তিন শর্তে প্রশাসনে বিলীন ইকোনমিক ক্যাডার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইকোনমিক

অবশেষে তিন শর্তে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে মিশে গেল ইকোনমিক ক্যাডার। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ফলে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডারের ৪৬৪ জন এখন থেকে প্রশাসন ক্যাডারে পদ ও জনবলে পরিণত হল। এতে প্রশাসন ক্যাডারের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন ইকোনমিক ক্যাডার কর্মকর্তারা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তিন শর্ত দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ সই করা আদেশে বলা হয়, এখন থেকে বিসিএস (ইকোনমিক) ক্যাডারের সব পদ ও জনবল বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের পদ ও জনবল হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সমন্বিত মেধা তালিকা অনুসারে পুলে যোগদানকারী বিসিএস (ইকোনমিক) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং তাদের জ্যেষ্ঠতা নিজ নিজ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত হবে।

এছাড়া সরকার কর্তৃক গঠিত এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একীভূত বিসিএস (ইকোনমিক) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সমপদে পদায়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং একীভূতকরণের সব প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খানের (বর্তমানে দুদক কমিশনার) সভাপতিত্বে একীভূতকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়।

এতে উপস্থিত উভয় ক্যাডারের প্রতিনিধিরা জানান, বিসিএস প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার একীভূত হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এতে সরকারের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষমতা ও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। বৈঠকে বিসিএস প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডারের একীভূতকরণের লক্ষ্যে একটি সারসংক্ষেপ প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর গত বছরের ৩০ মে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে ওই সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৯৮ সালে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নতুন ক্যাডার গঠন না করে ক্যাডারের সংখ্যা কমানোর পক্ষে সুপারিশ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যেসব ক্যাডারের কাজের ধরন একই, সেসব ক্যাডারকে একীভূত করার চিন্তাভাবনা শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে সচিবালয় ক্যাডার একীভূত করার ন্যায় ইকোনমিক ক্যাডারও একীভূত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১০ সালে তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর দুই ক্যাডার একীভূত হওয়ার বিষয়ে উভয় ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট এ বিষয়ে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে একটি আধা-সরকারিপত্র (ডিও) দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চিঠিতে তিনি বলেন, বহুদিন ধরে বিসিএস ইকোনমিক ক্যাডার বিলুপ্তের উদ্যোগ নেয়া হলেও এর কোনো গতি নেই।

এ ক্যাডার বিলুপ্ত করে এর সদস্যদের প্রশাসন ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়িত হবে। উভয় ক্যাডারের কার্যপরিধির বিষয়ে সচিব কমিটির সারসংক্ষেপে বলা হয়, দুই ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরকারের নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জড়িত। তাদের কাজের প্রকৃতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রায় একই রকম এবং পারস্পারিক নির্ভরশীল।

বর্তমানে ইকোনমিক ক্যাডারের ৪৬৪ জন কর্মকর্তা রয়েছে। এর মধ্যে ২৩১ জনই সহকারী প্রধান ও সিনিয়র সহকারী প্রধান। যাদের সহজেই পদবি পরিবর্তনের মাধ্যমে সহকারী সচিব, সহকারী কমিশনার এবং সিনিয়র সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদায়ন করা সম্ভব। এ ছাড়া ৮৪ জন উপ-প্রধান এবং যুগ্ম প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান পদে মোট ৫১ জন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন।

এসব কর্মকর্তাকে এসএসবির সুপারিশের মাধ্যমে উপ-প্রধানকে উপসচিব, যুগ্ম প্রধানকে যুগ্ম সচিব, বিভাগীয় প্রধানকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা যেতে পারে। প্রশাসন ক্যাডারের চার হাজার ৮৪৫ জন কর্মকর্তার সঙ্গে ইকোনমিক ক্যাডারের এসব কর্মকর্তা একীভূত হলে এ ক্যাডারে কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ৩০৯ জনে। ফলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এজন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×