টিভিতে বিজ্ঞাপন দিয়ে লটারির নামে প্রতারণা

৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

আদালতে ২ ভাইয়ের স্বীকারোক্তি

  নুরুল আমিন ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতারক

গভীর রাতে এসকে টিভিতে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনে চোখ আটকে যায় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী সোহেল মোল্লার। ১০ লাখ ডলারের একটি লটারি পেতে বিজ্ঞাপনে দেয়া নম্বরে ফোন দেন তিনি। হাদিয়া দিলে শুধু লটারি নয়, মিলবে সব সমস্যার সমাধান- বলে জিনের বাদশাহ নামের একটি প্রতারক চক্র।

জিনের বাদশাহর চাহিদা অনুযায়ী প্রথম দফায় দুই লাখ টাকা পাঠায় সোহেল। পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় ৪ বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নাম করে ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জিনের বাদশাহ নামের এই প্রতারক চক্র। ১৬ জনের এ চক্রটিকে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সম্প্রতি এ চক্রের সদস্য দুই ভাই মো. কাজল ও সাগরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফারহান যুগান্তরকে বলেন, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। এ চক্রের মূলহোতা ছিল ভোলার বোরহানউদ্দিনের তুহিন নামের এক ব্যক্তি। সে মারা যাওয়ার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে তার দুই ছোট ভাই এ প্রতারণা করে আসছিল। পারিবারিকভাবে তারা এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।

সিআইডি সূত্র জানায়, ১৭ আগস্ট ভোলার বোরহানউদ্দিনে করা একটি মামলা তদন্ত শুরু করে সিআইডি। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জিনের বাদশাহ চক্রের ১৬ জনকে শনাক্ত করে তারা। সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেফতারের পর জিনের বাদশাহ পরিচয়ে প্রতারক চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এ চক্রের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে বিকাশের কিছু অসাধু এজেন্ট জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। এরই মধ্যে শামিম নামের এক বিকাশ এজেন্টকে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে বিজ্ঞাপন দেখে এ চক্রের ফাঁদে পা দেন প্রবাসী সোহেল মোল্লা। জিন দিয়ে তদবির করে ১০ লাখ ডলারের একটি লটারি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রথমে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। একজন বড় মাপের হুজুর লটারির তদবিরে বাধা সৃষ্টি করছে বলে তাকে ম্যানেজ করতে এ প্রতারক চক্রকে কয়েক দফায় টাকা দেন সোহেল।

তাতেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন লটারিতে জিনের আসর বসানোর জন্য ১০০ কেজি খাঁটি গরুর দুধ, জিনের রানীর মায়ের শাড়ি, ৩০০ কেজি চিনি, কলা, ২৫টি পাঁঠা, ২১টি সাদা রঙের বলদ গরু, আড়াই লাখ টাকার ফল ও জিনের পরিস্থান থেকে ৩ লাখ টাকার ১০টি জায়নামাজ দিতে বলা হয়। এ চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে টাকা দিতে দিতে পরিবার ও প্রেমিকার সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট হয় সোহেলের। পরিবার ও প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করে দেয়ার কথা বলেও কয়েক দফায় টাকা নেয় চক্রটি। এভাবে ৪২ লাখ টাকা হারিয়ে এখন নিঃস্ব সোহেল।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলেন, জিন দিয়ে সব সমস্যা সমাধানের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। চক্রের মূল টার্গেট প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের আত্মীয়স্বজন। অল্প পড়াশোনা করে শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যান তারা। সেখানে গিয়ে নানামুখী সমস্যায় পড়েন। আর এসব সমস্যা গোপনে সমাধানের আশায় ভণ্ড ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন তারা। সিআইডি কর্মকর্তারা আরও বলেন, মানুষ সচেতন হলে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের তৎপরতা কমে আসবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×