নতুন করে রোহিঙ্গা নির্যাতন

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে পারে বাকিরাও

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নতুন করে শুরু হয়েছে সেনা নির্যাতন। ফলে পালিয়ে আসতে পারে বাকিরাও। মিয়ানমার সামরিক জান্তার জ্বালাও-পোড়াও, উৎপীড়ন, নিপীড়ন, হত্যা, গুম ও গণগ্রেফতারের ভয়ে অবশিষ্ট আরও প্রায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা গৃহবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিনযাপন করছে।

এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও পালিয়ে আসতে পারে বলে সে মন্তব্য করেছেন কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বোচিডং চিন্দিফ্রাং থেকে পালিয়ে এসেছে ৭ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার। তারা কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, গত ১০ দিনে ভারত থেকে কুমিল্লা হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৪৬৮ জন রোহিঙ্গা। তবে এদের মধ্যে ৯৩ জন রোহিঙ্গা কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছেছে এবং তাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প ইনচার্জ।

কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ডা. জাফর আলম বলেন, বোচিডং এলাকায় বসবাসরত তাদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশের বিদ্রোহী আরাকান আর্মি দমনের নামে সরকার পুনরায় বিজিপি সদস্যদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা এ দেশে চলে আসার পর বোচিডংয়ের ক্যাথিও নামের একটি গ্রামে গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমার সেনারা অভিযান চালিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা নেতা বলেছেন, বর্তমানে যে অবস্থায় রোহিঙ্গারা বসবাস করছে তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নয়।

উপরন্তু মিয়ানমার সরকার বিদ্রোহী দমনের নামে সম্প্রতি সে দেশে যে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, বোচিডংয়ের চিন্দিফ্রাং থেকে আসা ৭ সদস্যের একটি পরিবার ও ভারত থেকে কুমিল্লা হয়ে দুই দফায় আসা ৯৩ জন রোহিঙ্গাকে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আগের মতো আচরণ করা হলে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা চলে আসতে পারে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার অজুহাতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। তাদের এ নিমর্মতা থেকে রক্ষা পেতে এদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমান সরকার এসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সুনির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে পৌঁছলেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের গ্রহণে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক, পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশ সরকার এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া হাতে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকার সে দেশে বিদ্রোহী দমনের নামে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন, মিয়ানমারের কি হচ্ছে সে ব্যাপারে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমাদের সীমান্ত শান্ত আছে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সীমান্তে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×