বাংলার মাটিতেই চিরনিদ্রায় মুক্তিযোদ্ধা ফাদার রিগন

শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

  মোংলা প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাদার মারিনো রিগন

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ভিনদেশি মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগন। অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী তাকে মোংলার শেলাবুনিয়া ক্যাথলিক মিশনে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা পরিষদের মাঠ, সেন্টপর্লস স্কুল ও শেলাবুনিয়ার ক্যাথলিক মিশনে মানুষের ঢল নামে।

রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত মারিয়ো পালমা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, ফাদার মারিনো রিগনের ভাগ্নে মারিও পাভেস্কো, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, মোংলা প্রেস ক্লাব, মোংলা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শ্রেণী-পেশার মানুষ একে একে ফুল দিয়ে ফাদার রিগনকে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ১০টায় ফাদার রিগনের মরদেহ নিয়ে একটি হেলিকপ্টার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। সেখানে জেলা প্রশাসন ও ক্যাথলিক মিশনের পক্ষ থেকে লাল-সবুজের পতাকায় আবৃত তার কফিন গ্রহণ করা হয়। প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেয়া হয় উপজেলা পরিষদ মাঠে। পরে নেয়া হয় রিগনের প্রতিষ্ঠিত সেন্টপলস স্কুলে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রয়েছে ফাদার রিগনের।

ইতালির নাগরিক হলেও এ দেশের মানুষের কাছে তিনি কতটুকু জনপ্রিয় ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেল শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। এসব মানুষকেই ফাদার রিগন জানিয়েছিলেন অনন্তকাল তিনি বাংলাদেশের মাটিতে ঘুমাতে চান। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ মোংলার শেলাবুনিয়া ক্যাথলিক মিশনে আনা হয়।

ধর্মীয় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল ৩টায় গির্জার সামনে নির্ধারিত স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার ভক্তরা।

১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভিল্লাভেরলায় জন্মগ্রহণ করেন ফাদার মারিনো রিগন। ২৮ বছর বয়সে খ্রিস্টধর্ম প্রচারে ১৯৫৩ সালের ৭ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানে আসেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের পাশে দাঁড়ান তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা, আশ্রয় ও সেবা দেয়ার পাশাপাশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এরপর মোংলায় ক্যাথলিক গির্জায় পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। তিনি বাংলা ভাষায় লিখেছেন ৪০টি কাব্যগ্রন্থ আর ৩৫০টি গান।

বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে। ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে মুক্তিযুদ্ধমৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোংলার ক্যাথলিক মিশন থেকে ফাদার মারিনো রিগনকে তার পারিবার ইতালিতে নিয়ে যায়। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ৯৩ বছর বয়সে জন্মস্থান ইতালির ভিল্লাভেরলা গ্রামে মারা যান তিনি। শেষ ইচ্ছানুযায়ীই মৃত্যুর এক বছর পর ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ মোংলায় আনা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×