সিলেটে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ

সরেজমিনে ভোটচিত্র

  সিলেট ব্যুরো ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর দুর্গাকুমার পাঠশালা কেন্দ্রে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বড় ভাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মোমেন। সকাল পৌনে ১০টায় নগরীর শারদা হল কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর পাইলট স্কুল ভোট কেন্দ্রের ভোটার হাবিবুর রহমান জানান, ধানের শীষের ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন তারাও তালিকানুযায়ী ভোট না দিতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন। ১১টায় নগরীর আম্বরখানা গার্লস স্কুল কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, ধীরগতিতে ভোট গ্রহণ চলছে।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মাহিন আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ব্যালেট শেষ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভোটাররা যাতে কোনো ঝামেলা না করতে পারে, সেজন্য একটু ধীরে ধীরে ভোট গ্রহণ চলছে। ৫টি কক্ষ থাকলেও মাত্র একজন এজেন্ট এসেছেন, তিনি আছেন। ওই কেন্দ্রের ধানের শীষের এজেন্ট ওবায়দুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, তাদের বের করে দেয়া হয়েছিল, পরে শুধু তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। ধানের শীষের কাউকে ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে না। একই স্কুলের মহিলা কেন্দ্রেরও ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার গৌতম চক্রবর্তী জানান, তার কেন্দ্রে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট আসেনি। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। সোয়া ১১টায় শিবগঞ্জ স্কলার্সহোম কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির প্রবেশ করলেই বাইরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংর্ঘষে লিপ্ত হন। এ সময় মুক্তাদির কিছুক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।

সিলেট-১ আসনের নগরীর দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামপুর বাজারের পাশের গলিতে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটছে। থেমে থেমে বোমা ফুটছিল। এগিয়ে যাওয়ার পর দেখা গেল, ভোট কেন্দ্রের গেটে তালা ঝুলছে। পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে গেট পাহারা দিচ্ছেন। ভেতরে মানুষের জটলা। ভোটাররা ভোট দিতে এলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে পরে আসেন। ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তারা চা, নাশতায় ব্যস্ত আছেন। এ সময় সাংবাদিকরা গেট খুলে দিতে বললে পুলিশ সদস্য প্রিসাইডিং অফিসার প্রকৌশলী শাহেদ আহমদকে ডেকে পাঠান। গেটে এসে পুলিশ সদস্যকে গেট খুলে দিতে বলেন। কিন্তু পুলিশের ওই সদস্য জানিয়ে দেন, গেট খোলা যাবে না। ওপরের নির্দেশ আছে। উত্তেজনার খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা উপস্থিত হলে অর্ধশতাধিক ভোটার গেট খুলে দেয়ার দাবি জানান। এ সময় সেনা সদস্যরা ওই এলাকায় টহল দেন। ভোট দিতে আসা চল্লিশোর্ধ্ব আবদুর রহমান জানান, এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, ভোট দিতে দিচ্ছে না। ভোটার মাহবুবুর রহমান বলেন, ভোট দিতে না পারায় ফিরে যাচ্ছি। সিলেট-৩ আসনের ইছরাব আলী ভোট কেন্দ্রে ও কুচাই ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রের একই চিত্র। কিন্তু সিলেট-৬ আসনে বরায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে বিপরীত চিত্র পাওয়া গেছে। দুপুর ১টায় গিয়ে দেখা যায় ভোটার নেই, কর্মকর্তারা বসে অলস সময় পার করছেন। খাসদবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ছিল ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রমেন্দ্র দাস জানান, ঝামেলা এড়াতে ভোটারদের দেখে দেখে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×