রৌমারীতে বাবার লাশ রেখে পরীক্ষার হলে ভাইবোন

  রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষার হলে বসল আলমগীর হোসেন ও নাসরিন আক্তার নামের ভাইবোন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাদের বাবা জাদের আলীর লাশ এসে পৌঁছে বাড়িতে। ততক্ষণে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য বের হয় তারা। বাবার লাশ একনজর দেখে চোখের পানি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয় তারা। পরীক্ষার হলে চোখের পানি মোছে আর উত্তর লেখে তারা। এ ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী কেরামতিয়া আদর্শ ফাজিল মাদ্রাসা জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্রে।

আলমগীর হোসেন আর নাসরিন আক্তার নামের ভাইবোন এবার একসঙ্গে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। রৌমারী কেরামতিয়া আদর্শ ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তারা। তাদের বাবা জাদের আলী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০ দিন ধরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার রাতে হাসপাতালে মারা যান তিনি। মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ আসে রৌমারীতে।

রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন ফুলুয়ারচরে সাইদুর রহমান নামের এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বাস করে ওই ভাইবোনের পরিবার। বাবা জাদের আলী ছিলেন একজন দিনমজুর। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে পরিবারটি নিঃস্ব। জাদেরের এক ছেলে আর চার মেয়ে। সংসারে হাজারও অভাবের মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে ভুল করেননি জাদের আলী।

জাদের আলীর স্ত্রী জাম্বফুল বেগম বলেন, সন্তানদের খুবই আদর করতেন তার স্বামী। শত কষ্টের মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেন। ঘরে খাবার থাকত না। ঋণ করে সন্তানদের খাতা-কলম কিনে আনতেন। ফুলুয়ারচরের নারী মেম্বার ভার্জিনা খাতুন বলেন, জাদের আলী ছিলেন খুবই গরিব। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার খুবই আগ্রহ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×