বগুড়া-৭: বিএনপি সমর্থনে এমপি হওয়া বাবলু আ’লীগে যাচ্ছেন!

  বগুড়া ব্যুরো ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া-৭: বিএনপি সমর্থনে এমপি হওয়া বাবলু আ’লীগে যাচ্ছেন!

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে এমপি হওয়া স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

তিনি এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু বলেন, বাবলু আমাদের সঙ্গেই রাজনীতি করেন; আগামী সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।

আবার শাজাহানপুর উপজেলা জাপা দাবি করছে, বাবলু এখনও তাদের কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক। এ খবরে বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা ধিক্কার ও ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘বাবলু ধানের শীষ বোঝাই ট্রাক নিয়ে নৌকায় উঠছেন।

তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক আবুল বাশার জানান, তাদের সমর্থনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর আওয়ামী লীগে যোগদানের খবরটি স্রেফ গুজব।

জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর গ্রামের ময়েন উদ্দিন গোলবাগীর ছেলে রেজাউল করিম বাবলু এলাকায় শওকত হোসেন গোলবাগী নামেও পরিচিত। তিনি সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নফরম সংগ্রহ করেন। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে সমস্যার কারণে রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন। পরে হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান।

এদিকে বিএনপি প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় সাজার কারণে ও ডামি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায় উচ্চ আদালতের আদেশে তারা নির্বাচনে অযোগ্য হন। ফলে আসনটি বিএনপিশূন্য হয়ে পড়ে। শেষ মুহূর্তে বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেয়।

নেতারা ধানের শীষের ভোটারদের বাবলুর ট্রাক মার্কায় ভোট দিতে অনুরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধানের শীষের ‘অন্ধ সমর্থকরা’ তাকে এক লাখ ৯০ হাজার ২৯৯ ভোটে এমপি নির্বাচিত করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোট প্রার্থী জাপা নেতা এমপি মুহাম্মাদ আলতাফ আলী মাত্র ২৬ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে জামানত হারান। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম খানের স্ত্রী ফেরদৌস আরা খান ৬৫ হাজার ২৯২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল আলম হিরু ও অন্যরা জানান, রোববার নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।

নেতারাও তাকে আওয়ামী লীগে নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু জানান, বাবলু আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজকল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সহ-সভাপতি।

বাবলু আগে থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন। শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজকল্যাণ সংস্থার বগুড়া জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলুকে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

আর কৌশলগত কারণে বিএনপির সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। আমরা মনে করি বাবলু আমাদেরই লোক। এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল হান্নান জানান, শওকত আলী গোলবাগী ওরফে রেজাউল করিম বাবলু তার সংগঠনের এখনও তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।

ঘটনাপ্রবাহ : বগুড়া-৭: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×