বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবি নেতা নিহত

মেহেরপুরে নিহত শিশু পাচারকারী

  বগুড়া ব্যুরো ও মেহেরপুর প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বগুড়ার শিবগঞ্জে জেএমবির নেতা খোরশেদ আলম এবং মেহেরপুরে শিশু পাচারকারী দলের হোতা এনামুল হক এনা নিহত হয়েছে। সোমবার রাতের এ দুটি ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শিবগঞ্জের পিরব ইউনিয়নের তাঁতীপুকুরে বন্দুকযুদ্ধে খোরশেদ নিহত হয়। এ সময় দুই পুলিশ আহত হয়। অপরদিকে মেহেরপুরের নিশ্চিন্তপুরে বন্দুকযুদ্ধে এনা নিহত হয়।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাঁতীপুকুর এলাকায় কয়েকজন জেএমবি সদস্য বৈঠক করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযানে যায়। এ সময় জঙ্গিরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ শটগান দিয়ে ১৯ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে জেএমবিরা পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে দ্রুত নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি ৭.৬৫ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি ও একটি বার্মিজ চাকু পাওয়া গেছে। এ সময় আহত এসআই আহসান ও কনস্টেবল সাব্বিরকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। খোরশেদ (৩৩) পুরাতন জেএমবির বাংলাদেশ শাখার আমির ছিলেন। জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ঘোনারপাড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে খোরশেদের সাংগঠনিক নাম ছিল মাস্টার ওরফে সামিল।

মঙ্গলবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খোরশেদ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদী খানের মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার শাজাহান বাচ্চু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। এছাড়া ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে পুরাতন জেএমবির সালাউদ্দীন সালেহীন, মিজান ওরফে বোমা মিজান ও রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদকে ছিনতাই ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

এদিকে মেহেরপুরে ডিবি পুলিশের ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে নিশ্চিন্তপুর বটতলা মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের অবস্থানে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী এনাকে (৪২) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও ৬৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। শ্যামপুর গ্রামের তোয়াজ আলীর ছেলে এনার বিরুদ্ধে সদর, গাংনী ও মুজিবনগর থানায় হত্যাসহ আটটি মামলা রয়েছে। আহত এএসআই ইব্রাহিম, কনস্টেবল সোহাগ মিয়া ও মাসুদ হাসানকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

কারও নাম প্রকাশ না করে এনার ভাই ওমর আলী যুগান্তরকে জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর গ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ী তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পুলিশের গুলিতে এনা নিহত হয়েছে বলে সকালে খবর পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×