মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে জরুরি সাবধানতা
jugantor
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে জরুরি সাবধানতা

  শেখ একেএম জাকারিয়া  

০৩ আগস্ট ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রায়ই কিশোর-তরুণরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কিশোর ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। এ বয়সের ছেলেরা সাধারণত বেশি বেপরোয়া হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক সময় নিজেদের সাহসিকতা দেখাতে গিয়ে অকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বা অল্প বয়সে এই বাহন সহজে হাতে পাওয়া, বন্ধুদের চাপ, কম বয়সের উচ্ছ্বাস, জীবনে প্রথম যান্ত্রিক যান চালানোর উত্তেজনা, প্রতিযোগিতার মনোভাব, ইচ্ছামতো গতি বাড়ানোর সুযোগ ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা বেশি হয়।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ২১ বছরের নিচে অর্থাৎ কিশোর-তরুণ। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের বক্তব্য হলো, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পেছনে বেশকিছু কারণ আছে। এর মধ্যে অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন করা, ট্রাফিক আইন না মানা, চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা ইত্যাদি অন্যতম।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে চালক কেবল নিজেকেই ঝুঁকিতে ফেলেন না, একইসঙ্গে পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাজেই চালক নিজে এ ব্যাপারে সচেতন হলে দুর্ঘটনা রোধ হতে পারে।

কথায় আছে, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’। জীবন বাঁচলে মোটরসাইকেল চালনা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নিজের বাহাদুরি দেখানোর সুযোগ থাকবে। তাই মোটরসাইকেল চালানোর সময় সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন ঠিকমতো প্রয়োগ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা গেলে। সেই সঙ্গে প্রতিটি মোটরসাইকেল যেন তালিকাভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

লাইসেন্স ছাড়া চালকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ১৮ বছরের নিচে কেউ যাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স না পায়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সর্বোপরি, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পথ চলে, তাহলে মোটরসাইকেলের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা কমে আসতে পারে।

শেখ একেএম জাকারিয়া : সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে জরুরি সাবধানতা

 শেখ একেএম জাকারিয়া 
০৩ আগস্ট ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রায়ই কিশোর-তরুণরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কিশোর ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি। এ বয়সের ছেলেরা সাধারণত বেশি বেপরোয়া হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক সময় নিজেদের সাহসিকতা দেখাতে গিয়ে অকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বা অল্প বয়সে এই বাহন সহজে হাতে পাওয়া, বন্ধুদের চাপ, কম বয়সের উচ্ছ্বাস, জীবনে প্রথম যান্ত্রিক যান চালানোর উত্তেজনা, প্রতিযোগিতার মনোভাব, ইচ্ছামতো গতি বাড়ানোর সুযোগ ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা বেশি হয়।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ২১ বছরের নিচে অর্থাৎ কিশোর-তরুণ। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের বক্তব্য হলো, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পেছনে বেশকিছু কারণ আছে। এর মধ্যে অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন করা, ট্রাফিক আইন না মানা, চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা ইত্যাদি অন্যতম।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে চালক কেবল নিজেকেই ঝুঁকিতে ফেলেন না, একইসঙ্গে পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাজেই চালক নিজে এ ব্যাপারে সচেতন হলে দুর্ঘটনা রোধ হতে পারে।

কথায় আছে, ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’। জীবন বাঁচলে মোটরসাইকেল চালনা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নিজের বাহাদুরি দেখানোর সুযোগ থাকবে। তাই মোটরসাইকেল চালানোর সময় সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ট্রাফিক আইন ঠিকমতো প্রয়োগ করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা গেলে। সেই সঙ্গে প্রতিটি মোটরসাইকেল যেন তালিকাভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

লাইসেন্স ছাড়া চালকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ১৮ বছরের নিচে কেউ যাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স না পায়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সর্বোপরি, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পথ চলে, তাহলে মোটরসাইকেলের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা কমে আসতে পারে।

শেখ একেএম জাকারিয়া : সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন