বরগুনার সমাজসেবা অধিদফতর

এতিমদের বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  বরগুনা প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিযোগ

বরগুনার এতিমখানায় দীর্ঘদিন থেকে এতিম না থাকলেও সমাজসেবার কতিপয় কর্মচারীর যোগসাজশে থোক বরাদ্দের টাকা তুলছে একটি কুচক্রী মহল। নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হাতিয়ে নিচ্ছেন এতিমদের বরাদ্দের লাখ লাখ টাকা।

সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারাও বলছেন, দফতর ম্যানেজ করেই বরাদ্দ নিচ্ছেন তারা। প্রতিবার বরাদ্দ দেয়ার আগে সমাজসেবা অধিদফতরের এসব এতিমখানা পরিদর্শনের পর টাকা দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না।

জেলা সমাজসেবা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জেলায় ১৩১টি এতিমখানায় ২ হাজার ৩৬৩ জন এতিম শিশুদের জন্য বছরে দুই কিস্তিতে টাকা দেয়া হয়। সরকার থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

বরগুনার বিভিন্ন এতিমখানায় সরেজমিন দেখা গেছে, তালিকায় ১৩১টি এতিমখানা বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকা উত্তর আংগারপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও শিশু সদন (এতিমখানায়) তালাবদ্ধ কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এতিমখানা পরিচালকদের দাবি, এতিমরা ছুটিতে রয়েছে। অন্যদিকে সাহেবের হাওলা চাদবরু বালিকা শিশু সদনে বাবা-মা জীবিত এমন তিনটি মেয়েকে পাওয়া গেলেও গ্র্যান্ট ক্যাপিটেশন রয়েছে ১৮টি।

তেমনি আয়লাপাতাকাটা খানকায়ে ছালেহিয়া মাদ্রাসায় তিনটি ছেলে থাকলেও তাদের মা-বাবা বেঁচে আছেন জানায় শিশুরা, এখানেও গ্র্যান্ট ক্যাপিটেশন রয়েছে ১৯টি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা পরিচালকদের কাছ থেকে জানা গেছে, এতিমদের বরাদ্দ টাকা আত্মসাতে সমাজসেবা অধিদফতরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে।

প্রতিবার বরাদ্দ দেয়ার আগে পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিলেই পরিদর্শন ছাড়া বরাদ্দ দেয়া হয় এতিমশূন্য এসব এতিমখানায়। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে- এতিমখানার বরাদ্দ পেতে হলে সর্বনিম্ন ১০ জন এতিম থাকতে হবে, কিন্তু অবৈধ অর্থ আয় করতে বছরের পর বছর এতিমশূন্য এসব এতিমখানায় বরাদ্দ দিয়ে আসছে বরগুনা জেলা সমাজসেবা অধিদফতর।

এ ব্যাপারে জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি আ. রব ফকির বলেন, এতিমদের টাকা আত্মসাৎ মেনে নেয়া যায় না। জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (অ. দা.) খন্দকার গোলাম সরওয়ার বলেন, আমি বরগুনায় ৩ মাস হয় এসেছি।

বরগুনা জেলায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আমার সময় যদি বরাদ্দের টাকা দেয়া হয় তাহলে প্রত্যেক এতিমখানা পরিদর্শন করে বরাদ্দ প্রদান করা হবে। আর যে এতিমখানায় এতিম শিশু না থাকবে সেই প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ট ক্যাপিটেশন হারাবে ও বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া যারা এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×