নাব্য সংকটে ব্রহ্মপুত্র যমুনায় ৫২ ঘাট বন্ধ

নৌকা চলাচল না করায় চরাঞ্চলের মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি

  গোবিন্দলাল দাস, গাইবান্ধা ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খেয়াঘাট

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় নাব্য সংকটে গাইবান্ধার সঙ্গে কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও বগুড়ার নৌ যোগাযোগ রক্ষাকারী খেয়াঘাটগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওইসব রুটের খেয়াঘাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ৫২টি খেয়াঘাট নাব্য সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। নৌকা চলাচল না করায় সংশ্লিষ্ট চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সেই সঙ্গে ইজারাদারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যেসব নৌরুট এখনও কোনো রকমে টিকে রয়েছে সেগুলোরও এখন বেহাল দশা। চ্যানেলের অভাবে নৌযান কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। যে কোনো সময় নৌ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনাসহ ছোট বড় সব নদীর পানি কমতে শুরু করে। অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলোর অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। উল্লিখিত তিনটি নদীর পানি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বিশাল চর জেগে উঠেছে নদীর বুকে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষ নৌপথে জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। বর্ষা পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় নৌ চলাচলে কোনো সমস্যা থাকে না। বালি ও পলি জমে নদীগুলো ক্রমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অক্টোবরের পর থেকে নদীর বুকে জেগে ওঠে ছোট-বড় অসংখ্য চর। ফলে ওই নদীগুলো শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শীর্ণকায় রূপ ধারণ করে। দেখা দেয় নাব্য সংকট। এতে নৌ চলাচল ব্যাহত হয়।

সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের সূত্র জানা যায়, বর্তমানে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় পাঁচটি রৌমারীতে, চারটি ও রাজিবপুরে তিনটি খেয়াঘাট, গাইবান্ধা সদরে আটটি, ফুলছড়ির ১২টি ও সাঘাটার ছয়টি অপর দিকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দুটি সারিয়াকান্দির তিনটি এবং জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার তিনটি ও দেওয়ানগঞ্জের পাঁচটি নৌ ও খেয়াঘাট একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে এসব উপজেলার অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিতভাবে কিছু নৌকা চলাচল করলেও মাঝপথে গিয়ে ডুবোচরে আটকে যায়। তখন যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এদিকে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষদের এখন হেঁটে বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে হাট-বাজারে এবং দূর-দূরান্তরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে নারী, শিশু ও রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বালাসীঘাটের ইজারাদার শেখ সরদার আসাদুজ্জামান হাসু জানান, নাব্য সংকটের কারণে মূল ঘাট থেকে দুই কিলোমিটার পূর্ব পাশে নদীর ভেতরে বর্তমানে ফেরিঘাট চালু করতে হয়েছে। এই ঘাট থেকে বর্তমানে ১৭টি রুটে যাত্রবাহী যান্ত্রিক নৌকা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। অথচ আগে ৩০টি রুটে এখান থেকে অবাধে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করত। আগে যেখানে একেক রুটে চারটি করে নৌকা চলাচল করত, এখন সেখানে মাত্র দুটি করে নৌকা চলাচল করছে।

এসব নৌকার গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ নৌরুট চালু করার জন্য ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং না করায় নৌ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারছে না। তিনি বলেন, নৌরুট চালু রাখতে প্রতিদিন তিনি ১০ হাজার টাকা ব্যয় করে স্থানীয় ড্রেজার দিয়ে নিজ খরচে নৌপথে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করছেন। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাঘাটা নৌঘাটের ইজারাদার মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘাট লিজ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বছরের প্রায় ছয় মাসই নাব্য সংকটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×