্রেয়। আগেই বলেছি, দেশে জমির ভোগদখল সংক্রান্ত আইনটি ব্রিটিশ আমলের। প্রকৃতপক্ষে এটি ১৮৮৫ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশে অনেক আইনের পরিবর্তন হলেও এ আইনটি আগের মতোই রয়ে গেছে। রূপকল্প-২০৪১-এর আলোকে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এ আইন বাতিল করা বা আইনে যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তন আনা এবং ‘ভূমির ব্যবহার স্বত্ব গ্রহণ আইন ২০২০’ পাশ করা সময়ের দাবি। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে ‘ভূমিসংক্রান্ত ১৯০৮ সালের তামাদি আইনে’র অস্তিত্ব থাকা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

অভিজিৎ বড়ুয়া অভি : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন