পটুয়াখালীতে ‘শিশু পরিবার’র শিশু ধর্ষণ : আটক ১

ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা

  পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীতে সরকারি শিশু পরিবারের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে ‘শিশু পরিবার’ কর্তৃপক্ষ। শিশুটিকে এ ঘটনা প্রকাশ না করতে ভয় দেখানো হয়। শুধু তাই নয়, তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। অবশেষে ভিকটিমের স্বজনদের অনুরোধে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিশু পরিবারে গিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে আরও দুই শিশুকে উদ্ধার করে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম মোতালেব হোসেন। পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাফিজ যুগান্তরকে জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একাধিক সূত্র যুগান্তরকে জানায়, সোমবার পার্শ্বর্তী ডিবুয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঠদান শেষে শিশু পরিবারে ফিরছিল শিশুরা। এ সময় মোতালেব হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী ওই শিশুকে চকোলেট দিয়ে একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় ভিকটিম শিশু পরিবারে ফিরলে রাত ১১টার দিকে তাকে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পটুয়াখালী সমাজসেবা উপপরিচালক (ডিডি) শিলা রানী শিশু পরিবারে নিয়ে আসেন। ডিডি শিলা রানী ও শিশু পরিবারের সুপার সাবরিন সুলতানা ঘটনা কাউকে না জানাতে ভিকটিমসহ অন্য শিশুদের চাপ দেন। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে সংবাদকর্মীরা বুধবার শিশু পরিবারে গেলে কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা অস্বীকার করে। তারা ভিকটিমকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। ওইদিন রাতেই ভিকটিমকে নিয়ে থানায় যান ডিডি শিলা রানী। থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নিতে চাইলেও তিনি মামলা দায়ের করতে রাজি হননি। পরদিন শিশুটির স্বজন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে ঘটনা জানিয়ে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাফিজ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে শিশু পরিবারে যান। তারা ভিকটিমের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন।

এ সময় এডিসি ও উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয় ভিকটিম। ভিকটিম জানায়, ডিডি শিলা রানী ও হোস্টেল সুপার সাবরিন সুলতানা তাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তথ্য ফাঁস প্রকাশ করার অভিযোগে মৌসুমী ও লিজা নামে আরও দুই শিশুকে দোতলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরও উদ্ধার করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×