বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অগ্রযাত্রার ৪৫ বছর

  নাজমুল হক ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কার্যক্রম

ঢাকার অভিজাত গুলশান ও বনানী এলাকায় ঐতিহ্যবাহী বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শুরুটা হয়েছিল খুবই ছোট পরিসরে। ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বনানীর ডি-৪৭’র পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনে বনানী বিদ্যানিকেতনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলের উদ্বোধন করেন। শুরুতে ১৯৭ জন ছাত্রছাত্রী ও ১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে রাজউকের বরাদ্দ করা সাড়ে সাত বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে ৩ তলার একটি, ৫ তলার দুইটি ও ৬ তলার একটি (নির্মাণাধীন) ভবনসহ বৃহৎ চারটি ভবন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা বেগম আয়েশা আমীন ও বনানী নবারুণ সংঘ নামে একটি যুব সংগঠনের নিঃস্বার্থ উদ্যম, অক্লান্ত শ্রমের ফসল আজকের এ ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গভর্নিং বডির সদিচ্ছার কারণে ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটি অভিজাত হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা বাবদ ব্যয় নামমাত্র। প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে ঢাকা মহানগরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রছাত্রী প্রায় ৮ হাজার ও শিক্ষক-কর্মচারী দেড়শতাধিক।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। ২০১৭ সালে প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, পিইসি পরীক্ষায় ৫২৬ ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে ২৯ জন বৃত্তিসহ ৩২২ জন এ+ পায়। জেএসসি পরীক্ষায় ৫৭৮ জনের মধ্যে ৩৫ জন বৃত্তিসহ ২৭৭ জন এ+ পায়। এসএসসি পরীক্ষায় ২৬১ জন এ+ অর্জন করেছে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া ইংরেজি ভার্সন শুরুতেই পিইসি পরীক্ষায় ৩৩ জনের মধ্যে ২৩ জনই এ+ পায় এবং একই বছর প্রতিষ্ঠিত কলেজ শাখায় পাসের হার ১০০%।

বর্তমানে কলেজ শাখায় ছাত্রছাত্রী প্রায় ৫০০ জন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে দীর্ঘ ২৬ বছর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ডিএনসিসির কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাফিজুর রহমান।

এখানে রয়েছে সুপরিসর খেলার মাঠ, উন্নত গ্রন্থাগার, সুবিশাল মিলনায়তন, কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, বিজ্ঞানাগার, নামাজঘর, ক্যান্টিন, বুকস্টল, মাদার শেড, আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব, ভাষা ক্লাব ও সাংস্কৃতিক ক্লাবসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। পি-সফটের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা এবং ফল প্রকাশ করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের অনুপস্থিতি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত সময়ে আভিভাবকদের জানানো হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় এ শিক্ষালয়ের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠিত। এ ব্যাপারে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রোকুনুজ্জামান, পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী আহমেদ চিশতী ও জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. আশরাফুর রহমানের সঙ্গে।

তারা জানান, আমাদের স্কুল বনানী বিদ্যানিকেতনকে আমরা কখনও ভুলতে পারি না। প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্যবিদায়ী শিক্ষার্থী ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ছাত্র জুলকার নাঈন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মো. সালমান ফারসী ও সরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী মো. রাহাত রহমান জানান, মানুষ গড়ার জন্য এ প্রতিষ্ঠান সবসময় আলোর দিশারি হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ লে. কর্নেল এবিএম আসাদুজ্জামান, পিএসসি, বীর (অব.) যুগান্তরকে জানান, এ প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ ও বিদেশে শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে দেশবরেণ্য অনেক ব্যক্তিত্ব এ প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×