নিরাপত্তা চাইলেন নরসিংদী বিএনপির ৫ প্রার্থী
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ
নিরাপত্তা চাইলেন নরসিংদী বিএনপির ৫ প্রার্থী
গণসংযোগে বের হলেই হামলা-ভাংচুর

  নরসিংদী প্রতিনিধি  

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীর পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছু নেই।

দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা চলছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের দরবারে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সন্ত্রাসের অংশ। সারা দেশেই গণসংযোগ ও প্রচারণার সময় বিএনপি ও ঐক্যফন্ট প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমরা লিখিতভাবে ড. কামালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারকে জানিয়েছি।

কিন্তু ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বড় বড় অক্ষরে আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা অবাধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা আ’লীগের সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই বলে কি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না? ভোটের অধিকার থাকবে না? রামদা দিয়ে আমাদের মেরে ফেলে দেশকে সন্ত্রাসের জনপদ তৈরি করবে?

বক্তব্য রাখেন নরসিংদী-১ সদর আসনের কারাবন্দি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৪ মনোহরদী বেলাবো আসনের প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশ্রাফ উদ্দিন বকুল। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. আবদুল বাছেদ ভূঁইয়া, মাধবদী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে সালমা মায়া, অ্যাড. কানিজ ফাতেমাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শিরিন সুলতানা বলেন, একটি সাজানো ও ষড়যন্ত্র মামলায় খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। প্রচার চালাতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। একটি পোস্টারও লাগাতে পারিনি। সকালে পোস্টার সাঁটানো হলে বিকালেই ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তাহলে কিসের নির্বাচন করব?

নরসিংদী-৩ প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী বলেন, আমাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। আ’লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ১০টি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। ১৫টি গাড়ি ভেঙে দিয়েছে। সাত কর্মী গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। মাঠে নামলেই অবরোধ করে রাখা হচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায়?

নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ভোট চাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। প্রচারে বের হলেই রামদার আক্রমণ। গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ মামলা নেয় না পুলিশ। উল্টো আমাদের ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। পুরুষদের বলা হচ্ছে, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে মরবে নাকি? ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দাও, আমরাই তোমাদের ভোট দিয়ে দেব।

মঈন খানের প্রশ্ন লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি কি এই বাংলাদেশের জন্য? এই কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ কবে বের হবে জানা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ

নিরাপত্তা চাইলেন নরসিংদী বিএনপির ৫ প্রার্থী

গণসংযোগে বের হলেই হামলা-ভাংচুর
 নরসিংদী প্রতিনিধি 
২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীর পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছু নেই।

দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা চলছে। জেলা রিটার্নিং অফিসারের দরবারে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সন্ত্রাসের অংশ। সারা দেশেই গণসংযোগ ও প্রচারণার সময় বিএনপি ও ঐক্যফন্ট প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমরা লিখিতভাবে ড. কামালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারকে জানিয়েছি।

কিন্তু ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বড় বড় অক্ষরে আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা অবাধে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা আ’লীগের সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাই বলে কি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না? ভোটের অধিকার থাকবে না? রামদা দিয়ে আমাদের মেরে ফেলে দেশকে সন্ত্রাসের জনপদ তৈরি করবে?

বক্তব্য রাখেন নরসিংদী-১ সদর আসনের কারাবন্দি প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী শিরিন সুলতানা, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৪ মনোহরদী বেলাবো আসনের প্রার্থী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশ্রাফ উদ্দিন বকুল। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. আবদুল বাছেদ ভূঁইয়া, মাধবদী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে সালমা মায়া, অ্যাড. কানিজ ফাতেমাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শিরিন সুলতানা বলেন, একটি সাজানো ও ষড়যন্ত্র মামলায় খায়রুল কবির খোকনকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। প্রচার চালাতে গেলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। একটি পোস্টারও লাগাতে পারিনি। সকালে পোস্টার সাঁটানো হলে বিকালেই ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তাহলে কিসের নির্বাচন করব?

নরসিংদী-৩ প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী বলেন, আমাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। আ’লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের ১০টি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। ১৫টি গাড়ি ভেঙে দিয়েছে। সাত কর্মী গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। মাঠে নামলেই অবরোধ করে রাখা হচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায়?

নরসিংদী-৪ আসনের প্রার্থী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নেই। ভোট চাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। প্রচারে বের হলেই রামদার আক্রমণ। গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। অথচ মামলা নেয় না পুলিশ। উল্টো আমাদের ৪২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। পুরুষদের বলা হচ্ছে, ভোট কেন্দ্রে গিয়ে মরবে নাকি? ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দাও, আমরাই তোমাদের ভোট দিয়ে দেব।

মঈন খানের প্রশ্ন লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি কি এই বাংলাদেশের জন্য? এই কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ কবে বের হবে জানা নেই।