নকশিকাঁথা নিয়ে গবেষণা গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নকশিকাঁথা

নকশিকাঁথার পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস নিয়ে লোক ও কারুশিল্প বিশেষজ্ঞ মালেকা খান রচনা করেছেন ‘নকশিকাঁথা : বাংলাদেশের নন্দিত শিল্পের স্মারক’ শীর্ষক সচিত্র গ্রন্থ।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে নকশিকাঁথা নিয়ে গবেষণা করেন মালেক খান এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বইটি প্রকাশ করেছে পাক্ষিক অনন্যা।

সোমবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী হাশেম খান, সাবেক সচিব আক্তারী মমতাজ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান ইলিয়াস প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বইটির লেখক মালেকা খান। আলোচনাপর্ব শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নকশিকাঁথা একটি জীবন্ত শিল্প। উত্তর ও দক্ষিণ বাংলায় নকশিকাঁথার কিছু পার্থক্য আছে। কোনো না কোনোভাবে এটি এখনও টিকে আছে। সবার প্রচেষ্টায় আরও অনেক দিন টিকে থাকবে আশা করি। মালেকা খানের বইটিতে নানা রকম নকশিকাঁথার অনেক ছবি আছে। আশা করি এটি সবাইকে সমৃদ্ধ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের ঘরে বসে সংসারের কাজের দক্ষতা তার ব্যবসা করে আয় করার পথ তৈরি করছে। ঘরে বসে নারীরা যে আয় করতে পারে সে ক্ষেত্রে মালেকা খান একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে এসেছেন। লোকশিল্পের প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য। সারা জীবনের নানা অর্জনের পর মালেকা খানের আরেকটি সংযোজন নকশিকাঁথা নিয়ে এই গবেষণাকর্ম।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিল্পের ধারায় বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পীদের শিল্পধারা সৃষ্টি হয়েছে। মেয়েদের হাতের রঙিন সুঁই-সুতার সূক্ষ্ম ফোঁড় নিপুণ শিল্পে পরিণত হয়। গ্রামবাংলার মেয়েদের শখের বসে করা নকশিকাঁথা এখন বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্য এবং লোকশিল্পের প্রশিক্ষণ খুব কঠিন বিষয়। এটা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে করা যায় না। বাণিজ্যিকভাবে করার জন্য এখন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে সহজাত নান্দনিকতা থাকে না। নকশিকাঁথা এতে প্রাণ পায় না।

মালেকা খান বলেন, নকশিকাঁথার গবেষণা ও তার ঐতিহ্য অন্বেষণে সারা জীবন ধরেই কাজ করেছেন তিনি। বইটি তার সারা জীবনের অভিজ্ঞতা ও শ্রমের ফসল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কবি সুফিয়া কামাল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে নয়টি নকশিকাঁথা করেছিলেন। নকশিকাঁথা এভাবেই মানুষের জীবন ও ইতিহাসকে ধরে রাখে। বইটিতে সেই ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। এভাবেই নানা মাত্রায় নকশিকাঁথার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে গ্রন্থটিতে।

বইটিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পী এবং একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের নকশিকাঁথা বোনা নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশের নকশিকাঁথা : অতীত দিনের কথা’, ‘নকশিকাঁথা : পথিকৃৎজন’, ‘নারীর অবদান’, ‘কাঁথার সাংস্কৃতিক অবদান’, ‘নকশার শ্রেণী বিভাগ ও বৈশিষ্ট্য’, ‘নকশিকাঁথা : শিল্প ও শিল্পী’, ‘নকশার প্রতীক, কাঁথার মোটিফ, নকশিকাঁথার ঐতিহ্য, কথাসাহিত্যে কাঁথা, একাত্তরে কাঁথার ভূমিকাসহ মোট ৪০ বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছেন লেখক। ২৮০ পৃষ্ঠার বইটির দাম এক হাজার ৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×